📄 সূদ খাওয়া
আল্লাহ তা'আলা সুদখোর ব্যতীত আর কারো বিরুদ্ধে স্বয়ং যুদ্ধের ঘোষণা দেননি। তিনি বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ - فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ -
'হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ কর যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যদি তোমরা তা না কর, তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধের ঘোষণা শোন' (বাক্বারাহ ২৭৮-২৭৯)।
আল্লাহ্র নিকট সূদ খাওয়া যে কত মারাত্মক অপরাধ তা অনুধাবনের জন্য উক্ত আয়াতদ্বয়ই যথেষ্ট। সূদবৃত্তি দারিদ্র্য, মন্দা, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, অর্থনৈতিক স্থবিরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, বহু কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব ইত্যাদির ন্যায় কত যে জঘন্য ক্ষতি ও ধ্বংসের দিকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ঠেলে দিচ্ছে তা পর্যবেক্ষক মাত্রই অনুধাবন করতে সক্ষম। প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো শ্রমের বিনিময়ে যা অর্জিত হয়, সূদের অতলগহ্বর পূরণেই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। সূদের ফলে সমাজে একটি বিশেষ শ্রেণীর উদ্ভব হয়। মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে ব্যাপক সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়ে পড়ে। সম্ভবতঃ এসব কারণেই আল্লাহ তা'আলা সূদীকারবারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
সূদী কারবারে মূল দু'পক্ষ, মধ্যস্থতাকারী, সহযোগিতাকারী ইত্যাকার যারাই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তারা সবাই মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর যবানীতে অভিশপ্ত। জাবির (রাঃ) বলেন,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُو كِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূদ গ্রহীতা, সূদ দাতা, সূদের লেখক এবং তার সাক্ষীদ্বয়কে অভিসম্পাত করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী'।৭৮
এ কারণেই সূদ লিপিবদ্ধ করা, এর আদান-প্রদানে সহায়তা করা, সূদী দ্রব্য গচ্ছিত রাখা ও এর পাহারাদারীর কাজে নিযুক্ত হওয়া জায়েয নেই। মোটকথা, সূদের কাজে অংশগ্রহণ ও যেকোনভাবে এর সাহায্য-সহযোগিতা করা হারাম।
নবী করীম (ছাঃ) এই মহাঅপরাধের কদর্যতা ফুটিয়ে তুলতে বড়ই আগ্রহী ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
الرِّبَا ثَلَاثَةٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَيْسَرُهَا مِثْلُ أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ، وَإِنَّ أَرْبَى الرِّبَا عِرْضُ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ
'সূদের ৭৩টি দ্বার বা স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে সহজতর স্তর হ'ল, নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচারের সমতুল্য। আর সবচেয়ে কঠিনতম স্তর হল, মুসলিম ব্যক্তির মানহানি'।৭৯
আব্দুল্লাহ বিন হানযালা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, دِرْهَمُ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً ‘জেনে শুনে এক দিরহাম সূদের টাকা ভক্ষণ করা ৩৬ বার ব্যভিচার করা থেকেও কঠিন'।৮০
সূদ ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার জন্য সর্বদা হারাম। সবাইকে তা পরিহার করতে হবে। কত ধনিক-বণিক যে এই সূদের কারণে দেউলিয়া হয়ে গেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। সূদের সর্বনিম্ন ক্ষতি হল, মালের বরকত উঠে যাবে, পরিমাণে তা যতই স্ফীত হৌক না কেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلّ 'সূদের দ্বারা সম্পদ যতই বৃদ্ধি পাক না কেন তার শেষ পরিণতি হ'ল নিঃস্বতা'।৮১ সূদের হার কমই হোক আর চড়াই হোক সবই হারাম।
যেমন করে শয়তান দুনিয়াতে তার স্পর্শে কাউকে পাগল করে দেয়, তেমনি সূদখোর ব্যক্তি পাগল হয়ে হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে (বাক্বারা ২/২৭৫)। যদিও সূদের লেনদেন গুরুতর অন্যায় তবুও মহান রাব্বুল আলামীন দয়াপরবশ হয়ে বান্দাকে তা থেকে তওবার উপায় বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন,
وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
'যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা তোমাদের মূলধন ফিরে পাবে। তোমরা না অত্যাচার করবে, আর না অত্যাচারিত হবে' (বাক্বারাহ ২৭৯)।
মুমিনের অন্তরে সূদের প্রতি ঘৃণা এবং তার খারাপ দিকগুলি সম্পর্কে তীব্র অনুভূতি থাকা একান্ত আবশ্যক। এমনকি যারা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সম্পদ চুরি হয়ে যাওয়া কিংবা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সূদী ব্যাংকে জমা রাখে, তাদের মধ্যেও নিতান্ত দায়েপড়া ব্যক্তির ন্যায় অনুভূতি থাকতে হবে, যেন তারা মৃত জীব ভক্ষণ কিংবা তার থেকেও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। তাই তারা সব সময় আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং সূদী ব্যাংকের বিকল্প সূদবিহীন ভাল কোন উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করবে। তাদের আমানতের বিপরীতে সূদী ব্যাংকের নিকট সূদ দাবী করা জায়েয হবে না; বরং যদি সূদ তাদের হিসাবে যুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে জায়েয উপায়ে তার থেকে নিষ্কৃতি লাভের চেষ্টা করবে, উহা (ছওয়াবের নিয়তে) দান করবে না। কেননা আল্লাহ পবিত্র। পবিত্র বস্তু ছাড়া তিনি দানের স্বীকৃতি দেন না। নিজের কোন কাজে সূদের অর্থ ব্যয় করা যাবে না। না পানাহারে, না পরিধেয়ে, না সওয়ারীতে, না বাড়ী-ঘর তৈরীতে, না পুত্র-পরিজন, স্বামী-স্ত্রী, মাতা-পিতার ভরণ-পোষণে, না যাকাত আদায়ে, না ট্যাক্স পরিশোধে, না নিজের উপর অন্যায়ভাবে আরোপিত অর্থ পরিশোধে। সূদের অর্থ কেবল আল্লাহ্ শাস্তির ভয়ে দায় মুক্তির জন্য এমনিতেই কাউকে দিয়ে দিতে হবে।
টিকাঃ
৭৮. মুসলিম; মিশকাত হা/২৮০৭।
৭৯. মুস্তাদরাকে হাকেম হা/২২৫৯; ছহীহুল জামে' হা/৩৫৩৯।
৮০. আহমাদ; মিশকাত হা/২৮২৫।
৮১. ইবনু মাজাহ, আহমাদ; মিশকাত হা/২৮২৭।
📄 বিক্রিত পণ্যের দোষ গোপন করা
একবার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাজারের মধ্যে এক খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলে আঙ্গুলে আর্দ্রতা ধরা পড়ল। তিনি বিক্রেতাকে বললেন, 'হে খাদ্য বিক্রেতা! ব্যাপার কি? সে বলল, 'হে আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে'। তিনি বললেন, 'তুমি এগুলো স্তূপের উপরিভাগে রাখলে না কেন? তাহলে লোকে দেখতে পেত। মনে রেখো যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়' (مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا)।৮২
আজকাল আল্লাহ্র প্রতি ভয়ভীতি শূন্য অনেক বিক্রেতাই ভাল পণ্যের সঙ্গে ত্রুটিযুক্ত কিংবা নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে বিক্রয় করে থাকে। কেউ কেউ ত্রুটিযুক্ত পণ্যগুলিকে গাইট কিংবা কন্টেইনারের নীচে রাখে। অনেকে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে নিম্নমানের দ্রব্যকে বাহ্যদৃষ্টিতে উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কেউ কেউ আবার পণ্য ব্যবহারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তা পরিবর্তন করে নতুন মেয়াদকালের ছাপ মেরে দেয়। কোন কোন বিক্রেতা ক্রেতাকে পণ্য নিরীক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করতে দেয় না। মোটরগাড়ী, মেশিনারী যন্ত্রপাতি বিক্রেতাদেরও অনেকে রয়েছে, যারা ক্রেতাদের সামনে সেগুলির ত্রুটি ও অসুবিধা তুলে ধরে না।
উল্লিখিত পদ্ধতির সকল কেনা-বেচাই হারাম। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيْهِ عَيْبٌ إِلَّا بَيْنَهُ لَهُ ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। একজন মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের নিকট কোন ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রয়ের সময় পণ্যের ত্রুটি বর্ণনা না করা পর্যন্ত তা বিক্রয় করা বৈধ নয়'।৮৩
অনেকে প্রকাশ্য নিলামে দ্রব্য বিক্রয়কালে 'এটা অমুক জিনিস' 'এটা অমুক জিনিস' এতটুকু বলেই অব্যাহতি পেতে চায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ লোহার রড বিক্রেতা বলে 'এটা লোহার গাদা'... 'এটা লোহার গাদা' ইত্যাদি। কিন্তু গাদার মধ্যে যে ত্রুটি আছে তা বলে না। তার এই বিক্রয় বরকতশূন্য হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا - فَإِنْ صَدَقَا وَبَيْنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا ، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا -
'দৈহিকভাবে পৃথক হওয়া কিংবা বিক্রয় প্রস্তাব ও গ্রহণে মতান্তর না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই বিক্রয় কার্যকর করার কিংবা বাতিল করার অধিকার থাকে। যদি তারা সত্য বলে ও দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হয়। আর যদি দু'জনে মিথ্যা বলে ও পণ্য বা মুদ্রার দোষ গোপন করে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়'।৮৪
টিকাঃ
৮২. মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/২৮৬০ ।
৮৩. ইবনু মাজাহ হা/২২৪৬, সনদ ছহীহ।
৮৪. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২৮০২।
📄 দালালী করা
এমন অনেক লোক আছে যাদের পণ্য কেনার মোটেও ইচ্ছা নেই। কিন্তু অন্য লোকে যাতে ঐ পণ্য বেশী দামে কিনতে উদ্বুদ্ধ হয় সেজন্য পণ্যের পাশে ঘুরাঘুরি করে ও বাড়িয়ে বাড়িয়ে দাম বলতে থাকে। এটাই প্রতারণামূলক দালালী।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, وَلَا تَنَاجَشُوا 'ক্রেতার ভান করে তোমরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিও না'।৮৫ এটা নিঃসন্দেহে এক শ্রেণীর প্রতারণা। রাসূলুলাহ (ছাঃ) আরও বলেন, اَلْمَكْرُ وَالْخَدِيعَةُ فِي النَّارِ 'চালবাজী ও ধোঁকাবাজী জাহান্নামে নিয়ে যায়'।৮৬
পশু বিক্রয়, নিলামে বিক্রয় ও গাড়ী প্রদর্শনীতে অনেক দালালকে দেখতে পাওয়া যায়, যাদের আয়-রোযগার সবই হারাম। কেননা এই উপার্জনের সাথে নানা রকম অবৈধ উপায় জড়িয়ে আছে। যেমন: প্রতারণামূলক দাম বৃদ্ধি বা মিথ্যা দালালী, ক্রেতার সাথে প্রতারণা, বিক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে পথিমধ্যেই তার পণ্য অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে খরীদ করা ইত্যাদি।
অনেক সময় বিক্রেতারা একে অপরের জন্য দালাল সাজে কিংবা দালাল নিয়োগ করে। তারা ক্রেতার বেশে খরিদ্দারদের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়িয়ে দেয়। এভাবে তারা আল্লাহ্র বান্দাদেরকে ধোঁকা দেয় ও তাদেরকে কষ্টের মধ্যে নিক্ষেপ করে। যেসব দেশে নিলাম বিক্রয়ের প্রচলন রয়েছে, সেখানেই এরূপ দালালীর প্রবণতা বেশী দেখতে পাওয়া যায়।৮৭
টিকাঃ
৮৫. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৫০২৮।
৮৬. সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০৫৭; ছহীহুল জামে' হা/৬৭২৫।
৮৭. এদেশের সরকারী টেণ্ডার ক্রয়-বিক্রয়ে এক ধরনের দালালী লক্ষ্য করা যায়। কিছু ঠিকাদার নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করে পণ্যের যথোচিৎ মূল্য না হেঁকে সবাই ন্যূনতম দাম হাঁকে। ফলে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ঐ দামেই বিক্রয় করে নতুবা টেণ্ডার বাতিল করে দেয়। অনেকে টেণ্ডারদাতার সঙ্গে যোগসাজশে নিজ প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া দরপত্র দাখিল করে নিজের নামে তা করে নেয়। - অনুবাদক।
📄 জুম'আর ছালাতের আযানের পরে কেনা-বেচা করা
আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
'হে ঈমানদারগণ! জুম'আ দিবসে যখন ছালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্ স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জ্ঞান রাখ' (জুম'আ ৯)।
অত্র আয়াতদৃষ্টে আলিমগণ আযান হতে ফরয ছালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনা-বেচা ও অন্যান্য সকল কাজকর্ম হারাম বলে উল্লেখ করেছেন। অনেক দোকানদারকে দেখা যায় তারা আযানের সময়ও নিজেদের দোকানে কিংবা মসজিদের সামনে কেনা-বেচা চালিয়ে যেতে থাকে। যারা এ সময় কেনা-কাটায় অংশ নেয়, তারাও তাদের সাথে পাপে শরীক হয়। এমনকি তুচ্ছ একটি মিসওয়াক কেনা-বেচা করলেও ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই তাতে গোনাহগার হবে। আলিমগণের জোরালো মতানুসারে এ সময়ের কেনা-বেচা বাতিল বলে গণ্য হবে।
অনেক হোটেল, বেকারী, ফ্যাক্টরী, কলকারখানা ইত্যাদির লোকেরা জুম'আর ছালাতের সময় তাদের শ্রমিকদের কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করে। তাতে বাহ্যতঃ তাদের কিছু লাভ দেখা গেলেও প্রকৃত প্রস্তাবে ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত উক্তি মোতাবেক আমল করা কর্তব্য- لاَ طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الخَالِقِ ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই'।৮৮
টিকাঃ
৮৮. বুখারী, মুসলিম, আহমাদ হা/১১৬৫; মিশকাত হা/৩৬৯৬।