📄 জুয়া
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
'নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, বেদী, ভাগ্য নির্ণায়ক তীর অপবিত্র শয়তানী কাজ। সুতরাং তোমরা তা থেকে বিরত থাক। তাতে তোমরা সফলকাম হবে' (মায়েদা ৯০)।
জাহেলী যুগের লোকেরা জুয়া খেলায় ভীষণ অভ্যস্ত ছিল। জুয়ার যে পদ্ধতি তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল তা হ'ল, তারা দশ জনে সমান অংক দিয়ে একটা উট ক্রয় করত, সেই উটের গোশত ভাগ-বাঁটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হ'ত। এটা এক প্রকার লটারী। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-বেশী করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকত এবং তিনটিতে কোন অংশই লেখা থাকত না। ফলে তিনজন কোন অংশ পেত না এবং অন্য সাত জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশী অংশ পেত। এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে ভাগ করে নিত।
বর্তমানে জুয়ার নানা পদ্ধতি বের হয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:-
লটারী : লটারী খুবই প্রসিদ্ধ জুয়া। লটারী নানা রকম আছে। তন্মধ্যে ব্যাপকতর হচ্ছে, নির্দিষ্ট অংকের টাকা কিংবা দ্রব্য পুরস্কারের নামে প্রদানের বিনিময়ে নির্দিষ্ট নম্বরের কুপন ক্রয়-বিক্রয়। নির্দিষ্ট তারিখে বিক্রিত কুপনগুলির ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম যে নম্বরের কুপনটি ওঠে সে প্রথম পুরস্কার পায়। এভাবে ক্রমানুযায়ী উদ্দিষ্ট সংখ্যক পুরস্কার দেয়া হয়। পুরস্কারের অংকগুলিতে প্রায়শঃ তারতম্য থাকে। এই লটারী হারাম, যদিও আয়োজকরা একে 'কল্যাণকর' মনে করে।
বীমা : বর্তমানে বাজারে নানারকম বীমা বা ইনস্যুরেন্স চালু আছে। যেমন জীবন বীমা, যানবাহন বীমা, পণ্য বীমা, অগ্নি বীমা ইত্যাদি। এমনকি অনেক গায়ক তাদের কণ্ঠস্বর পর্যন্ত বীমা করে থাকে। নানান ঝুঁকি হতে নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবসা এখন জমজমাটভাবে চলছে।
পণ্যের মধ্যে অজ্ঞাত সংকেত : কোন কোন পণ্যের মধ্যে অজ্ঞাত নম্বর কিংবা সংকেত দেওয়া থাকে। ক্রেতারা ঐসব পণ্য খরিদের পর সেই বস্তু কিংবা নম্বরটা পেলে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কয়েকজনকে পুরস্কৃত করার জন্য ঐসব বস্তু বা নম্বরের লটারী করে থাকে। অনেক সময় কোন কোন উৎপাদক কোম্পানী তাদের উৎপাদিত পণ্যের বহুল প্রসারের জন্য হাযার হাযার পণ্যের কোন একটিতে পুরস্কারের সংকেত রেখে দেয়। সেই সংকেতটি পাওয়ার আশায় বহু মানুষ তা কেনায় মেতে ওঠে। পরে দেখা যায় দু'একজনের বেশী কেউ পায় না। এরূপ বিক্রয়ে ক্রেতারা প্রতারিত হয় এবং সেই সাথে প্রতিযোগী কোম্পানী সমূহের ব্যবসায়ে ক্ষতি করা হয় ।
উল্লিখিত জুয়া ছাড়াও যত প্রকার জুয়া আছে সবই কুরআনে বর্ণিত 'মাইসির'-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। বর্তমানে জুয়ার জন্য বিশেষভাবে অনেক আসর বসে, যা কোথাও 'হাউজি' কোথাও 'সবুজ টেবিল' নামে পরিচিত। ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধূলার প্রতিযোগিতায় যে বাজী ধরা হয় তাও জুয়ার অন্তর্গত। আবার খেলাধূলার এমন অনেক দোকান ও বিনোদন কেন্দ্র আছে যেখানে জুয়ার চিন্তাধারায় গড়ে উঠা নানারকম খেলনা সামগ্রী রয়েছে। যেমন- ফ্লাস, পাশা ইত্যাদি।
আর মানুষ যেসব প্রতিযোগিতা করে থাকে তা তিন প্রকার। যথা :
এক : শারঈ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য প্রসূত প্রতিযোগিতা। যেমন উট ও ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা, তীরন্দাযী ও নিশানার প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। শারঈ বিদ্যা যেমন কুরআন হিফয প্রতিযোগিতাও আলিমদের অগ্রাধিকারযোগ্য মতানুসারে এ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
এ জাতীয় প্রতিযোগিতা পুরস্কার সহ কিংবা পুরস্কারবিহীন যেভাবেই হৌক মুবাহ বা বৈধ হবে।
দুই : মূলে মুবাহ এমন সব প্রতিযোগিতা। যেমন ফুটবল প্রতিযোগিতা, দৌড় প্রতিযোগিতা। তবে এগুলি হারাম শূন্য হতে হবে। যেমন এসব খেলা করতে কিংবা দেখতে গিয়ে ছালাত বিনষ্ট করা কিংবা সতর খোলা হারাম। পুরস্কার ছাড়া এসব প্রতিযোগিতা জায়েয।
তিন : মূলে হারাম কিংবা মাধ্যম হারাম এমন সব প্রতিযোগিতা। যেমন বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নষ্ট প্রতিযোগিতা, রেসলিং বা মুষ্টিযুদ্ধের প্রতিযোগিতা। মুষ্টিযুদ্ধ প্রতিযোগিতায় মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয়, অথচ মুখমণ্ডলে আঘাত করা হারাম।৮৯ সুতরাং মুষ্টিযুদ্ধ হারামের মাধ্যম একটি প্রতিযোগিতা। অনুরূপভাবে মেষের লড়াই, মোরগের লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই ইত্যাদিও এ শ্রেণীভুক্ত।
টিকাঃ
৮৯. বুখারী হা/২৫৫৯, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৫২৫।
📄 চুরি করা
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
'পুরুষ ও নারী চোর চুরি করলে তোমরা তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও। এটা তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত আদর্শদণ্ড। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়' (মায়েদা ৩৮)।
চুরির মধ্যে মহাচুরি হ'ল, হজ্জ ও ওমরার উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ শরীফে আগমনকারীদের দ্রব্যাদি চুরি করা। পৃথিবীর সর্বোত্তম স্থানে চুরি করা আল্লাহ্ বিধানের প্রতি চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন। এতে আল্লাহ্র বিধানকে থোড়াই কেয়ার করা হয়। এজন্য মহানবী (ছাঃ) সূর্য গ্রহণের ছালাতের ঘটনায় বলেছিলেন,
لَقَدْ جِيءَ بِالنَّارِ وَذَلِكُمْ حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَّرْتُ مَخَافَةَ أَنْ يُصِيبَنِي مِنْ لَفْحِهَا وَحَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ الْمِحْجَنِ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ، كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَ بِمِحْجَنِهِ فَإِنْ فُطِنَ لَهُ قَالَ إِنَّمَا تَعَلَّقَ بِمِحْجَنِي، وَإِنْ غُفِلَ عَنْهُ ذَهَبَ بِهِ-
'(আমার সামনে) জাহান্নামকে হাযির করা হয়। এটা সেই সময়ে হয়েছিল যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে দেখছিলে, আমি উহার লেলিহান শিখায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে পিছিয়ে আসছিলাম। এমনি সময় আমি উহার মধ্যে একজন বাঁকা মাথা বিশিষ্ট লাঠিওয়ালাকে দেখতে পেলাম, যে আগুনের মধ্যে তার পেট ধরে টানছে। সে বাঁকা মাথাবিশিষ্ট লাঠি দিয়ে হাজীদের জিনিসপত্র চুরি করত। ধরা পড়লে বলত, আমার লাঠির সাথে চলে এসেছিল বলে এমন হয়েছে। আর না ধরা পড়লে তা নিয়ে কেটে পড়ত'।৯০
সরকারী সম্পদ চুরি করাও বড় আকারের চুরির অন্তর্ভুক্ত। কিছু লোক এ জাতীয় চুরিতে অভ্যস্ত। তারা বলে থাকে, অন্যরা চুরি করে তাই আমরাও করি। অথচ তারা জানেনা, এতে সকল মুসলমান বা জনগণের সম্পদ চুরি করা হচ্ছে। আর যারা আল্লাহকে ভয় করে না তাদের কাজ কোন দলীল হতে পারে না; তাদের অনুকরণও করা যাবে না।
কেউ কেউ কাফিরদের সম্পদ এ যুক্তিতে চুরি করে যে, লোকটা কাফির, তার সম্পদ মুসলমানের জন্য মুবাহ। অথচ তাদের ধারণা ভ্রান্তিপূর্ণ। কেননা যে সকল কাফির মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত কেবল তাদের সম্পদ মুসলমানদের জন্য বৈধ। কাফিরদের সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
অন্য লোকের পকেট থেকে কিছু তুলে নেওয়া বা পকেটমারাও চুরি। অনেকেই কারো সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ীতে যায় এবং চুরি করে আসে। অনেকে মেহমানদের ব্যাগ হাতড়িয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। আবার অনেক চোর বিপণীবিতানগুলোতে প্রবেশ করে পকেট কিংবা থলিতে দু'একটা দ্রব্য তুলে নেয়। অনেক মহিলা আছে, যারা তাদের পরিধেয়ের মধ্যে অনেক কিছুই লুকিয়ে নিয়ে যায়। কেউ কেউ সামান্য কিংবা সস্তা কোন কিছু চুরি করাকে অপরাধ মনে করেন না। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ ، يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الْحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ -
'সে চোরের উপর আল্লাহ্র লা'নত, যে একটি ডিম চুরি করার ফলে তার হাত কাটা হয় এবং যে এক গাছি রশি চুরি করার ফলে তার হাত কাটা যায়'।৯১
যে যাই চুরি করুক না কেন আল্লাহ্র নিকটে তওবা করার সাথে সাথে তাকে ঐ চুরির দ্রব্য মালিকের নিকটে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। চাই প্রকাশ্যে হৌক কিংবা গোপনে হৌক, সরাসরি হৌক কিংবা কারো মাধ্যমে হৌক। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও যদি মালিক কিংবা তার ওয়ারিছদের খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে চুরির মাল মালিকের নামে দান করে দিতে হবে।
টিকাঃ
৯০. মুসলিম, মিশকাত হা/২৯৪২।
৯১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৫৯২।
📄 জমি আত্মসাৎ করা
যখন মানুষের মন থেকে আল্লাহভীতি উঠে যায় তখন তার শক্তি, বুদ্ধি সবই তার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। সে এগুলিকে নির্বিচারে যুলুম-নিপীড়নে ব্যবহার করে। যেমন শক্তির বলে অন্যের সম্পদ কুক্ষিগত করা। ভূমি জবরদখল এরই একটি অংশ। এর পরিণাম খুবই মারাত্মক। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
مَنْ أَخَذَ مِنَ الْأَرْضِ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى سَبْعِ أَرَضِينَ
'যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো জমির কিয়দংশ জবরদখল করবে, ক্বিয়ামত দিবসে এজন্য তাকে সপ্ত যমীন পর্যন্ত পুঁতে দেওয়া হবে'।৯২
ইয়ালা ইবনু মুররাহ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
أَيُّمَا رَجُلٍ ظَلَمَ شِبْراً مِنَ الأَرْضِ كَلَّفَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَحْفِرَهُ حَتَّى يَبْلُغَ آخِرَ سَبْعِ أَرَضِينَ ثُمَّ يُطَوَّقَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ-
'যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমি জবরদখল করবে আল্লাহ তাকে যমীনের সপ্ত স্তর পর্যন্ত তা খনন করতে বাধ্য করবেন। অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তা তার গলায় বেড়ী করে রাখা হবে, যে পর্যন্ত না মানুষের মাঝে বিচারকার্য শেষ হয়'।৯৩
জমির সীমানা বা আইল পরিবর্তন করাও এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ সম্পর্কে নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, لَعَنَ اللَّهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الْأَرْضِ 'যে ব্যক্তি জমির নিশানা বা আইল পরিবর্তন করে আল্লাহ তার উপর অভিসম্পাত করেন'।৯৪
টিকাঃ
৯২. বুখারী; মিশকাত হা/২৯৫৮।
৯৩. আহমাদ, মিশকাত হা/২৯৬০, সনদ ছহীহ।
৯৪. মুসলিম, মিশকাত হা/৪০৭০।
📄 ঘুষ
কারো হক বিনষ্ট করা কিংবা কোন অন্যায়কে কার্যকর করার জন্য বিচারক কিংবা শাসককে ঘুষ দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। কেননা ঘুষের ফলে বিচারক প্রভাবিত হয়, হকদারের প্রতি অবিচার করা হয়, বিচার ও প্রশাসন ব্যবস্থায় ধস নেমে আসে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْباطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
'তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ করো না এবং জেনে-বুঝে মানুষের সম্পদ হতে ভক্ষণের জন্য বিচারকদের দরবারে উহার আরযী পেশ করো না' (বাক্বারাহ ১৮৮)।
আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِىَ فِي الْحُكْمِ 'বিচার-ফায়ছালায় ঘুষ দাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের উপরে আল্লাহ তা'আলা লা'নত করেছেন'।৯৫
তবে যদি ঘুষ প্রদান ব্যতীত নিজের পাওনা বা অধিকার আদায় সম্ভব না হয় কিংবা ঘুষ না দিলে যুলুম-অত্যাচারের শিকার হতে হয় তবে ঐ অধিকার আদায় ও যুলুম নিরোধ কল্পে ঘুষ দিলে ঘুষদাতা উক্ত শাস্তির আওতায় পড়বে না।
বর্তমানে ঘুষের বিস্তার রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এমনকি অনেক চাকুরের নিকট মূল বেতনের চেয়ে তা রীতিমত আয়ের এক বড় উৎস। অনেক অফিস ও কোম্পানী নানা নামে-উপনামের ছদ্মাবরণে ঘুষকে আয়ের বাহানা বানিয়ে নিয়েছে। অনেক কাজই এখন ঘুষ ছাড়া শুরু ও শেষ হয় না। এতে গরীব ও অসহায়রা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ঘুষের কারণে ভঙ্গ হয়ে যায়। ঘুষ না দিলে ভাল সার্ভিসের আশা করা বাতুলতা মাত্র। যে ঘুষ দিতে পারে না তার জন্য নিকৃষ্ট মানের সার্ভিস অপেক্ষা করে। হয়ত তাকে বারবার ঘুরানো হয়, নয়ত তার দরখাস্ত বা ফাইল একেবারে গায়েব করে দেওয়া হয়। আর যে ঘুষ দিতে পারে সে পরে এসেও ঘুষ দিতে অক্ষম ব্যক্তির নাকের ডগার উপর দিয়ে বহু আগেই কাজ সমাধা করে চলে যায়। অথচ ঘুষের কারণে যে অর্থ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার কথা ছিল তা তাদের হাতে না পৌঁছে বরং ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটস্থ হয়।
এসব নানাবিধ কারণে নবী করীম (ছাঃ) ঘুষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার বিরুদ্ধে বদ দো'আ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) হতে বর্ণনা করেন, لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِى ‘ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহ্র লা'নত'।৯৬
টিকাঃ
৯৫. আহমাদ হা/৯০১১; ছহীহুল জামে' হা/৫০৯৩।
৯৬. ইবনু মাজাহ হা/২৩১৩; ছহীহুল জামে' হা/৫১১৪।