📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ধন-সম্পদের ফিতনা

📄 ধন-সম্পদের ফিতনা


হযরত কা'ব বিন আয়ায রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটা পরীক্ষা ও ফিতনা থাকে। আমার উম্মতের পরীক্ষার বস্তু হলো সম্পদ।

বিভিন্ন বিষয়বস্তুর কারণে মানুষ পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহ্র নাফরমানী ও নানা প্রকার পাপ করে থাকে। টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ মানুষকে নানা রকম পরীক্ষা ও ফিতনায় পতিত করে। সাধারণতঃ এরূপ দেখা গেছে যে, ধন-সম্পদের কারণে গর্ব, অহংকার এবং ইবাদতে অনীহা সৃষ্টি হয়, গোনাহ ও নাফরমানীর কারণ হয় এবং মানুষ তার স্রষ্টা ও মালিককে ভুলে যায়। টাকা-পয়সাকেই সব কিছু মনে করতে শুরু করে, ফলে এটাকে সর্বাপেক্ষা বড় ফিৎনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদি গভীরভাবে চিন্তা করা যায়, তবে সহজেই বুঝা যাবে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ইরশাদ-পুরোপুরি সত্য ও সহীহ এবং যথোপযুক্ত। এর কারণে বহু নেককার মুত্তাকী ও আবেদ টাকা-পয়সার ফাঁদে গ্রেফতার হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই একই কারণে বহু লোক দ্বীন ও ধর্মকে ত্যাগ করেছে। এই কারণে বহু লোক ঈমান আকীদা বিক্রি করে দিয়েছে, সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য মানুষ জায়েয ও না জায়েয পন্থা অবলম্বন করেছে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 মাল-দৌলতের ষষ্ঠ দুর্গতি

📄 মাল-দৌলতের ষষ্ঠ দুর্গতি


ধন-সম্পদের ফিতনা
মাল-দৌলতের সৃষ্ট দুর্ভোগ
হযরত কা'ব বিন আয়ায রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটা পরীক্ষা ও ফিতনা থাকে। আমার উম্মতের পরীক্ষার বস্তু হলো সম্পদ।

বিভিন্ন বিষয়বস্তুর কারণে মানুষ পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহ্র নাফরমানী ও নানা প্রকার পাপ করে থাকে। টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ মানুষকে নানা রকম পরীক্ষা ও ফিতনায় পতিত করে। সাধারণতঃ এরূপ দেখা গেছে যে, ধন-সম্পদের কারণে গর্ব, অহংকার এবং ইবাদতে অনীহা সৃষ্টি হয়, গোনাহ ও নাফরমানীর কারণ হয় এবং মানুষ তার স্রষ্টা ও মালিককে ভুলে যায়। টাকা-পয়সাকেই সব কিছু মনে করতে শুরু করে, ফলে এটাকে সর্বাপেক্ষা বড় ফিৎনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদি গভীরভাবে চিন্তা করা যায়, তবে সহজেই বুঝা যাবে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ইরশাদ-পুরোপুরি সত্য ও সহীহ এবং যথোপযুক্ত। এর কারণে বহু নেককার মুত্তাকী ও আবেদ টাকা-পয়সার ফাঁদে গ্রেফতার হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই একই কারণে বহু লোক দ্বীন ও ধর্মকে ত্যাগ করেছে। এই কারণে বহু লোক ঈমান আকীদা বিক্রি করে দিয়েছে, সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য মানুষ জায়েয ও না জায়েয পন্থা অবলম্বন করেছে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 মেধ শাবকের ন্যায় হাযির করা হবে

📄 মেধ শাবকের ন্যায় হাযির করা হবে


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন মানুষকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে, যেমন সে ভেড়ার (অথবা দুম্বার) বাচ্চা। তাকে আল্লাহ্র সামনে দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, আমি কি তোমাকে পার্থিব জীবন, ইন্দ্রিয়সমূহ, সুস্থতা প্রভৃতি দান করেছিলাম না? এবং তোমাকে সেবাকারী ও ধন-সম্পদ দান করিনি? কিতাব ও রাসূল প্রেরণ করে তোমার উপকার করিনি? বল, এ সমস্ত দ্বারা তুমি কি করেছ? সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি সেই ধন-সম্পদ সঞ্চয় করেছি, ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছি এবং মৃত্যুর সময় তা পূর্বের চাইতে অধিক পরিমাণে রেখে এসেছি। অতএব আপনি আমাকে আর একবার দুনিয়ায় যেতে দিন, ঐ সমস্ত কিছু আপনার কাছে নিয়ে আসব। আল্লাহ্ বলবেন, আমাকে এটা তো বল যে, তুমি আখেরাতের জন্য পূর্বে কি পাঠিয়েছো? সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি ঐগুলো সঞ্চয় করেছি, বাড়িয়েছি এবং তা পূর্বের পরিমাণ অপেক্ষা অধিক বৃদ্ধি করে রেখে এসেছি। অতএব আমাকে এখন (দুনিয়ায়) পাঠান, ঐ সমস্ত কিছু নিয়ে আপনার দরবারে উপস্থিত হব। বুঝা যাবে যে, সে এমন ব্যক্তি ছিল, যে আখেরাতের জন্য পূর্ব থেকে কিছুই পাঠায়নি। অতএব তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

অর্থাৎ মানুষকে দীনহীনভাবে দুর্বল ভেড়া, দুম্বার ন্যায় আল্লাহ্র দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ তাকে নিজের সমস্ত দানের কথা মনে করিয়ে বলবেন যে, আমি তো তোমাকে জীবন, ইন্দ্রিয় সুস্থতা ইত্যাদি দান করেছিলাম, ধন-সম্পদ চাকর-বাকর প্রভৃতি দিয়েছিলাম এবং নবী-রাসূলদের পাঠিয়ে, আসমানী কিতাবাদি নাযিল করে বড় অনুগ্রহ করেছিলাম। তুমি এ সবের বিনিময়ে কি করেছ? সে বলবে, হে প্রভু! আমি অনেক ধন-সম্পদ সংগ্রহ করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম এবং যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়েছিল তখন তা পূর্বের পরিমাণ থেকে অনেক বেশি রেখে মৃত্যুবরণ করেছি। আপনি আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠান, ঐ সমস্ত কিছু আপনার খেদমতে এনে হাজির করে দিব। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি এটা তো বল, তুমি এই জায়গার জন্য পূর্বে কি পাঠিয়েছো? কি সদকা খয়রাত এবং নেক কাজ করেছিলে? আখেরাতের জন্য কি উপার্জন করেছিলে? সে বলবে, হে প্রভু! আমি ধন-সম্পদ সংগ্রহ করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম এবং মৃত্যুর সময় তা পূর্বের চাইতে অনেক বেশি রেখে এসেছি। আপনি আমাকে আরেকবার দুনিয়ার পাঠান যাতে আমি ঐ সমস্ত মাল একত্রিত করে আপনার কাছে হাজির করতে পারি। এর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, সে এমনই অকৃতকার্য মানুষ, যে পার্থিব ধন-সম্পদকে ভালো কাজের মধ্যে ব্যয় করেনি, সদকা খয়রাত কিছুই করেনি। আল্লাহ্ তা'আলার হুকুমের উপর আমল করেনি, তার আখেরাতের কোন ফিকির ছিল না, সে ছিল দুনিয়ার দাস, পেটের পূজারী এবং ধন-সম্পদের গোলাম এবং সে এসবের মধ্যে জড়িয়ে ছিল। আখেরাতকে গড়ার কোন চিন্তা ছিল না, অতএব তাকে দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

এখনই সুযোগ, আল্লাহ্ যা কিছু আপনাকে দিয়েছেন, তা স্বল্প হোক বা বেশি হোক, তা আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য নেক কাজের মধ্যে ব্যয় করুন, দান খয়রাত করুন এবং আখেরাতের সওয়াব কামান। নিজেকে ঐ দিনের লজ্জা, হতাশা, বদনামী থেকে রক্ষা করুন। জান্নাতের হকদার হয়ে যান। আল্লাহ্র সন্তুষ্টি এবং চিরকালীন আনন্দ খুশি এবং শান্তি ও নিয়ামতসমূহ লাভ করুন।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 কিয়ামতের দিবসে প্রথম প্রশ্ন

📄 কিয়ামতের দিবসে প্রথম প্রশ্ন


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দাকে যে নেয়ামতের ব্যাপারে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করা হবে, সেটা এই যে, তাকে বলা হবে, আমি কি তোমার শরীরকে শক্তিশালী, বলিষ্ঠ ও সুস্থতা দান করেছিলাম না? এবং তোমাকে ঠান্ডা পানির দ্বারা সতেজ ও উর্বর করেছিলাম না?

কিয়ামতের দিন অনেক জিনিসের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে, তন্মধ্যে অনেক বড় একটা নিয়ামত সুস্থতার ব্যাপারেও প্রশ্ন আছে। কারণ সুস্থতা অনেক বড় নিয়ামত-

তঙ্গ دستی যদি ও হ্যায় গালিব - তন্দুরুস্তি হাজার নেয়ামত হ্যায়

অর্থঃ গালিব! যদিও দরিদ্র হও, সুস্থতা অনেক বড় নিয়ামত।

মানুষ যৌবনকালে সুস্থতা নিরাপত্তা পেয়ে থাকে এবং পান করার জন্য ঠান্ডা পানীয়, আহারের জন্য পবিত্র রিযিক পেয়ে থাকে। কিন্তু এরপরও যদি মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার স্বীকারকারী বান্দা না হয়, তবে এটা সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য ও বঞ্চিতির কথা। আল্লাহ্ তা'আলার নিয়ামত, সুস্থতা, পানীয় ইত্যাদি রকমের নিয়ামতের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হল এই যে, পরিপূর্ণ ঈমানদার হয়ে যাওয়া, আল্লাহ্র ইবাদতে লিপ্ত থাকা, ফরযসমূহ আদায় করা, মূল্যবান সময় নষ্ট না করা। মানুষ সাধারণতঃ সুস্থতার সময়কে মূল্য দেয় না। এটা বড়ই খামখেয়ালী ও অবহেলার কথা। অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে আশীর্বাদ মনে করুন এবং সুস্থ অবস্থায় নেকীসমূহ কামাই করে নিবেন, যাতে রুগ্ন অবস্থায় যখন শরীর সুস্থ না থাকে, যখন কোন কাজে ব্যবহৃত না হয়, তখন যেন সুস্থতার সময় কৃত ইবাদতের সওয়াব, অসুস্থ হওয়ার সময় কাজ না করেও পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কৃতজ্ঞতা ইহাই যে, আল্লাহ্র ইবাদতে লেগে থাকুন, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য চেষ্টা করতে থাকুন, গোনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাকুন, যাতে কেয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে লজ্জা, অসম্মান, অপমান ও ধ্বংস থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px