📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 বাসস্থান ও অট্টালিকা

📄 বাসস্থান ও অট্টালিকা


হযরত খাব্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে রেওয়ায়েত করেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ যা কিছু ব্যয় করে, সে তার জন্য সাওয়াব পায়, ঐ অর্থ ব্যতীত যা সে এই মাটির (ঘরের) মধ্যে খরচ করে থাকে।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত অট্টালিকাকে মাটির সঙ্গে তুলনা করে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, টাকা-পয়সাকে মাটি, ইট, কাঁদা ইত্যাদির মধ্যে ব্যয় করে ধ্বংস করা ঠিক নয়। মাথা গোঁজার মত জায়গা পাওয়া গেলেই যথেষ্ট, ক্ষণিকের বিশ্রামের স্থান এবং স্টেশনের মধ্যে আর ঘরের কি প্রয়োজন? আল্লাহ্ তা'আলাই ভাল জানেন, কখন পরকালের সফর শুরু করতে হবে? কখন গাড়ী এসে যায়? অতএব এরকম করা বোকামি এবং এরকম ব্যয় করার জন্য হিসেব দিতে হবে এবং তার উপর আজর ও সাওয়াব হবে না, অধিকন্তু জবাবদিহী করতে হবে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 প্রয়োজসের অতিরিক্ত গৃহনির্মাণ

📄 প্রয়োজসের অতিরিক্ত গৃহনির্মাণ


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সকল রকম ব্যয় আল্লাহ্র রাস্তায় ব্যয় বলে পরিগণিত হয়, ঘর ও অট্টালিকার জন্য যা খরচ হয় তা ছাড়া, কেননা তার মধ্যে কোন কল্যাণ ও উপকার নেই।

মানুষ যা কিছু ব্যয় করে সেগুলোর ভিত্তিতে সে সাওয়াবের ভাগী হয়। আল্লাহ্ তা'আলার রেযামন্দী ও সন্তুষ্টি লাভ হয় অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অট্টালিকা ছাড়া, এজন্য যে, উহার মধ্যে ব্যয়, অপব্যয় ছাড়া আর কিছুই নেই, আল্লাহ্ তা'আলা অপচয়কারীদের ভালবাসেন না।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 অপছন্দনীয় দালান

📄 অপছন্দনীয় দালান


একদিন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গম্বুজ বিশিষ্ট একটা উঁচু পাকা দালান দেখতে পেয়ে সাথীদেরকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে, তা একজন আনসারী তৈরী করেছেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে চুপ করে গেলেন এবং কথাটা মনে রাখলেন। সেই সাহাবী হুযুরে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে সালাম করলেন, তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ফিরিয়ে নিলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ত খেয়াল করেননি মনে করে ঐ সাহাবী আবার সালাম করলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও উত্তর দিলেন না। লোকটি পেরেশান এবং ব্যতিব্যস্ত হয়ে উপস্থিত সাহাবীদেরকে কারণ জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সেই পাকা দালান দেখতে পেয়ে তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। সাহাবী তৎক্ষণাৎ বাড়ী গিয়ে দালানটা এমনভাবে ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন যে, উহার নাম নিশানাও বাকী রাখলেন না, অথচ পরে এসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর সংবাদও দিলেন না। ঘটনাক্রমে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পথে আবার কোথাও যাবার সময় ঐ দালানটা তথায় দেখতে না পেয়ে সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, দালানটা কেথায় গেল? সাহাবারা বললেন, সেই দিন ইহার প্রতি হুযূরের অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করে আনসারী উহাকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। প্রিয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে ইরশাদ ফরমালেনঃ প্রত্যেক পাকা ইমারতই মানুষের জন্য বিপদস্বরূপ হবে, অবশ্য তা যদি ভীষণ প্রয়োজনের খাতিরে হয় তবে সেটা ভিন্ন কথা। নিজেদের কার্যকলাপে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা সামান্যটুকুও মলিন হবে ইহা তাদের সহ্যেরও বাইরে ছিল। আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও তার হাবীবের আনন্দ লাভের জন্য তা ধ্বংস করে দিয়েছেন। এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল, প্রয়োজন মত ঘর নির্মাণ করা ঠিক আছে, কিন্তু সুনাম, প্রশংসা ও জাঁকজমকের জন্য এরূপ করা নিষেধ। অবশ্য মসজিদ-মাদ্রাসা ইত্যাদি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান বানানো যায়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 কি পরিমাণ ধন-সম্পদ সংগ্রহ করা যায়?

📄 কি পরিমাণ ধন-সম্পদ সংগ্রহ করা যায়?


হযরত আবূ হাসেম বিন উতবা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অসীয়ত করেছেন যে, তোমাদের জন্য মাল সংগ্রহের মধ্যে একটি খাদেম এবং আল্লাহ্র রাস্তার জন্য একটি যানবাহন যথেষ্ট।

দুনিয়ার প্রয়োজন কখনো শেষ হয় না। ইচ্ছার কোন শেষ নেই, এজন্য মানুষকে দুনিয়ার পিছনে পড়া অপেক্ষা, যতটুকু প্রয়োজন তার উপরই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। যাতে করে আখেরাতের হিসাব-কিতাব সহজ হয়ে যায়। যত বেশি মাল হবে, জমিদারী হবে, গাড়ী বাড়ী হবে, হিসাবও তত দীর্ঘ হবে। দরিদ্র লোকেরা হিসাব-কিতাব থেকে সহজেই অবসর পেয়ে যাবে, কিন্তু মালদার হিসাব-কিতাব এর মধ্যে জড়িয়ে থাকবে। এজন্য যে, মানুষের নিকট প্রয়োজন মিটানোর মত একটা খাদেম হয়, আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ ও দ্বীন শিখার জন্য, হজ্বের সফর ইত্যাদি দ্বীনী কাজের জন্য একটা সওয়ারী যদি হয়, তাহলে এটাই অনেক যথেষ্ট, প্রয়োজন অনুপাতে জিনিসপত্র রাখতে হবে। অল্পের মধ্যে প্রয়োজন মিটাতে হবে এবং শুধু ঐটুকুকেই যথেষ্ট মনে করতে হবে, যা আখেরাতের পুঁজি হতে পারে। যেরূপ দুনিয়ার সফরে একজন মুসাফির নিতান্ত কম ও নিতান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীকেই যথেষ্ট মনে করে এবং সফরে সাদাসিধে থাকতে চেষ্টা করে, এমনিভাবে এই সরাইখানায় অবস্থানকারী এবং নশ্বর, ধ্বংসশীল দুনিয়ার সফরে আগমনকারীকেও শুধু প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী সাথে রাখতে হবে। দুনিয়াকে উদ্দেশ্য সাধনের জায়গা মনে করে, এর সঙ্গে মন লাগানো বা মনোযোগী হওয়া উচিত নয়। এটাকে স্থায়ী ঠিকানা মনে করে একে তৈরী করার চেষ্টা করা ঠিক নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px