📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 অতি প্রয়োজনীয় চারটি বিষয়

📄 অতি প্রয়োজনীয় চারটি বিষয়


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমাদের মধ্যে যদি চারটি জিনিস থাকে, তাহলে দুনিয়ার আর অন্য কোন জিনিস তোমাদের মধ্যে না থাকলেও কোন ক্ষতি হবে না। ১. আমানতের হেফাজত। ২. সত্য কথা বলা। ৩. উত্তম ব্যবহার। ৪. হালাল উপার্জন।

অর্থাৎ যদি এই চারটি জিনিস পাওয়া যায়, আর অন্য কোন জিনিস পাওয়া নাও যায়, তবু চিন্তার কোন কারণ নেই। কেননা আসল জিনিস আপনার নিকট আছে অথবা এ জিনিসগুলো পাওয়া গিয়ে থাকলে দুনিয়া আপনার থেকে হাত ছাড়া হবে না, অতএব চিন্তিত হবেন না। জিনিসের মধ্যে প্রথম হলো, আমানতের হেফাজত-মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য এটাই যে, মুমিন আমানতের খিয়ানত করে না, যার আমানত তার নিকট পৌঁছায়। এটাই তার ঈমানী দায়িত্ব এবং তার প্রভুর হুকুম। অথচ মুনাফিকের চিহ্ন এটাই যে, তার নিকট যদি আমানত রাখা হয় তবে সে তার মধ্যে খিয়ানত করে। যে মুমিন সত্যবাদী হয়, সে ঝুট (মিথ্যা) থেকে বেঁচে থাকে, সে জানে- لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ (ال عمران) অর্থঃ “মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ।” এর দ্বারা যদিও সে বাহ্যতঃ ক্ষতি দেখে তবুও সে সত্য কথা বলে। এজন্য যে, সত্য মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংস করে। একটা মিথ্যাকে প্রমাণ করার জন্য দশটা মিথ্যা কথা বলতে হয়, কিন্তু এরপরও সেই মিথ্যা একদিন প্রকাশিত হয়ে যায়। এজন্য যে, মিথ্যাবাদীদের স্মরণশক্তি থাকে না। মুনাফিকদের চিহ্ন এটাই যে, সে যে কথা বলে তা মিথ্যা বলে। মুমিন সচ্চরিত্র হয়, উগ্র/কর্কশ প্রকৃতির, বদ মেজাজ ও অসৎচরিত্র হয় না, এজন্য যে, সে এমন এক ব্যক্তির অনুসারী ও উম্মত, যিনি আখলাক ও চরিত্রের উচ্চতম ধাপে আসীন ছিলেন। ইরশাদ হয়েছেঃ وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (القلم ৪০) অর্থঃ "অবশ্যই আপনি চরিত্রের উচ্চতম মর্যাদায় আছেন।” মুমিন অসৎ স্বভাবের হয় না, ভদ্র, সভ্য, নম্র ও সৎ স্বভাবের হয়। অথচ মুনাফিক বদ স্বভাব ও কৃপণ মেজাজের হয়, সামান্য কিছুতেই গালি-গালাজ ও অকথ্য ভাষার ব্যবহার শুরু করে দেয়। মুমিন হালাল-হারাম বুঝে। তার খারাপ পরিণাম সম্বন্ধে জানে, তার ফলাফল সম্পর্কে খবর রাখে। এজন্য সে হারাম থেকে বেঁচে থাকে এবং হালালের খোঁজ করে। কিন্তু কাফের ও মুনাফিকরা শুধু ধন-সম্পদ চায়, চাই তা হালাল পন্থায় আসুক বা হারাম পন্থায় আসুক, মালের জন্য চুরি করতে হোক বা ডাকাতি করতে হোক, মাল চাই। মুমিন হালাল উপার্জন করে হালাল খায়, মুমিন পাক পবিত্র হয়, হারাম, বদ নজর এবং গোনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকে। সত্যিই যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে এই গুণগুলো থাকে, তবে সে মহাভাগ্যবান, এছাড়া আর কি চাই? এ জিনিসসমূহ যদি তার মধ্যে থেকে থাকে, তবে সে সব কিছুই পেয়ে গেছে, আর কি বাকি রইল? অতএব এ জিনিসগুলো নিজের মধ্যে সৃষ্টি করুন, এর জন্য অনেক মেহনত ও চেষ্টা করুন।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 স্বর্গীয় ও ভাগ্যবানরা পার উপায়

📄 স্বর্গীয় ও ভাগ্যবানরা পার উপায়


ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, আমার নিকট এই প্রবাদ আছে যে, হযরত লোকমান হাকিমকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আপনি জ্ঞান ও সম্পূর্ণতার মর্যাদা পর্যন্ত কিভাবে পৌঁছলেন? উত্তর করলেন, সত্য কথা বলার দরুণ, আমানত রক্ষা করার দরুণ এবং অনর্থক বিষয় ত্যাগ করার দরুণ।

অর্থাৎ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি এতবড় মর্যাদার পদ পর্যন্ত কিভাবে পৌঁছেছেন? তিনি বলেছেন, সত্য বলার কারণে, সত্যবাদীতা খুব ভাল জিনিস এবং উত্তম। সত্যবাদী মানুষ আল্লাহ্ প্রিয় হয় এবং বান্দাদেরও প্রিয় হয়। সত্য মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংস করে। কামিল মুমিনের গুণই এটা যে, সে সত্য কথা বলে যদিও মুনাফিক মিথ্যা বলে এবং আমানত রক্ষা করা ঈমানী দায়িত্ব। যার যে হক, মুমিন তাকে তা পৌঁছে দেয়। আমানতের খিয়ানত সে একেবারেই করে না। মুনাফিক আমানতের আত্মসাৎ করে, আল্লাহ্ তা'আলা আত্মসাৎ করাকে নিষেধ করেছেন। বেহুদা, অনর্থক কাজ ও কথা থেকে বেঁচে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ নিজের মূল্যবান সময়কে অনর্থক নষ্ট করে দেয়। যদি আল্লাহ্র নৈকট্যের দরকার হয়, আল্লাহ্র সন্তুষ্টির অন্বেষণ হয়, তবে অনর্থক সবকিছু থেকে বেঁচে থাকতে হবে। উত্তম মুসলমানের চিহ্ন এই যে, সে বেহুদা যে কোন কাজ থেকে সর্বদা বেঁচে থাকে এবং সর্বদা ঐ সকল কাজ করে, যা দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করে। ঐ সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকুন, যা আখেরাতের ধ্বংস করে দেয় অথবা আল্লাহ্ অসন্তুষ্টি অর্জনের কারণ হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px