📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 শারঈ ওযর ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর শয্যা গ্রহণ অস্বীকার করা

📄 শারঈ ওযর ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর শয্যা গ্রহণ অস্বীকার করা


আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ، فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ -
'যখন কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বীয় শয্যা গ্রহণ বা দৈহিক মিলনের জন্য আহ্বান জানায়, কিন্তু স্ত্রী তা অস্বীকার করায় স্বামী তার উপর ক্রুদ্ধ হয়ে রাত কাটায়, তখন ফেরেশতাগণ সকাল পর্যন্ত ঐ স্ত্রীর উপর অভিশাপ দিতে থাকে'।৫০
অনেক মহিলাকেই দেখা যায় স্বামী-স্ত্রীতে একটু খুনসুটি হলেই স্বামীকে শাস্তি দেয়ার মানসে তার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশا বন্ধ করে বসে। এতে অনেক রকম ক্ষতি দেখা দেয়। পারিবারিক অশান্তির সৃষ্টি হয়। স্বামী দৈহিক তৃপ্তির জন্য অবৈধ পথও বেছে নেয়। অন্য স্ত্রী গ্রহণের চিন্তাও তাকে পেয়ে বসে। এভাবে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুতরাং স্ত্রীর কর্তব্য হবে স্বামী ডাকামাত্রই তার ডাকে সাড়া দেওয়া। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْتُجِبْ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى ظَهْرِ قَتَبٍ ‘যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে তার সঙ্গে দৈহিক মিলনের জন্য ডাকবে, তখনই যেন সে তার ডাকে সাড়া দেয়। এমনকি সে জ্বলন্ত উনুনের পাশে থাকলেও'।৫১
স্বামীরও কর্তব্য হবে, স্ত্রী রোগাক্রান্ত, গর্ভবতী কিংবা অন্য কোন অসুবিধায় পতিত হলে তার অবস্থা বিবেচনা করা। এতে করে তাদের মধ্যে সৌহার্দ বজায় থাকবে এবং মনোমালিন্য সৃষ্টি হবে না।

টিকাঃ
৫০. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩২৪৬।
৫১. যাওয়াইদুল বায্যার ২/১৮১ পৃঃ; ছহীহুল জামে' হা/৫৪৭।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 শারঈ কারণ ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করা

📄 শারঈ কারণ ব্যতীত স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করা


এমন অনেক স্ত্রীলোক আছে যারা স্বামীর সঙ্গে একটু ঝগড়া-বিবাদ হলেই কিংবা তার চাওয়া-পাওয়ার একটু ব্যত্যয় ঘটলেই তার নিকট তালাক দাবী করে। অনেক সময় স্ত্রী তার কোন নিকট আত্মীয় কিংবা অসৎ প্রতিবেশী কর্তৃক এরূপ অনিষ্টকর কাজে প্ররোচিত হয়। কখনো সে স্বামীকে লক্ষ্য করে তার জাত্যভিমান উষ্কে দেওয়ার মত শব্দ উচ্চারণ করে। যেমন সে বলে, 'যদি তুমি পুরুষ হয়ে থাক তাহলে আমাকে তালাক দাও'। কিন্তু তালাকের যে কি বিষময় ফল তা সবার জানা আছে। তালাকের কারণে একটি পরিবারে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। সন্তানরা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এজন্য অনেক সময় স্ত্রীর মনে অনুশোচনা জাগতে পারে। কিন্তু তখন তো আর করার কিছুই থাকে না। এসব কারণে শরী'আত কথায় কথায় তালাক প্রার্থনাকে হারাম করে সমাজের যে উপকার করেছে তা সহজেই অনুমেয়। হযরত ছাওবান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, أَيْمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ 'কোন মহিলা যদি বিনা দোষে স্বামীর নিকট তালাক প্রার্থনা করে, তাহলে জান্নাতের সুগন্ধি তার জন্য হারাম হয়ে যাবে'।৫২
হযরত উকবা বিন আমের (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ ‘খোলাকারিণী ও সম্পর্ক ছিন্নকারিণী রমণীগণ মুনাফিক'।৫৩
হাঁ যদি কোন শারঈ ওযর থাকে যেমন- স্বামী ছালাت আদায় করে না, অনবরত নেশা করে কিংবা স্ত্রীকে হারাম কাজের আদেশ দেয়, অন্যায়ভাবে মারধর করে, স্ত্রীর শারঈ অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করে। কিন্তু স্বামীকে নছীহত করেও ফেরানো যাচ্ছে না এবং সংশোধনেরও কোন উপায় নেই সেক্ষেত্রে তালাক দাবী করায় স্ত্রীর কোন দোষ হবে না। বরং দ্বীন ও জীবন রক্ষার্থে তখন সে তালাক প্রার্থনা করতে পারে।

টিকাঃ
৫২. আহমাদ, তিরমিযী; মিশকাত হা/৩২৭৯।
৫৩. আহমাদ, ছহীহাহ হা/৬৩২ ।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 যিহার

📄 যিহার


জাহেলী যুগ থেকে চলে আসা যা কিছু এই উম্মতের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছে 'যিহার'৫৪ তার একটি।
যেসব শব্দে যিহার হয় তার কতগুলি নিম্নরূপ:
স্বামী স্ত্রীকে বলবে, 'তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পৃষ্ঠতুল্য'। 'আমার বোন যেমন আমার জন্য হারাম, তুমিও তেমনি আমার জন্য হারাম'। 'তোমার এক চতুর্থাংশ আমার জন্য আমার ধাত্রীমায়ের মত হারাম' ইত্যাদি।
যিহারের ফলে নারীরা ভীষণভাবে অত্যাচারিত হয়। যিহার একটি অমানবিক কাজ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِنْ نِسَائِهِمْ مَا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَرًا مِنَ الْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورٌ -
'তোমাদের মধ্যে যারা নিজেদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে তারা যেন জেনে রাখে যে, তারা তাদের মা নয়। তাদের মা তো তারাই যারা তাদের প্রসব করেছে। তারা তো কেবল অসঙ্গত ও মিথ্যা কথা বলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও মার্জনাকারী' (মুজাদালাহ ২)।
ইসলাম রামাযান মাসে দিনের বেলায় স্বেচ্ছায় সহবাসে ছিয়াম ভঙ্গের কাফফারা, ভুলক্রমে হত্যার কাফফারা যেভাবে দিতে বলেছে, যিহারের জন্যও ঠিক একইভাবে কাফফারা দিতে বলেছে। কাফফারা পরিশোধ না করা পর্যন্ত যিহারকারী স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারবে না। আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন,
وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسًا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ - فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسًا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
'যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে, তারপর তাদের উক্তি প্রত্যাহার করে নেয়, তাদের জন্য পারস্পরিক স্পর্শের পূর্বে একজন দাস মুক্তির বিধান দেয়া হল। এটা তোমাদের জন্য নির্দেশ। আর তোমরা যা কিছু কর তৎসম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। অনন্তর যে উহার সামর্থ্য রাখে না তাকে পারস্পরিক স্পর্শের পূর্বে একটানা দু'মাস ছিয়াম রাখতে হবে। যে তারও সামর্থ্য রাখে না তাকে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে হবে। এই বিধান এজন্য যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপরে তোমরা যেন ঈমান রাখ। এটা আল্লাহ্র সীমারেখা। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি' (মুজাদালা ৩-৪)।

টিকাঃ
৫৪. নিজের স্ত্রীকে অথবা তার কোন অঙ্গকে 'মা'-এর সাথে অথবা 'স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম' এমন কোন মহিলার পৃষ্ঠদেশ তুল্য বলে আখ্যায়িত করাকে যিহার বলে। একথা বলার উদ্দেশ্য হল, মায়ের সঙ্গে মেলামেশা যেমন হারাম স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশাও তদ্রুপ হারাম করা। ভারতীয় উপমহাদেশে যিহারের প্রচলন খুব একটা নেই। আরবে জাহেলী যুগ হতে যিহার প্রথা চলে আসছে। জাহেলী যুগে যিহারকে তালাক বলে গণ্য করা হ'ত। যিহারের পর স্ত্রীকে আর ফিরিয়ে নেয়ার অবকাশ ছিল না। কিন্তু ইসলামী বিধানে যিহার দ্বারা তালাক হয় না; কেবল কাফফারা ফরয হয়। কাফফারা পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্ত্রী সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ থাকে। কাফফারা পরিশোধের পর যথারীতি ঘর সংসার করা যায়।- অনুবাদক।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 মাসিকের সময় স্ত্রী সহবাস করা

📄 মাসিকের সময় স্ত্রী সহবাস করা


মাসিকের সময় স্ত্রী সহবাস কুরআন-হাদীছ উভয়ের আলোকেই নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ -
'তারা আপনাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলুন, উহা অশুচি। সুতরাং মাসিকের সময় তোমরা স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটে যেও না' (বাক্বারাহ ২২২)।
পবিত্রতা লাভের পর তারা গোসল না করা পর্যন্ত তাদের নিকটে যাওয়া বৈধ নয়। কেননা একই সাথে আল্লাহ তা'আলা আরও বলেছেন, فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ 'যখন তারা ভালমত পাক-পবিত্র হয়ে যাবে তখন তোমরা তাদের নিকটে আল্লাহ্র নির্দেশ মোতাবেক গমন কর' (বাক্বারাহ ২২২)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, اِصْنَعُوا كُلِّ شَيْءٍ إِلَّا النَّكَاحَ 'সহবাস ব্যতীত তোমরা তাদের সাথে সব কিছুই কর'।৫৫
মাসিকের সময় সহবাস যে কঠিন পাপ তা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিম্নোক্ত বাণী হ'তে প্রতিভাত হয়, مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ 'যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতীর সাথে মিলিত হয় কিংবা কোন মহিলার পশ্চাৎদ্বারে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকটে যায়, নিশ্চয়ই সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে'।৫৬
অজ্ঞতাবশতঃ যদি কোন ব্যক্তি মাসিকের সময় স্ত্রী সহবাস করে তাহলে তাকে এজন্য কোন কাফফারা দিতে হবে না। কিন্তু জেনেশুনে যারা এ কাজ করবে তাদেরকে নির্ধারিত এক দীনার বা অর্ধ দিনার কাফফারা দিতে হবে। এ সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে হাদীছ বর্ণিত আছে।৫৭

টিকাঃ
৫৫. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৫।
৫৬. তিরমিযী; মিশকাত হা/৫৫১।
৫৭. তিরমিযী হা/১২৫, আবুদাউদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৫৫৩, সনদ ছহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00