📄 অতিরিক্ত আহারের কুফল
হযরত ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ঢেকুর (খাওয়ার পর খাদ্যনালীর উদগীরণ) নিতে শুনেছেন, তখন ইরশাদ করলেনঃ নিজের ঢেকুর একটু খাট কর, এজন্য যে, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি ঐ সমস্ত মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে, যাদের পেট দুনিয়াতে বেশি ভরা থাকত।
অতিরিক্ত আহারের দরুণ পাকস্থলী ভরে যাওয়ার কারণে ঢেকুর আসে। ঢেকুর কমাবার অর্থ হলো খানা কম খাওয়া। ঢেকুরের কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত খানাপিনা করা। বর্ণিত আছে যে, এই ব্যক্তি ছিলেন আবূ হুজায়ফা ওহাব বিন আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বলেন, একদিন আমি ছরিদ খেয়েছিলাম। যখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলাম, তখন আমার ঢেকুর আসতে থাকল, এরপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত কথা বললেন। বর্ণিত আছে যে, এরপর হযরত আবূ হুজায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু কখনো পেট ভরে খানা খাননি। তিনি এ রকম নিয়ম করে নিয়েছিলেন যে, যদি দুপুরে খানা খেতেন, তাহলে রাতে না খেয়ে থাকতেন, আবার রাতে খেলে দুপুরে না খেয়ে থাকতেন। অন্যত্র বর্ণিত আছে, হযরত আবূ হুজায়ফা বলেন, আমি ত্রিশ বছর ধরে পেট ভরে খানা খাইনি।
📄 ধন-সম্পদের ফিতনা
হযরত কা'ব বিন আয়ায রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটা পরীক্ষা ও ফিতনা থাকে। আমার উম্মতের পরীক্ষার বস্তু হলো সম্পদ।
বিভিন্ন বিষয়বস্তুর কারণে মানুষ পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহ্র নাফরমানী ও নানা প্রকার পাপ করে থাকে। টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ মানুষকে নানা রকম পরীক্ষা ও ফিতনায় পতিত করে। সাধারণতঃ এরূপ দেখা গেছে যে, ধন-সম্পদের কারণে গর্ব, অহংকার এবং ইবাদতে অনীহা সৃষ্টি হয়, গোনাহ ও নাফরমানীর কারণ হয় এবং মানুষ তার স্রষ্টা ও মালিককে ভুলে যায়। টাকা-পয়সাকেই সব কিছু মনে করতে শুরু করে, ফলে এটাকে সর্বাপেক্ষা বড় ফিৎনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদি গভীরভাবে চিন্তা করা যায়, তবে সহজেই বুঝা যাবে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ইরশাদ-পুরোপুরি সত্য ও সহীহ এবং যথোপযুক্ত। এর কারণে বহু নেককার মুত্তাকী ও আবেদ টাকা-পয়সার ফাঁদে গ্রেফতার হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই একই কারণে বহু লোক দ্বীন ও ধর্মকে ত্যাগ করেছে। এই কারণে বহু লোক ঈমান আকীদা বিক্রি করে দিয়েছে, সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য মানুষ জায়েয ও না জায়েয পন্থা অবলম্বন করেছে।
📄 মাল-দৌলতের ষষ্ঠ দুর্গতি
ধন-সম্পদের ফিতনা
মাল-দৌলতের সৃষ্ট দুর্ভোগ
হযরত কা'ব বিন আয়ায রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ বলতে শুনেছি, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটা পরীক্ষা ও ফিতনা থাকে। আমার উম্মতের পরীক্ষার বস্তু হলো সম্পদ।
বিভিন্ন বিষয়বস্তুর কারণে মানুষ পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এবং আল্লাহ্র নাফরমানী ও নানা প্রকার পাপ করে থাকে। টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ মানুষকে নানা রকম পরীক্ষা ও ফিতনায় পতিত করে। সাধারণতঃ এরূপ দেখা গেছে যে, ধন-সম্পদের কারণে গর্ব, অহংকার এবং ইবাদতে অনীহা সৃষ্টি হয়, গোনাহ ও নাফরমানীর কারণ হয় এবং মানুষ তার স্রষ্টা ও মালিককে ভুলে যায়। টাকা-পয়সাকেই সব কিছু মনে করতে শুরু করে, ফলে এটাকে সর্বাপেক্ষা বড় ফিৎনা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যদি গভীরভাবে চিন্তা করা যায়, তবে সহজেই বুঝা যাবে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ইরশাদ-পুরোপুরি সত্য ও সহীহ এবং যথোপযুক্ত। এর কারণে বহু নেককার মুত্তাকী ও আবেদ টাকা-পয়সার ফাঁদে গ্রেফতার হয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই একই কারণে বহু লোক দ্বীন ও ধর্মকে ত্যাগ করেছে। এই কারণে বহু লোক ঈমান আকীদা বিক্রি করে দিয়েছে, সামান্য কিছু পাওয়ার জন্য মানুষ জায়েয ও না জায়েয পন্থা অবলম্বন করেছে।
📄 মেধ শাবকের ন্যায় হাযির করা হবে
হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন মানুষকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে, যেমন সে ভেড়ার (অথবা দুম্বার) বাচ্চা। তাকে আল্লাহ্র সামনে দাঁড় করানো হবে। আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, আমি কি তোমাকে পার্থিব জীবন, ইন্দ্রিয়সমূহ, সুস্থতা প্রভৃতি দান করেছিলাম না? এবং তোমাকে সেবাকারী ও ধন-সম্পদ দান করিনি? কিতাব ও রাসূল প্রেরণ করে তোমার উপকার করিনি? বল, এ সমস্ত দ্বারা তুমি কি করেছ? সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি সেই ধন-সম্পদ সঞ্চয় করেছি, ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছি এবং মৃত্যুর সময় তা পূর্বের চাইতে অধিক পরিমাণে রেখে এসেছি। অতএব আপনি আমাকে আর একবার দুনিয়ায় যেতে দিন, ঐ সমস্ত কিছু আপনার কাছে নিয়ে আসব। আল্লাহ্ বলবেন, আমাকে এটা তো বল যে, তুমি আখেরাতের জন্য পূর্বে কি পাঠিয়েছো? সে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি ঐগুলো সঞ্চয় করেছি, বাড়িয়েছি এবং তা পূর্বের পরিমাণ অপেক্ষা অধিক বৃদ্ধি করে রেখে এসেছি। অতএব আমাকে এখন (দুনিয়ায়) পাঠান, ঐ সমস্ত কিছু নিয়ে আপনার দরবারে উপস্থিত হব। বুঝা যাবে যে, সে এমন ব্যক্তি ছিল, যে আখেরাতের জন্য পূর্ব থেকে কিছুই পাঠায়নি। অতএব তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
অর্থাৎ মানুষকে দীনহীনভাবে দুর্বল ভেড়া, দুম্বার ন্যায় আল্লাহ্র দরবারে উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ্ তাকে নিজের সমস্ত দানের কথা মনে করিয়ে বলবেন যে, আমি তো তোমাকে জীবন, ইন্দ্রিয় সুস্থতা ইত্যাদি দান করেছিলাম, ধন-সম্পদ চাকর-বাকর প্রভৃতি দিয়েছিলাম এবং নবী-রাসূলদের পাঠিয়ে, আসমানী কিতাবাদি নাযিল করে বড় অনুগ্রহ করেছিলাম। তুমি এ সবের বিনিময়ে কি করেছ? সে বলবে, হে প্রভু! আমি অনেক ধন-সম্পদ সংগ্রহ করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম এবং যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়েছিল তখন তা পূর্বের পরিমাণ থেকে অনেক বেশি রেখে মৃত্যুবরণ করেছি। আপনি আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠান, ঐ সমস্ত কিছু আপনার খেদমতে এনে হাজির করে দিব। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি এটা তো বল, তুমি এই জায়গার জন্য পূর্বে কি পাঠিয়েছো? কি সদকা খয়রাত এবং নেক কাজ করেছিলে? আখেরাতের জন্য কি উপার্জন করেছিলে? সে বলবে, হে প্রভু! আমি ধন-সম্পদ সংগ্রহ করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম এবং মৃত্যুর সময় তা পূর্বের চাইতে অনেক বেশি রেখে এসেছি। আপনি আমাকে আরেকবার দুনিয়ার পাঠান যাতে আমি ঐ সমস্ত মাল একত্রিত করে আপনার কাছে হাজির করতে পারি। এর দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, সে এমনই অকৃতকার্য মানুষ, যে পার্থিব ধন-সম্পদকে ভালো কাজের মধ্যে ব্যয় করেনি, সদকা খয়রাত কিছুই করেনি। আল্লাহ্ তা'আলার হুকুমের উপর আমল করেনি, তার আখেরাতের কোন ফিকির ছিল না, সে ছিল দুনিয়ার দাস, পেটের পূজারী এবং ধন-সম্পদের গোলাম এবং সে এসবের মধ্যে জড়িয়ে ছিল। আখেরাতকে গড়ার কোন চিন্তা ছিল না, অতএব তাকে দোযখের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এখনই সুযোগ, আল্লাহ্ যা কিছু আপনাকে দিয়েছেন, তা স্বল্প হোক বা বেশি হোক, তা আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য নেক কাজের মধ্যে ব্যয় করুন, দান খয়রাত করুন এবং আখেরাতের সওয়াব কামান। নিজেকে ঐ দিনের লজ্জা, হতাশা, বদনামী থেকে রক্ষা করুন। জান্নাতের হকদার হয়ে যান। আল্লাহ্র সন্তুষ্টি এবং চিরকালীন আনন্দ খুশি এবং শান্তি ও নিয়ামতসমূহ লাভ করুন।