📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 ঘুষ

📄 ঘুষ


কারো হক বিনষ্ট করা কিংবা কোন অন্যায়কে কার্যকর করার জন্য বিচারক কিংবা শাসককে ঘুষ দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। কেননা ঘুষের ফলে বিচারক প্রভাবিত হয়, হকদারের প্রতি অবিচার করা হয়, বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থায় ধস নেমে আসে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْباطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
'তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ করো না এবং জেনে-বুঝে মানুষের সম্পদ হতে ভক্ষণের জন্য বিচারকদের দরবারে উহার আরযী পেশ করো না' (বাক্বারাহ ১৮৮)।
আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِىَ فِي الْحُكْمِ 'বিচার-ফায়ছালায় ঘুষ দাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের উপরে আল্লাহ তা'আলা লা'নত করেছেন'।৯৫
তবে যদি ঘুষ প্রদান ব্যতীত নিজের পাওনা বা অধিকার আদায় সম্ভব না হয় কিংবা ঘুষ না দিলে যুলুম-অত্যাচারের শিকার হতে হয় তবে ঐ অধিকার আদায় ও যুলুম নিরোধ কল্পে ঘুষ দিলে ঘুষদাতা উক্ত শাস্তির আওতায় পড়বে না।
বর্তমানে ঘুষের বিস্তার রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি অনেক চাকুরের নিকট মূল বেতনের চেয়ে তা রীতিমত আয়ের এক বড় উৎস। অনেক অফিস ও কোম্পানী নানা নামে-উপনামের ছদ্মাবরণে ঘুষকে আয়ের বাহানা বানিয়ে নিয়েছে। অনেক কাজই এখন ঘুষ ছাড়া শুরু ও শেষ হয় না। এতে গরীব ও অসহায়রা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ঘুষের কারণে ভঙ্গ হয়ে যায়। ঘুষ না দিলে ভাল সার্ভিসের আশা করা বাতুলতা মাত্র। যে ঘুষ দিতে পারে না তার জন্য নিকৃষ্ট মানের সার্ভিস অপেক্ষা করে। হয়ত তাকে বারবার ঘুরানো হয়, নয়ত তার দরখাস্ত বা ফাইল একেবারে গায়েব করে দেওয়া হয়। আর যে ঘুষ দিতে পারে সে পরে এসেও ঘুষ দিতে অক্ষম ব্যক্তির নাকের ডগার উপর দিয়ে বহু আগেই কাজ সমাধা করে চলে যায়। অথচ ঘুষের কারণে যে অর্থ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার কথা ছিল তা তাদের হাতে না পৌঁছে বরং ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটস্থ হয়।
এসব নানাবিধ কারণে নবী করীম (ছাঃ) ঘুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার বিরুদ্ধে বদ দো'আ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হতে বর্ণনা করেন, لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِى ‘ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহ্র লা'নত'।৯৬

টিকাঃ
৯৫. আহমাদ হা/৯০১১; ছহীহুল জামে' হা/৫০৯৩।
৯৬. ইবনু মাজাহ হা/২৩১৩; ছহীহুল জামে' হা/৫১১৪।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 সুফারিশের বিনিময়ে উপহার গ্রহণ

📄 সুফারিশের বিনিময়ে উপহার গ্রহণ


মানুষের মান-মর্যাদা ও পদাধিকার বান্দার উপর আল্লাহ্র অনুগ্রহরাজির অন্যতম। এই অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায় করা কর্তব্য। মুসলমানদের উপকারে তাদের পদ ও মর্যাদাকে কাজে লাগানো উক্ত শুকরিয়ারই অংশবিশেষ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার ভাইকে উপকার করতে সক্ষম, সে যেন তা করে'।৯৭
যে ব্যক্তি তার পদের মাধ্যমে কোন মুসলিম ভাইকে যুলুম থেকে রক্ষা করে কিংবা তার কোন কল্যাণ সাধন করে এবং তা করতে গিয়ে কোন হারাম উপায় অবলম্বন করে না বা কারো অধিকার ক্ষুণ্ণ করে না, সে ব্যক্তির নিয়ত বিশুদ্ধ হলে আল্লাহ্ নিকট সে পারিতোষিক পাওয়ার যোগ্য। যেমন নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, اشْفَعُوا تُؤْجَرُوا 'তোমরা সুফারিশ কর, বিনিময়ে তোমরা ছওয়াব পাবে'।৯৮
এই সুফারিশ ও মধ্যস্থতার জন্য কোন বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নয়। আবু উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
مَنْ شَفَعَ لِأَخِيهِ بِشَفَاعَةٍ فَأَهْدَى لَهُ هَدِيَّةً عَلَيْهَا فَقَبِلَهَا فَقَدْ أَتَى بَابًا عَظِيمًا مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا
'সুফারিশ করার দরুন যে ব্যক্তি সুফারিশকারীকে উপহার দেয় এবং (তার থেকে) সে ঐ উপহার গ্রহণ করে তাহলে সে ব্যক্তি সূদের দ্বারদেশগুলোর মধ্য থেকে একটি বৃহৎ দ্বারে উপনীত হয়'।৯৯
এক শ্রেণীর মানুষ আর্থিক স্বার্থের বিনিময়ে তাদের পদমর্যাদাকে কাজে লাগাতে চায় বা মধ্যস্থতা করতে সম্মত হয়। যেমন- কোন একজন লোককে চাকরি দেওয়া অথবা কাউকে কোন প্রতিষ্ঠান বা এলাকা হতে অন্য প্রতিষ্ঠান বা এলাকায় বদলি করে দেওয়া, কিংবা কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা করে দেওয়া ইত্যাদির জন্য অর্থলাভের শর্ত আরোপ করে। কিন্তু এরূপ স্বার্থের জন্য শর্তারোপ ও তার সুযোগ গ্রহণ করা হারাম। উপরোক্ত হাদীছই তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বরং যে কোন কিছু গ্রহণ করাই এই হাদীছের বাহ্যিক দিকের আওতায় পড়ে, চাই পূর্বে কোন কিছুর শর্ত আরোপ না করা হৌক। আসলে ভাল কাজের কর্মীর জন্য আল্লাহ্ পারিতোষিকই যথেষ্ট, যা সে ক্বিয়ামত দিবসে পাবে।
জনৈক ব্যক্তি কোন এক প্রয়োজনে হাসান বিন সাহলের নিকট এসে তাঁর সুফারিশ প্রার্থনা করে। তিনি তার প্রয়োজন পূরণ করে দেন। ফলে লোকটি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে লাগল। তখন হাসান বিন সাহল তাকে বললেন, 'কি জন্য তুমি আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছ? আমরা তো মনে করি পদেরও যাকাত আছে, যেমন অর্থ-সম্পদের যাকাত আছে'।১০০
এখানে এই পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করা যথার্থ হবে যে, কোন কার্য সম্পাদনের জন্য ব্যক্তি বিশেষকে পারিশ্রমিক দিয়ে নিযুক্ত করা এবং শর্ত সাপেক্ষে বৈধ মজুরী প্রদান শ্রেণীভুক্ত হবে। পক্ষান্তরে আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে নিজ পদমর্যাদা ও মধ্যস্থতাকে কাজে লাগিয়ে সুফারিশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এটা নিষিদ্ধ। মূলতঃ উভয় প্রক্রিয়া এক নয়।

টিকাঃ
৯৭. মুসলিম; মিশকাত হা/৪৫২৯।
৯৮. বুখারী হা/২৪৩২; আবুদাঊদ হা/৫১৩২।
৯৯. আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৫৭।
১০০. ইবনু মুফলিহ, আল-আদাবুশ শার'ঈয়্যাহ ২/১৭৬ পৃঃ।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 শ্রমিক থেকে ষোলআনা শ্রম আদায় করে পুরো মজুরী না দেওয়া

📄 শ্রমিক থেকে ষোলআনা শ্রম আদায় করে পুরো মজুরী না দেওয়া


নবী করীম (ছাঃ) শ্রমিকের পাওনা দ্রুত পরিশোধে জোর তাকীদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, أَعْطُوا الأَخِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَحِفَّ عَرَقُهُ ‘শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই তার পাওনা পরিশোধ কর'।১০১
শ্রমিক, কর্মচারী, দিনমজুর যেই হৌক না কেন তার থেকে শ্রম আদায়ের পর যথারীতি তার পাওনা পরিশোধ না করা মহা যুলম। এ যুলম এখন হর-হামেশাই হচ্ছে। শ্রমিকদের প্রতি যুলমের বিচিত্র রূপ রয়েছে। যেমন-
১. শ্রমিক স্বীয় কাজের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ পেশ করতে না পারায় তার পাওনাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। এক্ষেত্রে দুনিয়াতে তার হক্ব নষ্ট হলেও ক্বিয়ামতে তা বৃথা যাবে না। ক্বিয়ামতের দিন যালিমের পুণ্য থেকে মাযলূমের পাওনা পরিমাণ পুণ্য প্রদান করা হবে। যদি তার পুণ্য নিঃশেষ হয়ে যায় তাহলে মাযলূমের পাপ যালিমের ঘাড়ে চাপানো হবে, তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।১০২
২. যে পরিমাণ অংক মজুরী দেওয়ার জন্য চুক্তি হয়েছে তার থেকে কম দেওয়া। এ বিষয়ের সমূহ ক্ষতি প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা হুঁশিয়ারী বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, وَيْلٌ لِلْمُطَفْفِينَ 'যারা ওযনে কম দেয় তাদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে' (মুতাফফিফীন ১)।
অনেক নিয়োগকর্তা দেশ-বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট বেতন বা মজুরীর চুক্তিতে শ্রমিক নিয়োগ করে থাকে। তারপর তারা যখন কাজে যোগদান করে তখন সে একতরফাভাবে চুক্তিপত্র পরিবর্তন করে বেতন বা মজুরীর পরিমাণ অনেক কমিয়ে দেয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঐসব শ্রমিক তখন কাজ করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় শ্রমিকরা তাদের অধিকারের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে পারে না। তখন কেবল আল্লাহ্র নিকট অভিযোগ দায়ের করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকে না। এক্ষেত্রে যদি নিয়োগকর্তা মুসলমান ও নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি কাফির হয় তবে বেতন মজুরী হ্রাসে ঐ শ্রমিকের ইসলাম গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে ক্বিয়ামত দিবসে ঐ কাফিরের পাপ তাকে বহন করতে হবে।
৩. বেতন বা মজুরী বৃদ্ধি না করে কেবল কাজের পরিমাণ কিংবা সময় বৃদ্ধি করা। এতে শ্রমিককে তার অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করা হয়।
৪. বেতন বা মজুরী পরিশোধে গড়িমসি করা। অনেক চেষ্টা-প্রচেষ্টা, তদবীর-তাগাদা, অভিযোগ-অনুযোগ ও মামলা-মোকদ্দমার পর তবেই প্রাপ্য অর্থ আদায় সম্ভব হয়। অনেক সময় নিয়োগকারী শ্রমিককে ত্যক্ত-বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে টাল-বাহানা করে, যেন সে পাওনা ছেড়ে দেয় এবং কোন দাবী না তুলে চলে যায়। আবার কখনও তাদের টাকা খাটিয়ে মালিকের তহবিল স্ফীত করার কুমতলব থাকে। অনেকে তা সূদী কারবারেও খাটায়। অথচ সেই শ্রমিক না নিজে খেতে পাচ্ছে, না নিজের পুত্র-পরিজনদের জন্য কিছু পাঠাতে পারছে। যদিও তাদের মুখে দু'মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্যই সে এই দূর দেশে পড়ে আছে। এজন্যই এ সকল যালিমের জন্য এক কঠিন দিনের শাস্তি অপেক্ষা করছে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، رَجُلٌ أَعْطَى بِى ثُمَّ غَدَرَ، وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ، وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ، وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهُ
'কিয়ামত দিবসে আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হব। (১) যে ব্যক্তি আমার অনুগত হওয়ার পর বিশ্বাসঘাতকতা করে (২) যে ব্যক্তি কোন স্বাধীন বা মুক্ত লোককে ধরে বিক্রয় করে তার মূল্য ভোগ করে (৩) যে ব্যক্তি কোন মজুরকে নিয়োগের পর তার থেকে পুরো কাজ আদায় করেও তার পাওনা পরিশোধ করে না'।১০৩

টিকাঃ
১০১. ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/২৯৮৭।
১০২. মুসলিম হা/২৫৮১; মিশকাত হা/৫১২৭।
১০৩. বুখারী; মিশকাত হা/২৯৮৪।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 সন্তানদের উপহার প্রদানে সমতা রক্ষা না করা

📄 সন্তানদের উপহার প্রদানে সমতা রক্ষা না করা


আমাদের সমাজে এমন অনেক মাতা-পিতা আছেন, যারা এক সন্তানকে 'হেবা' বা উপহার দিলে অন্যান্য সন্তানকে দেন না। নিয়ম হ'ল, সন্তানদের সবাইকে বিশেষ কোন উপহার সমান হারে দিতে হবে; আর না হলে কাউকে দেয়া যাবে না। নিয়ম লংঘন করে সন্তান বিশেষকে দেয়া ও অন্যদের বঞ্চিত করা ঠিক নয়। শারঈ কারণ ব্যতীত এরূপ দান করলে তা হারাম বলে গণ্য হবে। শারঈ কারণ বলতে সন্তানদের একজনের এমন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা অন্যদের নেই। যেমন- সে অসুস্থ, কিংবা বেকার, অথবা ছাত্র, কিংবা সংসারে তার সদস্য সংখ্যা অনেক তথা সে পোষ্য ভারাক্রান্ত, অথবা সে কুরআন মুখস্থ করেছে তাই উৎসাহ ধরে রাখতে কিছু দেয়া ইত্যাদি। পিতা এরূপ শারঈ কারণবশতঃ কোন সন্তানকে কিছু দেয়ার সময় নিয়ত করবে যে, অন্য কোন সন্তানের যদি এরূপ প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তাকেও তিনি তার প্রয়োজন মত দিবেন। এ কথার সাধারণ দলীল আল্লাহ্ বাণী- اِعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ ‘তোমরা সুবিচার কর। ইহা আল্লাহভীতির অধিক নিকটবর্তী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর' (মায়েদাহ ৮)। আর বিশেষ দলীল হল রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর হাদীছ। একদা নু'মান বিন বাশীর (রাঃ)-এর পিতা তাকে রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে নিয়ে গিয়ে বললেন, 'আমি আমার এই পুত্রকে একটা দাস দান করেছি'। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একথা শুনে বললেন, 'তোমার সকল সন্তানকে কি তার মত করে দান করেছ? পিতা বললেন, 'না'। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, 'তাহলে উক্ত দান ফেরত নাও'। অন্য বর্ণনায় আছে, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে সুবিচার কর'। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বাড়ী ফিরে এসে ঐ দাস ফেরত নেন। অপর এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, فَلاَ تُشْهِدْنِي إِذًا فَإِنِّي لَا أَشْهَدُ عَلَى جَوْرٍ 'তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী করো না। কেননা যুলুমের সাক্ষী আমি হতে পারি না'।১০৪
কোন কোন পিতাদের দেখা যায় যে, তারা সন্তান বিশেষকে অহেতুক অগ্রাধিকার দানে আল্লাহকে ভয় করেন না। এর ফলে সন্তানদের মধ্যে মন কষাকষির সৃষ্টি হয়। তারা একে অপরের প্রতি শত্রু ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন হয়ে ওঠে। কখনো কোন সন্তানকে পিতৃকুলের আকৃতি পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়, অন্য সন্তানকে মাতৃকুলের আকৃতি পাওয়ার জন্য বঞ্চিত করা হয়। এক স্ত্রীর সন্তানকে দেওয়া হয়, অন্য স্ত্রীর সন্তানদের দেওয়া হয় না। আবার অনেক সময় তাদের একজনের সন্তানদেরকে বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অন্যজনের সন্তানদের ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এর কুফল অচিরেই ঐসব মাতা-পিতাকে ভোগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঐসব বঞ্চিত সন্তান ভবিষ্যতে তাদের পিতার সঙ্গে সদাচরণ করে না।
সন্তানদের মধ্যে দান-দক্ষিণায় কাউকে বেশী গুরুত্ব দেয়া ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا إِلَيْكَ فِي الْبِرِّ سَوَاءً 'তোমার সন্তানেরা তোমার সাথে সমান সদাচরণ করুক তা কি তোমাকে আনন্দিত করবে না'?।১০৫ সুতরাং সন্তানদের প্রতি দান-দক্ষিণায় সমতা রক্ষা করা অপরিহার্য।

টিকাঃ
১০৪. মুসলিম হা/১৬২৩; মিশকাত হা/৩০৯০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00