📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহার করা

📄 পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহার করা


আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ أَحَلَّ لِإِنَاثِ أُمَّتِي الْحَرِيرَ وَالذَّهَبَ وَحَرَّمَهُ عَلَى ذُكُورِهَا ‘আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য হারাম করেছেন'।১৪০
আজকাল বাজারে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরী নানা ডিজাইনের ঘড়ি, চশমা, বোতাম, কলম, চেইন, মেডেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলির কতক সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরী আবার কতক স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত। অনেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসাবে পুরুষদের স্বর্ণের বিভিন্ন বস্তু দেয়া হয়। এগুলি ঘোরতর অন্যায়।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একবার এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখতে পেয়ে তা খুলে নেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দেন। অতঃপর বলেন, يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ؟ ‘তোমাদের কেউ কি ইচ্ছে করে আগুনের অঙ্গার তুলে নিয়ে স্ব হস্তে রাখতে পারে'? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর জনৈক ব্যক্তি লোকটিকে বলল, তোমার আংটিটা তুলে নাও এবং তা (অন্য) কাজে লাগাও। লোকটি বলল, لَاَ، وَاللَّهِ لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন আমি তা কখনই গ্রহণ করব না'।১৪১

টিকাঃ
১৪০. নাসাঈ হা/৫২৬৫, সনদ ছহীহ।
১৪১. মুসলিম; মিশকাত হা/৪৩৮৫।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 মহিলাদের খাটো, পাতলা ও আঁটসাঁট পোষাক পরিধান করা

📄 মহিলাদের খাটো, পাতলা ও আঁটসাঁট পোষাক পরিধান করা


বর্তমানে যেসব জিনিস দ্বারা আমাদের শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে তন্মধ্যে একটি হ'ল, তাদের উদ্ভাবিত নানা ডিজাইনের পোশাক-পরিচ্ছদের সাহায্যে তারা মুসলমানদের চরিত্র ধ্বংসের কঠিন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পোশাকগুলির কতক খুবই খাট মাপের কতক আঁটসাঁট করে তৈরী, আবার কতক এত পাতলা যে তা দিয়ে শরীরের সব অঙ্গ দেখা যায়। ফলে পোশাক পরার আসল লক্ষ্য সতর ঢাকা হয় না। এসব পোশাকের অনেক ডিজাইন পরিধান করা মোটেও বৈধ নয়। এমনকি মহিলাদের মাঝে এবং মাহরাম পুরুষদের মাঝেও নয়।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا -
'দু'শ্রেণীর জাহান্নামীকে আমি দেখিনি। প্রথম শ্রেণী-যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি, তা দ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। দ্বিতীয় শ্রেণী- ঐ সকল রমণী, যারা বস্ত্র পরিহিতা অথচ উলঙ্গ, পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্টকারিণী এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট। তাদের মাথা হবে লম্বা গ্রীবাবিশিষ্ট উটের চুঁটির ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত এত দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে'।১৪২
যেসকল মহিলা নীচের দিকে বা অন্যান্য দিকে দীর্ঘ ফাঁড়া পোশাক পরিধান করে তারাও উক্ত হাদীছের বিধানভুক্ত হবে। এগুলি পরে বসলে তাদের সতরের অংশবিশেষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। এতে সতর প্রকাশের পাশাপাশি কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য, তাদের কৃষ্টি-কালচারের অন্ধ অনুকরণ ও তাদের উদ্ভাবিত অশালীন পোশাকের অনুসরণ করা হয়।
কোন কোন পোশাকে আবার অশালীন ছবিও অঙ্কিত থাকে। যেমন- গায়কদের ছবি, বাদক দলের ছবি, মদপাত্রের ছবি, প্রাণীর ছবি, ক্রশের ছবি, অবৈধ সংস্থা ও ক্লাবের ছবি ইত্যাদি। অনেক পোশাকে মান-ইযযত বিনষ্টকারী কথাও লিখা থাকে। বিদেশী ভাষাতেও এসব লিখা থাকে। এ জাতীয় পোশাক পরিহার করা আবশ্যক।

টিকাঃ
১৪২. মুসলিম; মিশকাত হা/৩৫২৪।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পরচুলা ব্যবহার করা

📄 পরচুলা ব্যবহার করা


عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي ابْنَةً عُرَبِّسًا أَصَابَتْهَا حَصْبَةً فَتَمَرَّقَ شَعْرُهَا أَفَأَصِلُهُ فَقَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ -
আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) বলেন, জনৈকা মহিলা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমার একটি সদ্য বিবাহিতা কন্যা আছে। হাম হওয়ার কারণে তার মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি কি তাকে পরচুলা লাগিয়ে দেব? তিনি বললেন, 'যে পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে লাগাতে চায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন'।১৪৪
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, زَجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَصِلَ الْمَرْأَةُ بِرَأْسِهَا شَيْئًا 'নবী করীম (ছাঃ) মহিলাদের মাথার চুলে কোন কিছু সংযোজন করার জন্য ধমক দিয়েছেন'।১৪৫

টিকাঃ
১৪৩. যাদের টাক কিংবা পাতলা চুল রয়েছে তারা লোক-লজ্জার কারণে কিংবা নিজেকে অল্প বয়সী হিসাবে যাহির করার জন্য মাথায় পরচুলা ব্যবহার করে থাকে। পরচুলা মানুষের মাথার চুল থেকেও তৈরী হয় আবার কৃত্রিমভাবেও তৈরী হয়। উভয় প্রকার পরচুলাই ব্যবহার করা হারাম -অনুবাদক।
১৪৪. মুসলিম হা/২১২২।
১৪৫. মুসলিম হা/২১২৬।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পোশাক-পরিচ্ছদ ও কথা-বার্তায় নারী-পুরুষ পরস্পরের বেশ ধারণ

📄 পোশাক-পরিচ্ছদ ও কথা-বার্তায় নারী-পুরুষ পরস্পরের বেশ ধারণ


পুরুষকে আল্লাহ তা'আলা যে পুরুষালী স্বভাবে সৃষ্টি করেছেন তাকে তা বজায় রাখা এবং নারীকে যে নারীত্ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তাকে তা ধরে রাখাই আল্লাহ্র বিধান। এটা এমনি এক ব্যবস্থা, যা না হলে মানব জীবন ঠিকঠাক চলবে না। পুরুষের নারীর বেশ ধারণ এবং নারীর পুরুষের বেশ ধারণ স্বভাববিরুদ্ধ কাজ। এর ফলে অশান্তির দুয়ার খুলে যায় এবং সমাজে উচ্ছৃংখলতা ও বেলেল্লাপনা ছড়িয়ে পড়ে। শরী'আতে এ জাতীয় কাজকে হারাম গণ্য করা হয়েছে। কোন ব্যক্তিকে যে আমল করার দরুন শারঈ দলীলে অভিশাপ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই দলীলই প্রমাণ করে যে উক্ত কাজ হারাম ও কবীরা গুনাহ। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
'রাসূল (ছাঃ) পুরুষদের মধ্যে নারীর বেশ ধারণকারীদের এবং নারীদের মধ্যে পুরুষের বেশ ধারণকারিণীদের অভিশাপ দিয়েছেন'।১৪৬ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত আছে,
لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ ، وَالْمُتَرَجَلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নারীবেশী পুরুষদেরকে এবং পুরুষবেশী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন'।১৪৭
এই অনুকরণ উঠাবসা, চলাফেরা, কথাবার্তা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যেমন দৈহিকভাবে মেয়েলী বেশ ধারণ করা, কথাবার্তা ও চলাফেরায় মেয়েলীপনা অবলম্বন করা কিংবা পুরুষের বেশ ধারণ করা ইত্যাদি।
পোশাক ও অলংকার পরিধানেও অনুকরণ রয়েছে। সুতরাং পুরুষের জন্য গলার হার, হাতের চুড়ি, পায়ের মল, কানের দুল পরা চলবে না। অনুরূপভাবে মহিলারাও পুরুষদের জামা, পাজামা, প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবী পরতে পারবে না। নারীদের পোশাকের ডিজাইন পুরুষদের থেকে ভিন্নতর হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّجُلَ يَلْبَسُ لِبْسَةَ الْمَرْأَةِ وَالْمَرْأَةَ تَلْبَسُ لِبْسَةَ الرَّجُلِ - 'আল্লাহ তা'আলার লা'নত সেই পুরুষের উপর যে মেয়েলী পোশাক পরিধান করে এবং সেই নারীর উপর, যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে'।১৪৮
সুতরাং উভয়ের কারো জন্যই স্ব স্ব বেশভূষা বদল করা জায়েয হবে না।

টিকাঃ
১৪৬. বুখারী; মিশকাত হা/৪৪২৯।
১৪৭. বুখারী; মিশকাত হা/৪৪২৮।
১৪৮. আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৪৪৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00