📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ফেরেশতা ও মানুষের প্রশ্ন

📄 ফেরেশতা ও মানুষের প্রশ্ন


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন ফেরেস্তারা প্রশ্ন করে, কি আমল আছে যা পূর্ব হতে পাঠিয়েছ? আর মানুষেরা তথা ওয়ারিশরা প্রশ্ন করে, কি মাল দৌলত রেখে গেছ? ফেরেস্তারা পূণ্যের আকাঙ্ক্ষা করে এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে থাকেন। এজন্য তারা প্রথমেই নেক আমলের ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। নেক আমলের বিনিময়ে ভাল ফল দেওয়া হবে। মন্দ কর্মের বিনিময়ে পাকড়াও ও শাস্তি হয়ে থাকে। যা হোক, ফেরেস্তারা আমলের চিন্তা করেন এবং মানুষ-উত্তরাধিকারীগণ দুনিয়া ও মালের চিন্তা করে যে, মরে যাওয়ায় আপদ দূর হলো। কিন্তু আমাদের জন্য রেখে গেল কি? সম্পত্তির কি পরিমাণ রেখে গেল? এটা জানা দরকার যে, আমল সাথে যায় কিন্তু উত্তরাধিকারীরা ও ধন-সম্পদ কিছুই সাথে যায় না। এজন্য এমন আমল করুন, যা ভালো ফল দান করবে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করুন, যারা আপনাকে কখনো ত্যাগ করবে না।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 আখেরাতের নিকটবর্তীতা

📄 আখেরাতের নিকটবর্তীতা


ইমাম মালেক (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, হযরত লোকমান নিজের ছেলেকে বলতেনঃ বৎস! সকল মানুষ (হিসাব-কিতাব ও পুনরুত্থান থেকে) অনেক দূরে চলে গেছে, তাদের সাথে (যে হিসাব-কিতাবের) ওয়াদা করা হয়েছিল। অথচ তারা আখেরাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বৎস! তুমি যেদিন সৃষ্টি হয়েছ, সেদিন থেকে তুমি দুনিয়ার দিকে পিঠ ও আখেরাতের দিকে মুখ করে নিয়েছ এবং সে ঘর যার দিকে তুমি যাচ্ছ, ঐ ঘরের থেকেও বেশি নিকটবর্তী যে ঘর থেকে তুমি বের হয়ে যাচ্ছ। গাফলতের আচ্ছাদন এবং দুনিয়ার টিপ-টপ মানুষকে আখেরাত থেকে গাফেল করে দিয়েছে। তারা দুনিয়ার হাকীকত ও সত্যকে বুঝারও চেষ্টা করে না, তাদের কি এতটুকু কথা জানা নেই যে, তারা অনেক দ্রুত আখেরাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে পদার্পণ করে সে দুনিয়াতে আসামাত্রই দুনিয়ার দিকে পিঠ দেয় এবং আখেরাতের দিকে মুখ করে নেয়। তার জীবনের যত দিন গত হয়েছে, সে ততই দুনিয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এবং আখেরাতের নিকটবর্তী হচ্ছে। অতএব দুনিয়ার সাথে মনকে সংযুক্ত করিও না, আখেরাতের চিন্তা কর। আর এটাই সব কিছু এবং চিরস্থায়ী এবং এটাই আসল ঠিকানা।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 জ্ঞানী ও নির্বোধ

📄 জ্ঞানী ও নির্বোধ


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, সকল মানুষের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি উত্তম? ইরশাদ হল যে, প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি, যার হৃদয় সহজ সরল, সত্যবাদী। আরয করা হলো, সত্যবাদীকে তো আমরা জানি, সহজ সরল মনের দ্বারা কি উদ্দেশ্য? ইরশাদ হলো, ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর পরিষ্কার ও ধার্মিক! ধর্মানুরাগী হয়, যার উপর গোনাহের বোঝাও হয় না, জুলুমের বোঝাও হয় না। আবার হিংসার বোঝাও হয় না।

সত্যি উত্তম ব্যক্তি সেই হয়, যার দিল অন্যের মহব্বত থেকে খালি হয় ও বদ অভ্যাস থেকে পাক পবিত্র হয়। যার কোন উচ্চাশা থাকে না, শত্রুতাও থাকে না, তার মধ্যে শিরকীও থাকে না, বেদআতও থাকে না। আল্লাহ্র ভয় দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, গোনাহ থেকে মুক্ত থাকে। মুখে সত্য কথা বলে। দুর্নাম ও অপবাদ থেকে পবিত্র এমন ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 অতি প্রয়োজনীয় চারটি বিষয়

📄 অতি প্রয়োজনীয় চারটি বিষয়


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমাদের মধ্যে যদি চারটি জিনিস থাকে, তাহলে দুনিয়ার আর অন্য কোন জিনিস তোমাদের মধ্যে না থাকলেও কোন ক্ষতি হবে না। ১. আমানতের হেফাজত। ২. সত্য কথা বলা। ৩. উত্তম ব্যবহার। ৪. হালাল উপার্জন।

অর্থাৎ যদি এই চারটি জিনিস পাওয়া যায়, আর অন্য কোন জিনিস পাওয়া নাও যায়, তবু চিন্তার কোন কারণ নেই। কেননা আসল জিনিস আপনার নিকট আছে অথবা এ জিনিসগুলো পাওয়া গিয়ে থাকলে দুনিয়া আপনার থেকে হাত ছাড়া হবে না, অতএব চিন্তিত হবেন না। জিনিসের মধ্যে প্রথম হলো, আমানতের হেফাজত-মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য এটাই যে, মুমিন আমানতের খিয়ানত করে না, যার আমানত তার নিকট পৌঁছায়। এটাই তার ঈমানী দায়িত্ব এবং তার প্রভুর হুকুম। অথচ মুনাফিকের চিহ্ন এটাই যে, তার নিকট যদি আমানত রাখা হয় তবে সে তার মধ্যে খিয়ানত করে। যে মুমিন সত্যবাদী হয়, সে ঝুট (মিথ্যা) থেকে বেঁচে থাকে, সে জানে- لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الْكَاذِبِينَ (ال عمران) অর্থঃ “মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহ্র অভিশাপ।” এর দ্বারা যদিও সে বাহ্যতঃ ক্ষতি দেখে তবুও সে সত্য কথা বলে। এজন্য যে, সত্য মুক্তি দেয় এবং মিথ্যা ধ্বংস করে। একটা মিথ্যাকে প্রমাণ করার জন্য দশটা মিথ্যা কথা বলতে হয়, কিন্তু এরপরও সেই মিথ্যা একদিন প্রকাশিত হয়ে যায়। এজন্য যে, মিথ্যাবাদীদের স্মরণশক্তি থাকে না। মুনাফিকদের চিহ্ন এটাই যে, সে যে কথা বলে তা মিথ্যা বলে। মুমিন সচ্চরিত্র হয়, উগ্র/কর্কশ প্রকৃতির, বদ মেজাজ ও অসৎচরিত্র হয় না, এজন্য যে, সে এমন এক ব্যক্তির অনুসারী ও উম্মত, যিনি আখলাক ও চরিত্রের উচ্চতম ধাপে আসীন ছিলেন। ইরশাদ হয়েছেঃ وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (القلم ৪০) অর্থঃ "অবশ্যই আপনি চরিত্রের উচ্চতম মর্যাদায় আছেন।” মুমিন অসৎ স্বভাবের হয় না, ভদ্র, সভ্য, নম্র ও সৎ স্বভাবের হয়। অথচ মুনাফিক বদ স্বভাব ও কৃপণ মেজাজের হয়, সামান্য কিছুতেই গালি-গালাজ ও অকথ্য ভাষার ব্যবহার শুরু করে দেয়। মুমিন হালাল-হারাম বুঝে। তার খারাপ পরিণাম সম্বন্ধে জানে, তার ফলাফল সম্পর্কে খবর রাখে। এজন্য সে হারাম থেকে বেঁচে থাকে এবং হালালের খোঁজ করে। কিন্তু কাফের ও মুনাফিকরা শুধু ধন-সম্পদ চায়, চাই তা হালাল পন্থায় আসুক বা হারাম পন্থায় আসুক, মালের জন্য চুরি করতে হোক বা ডাকাতি করতে হোক, মাল চাই। মুমিন হালাল উপার্জন করে হালাল খায়, মুমিন পাক পবিত্র হয়, হারাম, বদ নজর এবং গোনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকে। সত্যিই যদি কোন ব্যক্তির মধ্যে এই গুণগুলো থাকে, তবে সে মহাভাগ্যবান, এছাড়া আর কি চাই? এ জিনিসসমূহ যদি তার মধ্যে থেকে থাকে, তবে সে সব কিছুই পেয়ে গেছে, আর কি বাকি রইল? অতএব এ জিনিসগুলো নিজের মধ্যে সৃষ্টি করুন, এর জন্য অনেক মেহনত ও চেষ্টা করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px