📄 ভিক্ষাবৃত্তি
সাহল বিন হানযালিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ سَأَلَ وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ - فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْغِنَى الَّذِي لَا تَنْبغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ قَالَ : قَدْرُ مَا يُغَدِّيهِ وَيُعَشِّيهِ
'যার নিকট অভাব মোচনের মত সামগ্রী আছে অথচ সে ভিক্ষা করে, সে জাহান্নামের অঙ্গারকেই কেবল বর্ধিষ্ণু করে। ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)! কতটুকু সম্পদ থাকলে ভিক্ষা করা উচিৎ নয়? উত্তরে তিনি বললেন, সকাল-সন্ধ্যায় খাওয়া চলে এমন পরিমাণ সম্পদ'।১০৬
ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ سَأَلَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُمُوسٌ أَوْ خُدُوسٌ أَوْ كُدُوحٌ فِي وَجْهِهِ ‘যার নিকট অভাব মোচনের মত সামর্থ্য আছে অথচ সে ভিক্ষা করে, ক্বিয়ামত দিবসে সে মুখে গোশত শূন্য হয়ে উঠবে'।১০৭
অনেক ভিক্ষুক মসজিদে আল্লাহ্র বান্দাদের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের অভাব-অভিযোগের ফিরিস্তি আওড়াতে থাকে। এতে মুছল্লীদের তাসবীহ-তাহলীলে ছেদ পড়ে। অনেকে মিথ্যা বলে এবং ভুয়া কার্ড ও কাগজপত্র দেখায়। অনেকে আবার মনগড়া কাহিনী বলে ভিক্ষা করে। কোন কোন ভিক্ষুক স্বীয় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মসজিদ ও জনসমাগম স্থলে ভাগ করে দেয়। দিন শেষে তারা একস্থানে একত্রিত হয়ে নিজেদের আয় গুণে দেখে। এভাবে তারা যে কত ধনী হয়েছে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। যখন তারা মৃত্যুবরণ করে, তখন জানা যায় কি পরিমাণ সম্পদ তারা রেখে গেছে।
পক্ষান্তরে একদল প্রকৃতই অভাবী রয়েছে। যাদের সংযম দেখে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে ধনী বলেই মনে করে। তারা কাকুতি-মিনতি করে লোকদের নিকটে চায় না। ফলে তাদের অবস্থা যেমন জানার বাইরে থেকে যায়, তেমনি তাদের কিছু দেওয়াও হয় না।
টিকাঃ
১০৫. ইবনু মাজাহ হা/২৩৭৫; আবুদাঊদ হা/৩৫৪২।
১০৬. আবুদাউদ; মিশকাত হা/১৮৪৮।
১০৭. আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৮৪৭।
📄 ঋণ পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করা
মহান রাব্বুল আলামীনের নিকটে বান্দার হক অতীব গুরুত্ববহ। আল্লাহ্র হক নষ্ট করলে তওবার মাধ্যমে ক্ষমা পাওয়া যায়। কিন্তু বান্দার হক নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট বান্দার নিকট থেকে ক্ষমা না পেলে ক্ষমা লাভের কোন উপায় নেই। যেকোন মূল্যে তার হক আদায় করতে হবে ঐদিন আসার পূর্বে যেদিন টাকা-পয়সার কোন কারবার হবে না। সেদিন হকদারের পাপ হক আত্মসাৎকারীকে দেওয়া হবে এবং হক আত্মসাৎকারীর নেকী হকদারকে দেওয়া হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতকে তার প্রাপকের নিকটে অর্পণ করবে' (নিসা ৫৮)।
বর্তমান সমাজে ঋণ গ্রহণ একটি মামুলী ও গুরুত্বহীন বিষয় বলে বিবেচিত। অনেকে অভাবের জন্য নয়; বরং প্রাচুর্য সৃষ্টি ও অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নতুন নতুন বাড়ী, গাড়ী, আসবাবপত্র ইত্যাদি ক্রয়ের জন্য ঋণ নিয়ে থাকে। অনেক সময় এরা কিস্তিতে বেচা-কেনা করে থাকে, যার অনেকাংশই সন্দেহপূর্ণ বা হারাম।
ঋণ পরিশোধকে লঘু বা সাধারণভাবে নিলে প্রায়শই সেখানে টালবাহানা ও গড়িমসি সৃষ্টি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে তাতে অপরের সম্পদ বিনষ্ট করা হয়। এর শোচনীয় পরিণতি বর্ণনা করতে গিয়ে নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللهُ عَنْهُ ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِثْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ
'যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে, আল্লাহ তা'আলা তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। আর যে তা বিনষ্ট করার নিয়তে গ্রহণ করে থাকে, আল্লাহ তাকে বিনষ্ট করে দেন'।১০৮
মানুষ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় উদাসীন। তারা এটাকে খুবই তুচ্ছ মনে করে। অথচ আল্লাহ্র নিকট তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আল্লাহ্র রাস্তায় শহীদ ব্যক্তি এতসব মর্যাদা ও অগণিত ছওয়াবের অধীকারী হওয়া সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধের দায় থেকে সে অব্যাহতি পায়নি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
سُبْحَانَ اللَّهِ مَاذَا أَنْزَلَ مِنَ التَّشْدِيدِ فِي الدَّيْنِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ ثُمَّ أُحْيِيَ ثُمَّ قُتِلَ وَعَلِيهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ دَيْنَهُ -
'সুবহানাল্লাহ! ঋণ প্রসঙ্গে কী কঠোর বাণীই না আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেছেন। যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, ঋণগ্রস্ত অবস্থায় কেউ যদি আল্লাহ্ পথে শহীদ হয় তারপর জীবিত হয়, তারপর শহীদ হয়, তারপর জীবিত হয়, তারপর আবার শহীদ হয় তবুও ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না'।১০৯ এরপরও কি ঋণ পরিশোধে টালবাহানাকারী মতলববাজদের হুঁশ ফিরবে না?
টিকাঃ
১০৮. বুখারী; মিশকাত হা/২৯১০।
📄 হারাম ভক্ষণ
যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে না সে কোথা থেকে অর্থ উপার্জন করল এবং কোথায় ব্যয় করল তার কোন পরোয়া করে না। তার একটাই ইচ্ছা সম্পদ বৃদ্ধি করা। চাই তা হারাম, অবৈধ যে পথেই হৌক। এজন্য সে ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, আত্মসাৎ, হারাম দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়, সূদ, ইয়াতীমের মাল ভক্ষণ, জ্যোতিষী, বেশ্যাবৃত্তি, গান-বাজনা ইত্যাদি হারাম কাজের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন, এমনকি মুসলমানদের সরকারী কোষাগার কিংবা জনগণের সম্পদ কুক্ষিগত করা, মানুষকে সংকটে ফেলে তার সম্পদ বাগিয়ে নেওয়া, ভিক্ষাবৃত্তি ইত্যাদি যেকোন উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। অতঃপর সে ঐ অর্থ হতে খায়, পরিধান করে, গাড়িতে চড়ে, বাড়ী-ঘর তৈরী করে কিংবা বাড়ী ভাড়া নিয়ে দামী আসবাবপত্র দিয়ে সাজায়। এভাবে হারাম দিয়ে তার উদর পূর্তি করে। অথচ নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, كُلِّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتِ إِلَّا كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ 'শরীরের যতটুকু গোশত হারাম হতে উৎপন্ন হয়েছে, তা জাহান্নামের জন্যই সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত'।১১০ আর ক্বিয়ামতের দিনেও তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোথা থেকে সে ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।১১১ সুতরাং এই শ্রেণীর লোকদের জন্য শুধু ধ্বংসই অপেক্ষা করছে।
টিকাঃ
১০৯. নাসাঈ হা/৪৬৮৪; ছহীহুল জামে' হা/৩৬০০।
১১০. আহমাদ, তিরমিযী; মিশকাত হা/২৭৭২।
১১১. তিরমিযী; মিশকাত হা/৫১৯৭।
📄 মদ্যপান
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ণায়ক তীর বা লটারী অপবিত্র শয়তানী কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। সুতরাং তোমরা এগুলি থেকে বিরত থাক। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে' (মায়েদাহ ৯০)।
মদ্যপান হতে বিরত থাকার আদেশ প্রদান তা হারাম হওয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলীল। আল্লাহ তা'আলা অত্র আয়াতে মদের সঙ্গে মূর্তির কথা উল্লেখ করেছেন। মূর্তি কাফেরদের উপাস্য ও দেব-দেবীর সাধারণ নাম। মূর্তি পূজা হারাম হেতু মদ্যপানও হারাম। তাই উক্ত আয়াতে আল্লাহ উল্লিখিত জিনিসগুলো হারাম করেননি বরং বিরত থাকতে বলেছেন বলে এথেকে গা বাঁচানোর কোন উপায় নেই।
মদ্যপান সম্পর্কে হাদীছেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِنَّ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَهْدًا لِمَنْ يَشْرَبُ الْمُسْكِرَ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ : عَرَقُ أَهْلِ النَّارِ أَوْ عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ -
'যে ব্যক্তি মদ্যপান করে তার জন্য আল্লাহ্র অঙ্গীকার হল, তিনি তাকে 'ত্বীনাতুল খাবাল' পান করাবেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) 'ত্বীনাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের ঘাম অথবা পুঁজ-রক্ত'।১১৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مُدْمِنُ الْخَمْرِ إِنْ مَاتَ لَقِيَ اللَّهَ كَعَابِدِ وَثَنِ ‘স্থায়ী শরাবপায়ীরূপে যে মারা যাবে, (ক্বিয়ামতে) সে একজন মূর্তিপূজকের ন্যায় আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে'।১১৪
আমাদের যুগে হরেক রকম মদ ও নেশা জাতীয় দ্রব্যাদি বেরিয়েছে। তাদের নামও আরবী, আজমী বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন- বিয়ার, হুইস্কি, চুয়ানি, তাড়ি, ভদকা, শ্যাম্পেন, কোডিন, মরফিন, প্যাথেড্রিন, হেরোইন, ড্রাগ ইত্যাদি।
নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا ‘নিশ্চয়ই আমার উম্মতের কিছু লোক মদ পান করবে, তারা উহার ভিন্ন নামকরণ করে নেবে'।১১৫
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উক্ত নাম পাল্টিয়ে মদ পানকারী মুসলমানও বর্তমান যামানায় প্রকাশ পেয়েছে। তারা উহার নাম দিয়েছে 'রুহানী টনিক' বা 'জীবনী সুধা'। অথচ এটা নিছক মিথ্যার উপর প্রলেপ প্রদান ও প্রতারণা মাত্র। এই সমস্ত প্রতারকদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
يُخَادِعُونَ اللهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
'তারা আল্লাহ ও ঈমানদারদের সাথে প্রতারণা করে অথচ তারা যে নিজেদের সাথেই প্রতারণা করছে তা তারা অনুধাবন করতে পারছে না' (বাক্বারাহ ৯)।
মদ কি এবং তার বিধান কি হবে শরী'আতে তার পরিপূর্ণ নীতিমালা তুলে ধরা হয়েছে, যাতে ফিত্না ও দ্বন্দ্বের মূলোৎপাটন করা হয়েছে। এই নীতিমালা হ'ল- كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ ‘প্রত্যেক নেশার দ্রব্যই 'খামর' বা মদ এবং প্রত্যেক নেশার দ্রব্যই হারাম'।১১৬
সুতরাং যা কিছু মস্তিষ্কের সঙ্গে মিশে জ্ঞান-বুদ্ধিকে নেশাগ্রস্ত করে তোলে তাই হারাম। চাই তা কম হৌক বা বেশী হৌক;১১৭ তরল পদার্থ হৌক কিংবা কঠিন পদার্থ হৌক। এসব নেশার দ্রব্যের নাম যাই হৌক মূলতঃ এগুলো সবই এক এবং এসবের বিধানও এক।
পরিশেষে মদ্যপায়ীদের উদ্দেশ্যে নবী করীম (ছাঃ)-এর একটি উপদেশবাণী তুলে ধরা হল। তিনি বলেছেন,
مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ وَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ فَشَرِبَ فَسَكِرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ مَاتَ دَخَلَ النَّارَ فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَإِنْ عَادَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ رَدْغَةِ الْخَبَالِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا رَدْغَةُ الْخَبَالِ؟ قَالَ : عُصَارَةُ أَهْلِ النَّارِ -
'যে ব্যক্তি মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয় তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। যদি সে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে জাহান্নামে যাবে। আর যদি তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। পুনরায় যদি সে মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয় তবে তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। যদি সে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। পুনরায় সে যদি মদ পান করে ও নেশাগ্রস্ত হয় তবে তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল হবে না। যদি সে ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে তাহলে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। পুনরায় যদি সে মদ পান করে তবে তাকে ক্বিয়ামত দিবসে 'রাদগাতুল খাবাল' পান করানো আল্লাহ্ জন্য কর্তব্য হয়ে দাঁড়াবে। ছাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)! 'রাদগাতুল খাবাল' কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের দেহ নিঃসৃত পুঁজ-রক্ত'।১১৮
এই যদি হয় সাধারণ নেশায় অভ্যস্ত ব্যক্তিদের পরিণতি, তবে ঐ সমস্ত লোকদের পরিণতি কেমন হবে, যারা গুরুতরভাবে নেশার দ্রব্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অবিরতভাবে তা পান করে থাকে।
টিকাঃ
১১২. মদ তথা নেশার দ্রব্যাদি আধুনিক সভ্যতার এক নিদারুণ অভিশাপ। নেশার আবেশে আজকের পৃথিবী তলিয়ে যাচ্ছে। যতই আইন-কানূন করে ও বিরুদ্ধ প্রচার চালিয়ে বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে, ততই যেন প্রতিনিয়ত তা প্রসার লাভ করছে। বর্তমান সভ্যতার মুখে এ এক নির্লজ্জ চপেটাঘাত। অথচ বহু পূর্বেই ইসলাম শুধু মদ পান করাই হারাম করেনি; বরং এর উৎপাদন ও বেচা-কেনা পর্যন্ত হারাম করেছে এবং পানকারীর জন্য দৈহিক শাস্তি নির্ধারণ করেছে। -অনুবাদক
১১৩. মুসলিম; মিশকাত হা/৩৬৩৯।
১১৪. আহমাদ; মিশকাত হা/৩৬৫৬, সনদ হাসান।
১১৫. আবুদাউদ, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৪২৯২।
১১৬. মুসলিম; মিশকাত হা/৩৬৩৮।
১১৭. (مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ) আবুদাউদ; মিশকাত হা/৩৬৪৫।
১১৮. ইবনু মাজাহ হা/৩৩৭৭; ছহীহুল জামে' হা/৬৩১৩।