📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 ছালাতে অনর্থক কাজ ও বেশী বেশী নড়াচড়া করা

📄 ছালাতে অনর্থক কাজ ও বেশী বেশী নড়াচড়া করা


ছালাতে অনর্থক কাজ ও বেশী বেশী নড়াচড়া করা এমন এক আপদ, যা থেকে অনেক মুছল্লীই বাঁচতে পারে না। কারণ তারা আল্লাহ্ নিম্নোক্ত আদেশ প্রতিপালন করে না- وَقُومُوْا لِلَّهِ قَانِتِينَ ‘তোমরা আল্লাহ্ জন্য অনুগত হয়ে দাঁড়াও' (বাক্বারাহ ২৩৮)।
মহান আল্লাহ বলেন,
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ
'নিশ্চয়ই সেই সকল মুমিন সফলকাম, যারা নিজেদের ছালাতে বিনীত থাকে' (মুমিনূন ১-২)।
কিন্তু উক্ত লোকেরা আল্লাহ্র এ বাণীর গূঢ়ার্থ বুঝে না। তাই ছালাতে আদবের পরিপন্থী অনেক কিছুই তারা করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সিজদার মধ্যে মাটি সমান করা যাবে কি-না জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন,
لاَ تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلَّى فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً تَسْوِيَةَ الْحَصَى -
'ছালাত অবস্থায় তুমি কিছু মুছতে পারবে না। একান্তই যদি করতেই হয় তাহলে কংকরাদি একবার সমান করতে পারবে'।৩৩
আলেমগণ বলেছেন, ছালাতে নিষ্প্রয়োজনে বেশী মাত্রায় লাগাতারভাবে নড়াচড়া করলে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং যারা ছালাতে নিরর্থক খেলায় লিপ্ত হয় তাদের অবস্থা কেমন হতে পারে? তাদের তো দেখা যায়, তারা আল্লাহ্র সামনে দাঁড়িয়েছে। অথচ ঘড়ির সময় নিরীক্ষণ করছে কিংবা কাপড় সোজা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অথবা আঙ্গুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করছে। অনেকে আবার ছালাতে দাঁড়িয়ে ডানে-বামে অথবা উপরের দিকে তাকাতে থাকে। অথচ তাদের চোখ যে উপড়ে ফেলা হতে পারে কিংবা শয়তান ছালাতে তাদের মনোযোগ নষ্ট করে দিতে পারে, সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনই উদ্বেগ নেই।৩৪

টিকাঃ
৩৩. আবুদাঊদ হা/৯৪৬; ছহীহুল জামে' হা/৭৪৫২।
৩৪. মুত্তাফাক্ব 'আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৮২-৮৩, 'ছালাতে অসিদ্ধ ও সিদ্ধ কর্ম সমূহ' অনুচ্ছেদ-১৯।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 ছালাতে ইচ্ছাপূর্বক ইমামের আগে মুক্তাদীর গমন

📄 ছালাতে ইচ্ছাপূর্বক ইমামের আগে মুক্তাদীর গমন


যে কোন কাজে তাড়াহুড়া করা মানুষের জন্মগত স্বভাব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, كَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا 'মানুষ খুব দ্রুততা প্রিয়' (বণী ইসরাঈল ১১)। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, الْأَنَاةُ مِنَ اللهِ وَالْعَجَلَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ ‘ধীরস্থিরতা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আর তাড়াহুড়া শয়তানের পক্ষ থেকে'।৩৫
জামা'আতের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ডানে-বামে অনেক মুছল্লী ইমামের রুকু-সিজদায় যাওয়ার আগেই রুকু-সিজদায় চলে যাচ্ছে। এমনকি লক্ষ্য করলে নিজের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা যায়। উঠা-বসার তাকবীরগুলিতে তো এটা হরহামেশাই হতে দেখা যায়। এমনকি অনেকে ইমামের আগে সালামও ফিরিয়ে ফেলে। বিষয়টি অনেকের নিকটই গুরুত্ব পায় না। অথচ নবী করীম (ছাঃ) এজন্য কঠোর শাস্তির হুমকি শুনিয়েছেন। তিনি বলেন,
أَمَا يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ -
'সাবধান! যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা তোলে তার কি ভয় হয় না যে, আল্লাহ তার মাথাটা গাধার মাথায় রূপান্তরিত করতে পারেন?'৩৬
একজন মুছল্লীকে যখন ধীরে-সুস্থে ছালাতে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং তাড়াতাড়ি বা দ্রুত পায়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে,৩৭ তখন স্বীয় ছালাত যে ধীরে-সুস্থে আদায় করতে হবে তাতে আর সন্দেহ কি? আবার কিছু লোকের নিকট ইমামের আগে গমন ও পিছনে পড়ে থাকার বিষয়টি তালগোল পাকিয়ে যায়। তাই মুজতাহিদগণ এজন্য একটি সুন্দর নিয়ম উল্লেখ করেছেন। তা হ'ল, ইমাম যখন তাকবীর শেষ করবেন মুক্তাদী তখন নড়াচড়া শুরু করবে। ইমাম 'আল্লাহু আকবার' এর ‘র' বর্ণ উচ্চারণ করা মাত্রই মুক্তাদী রুকু-সিজদায় যাওয়ার জন্য মাথা নীচু করা শুরু করবে। অনুরূপভাবে রুকূ হতে মাথা তোলার সময় ইমামের 'সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ'-এর 'হ' বর্ণ উচ্চারণ শেষ হলে মুক্তাদী মাথা তুলবে। এর আগেও করবে না, পরেও না। এভাবে সমস্যাটা দূর হয়ে যাবে।
ছাহাবীগণ যাতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর আগে চলে না যান সে বিষয়ে খুব সতর্ক ও সচেষ্ট থাকতেন। বারা বিন আযিব (রাঃ) বলেন, ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পিছনে ছালাত আদায় করতেন। যখন তিনি রুকু হতে মাথা তুলতেন তখন আমি এমন একজনকেও দেখিনি যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কপাল মাটিতে রাখার আগে তার পিঠ বাঁকা করেছে। তিনি সিজদায় গিয়ে সারলে তারা তখন সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন।৩৮
নবী করীম (ছাঃ) যখন একটু বুড়িয়ে যান এবং তাঁর নড়াচড়ায় মন্থরতা দেখা দেয় তখন তিনি তাঁর পিছনের মুক্তাদীদের এই বলে সতর্ক করে দেন যে, يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ بَدَّنْتُ فَلاَ تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ ‘হে লোকসকল! আমি মোটাসোটা হয়ে গেছে। সুতরাং তোমরা রুকু-সিজদায় আমার আগে চলে যেও না'।৩৯
অপরদিকে ইমামকেও ছালাতের তাকবীরে সুন্নাত মুতাবেক আমল করা যরূরী। এ সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদীছে এসেছে,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ ..... ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَهْوِي ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ، ثُمَّ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي الصَّلَاةِ كُلِّهَا حَتَّى يَقْضِيَهَا ، وَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الثَّنْتَيْنِ بَعْدَ الْجُلُوسِ -
‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন ছালাতে দাঁড়াতেন তখন শুরুতে তাকবীর বলতেন। তারপর যখন রুকুতে যেতেন তখন তাকবীর বলতেন। যখন সিজদায় যেতেন তখন তাকবীর বলতেন। অতঃপর যখন (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতেন তখন তাকবীর বলতেন, সিজদা থেকে মাথা তুলতে তাকবীর বলতেন। এভাবে ছালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকবীর বলতেন। আর দ্বিতীয় রাক'আতে বৈঠক শেষে দাঁড়ানোর সময়ও তাকবীর বলতেন'।৪০
সুতরাং এভাবে ইমাম যখন ছালাতে উঠা-বসার সঙ্গে তার তাকবীরকে সমন্বিত করে একই সাথে আদায় করবেন এবং মুক্তাদীগণও উল্লিখিত নিয়ম মেনে চলবে তখন সবারই জামা'আতের বিধান ঠিক হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩৫. তিরমিযী, মিশকাত হা/৫০৫৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৭৯৫।
৩৬. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/১১৪১।
৩৭. বুখারী হা/৬৩৬, আহমাদ হা/১০৯০৬।
৩৮. মুসলিম হা/৪৭৪।
৩৯. বায়হাক্বী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৭২৫।
৪০. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৭৯৯।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 পেঁয়াজ-রসুন কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে গমন

📄 পেঁয়াজ-রসুন কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু খেয়ে মসজিদে গমন


কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা রসুন, সিগারেট ও বিড়ি খেলে মুখে এমন দুর্গন্ধ হয় যে তার নিকটে অবস্থান করা দায় হয়ে পড়ে। মসজিদের পূত-পবিত্র পরিবেশ কলুষিত হয়, সৌন্দর্য বিঘ্নিত হয়। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ -
'হে বনু আদম! তোমরা প্রতি ছালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্যকে ধারণ কর' (আ'রাফ ৩১)। অর্থাৎ তোমরা পোশাক পরিধান কর ও শালীন পরিবেশ বজায় রাখ। কিন্তু দুর্গন্ধ পরিবেশকে কলুষিত করে তোলে।
হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ أَكَلَ ثُومًا أَوْ بَصَلاً فَلْيَعْتَزِلْنَا، أَوْ قَالَ : فَلْيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا ، وَلْيَقْعُدْ فِي بَيْتِهِ
'যে ব্যক্তি রসুন কিংবা পেঁয়াজ খাবে, সে যেন আমাদের থেকে দূরে থাকে। অথবা তিনি বলেছেন, সে যেন আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে এবং নিজ বাড়ীতে বসে থাকে'।৪১
মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে,
مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالنُّومَ وَالْكُرَّاثَ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَتَأَذًى مِمَّا يَتَأَذًى مِنْهُ بَنُو آدَمَ
'যে ব্যক্তি পেঁয়াজ, রসুন ও কুরাছ৪২ খাবে, সে যেন কখনই আমাদের মসজিদ পানে না আসে। কেননা বনী আদম যাতে কষ্ট পায় ফিরিশতারাও তাতে কষ্ট পায়'।৪৩
হযরত ওমর (রাঃ) একদা জুম'আর খুৎবায় বলেছিলেন, হে লোক সকল! তোমরা দু'টি গাছ খেয়ে থাক। আমি ঐ দু'টিকে কদর্য ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না। সে দু'টি হচ্ছে পেঁয়াজ ও রসুন। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখেছি, إِذَا وَجَدَ رِيحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي الْمَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْبَقِيعِ ‘কারো মুখ থেকে তিনি এ দু'টির গন্ধ পেলে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন। ফলে তাকে বাক্বী গোরস্থানের দিকে বের করে দেওয়া হ'ত। সুতরাং কাউকে তা খেতে হলে সে যেন পাকিয়ে খায়'।৪৪
অনেকেই কাজ-কর্ম শেষে হাত-মুখ ধুয়ে তা ঠাণ্ডা হওয়ার আগেই মসজিদে ঢুকে পড়ে। এদিকে ঘামের জন্য তার বগল ও মোযা দিয়ে বিশ্রী রকমের গন্ধ বের হতে থাকে। এ ধরনের লোকও উক্ত বিধানের আওতায় পড়বে। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট হল ধূমপায়ীরা। তারা হারাম ধূমপান করতে করতে মুখে চরম দুর্গন্ধ জন্মিয়ে নেয়। এ অবস্থায় মসজিদে ঢুকে তারা আল্লাহ্ মুছল্লী বান্দা ও ফেরেশতাদের কষ্ট দেয়।

টিকাঃ
৪১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৪১৭৯।
৪২. কুরাছ এক প্রকার গন্ধযুক্ত সব্জি। এর কতক পেঁয়াজ ও কতক রসুনের মত দেখায়। উর্দুতে একে 'গন্দনা' বলে-অনুবাদক।
৪৩. মুসলিম হা/৫৬৪ ।
৪৪. মুসলিম হা/৫৬৭।

📘 যে সকল হারামকে মানুষ তুচ্ছ মনে করে > 📄 ব্যভিচার

📄 ব্যভিচার


বংশ, ইযযত ও সম্ভ্রম রক্ষা করা ইসলামী শরী'আতের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য ইসলাম ব্যভিচারকে হারাম করেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَا تَقْرَبُوا الزَّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا 'তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। নিশ্চয়ই তা একটি অশ্লীল কাজ ও খারাপ পন্থা' (বনী ইসরাঈল ৩২)।
শরী'আত পর্দা ফরয করেছে, নারী-পুরুষ উভয়কে দৃষ্টি সংযত রাখতে বলেছে এবং গায়ের মাহরাম স্ত্রীলোকদের সঙ্গে নির্জনে মিলিত হওয়াকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। এভাবে ব্যভিচারের সকল উপায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেউ ব্যভিচার করে বসলে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
বিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে না মরা পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। এভাবে সে তার কাজের উপযুক্ত পরিণাম ভোগ করবে এবং হারাম কাজে তার প্রতিটি অঙ্গ যেমন করে মজা উপভোগ করেছিল এখন তেমনি করে যন্ত্রণা উপভোগ করবে। আর অবিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীদেরকে একশত বেত্রাঘাত করতে হবে। বেত্রাঘাতের ক্ষেত্রে এটাই শরী'আতের সর্বোচ্চ শাস্তি। একদল মুমিনের সামনে অর্থাৎ জনতার সামনে খোলা ময়দানে এ শাস্তি কার্যকর করতে হবে, যাতে সে অপমানের চূড়ান্ত হয়। একই সঙ্গে তাকে এক বৎসরের জন্য অপরাধ সংঘটিত এলাকা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এরূপ ব্যবস্থা চালু হলে ব্যভিচারের মাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করা যায়।
ব্যভিচারী নর-নারী বারযাখ৪৫ জগতেও কঠিন শাস্তি পোহাবে। তারা এমন একটি অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে থাকবে যার ঊর্ধাংশ হবে সংকীর্ণ কিন্তু নিম্নাংশ হবে প্রশস্ত। তার নীচ থেকে আগুন জ্বালানো হবে। সেই আগুনের মধ্যে তারা উলঙ্গ, বিবস্ত্র অবস্থায় থাকবে আর যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকবে। ঐ আগুন এতই উত্তপ্ত হবে যে তার তোড়ে তারা উপরের দিকে উঠে আসবে। এমনকি তারা প্রায় বেরিয়ে আসার উপক্রম করবে। যখনই এমন হবে তখনই আগুন নিভিয়ে দেয়া হবে। ফলে তারা আবার অগ্নিকুণ্ডের তলদেশে ফিরে যাবে। ক্বিয়ামত পর্যন্ত তাদের জন্য এ ব্যবস্থা চলতে থাকবে।৪৬
ব্যভিচারের বিষয়টি আরও কদর্য ও ঘৃণিত হয়ে দাঁড়ায় তখন, যখন কোন ব্যক্তি বয়সে ভারী ও এক পা কবরে চলে যাওয়ার পরও হরদম ব্যভিচার করে যায়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে মারফু' সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ شَيْخٌ زَانٍ وَمَلِكُ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرُ -
'ক্বিয়ামত দিবসে তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ তা'আলা কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না; বরং তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হ'ল বয়োবৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী রাষ্ট্রনায়ক ও অহংকারী দরিদ্র'।৪৭
অনেকে ব্যভিচার বা পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করে। অথচ পতিতাবৃত্তি থেকে অর্জিত আয় নিকৃষ্ট উপার্জনাদিরই একটি। যে পতিতা তার ইয্যত বেঁচে খায় সে মধ্যরাতে যখন দো'আ কবুলের জন্য আকাশের দরজা উন্মোচিত হয় তখন দো'আ কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।৪৮ অভাব ও দারিদ্র্য আল্লাহ্র বিধান লংঘন করার জন্য কোন শারঈ ওযর হতে পারে না।
আমাদের যুগে তো অশ্লীলতার সকল দুয়ার খুলে দেয়া হয়েছে। শয়তান ও তার দোসরদের চক্রান্তে অশ্লীলতার পথ ও পন্থাগুলি সহজলভ্য হয়ে গেছে। পাপী-ব্যভিচারীরা এখন খোলাখুলি শয়তানের অনুসরণ করছে। মেয়েরা দ্বিধাহীনচিত্তে ব্যাপকভাবে বাইরে পর্দাহীনভাবে যাতায়াত করে তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে। মোড়ে মোড়ে বখাটে ছেলেদের বক্র চাহনি ও হা করে মেয়েদের পানে তাকিয়ে থাকা তো নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধ মেলা-মেশা, পর্ণোগ্রাফি ও ব্লু ফ্লিমে দেশ ভরে গেছে। ফ্রি সেক্সের দেশগুলিতে মানুষের ভ্রমণের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। কে কত বেশী খোলামেলা হ'তে পারে যেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। ধর্ষণ ও বলাৎকারে দেশ ছেয়ে যাচ্ছে। জারজ সন্তানের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ক্লিনিকে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে অবৈধ গর্ভপাতের মাধ্যমে মানব সন্তানদের হত্যা করা হচ্ছে।
হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট দয়া, অনুগ্রহ ও গোপনীয়তা প্রার্থনা করছি এবং এমন সম্ভ্রম কামনা করছি যার বদৌলতে তুমি আমাদেরকে সকল অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করবে। আমরা তোমার নিকট আমাদের মনের পবিত্রতা ও ইযযতের হেফাযত প্রার্থনা করছি। দয়া করে তুমি আমাদের মাঝে ও হারামের মাঝে একটি সুদৃঢ় অন্তরাল তৈরী করে দাও। আমীন!

টিকাঃ
৪৫. মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত মানুষ যে জগতে অবস্থান করবে তাকে বারযাখ বলে -অনুবাদক।
৪৬. বুখারী; মিশকাত হা/৪৬২১।
৪৭. মুসলিম, মিশকাত হা/৫১০৯।
৪৮. ছহীহুল জামে' হা/২৯৭১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00