📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা

📄 টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা


মানুষ যেসব কাজকে লঘু মনে করে অথচ আল্লাহ্র নিকটে সেগুলি খুবই গুরুতর, তন্মধ্যে টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা একটি। অনেকের কাপড় এত লম্বা যে, তা মাটি স্পর্শ করে। কেউবা আবার পরিধেয় বস্ত্র দ্বারা পিছন থেকে মাটি সমান করতে করতে যায়। টাখনুর নীচে এভাবে কাপড় ঝুলিয়ে পরা হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ - الْمُسْبِلُ (وفي رواية إزاره) وَالْمَنَّانُ [ وفي رواية : الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مِنْهُ ] وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ
'তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তারা হ'ল- টাখনুর নীচে কাপড় (অন্য বর্ণনায় লুঙ্গী) পরিধানকারী, খোঁটাদানকারী (অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে খোঁটা না দিয়ে কোন কিছু দান করে না) ও মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিক্রয়কারী'।১৩৬
যে বলে, 'আমার টাখনুর নীচে কাপড় পরা অহংকারের প্রেক্ষিতে নয়' তার এ সাফাই গাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। টাখনুর নীচে কাপড় পরিধান করা অহংকার বশেই হৌক, আর এমনিতেই হৌক শাস্তি তাতে সমানই হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَا تَحْتَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فَفِي النَّارِ ‘টাখনুর নীচে কাপড়ের যেটুকু থাকবে তা জাহান্নামে যাবে'।১৩৭
এই হাদীছে অহংকার ও নিরহংকারের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয়নি। আর জাহান্নামে গেলে শরীরের কোন অংশবিশেষ যাবে না; বরং সমগ্র দেহই যাবে। অবশ্য অহংকার বশে যে টাখনুর নীচে কাপড় পরবে তার শাস্তি তুলনামূলকভাবে কঠোর ও বেশী হবে। এ কথাই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণীতে এসেছে,
مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ -
'যে ব্যক্তি অহংকার বশে তার লুঙ্গি মাটির সাথে টেনে নিয়ে বেড়াবে, ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আরা তার প্রতি দৃষ্টি দিবেন না'।১৩৮ বেশী শাস্তি এজন্য হবে যে, সে এক সঙ্গে দু'টি হারাম কাজ করেছে। এক- টাখনুর নীচে কাপড় পরা, দুই- অহংকার প্রদর্শন। পরিমিত পরিমাণ থেকে নীচে ঝুলিয়ে যেকোন বস্ত্র পরিধান করাই 'ইসবালে'র আওতাভুক্ত এবং তা হারাম। ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,
الْإِسْبَالُ فِى الإِزارِ وَالْقَمِيصِ وَالْعِمَامَةِ ، مَنْ جَرَّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَة -
'লুঙ্গি, জামা ও পাগড়ীতে ইসবাল (ঝুলিয়ে পরা) রয়েছে। এগুলি থেকে যেকোন একটিকে কোন ব্যক্তি অহংকার বশে টেনে-ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ালে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার প্রতি সদয় দৃষ্টি দিবেন না'।১৩৯
স্ত্রীলোকদের জন্য পায়ের সতরের সুবিধার্থে এক বিঘত কিংবা এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে দেবার অবকাশ আছে। কেননা বাতাস বা অন্য কোন কারণে সতর খোলার ভয় থাকলে অতিরিক্ত কাপড়ে তা বহুলাংশে রোধ হবে। তবে সীমালংঘন করা তাদের জন্যও বৈধ হবে না। যেমন বিয়ে-শাদীতে পরিহিত বস্ত্রের ক্ষেত্রে মেয়েদের সীমালংঘন করতে দেখা যায়। সেগুলি পরিমিত পরিমাণ থেকে কয়েক বিঘত এমনকি কয়েক মিটার লম্বা হয়। অনেক সময় পেছন থেকে তা বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

টিকাঃ
১৩৬. মুসলিম হা/১০৬; মিশকাত হা/২৭৯৫।
১৩৭. নাসাঈ হা/৫৩৩০; আহমাদ হা/২০১৮০।
১৩৮. বুখারী হা/৩৬৬৫, মুসলিম; মিশকাত হা/৪৩১১।
১৩৯. আবুদাঊদ, নাসাঈ; মিশকাত হা/৪৩৩২।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহার করা

📄 পুরুষদের স্বর্ণালংকার ব্যবহার করা


আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلٌ أَحَلَّ لِإِنَاثِ أُمَّتِي الْحَرِيرَ وَالذَّهَبَ وَحَرَّمَهُ عَلَى ذُكُورِهَا ‘আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদের জন্য হারাম করেছেন'।১৪০
আজকাল বাজারে পুরুষদের জন্য স্বর্ণের তৈরী নানা ডিজাইনের ঘড়ি, চশমা, বোতাম, কলম, চেইন, মেডেল ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলির কতক সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরী আবার কতক স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত। অনেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসাবে পুরুষদের স্বর্ণের বিভিন্ন বস্তু দেয়া হয়। এগুলি ঘোরতর অন্যায়।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একবার এক ব্যক্তির হাতে সোনার আংটি দেখতে পেয়ে তা খুলে নেন এবং ছুঁড়ে ফেলে দেন। অতঃপর বলেন, يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِهِ؟ ‘তোমাদের কেউ কি ইচ্ছে করে আগুনের অঙ্গার তুলে নিয়ে স্ব হস্তে রাখতে পারে'? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর জনৈক ব্যক্তি লোকটিকে বলল, তোমার আংটিটা তুলে নাও এবং তা (অন্য) কাজে লাগাও। লোকটি বলল, لَاَ، وَاللَّهِ لَا آخُذُهُ أَبَدًا وَقَدْ طَرَحَهُ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন আমি তা কখনই গ্রহণ করব না'।১৪১

টিকাঃ
১৪০. নাসাঈ হা/৫২৬৫, সনদ ছহীহ।
১৪১. মুসলিম; মিশকাত হা/৪৩৮৫।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 মহিলাদের খাটো, পাতলা ও আঁটসাঁট পোষাক পরিধান করা

📄 মহিলাদের খাটো, পাতলা ও আঁটসাঁট পোষাক পরিধান করা


বর্তমানে যেসব জিনিস দ্বারা আমাদের শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে তন্মধ্যে একটি হ'ল, তাদের উদ্ভাবিত নানা ডিজাইনের পোশাক-পরিচ্ছদের সাহায্যে তারা মুসলমানদের চরিত্র ধ্বংসের কঠিন অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পোশাকগুলির কতক খুবই খাট মাপের কতক আঁটসাঁট করে তৈরী, আবার কতক এত পাতলা যে তা দিয়ে শরীরের সব অঙ্গ দেখা যায়। ফলে পোশাক পরার আসল লক্ষ্য সতর ঢাকা হয় না। এসব পোশাকের অনেক ডিজাইন পরিধান করা মোটেও বৈধ নয়। এমনকি মহিলাদের মাঝে এবং মাহরাম পুরুষদের মাঝেও নয়।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا -
'দু'শ্রেণীর জাহান্নামীকে আমি দেখিনি। প্রথম শ্রেণী-যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি, তা দ্বারা তারা লোকদেরকে প্রহার করবে। দ্বিতীয় শ্রেণী- ঐ সকল রমণী, যারা বস্ত্র পরিহিতা অথচ উলঙ্গ, পুরুষদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্টকারিণী এবং নিজেরাও পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট। তাদের মাথা হবে লম্বা গ্রীবাবিশিষ্ট উটের চুঁটির ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি এত এত দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে'।১৪২
যেসকল মহিলা নীচের দিকে বা অন্যান্য দিকে দীর্ঘ ফাঁড়া পোশাক পরিধান করে তারাও উক্ত হাদীছের বিধানভুক্ত হবে। এগুলি পরে বসলে তাদের সতরের অংশবিশেষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। এতে সতর প্রকাশের পাশাপাশি কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য, তাদের কৃষ্টি-কালচারের অন্ধ অনুকরণ ও তাদের উদ্ভাবিত অশালীন পোশাকের অনুসরণ করা হয়।
কোন কোন পোশাকে আবার অশালীন ছবিও অঙ্কিত থাকে। যেমন- গায়কদের ছবি, বাদক দলের ছবি, মদপাত্রের ছবি, প্রাণীর ছবি, ক্রশের ছবি, অবৈধ সংস্থা ও ক্লাবের ছবি ইত্যাদি। অনেক পোশাকে মান-ইযযত বিনষ্টকারী কথাও লিখা থাকে। বিদেশী ভাষাতেও এসব লিখা থাকে। এ জাতীয় পোশাক পরিহার করা আবশ্যক।

টিকাঃ
১৪২. মুসলিম; মিশকাত হা/৩৫২৪।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পরচুলা ব্যবহার করা

📄 পরচুলা ব্যবহার করা


عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي ابْنَةً عُرَبِّسًا أَصَابَتْهَا حَصْبَةً فَتَمَرَّقَ شَعْرُهَا أَفَأَصِلُهُ فَقَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ -
আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) বলেন, জনৈকা মহিলা নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! আমার একটি সদ্য বিবাহিতা কন্যা আছে। হাম হওয়ার কারণে তার মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি কি তাকে পরচুলা লাগিয়ে দেব? তিনি বললেন, 'যে পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যে লাগাতে চায় আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন'।১৪৪
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, زَجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَصِلَ الْمَرْأَةُ بِرَأْسِهَا شَيْئًا 'নবী করীম (ছাঃ) মহিলাদের মাথার চুলে কোন কিছু সংযোজন করার জন্য ধমক দিয়েছেন'।১৪৫

টিকাঃ
১৪৩. যাদের টাক কিংবা পাতলা চুল রয়েছে তারা লোক-লজ্জার কারণে কিংবা নিজেকে অল্প বয়সী হিসাবে যাহির করার জন্য মাথায় পরচুলা ব্যবহার করে থাকে। পরচুলা মানুষের মাথার চুল থেকেও তৈরী হয় আবার কৃত্রিমভাবেও তৈরী হয়। উভয় প্রকার পরচুলাই ব্যবহার করা হারাম -অনুবাদক।
১৪৪. মুসলিম হা/২১২২।
১৪৫. মুসলিম হা/২১২৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00