📄 স্রষ্টা যেসব বস্তুতে যে কল্যাণ রাখেননি তাতে সে কল্যাণ থাকার আক্বীদা পোষণ করা
আল্লাহ তা'আলা এই বিশ্ব ও তার মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তু সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তিনি যে কল্যাণ যে বস্তুর মধ্যে রাখেননি, ঐ বস্তু সেই উপকারই করতে পারে বলে অনেকে বিশ্বাস করে। এরূপ বিশ্বাস শিরকের পর্যায়ভুক্ত। যেমন, বহু লোক তাবীয- তুমার, শিরকী ঝাড়-ফুঁক, বিভিন্ন প্রকার তাগা ও খনিজ পাথর ব্যবহার করে থাকে। তাদের বিশ্বাস, এতে রোগ-বালাই কাছে ভিড়তে পারে না। আর যদি রোগ হয়েই থাকে তবে এগুলি ব্যবহারে সুস্থতা ফিরে আসে। এগুলি ব্যবহারের পিছনে গণক, জাদুকর প্রমুখ শ্রেণীর পরামর্শ অথবা যুগ পরম্পরায় চলে আসা বিশ্বাস কাজ করে।
অনেকে বদ নযর এড়ানোর জন্য বাচ্চা ও বড়দের গলায় এসব ঝুলিয়ে দেয়, শরীরের অন্যত্রও বেঁধে রাখে (যেমন গলা, হাত ও কোমরে)। গাড়ী-বাড়ীতেও তাবীয ও দো'আ-কালাম লিখিত কাগজ ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এতে গাড়ী-বাড়ী দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় বলে তাদের বিশ্বাস।
অনেকে আবার রোগের হাত থেকে উদ্ধার পেতে কিংবা রোগ যাতে হতে না পারে সেজন্য কয়েক প্রকার ধাতু নির্মিত আংটি পরে থাকে (যেমন অষ্টধাতুর আংটি প্রভৃতি)। এর ফলে আল্লাহ্ উপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।
এসব তাবীযের অনেকগুলিতেই স্পষ্ট শিরকী কথা, জিনের নিকট ফরিয়াদ, সূক্ষ্ম নকশা ও অবোধ্য কথা লেখা থাকে। অনেক জ্ঞানপাপী শিরকী মন্ত্রের সাথে কুরআনের আয়াত মিশিয়ে দেয়। কেউ কেউ নাপাক দ্রব্য, ঋতুস্রাবের রক্ত ইত্যাদি দিয়েও তাবীয লেখে। এ ধরনের তাবীয, তাগা, আংটি ঝুলানো কিংবা বাঁধা স্পষ্ট হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ عَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ 'যে ব্যক্তি তাবীয লটকাল নিশ্চয়ই সে শিরক করল'।১৫
তাবীয ব্যবহারকারী যদি বিশ্বাস করে যে, এসব জিনিস আল্লাহ্র ইচ্ছা ছাড়াই উপকার কিংবা অপকার করে, তাহলে সে বড় শিরক করার দোষে দুষ্ট হবে। আর যদি সে বিশ্বাস করে যে, এগুলি উপকার-অপকারের একটি উপকরণ মাত্র। অথচ আল্লাহ তা'আলা এগুলিকে রোগ বিনাশ সংক্রান্ত কোন উপকার বা অপকারের উপকরণ করেননি, সেক্ষেত্রে সে ছোট গুনাহ করার দোষে দুষ্ট হবে। আর তখন এটি কারণ উদ্ভূত শিরকের (شرك الأسباب) পর্যায়ভুক্ত হবে।
টিকাঃ
১৫. আহমাদ হা/১৭৪৫৮; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৪৯২।
📄 লোক দেখানো ইবাদত
লোক দেখানো ইবাদত (الرياء)
আল্লাহ তা'আলার নিকটে আমল কবুল হওয়ার জন্য রিয়া বা লৌকিকতা মুক্ত এবং কুরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত নিয়মে হওয়া অপরিহার্য। যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করবে, সে ছোট শিরক করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে এবং তার আমল বরবাদ হয়ে যাবে। যেমন লোক দেখানো ছালাত। আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে বলেন, إِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ يُخَادِعُوْنَ اللهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُوْا إِلَى الصَّلَاةِ قَامُوْا كُسَالَى يُرَاؤُوْنَ النَّاسَ وَلَا يَذْكُرُونَ اللَّهَ إِلَّا قَلِيلاً- ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহ্র সঙ্গে প্রতারণা করতে চায়। অথচ তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করতে সক্ষম। যখন তারা ছালাতে দাঁড়ায় তখন আলস্যভরে দাঁড়ায়। তারা লোকদের দেখায় যে তারা ছালাত আদায় করছে, কিন্তু আল্লাহকে তারা কমই স্মরণ করে' (নিসা ১৪২)।
স্বীয় কাজের কথা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ুক এবং লোকেরা শুনে বাহবা দিক এ নিয়তে যে কাজ করবে সে শিরকে নিপতিত হবে। এরূপ বাসনাকারী সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللهُ بِهِ وَمَنْ رَاءَى رَاءَى اللهُ بِهِ ‘যে মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) শুনিয়ে দিবেন। আর যে লোক দেখানোর জন্য কাজ করে আল্লাহ তার বদলে তাকে (কিয়ামতের দিন) দেখিয়ে দিবেন'।১৬ অর্থাৎ তিনি এসব লোককে কিয়ামতের দিন মানুষের সামনে অপমানিত করবেন এবং কঠোর শাস্তি দিবেন।
যে আল্লাহ ও মানুষ উভয়ের সন্তুষ্টিকল্পে ইবাদত করবে তার আমল বরবাদ হয়ে যাবে। হাদীছে কুদসীতে এসেছে, মহান আল্লাহ বলেন,
أَنَا أَغْنَى الشَّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ، مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيْهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ
‘আমি অংশীবাদিতা (শিরক) হতে সকল অংশীদারের তুলনায় বেশী মুখাপেক্ষীহীন। যে কেউ কোন আমল করে এবং তাতে অন্যকে আমার সাথে শরীক করে, আমি তাকে ও তার আমল উভয়কেই বর্জন করি'।১৭
তবে কেউ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিমিত্তে কোন আমল শুরু করার পর যদি তার মধ্যে লোক দেখানো ভাব জাগ্রত হয় এবং সে তা ঘৃণা করে ও তা থেকে সরে আসতে চেষ্টা করে, তাহলে তার ঐ আমল শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি সে তা না করে; বরং লোক দেখানো ভাব মনে উদয় হওয়ার জন্য প্রশান্তি ও আনন্দ অনুভব করে, তাহলে অধিকাংশ আলিমের মতে তার ঐ আমল বাতিল হয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৬. বুখারী হা/৬৪৯৯, মুসলিম হা/২৯৮৬; মিশকাত হা/৫৩১৬।
১৭. মুসলিম হা/২৯৮৫, মিশকাত হা/৫৩১৫।
📄 কুলক্ষণ
কুলক্ষণ (الطَّيَرَةُ)
কুলক্ষণ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوْا لَنَا هَذِهِ وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَى وَمَن مَّعَهُ -
'যখন তাদের (ফের'আউন ও তার প্রজাদের) কোন কল্যাণ দেখা দিত তখন তারা বলত, এটা আমাদের জন্য হয়েছে। আর যদি কোন অকল্যাণ হ'ত, তারা তখন মূসা ও তাঁর সাথীদের অলুক্ষণে বলে গণ্য করত' (আ'রাফ ১৩১)।
আরবরা যাত্রা ইত্যাদি কাজের প্রাক্কালে পাখি উড়িয়ে দিয়ে তার শুভাশুভ নির্ণয় করত। পাখি ডাইনে গেলে শুভ মনে করে সে কাজে নেমে পড়ত। আর বামে গেলে অশুভ মনে করে তা হতে বিরত থাকত। এভাবে শুভাশুভ নির্ণয়ের বিধান প্রসঙ্গে মহানবী (ছাঃ) বলেন, اَلطَّيَرَةُ شِرْكَ 'কুলক্ষণে বিশ্বাস করা শিরক'।১৮
মাস, দিন, সংখ্যা, নাম ইত্যাদিকে দুর্ভাগ্য বা অশুভ প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত করাও তাওহীদ পরিপন্থী হারাম আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত। যেমন অনেক দেশে হিজরী সনের ছফর মাসে বিবাহ করা থেকে বিরত থাকা হয় ও প্রতি মাসের শেষ বুধবারকে চিরস্থায়ী কুলক্ষণ মনে করা হয়। বিশ্বজুড়ে আজ ১৩ সংখ্যাকে 'অলুক্ষণে তের' বা Unluckey thirteen বলা হয়। কেউ যদি তের ক্রমিকে একবার পড়ে যায় তাহলে তার আর দুশ্চিন্তার সীমা থাকে না। অনেকে কানা-খোঁড়া, পাগল ইত্যাকার প্রতিবন্ধীদের কাজের শুরুতে দেখলে মাথায় হাত দিয়ে বসে। দোকান খুলতে গিয়ে পথে এমনিতর কোন কানা-খোঁড়াকে দেখতে পেলে তার আর দোকান খোলা হয় না। অশুভ মনে করে সে ফিরে আসে। অথচ এ জাতীয় আক্বীদা পোষণ করা হারাম ও শিরক। এজন্য যারা কুলক্ষণে বিশ্বাসী রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে তাঁর উম্মতের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেননি। ইমরান বিন হুছাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ ، أَوْ تُطَيِّرَ لَهُ أَوْ تَكَهَّنَ ، أَوْ تُكَذِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ، أَوْ سُحِرَ لَهُ -
'যে ব্যক্তি নিজে কুলক্ষণে বিশ্বাস করে ও যার কারণে অন্যের মাঝে কুলক্ষণের প্রতি বিশ্বাসের প্রবণতা সৃষ্টি হয় এবং যে ব্যক্তি ভাগ্য গণনা করে ও যার জন্য ভাগ্য গণনা করা হয় (বর্ণনাকারী মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ সম্পর্কেও বলেছিলেন) এবং যে জাদু করে ও যার কারণে জাদু করা হয় সেই ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়'।১৯
কেউ কোন বিষয়ে কুলক্ষণে নিপতিত হ'লে তাকে এজন্য কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা এখানে কোন অর্থ কিংবা ইবাদত নয়; বরং পাপ বিমোচক একটি দো'আ, যা আব্দুল্লাহ বিন আমর বর্ণিত হাদীছে এসেছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা বললেন, কুলক্ষণ যে ব্যক্তিকে কোন কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয়ই সে শিরক করে । ছাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উহার কাফফারা কি হবে? তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি বলবে-
اَللَّهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ -
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লা খায়রা ইল্লা খায়রুকা ওয়ালা ত্বায়রা ইল্লা ত্বায়রুকা ওয়ালা ইলা-হা গায়রুকা।
'হে আল্লাহ! আপনার কল্যাণ ছাড়া কোন কল্যাণ নেই। আপনার সৃষ্ট কুলক্ষণ ছাড়া কোন কুলক্ষণ নেই। আর আপনি ছাড়া কোন (হক) মা‘বৃদও নেই'।২০
তবে সুলক্ষণ-কুলক্ষণের ধারণা মনে জন্ম নেয়া স্বভাবগত ব্যাপার, যা সময়ে বাড়ে ও কমে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা আল্লাহ্র উপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করা। যেমন ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন,
وَمَا مِنَّا إِلَّا أَي إِلَّا وَيَقَعُ فِي نَفْسِهِ شَيْءٌ مِّنْ ذَلِكَ) وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكَّلِ -
'আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, মনে কুলক্ষণ সংক্রান্ত কিছুই উঁকি দেয় না। কিন্তু তাওয়াক্কুল (আল্লাহ্র উপর নির্ভরতা) দ্বারা আল্লাহ তা'আলা তা দূর করে দেন'।২১
টিকাঃ
১৮. আবুদাঊদ, তিরমিযী; মিশকাত হা/৪৫৮৪।
১৯. তাবারাণী, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২১৯৫।
২০. আহমাদ হা/৭০৪৫; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১০৬৫।
২১. আবুদাঊদ হা/৩৯১০; মিশকাত হা/৪৫৮৪।
📄 আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম করা
আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যার নামে ইচ্ছা কসম করতে পারেন। কিন্তু সৃষ্টির জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা জায়েয নেই। তা সত্ত্বেও অনেক মানুষের মুখেই নির্বিবাদে গায়রুল্লাহ্র নামে কসম উচ্চারিত হয়। কসম মূলতঃ এক প্রকার সম্মান, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ পাওয়ার যোগ্য নয়। ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
أَلاَ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ كَانَ حَالِفًا بِاللَّهِ فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ
'সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। কারো যদি শপথ করতেই হয়, তবে সে যেন আল্লাহ্র নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে'।২২
ইবনু ওমর (রাঃ) বর্ণিত আরেকটি হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ أَشْرَكَ 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে কসম করল, সে শিরক করল'।২৩
অপর এক হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ فَلَيْسَ مِنَّا 'যে আমানত বা গচ্ছিত দ্রব্যের নামে কসম করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়'।২৪
সুতরাং কা'বা, আমানত, মর্যাদা, সাহায্য, অমুকের বরকত, অমুকের জীবন, নবীর মর্যাদা, অলীর মর্যাদা, পিতা-মাতা ও সন্তানের মাথা ইত্যাদি দিয়ে কসম খাওয়া নিষিদ্ধ।
কেউ যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করে তবে তার কাফফারা হ'ল কালেমা ত্বাইয়েবা 'লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ' পাঠ করা। যেমন ছহীহ হাদীছে এসেছে-
مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ بِاللَّاتِ وَالْعُزَّى . فَلْيَقُلْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ -
'যে ব্যক্তি শপথ করতে গিয়ে লাত ও উযযার নামে শপথ করে বসে, সে যেন বলে, 'লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ'।২৫
উল্লিখিত অবৈধ শপথের ধাঁচে কিছু শিরকী ও হারাম কথা কতিপয় মুসলমানের মুখে উচ্চারিত হ'তে শোনা যায়। যেমন বলা হয়, 'আমি আল্লাহ ও আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি'। 'আল্লাহ আর আপনার উপরই ভরসা'। 'এটা আল্লাহ ও তোমার পক্ষ হতে হয়েছে'। 'আল্লাহ ও আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই'। 'আমার জন্য উপরে আল্লাহ আর নীচে আপনি আছেন'। 'উপরে খোদা, নীচে হুদা'। 'আল্লাহ ও অমুক যদি না থাকত'।২৬ 'আমি ইসলাম থেকে মুক্ত বা ইসলামের ধার ধারি না'। 'হায় কালের চক্র, আমার সব শেষ করে দিল'। 'এখন আমার দুঃসময় চলছে'। 'এ সময়টা অলুক্ষণে'। 'সময় বিশ্বাসঘাতকতা করেছে' ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, সময়কে গালি দিলে সময়ের স্রষ্টা আল্লাহকেই গালি দেয়া হয় বলে হাদীছে কুদসীতে এসেছে।২৭ সুতরাং সময়কে গালি দেওয়া নিষিদ্ধ।
আল্লাহ ব্যতীত অন্যের সাথে عبد বা দাস অর্থবোধক শব্দ এ পর্যায়ে পড়ে। যেমন আবদুল মসীহ, আবদুর রাসূল, আবদুন নবী, আবদুল হুসাইন, গোলাম রাসূল ইত্যাদি।
আধুনিক কিছু শব্দ ও পরিভাষাও রয়েছে যা তাওহীদের পরিপন্থী। যেমন ইসলামী সমাজতন্ত্র, ইসলামী গণতন্ত্র, জনগণের ইচ্ছাই আল্লাহ্র ইচ্ছা, দশ যেখানে আল্লাহ সেখানে, দ্বীন আল্লাহ্র দেশ সকল মানুষের, বিপ্লবের নামে শপথ করে বলছি, খাঁটি আরব হওয়ার নামে শপথ করে বলছি ইত্যাদি।
কোন রাজা-বাদশাহকে 'শাহানশাহ' বা 'রাজাধিরাজ' বলাও হারাম (শাহজাহান ও জাহাঙ্গীরও এ পর্যায়ভুক্ত)। একইভাবে কোন মানুষকে 'কাযীউল কুযাত' বা 'বিচারকদের উপরস্থ বিচারক' বলা যাবে না। কেননা 'কাযীউল কুযাত' একমাত্র আল্লাহ।
কোন কাফির বা মুনাফিকের ক্ষেত্রে সম্মানসূচক 'সাইয়িদ' তথা 'জনাব' বা অন্য ভাষার অনুরূপ কোন শব্দ ব্যবহার করাও সিদ্ধ নয়।
টিকাঃ
২২. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৪০৭।
২৩. আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৪১৯।
২৪. আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৪২০।
২৫. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪০৯।
২৬. এসব ক্ষেত্রে অতঃপর শব্দ প্রয়োগ করতে হবে। যেমন আল্লাহ অতঃপর আপনি যা চান (مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ) ইত্যাদি - অনুবাদক।
২৭. বুখারী হা/৬১৮১।