📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 শয়তানের কষ্টের ঘাঁটি

📄 শয়তানের কষ্টের ঘাঁটি


পারাপারে কষ্টকর ঘাটি
হযরত উম্মে দারদা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন যে, আমি আবূ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করেছিলাম, কি কারণে আপনি হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ঐ রকম ধন-সম্পদ চান না, যেভাবে অমুক সাহেব চান? উনি বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি, তোমাদের সম্মুখে একটা কষ্টদায়ক ঘাটি আসছে, তোমরা অতিরিক্ত বোঝা বহন করে উহা পার হতে পারবে না। এজন্য আমি চাই যে, ঐ ঘাটি পার হওয়ার জন্য হালকা পাতলা থাকি।

অর্থাৎ তোমাদের ও জান্নাতের প্রবেশের মধ্যে একটা খুব শক্ত ও পারাপারে কঠিন ঘাটি প্রতিবন্ধক রয়েছে, ওটা পার হয়েই জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। এই ঘাটির দ্বারা কি উদ্দেশ্য; আল্লামা তিবী (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা মৃত্যু, কবর, হাশর এবং তার অবস্থা ও কঠোরতা উদ্দেশ্য। যেমনিভাবে ঘাটি পার হওয়া কঠিন কাজ তেমনিভাবে বেহেস্তে প্রবেশের মধ্যে প্রতিবন্ধক ঐ মধ্যবর্তী স্থানগুলো পার হওয়াও কঠিন। পার্থিব ধন-সম্পদ, দুনিয়ার দায়িত্ব সম্পর্কে সওয়াল-জওয়াব এবং হিসাব কিতাব, কবরের আজাব থেকে বাঁচার মত কাজকাম করা, হাশরের অবস্থা, কঠোরতা থেকে রক্ষা পাওয়া বড়ই কঠিন ব্যাপার। এটা অনেক কঠিন সফর, এজন্য খুব মেহনত ও চেষ্টা সাধনার প্রয়োজন, আমি দুনিয়ার আসবাবপত্রের মধ্যে জড়িয়ে নিজের পেরেশানী (দুঃখ কষ্ট দুশ্চিন্তা) বাড়াতে চাই না। মালের চিন্তাও থাকবে না, তার জন্য গ্রেফতার হওয়ার চিন্তাও নেই, দুনিয়াও হবে না। দুনিয়ার উপাদান হবে না এবং তার জন্য আখেরাতের জবাবদিহীতার চিন্তাও থাকবে না। যেভাবে ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কিছু থাকে না, সে কাস্টম থেকে কোন রকম কষ্ট ও বিড়ম্বনা ছাড়াই বাইরে এসে পড়ে। এমনিভাবে সেই ব্যক্তি যে দুনিয়ার ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকে, সে আখেরাতের জবাবদিহী থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পেয়ে যাবে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ধন-সম্পদ ও দুনিয়ার প্রতিক্রিয়া

📄 ধন-সম্পদ ও দুনিয়ার প্রতিক্রিয়া


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন ব্যক্তি কি এমন আছে, যে পানির উপর চলে; কিন্তু তার পা পানিতে ভিজে না? আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এমন কোন ব্যক্তি নেই। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমনিভাবে দুনিয়াদারও গোনাহ থেকে বাঁচতে পারে না।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সহজবোধ্য ও সুস্পষ্ট উদাহরণ দ্বারা দুনিয়া এবং তার কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়াদি, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও গোনাহসমূহের উদাহরণ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, যেরূপ কখনো কোন ব্যক্তি পানিতে পদচারণা করে তখন তার পা অবশ্যই পানিতে ভিজে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি দুনিয়ার সহিত সম্পৃক্ত, দুনিয়া অর্জন করবে, দুনিয়ার সাথে বন্ধুত্ব রাখবে, সেও গোনাহ থেকে বাঁচতে পারবে না। অতএব যদি আখেরাতকে গড়তে হয়, দুনিয়ার গ্রেফতারী থেকে বাঁচতে চাও, তবে অল্পে সন্তুষ্টির সাথে যা আছে তা দিয়েই কাজ শেষ করে নাও এবং প্রয়োজন মাফিক উপার্জনকে যথেষ্ট মনে করো। অতিরিক্ত সম্পদ, আরাম, আয়েশ এবং পজিশন ও দায়িত্বের পিছনে পড়বে না। নতুবা এই পরিমাণ জবাবদিহীতা, সওয়াল ও জওয়াব এবং দুঃখ-দুর্দশা, দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। এরূপ ব্যক্তি খুবই ভাগ্যবান ও ধন্য, যার নিকট জরুরত পরিমাণ যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে এবং তার নিকট অল্পে সন্তুষ্টির দৌলতও আছে। তার মৃত্যুতে ক্রন্দনকারী খুব কম হয় এবং তার দায়-দায়িত্বও কম হয়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ঈমানতে লিপ্ত থাকা

📄 ঈমানতে লিপ্ত থাকা


ইবাদতে লিপ্ত থাকুন
হযরত জুবায়ের বিন নুফায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার নিকট এই ওহী নাযিল হয়নি যে, আমি সম্পদ জমা করব এবং ব্যবসায়ী হবো; বরং এই ওহী নাযিল হয়েছে-
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ وَاعْبُدْ رَبِّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ

অর্থঃ “অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন, প্রশংসা করুন এবং সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান এবং পালনকর্তার এবাদত করতে থাকুন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে নিশ্চিন্তের কথা আসে।”

মানুষকে দুনিয়াতে ব্যবসায়ী, জমিদার বা ঠিকাদার, মালদার, কারিগর হওয়ার জন্য পাঠানো হয়নি বরং সৃষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদত করা। অবশ্য দুনিয়ার প্রয়োজন মিটানোর জন্য ব্যবসা, দোকানদারী অথবা অন্য কোন কাজ করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু মানুষ যেন এসবকে প্রকৃত উদ্দেশ্য বানিয়ে তার মধ্যে এমনভাবে লিপ্ত না হয়ে যায়, যাতে সে আখেরাত থেকেই অমনোযোগী হয়ে যায়। আসল উদ্দেশ্য আল্লাহ্ ইবাদত, ফরমাবরদারী এবং সমস্ত হুকুম-আহকাম পালন করা, মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, সেকেণ্ড, মিনিট যেন কোন না কোন ইবাদতের মধ্যে কাটে। আর এটাই আসল উদ্দেশ্য। এটাই এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। অবশ্য হালাল রিযিকের তালাশের জন্য বের হওয়া শরীঅত বিরোধী নয়। এখানে এটা বলা হয়েছে যে, এটাকে যেন আসল উদ্দেশ্য বানিয়ে না নেওয়া হয়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 হালাল রিযিক উপার্জনকারী

📄 হালাল রিযিক উপার্জনকারী


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে বাঁচার এবং পরিবার পরিজনের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহ করার এবং পড়শীদের সাথে ভাল ব্যবহার করার জন্য হালালভাবে এবং জায়েয পন্থায় দুনিয়া অর্জন করে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ্র সঙ্গে এইভাবে তার সাক্ষাৎ হবে যে, তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় আলোকিত হবে। যে ব্যক্তি হালাল রিযিক এজন্য উপার্জন করে যে, তার ধন-সম্পদ বাড়বে, অন্যদের উপর গৌরব করবে এবং লোক দেখানোর জন্য তা করবে, সে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এইভাবে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ্ তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকবেন।

যতদিন মানুষ দুনিয়াতে বেঁচে থেকে বসবাস করে, ততদিন দুনিয়ার প্রয়োজন তার সাথে ছায়ার মত লেগে থাকে। আর এ প্রয়োজন যদি আল্লাহ্র হুকুম মনে করে পুরা করা যায় এবং হালাল পন্থায় রিযিক উপার্জন করা হয়, যেখানে হুকুম সেখানে ব্যয় করা যায়, দুনিয়ার উপার্জনের উদ্দেশ্য এই হয় যে, মানুষের নিকট হাত বাড়ানো থেকে বাঁচা, হারাম থেকে দূরে থাকা, পরিবার, পরিজনের জন্য উদারতার সাথে ব্যয় করে তার প্রয়োজন ও অভাবসমূহকে সুন্দরভাবে পুরা করা, পড়শীদের প্রয়োজনাদির দিকে লক্ষ্য রাখা, তবে এমন ব্যক্তি সত্যিকারের মুমিন। তার এই দুনিয়ার উপার্জন করাও সওয়াবের উসিলা ও আল্লাহ্ তা'আলা তার আমলের এই বদলা দিবেন যে, সমস্ত সৃষ্টির সামনে তার চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত আলোকিত করে দিবেন। এই ব্যক্তি দুনিয়াতে ভিক্ষা করে বা মানুষের কাছে হাত পেতে নিজের চেহারাকে অসম্মান বা অপমানিত করেনি বরং মেহনত ও চেষ্টা করেছে এবং হালাল রিযিকের অন্বেষণে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছে, এজন্য সে উক্ত সম্মানে ভূষিত হবে।

কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি হারাম পন্থায় নয়, বরং হালাল পথে এবং বৈধ পন্থায় টাকা পয়সা এজন্য উপার্জন করে, যাতে সে মালদার হয়ে যায়, মানুষের উপরে নিজের মালদারীর প্রভাব বিস্তার করতে পারে, গর্ব ও আত্মগৌরব করতে পারে, আর কখনো সদকা খয়রাত করলে অথবা আল্লাহ্র রাস্তায় খরচ করলেও রিয়াকারী ও লোক দেখানোর জন্য করে, তবে এমন ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ পাক তার প্রতি ভীষণ অসন্তুষ্ট হবেন। সে তার ধন-সম্পদ সদকা খয়রাত করার এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের পরিবর্তে গর্ব, অহংকার, লোক দেখানোর মাধ্যম বানিয়েছিল এবং সে কৃতজ্ঞ বান্দা হয়নি। অতএব আল্লাহ্ তা'আলা এমন ব্যক্তির প্রতি ভীষণ নারায হবেন। এটা ঐ ব্যক্তির পরিণতি, যে হালাল পন্থায় উপার্জন করেছিল। আর যদি হারাম পন্থায় উপার্জন করে, তবে তার হাশর কেমন হবে তা আপনি নিজেই অনুমান করে নিন। তার আলোচনা হয়ত এজন্য করেননি যে, মুসলমান হারাম পন্থায় রিযিক উপার্জন করে না এবং এজন্য যে, হারাম রাস্তায় উপার্জিত মাল খাওয়াও হারাম, তার সদকা খয়রাত করাও হারাম। সুতরাং তা থেকে বেঁচে থাকা একান্তই উচিত হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px