📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ভাগ-বন্টনের দাবী

📄 ভাগ-বন্টনের দাবী


হযরত ফুযায়েল ইবনে আয়ায (রহঃ) বলেন, সমস্ত খারাবী ও মন্দকে একটি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার চাবি বানানো হয়েছে দুনিয়ার মহব্বতকে, আর সমস্ত ভাল ও নেককে একটি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর চাবি বানানো হয়েছে দুনিয়া থেকে অনাকর্ষণ। অতএব আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো, ঐ সমস্ত কাজ কর যা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের কারণ হয়। আর ঐ সমস্ত কাজ থেকে বেঁচে থাক যা দুনিয়া ও আখেরাতের ধ্বংসের কারণ হয়।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে দ্বীনের উপর চলার ও তাঁর ইচ্ছা মত জীবন কাটানোর তাওফীক দান করুন। আমীন!

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 মূল্যহীন এই দুনিয়া

📄 মূল্যহীন এই দুনিয়া


হযরত সাহল বিন সাদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি দুনিয়া আল্লাহ্ তা'আলার নিকট মশার ডানার সমপরিমাণও হত, তবে আল্লাহ্ তা'আলা কাফেরদেরকে এক চুমুক পানিও পান করার সুযোগ দিতেন না।

উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া যদি বিন্দু পরিমাণও মূল্যবান হত, তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা কোন কাফেরকে এক চুমুক পানিও পান করার সুযোগ দিতেন না। তাদেরকে দুনিয়া থেকে কোন ফায়দা নিতে দিতেন না, এজন্য যে, কাফের আল্লাহ্ তা'আলার দুশমন। আর দুশমনকে কিছুই দেওয়া হয় না। এই দুনিয়া ঘৃণিত জিনিস। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা নেক বান্দাদেরকে দুনিয়া দেন না। বর্ণিত আছে, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ মুমিন বান্দাদেরকে দুনিয়া থেকে এমনভাবে বাঁচিয়ে রাখেন, যেমনভাবে তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের (মৃগী) রোগীকে পানি থেকে বাঁচিয়ে থাকে। আরও বলেছেন, আমি যার থেকে দুনিয়া সরিয়ে দেই তা তার জন্য ভালই হয়। দুনিয়া ঘৃণ্য বস্তু তার চিহ্ন এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়াতে কাফের, ফাসেক, ফাজেরদেরকে অনেক বেশি উপহার দেন। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন-

وَلَوْ لا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ (زخرف ৩৩)

"যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে দিতাম, তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যার উপর তারা আরোহণ করত।” (সূরা যুখরুফ: ৩৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, তুমি কি এটা চাওনা যে, এই কাফেরদের জন্য দুনিয়া হয়ে যাক। আর আমাদের জন্য আখেরাতে হয়ে যাক।

وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلأَبْرَارِ (ال عمران ১৯৮)

“আর যা কিছু আল্লাহ্র নিকট রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের জন্য একান্তই উত্তম।”

وَرِزْقُ রব্বিকা খয়রুন ওয়া আবক্ব (طه ১৩১)

“আপনার পালনকর্তার দেওয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।”

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 সম্পত্তি ও জমিদারী

📄 সম্পত্তি ও জমিদারী


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সম্পত্তি বানিও না, অন্যথায় দুনিয়াদারীতে ব্যস্ত হয়ে যাবে।

উদ্দেশ্য এই যে, কারবার, ব্যবসা, জমিদারী, ক্ষেত-খামার ইত্যাদিতে এরূপ ব্যস্ত হওয়া ঠিক নয়, যা দোজাহানের বাদশাহর ইবাদতকেই ভুলিয়ে দেয় এবং যেরূপভাবে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ঠিক সেরূপভাবে প্রস্তুতি না নেওয়া হয়। দুনিয়াদারীতে এরূপ ব্যস্ত হয়ো না যে যিকিরকেই ভুলে যাও। কুরআন শরীফে আছে- রূজালুন লা তুলহীহিম তিজারাতুন ওয়ালা বায়উ আন যিকরিল্লাহ (النور ৩৮)

“এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে বিরত রাখে না।”

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 দুনিয়ার ভালবাসা

📄 দুনিয়ার ভালবাসা


হযরত আবু মুসা রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবেসেছে, সে নিজের আখেরাতের ক্ষতি করল এবং যে ব্যক্তি আখেরাতকে ভালবাসল, সে নিজের দুনিয়াকে আঘাত ও নষ্ট করল। অতএব তোমরা ধ্বংসশীল জিনিসের উপর চিরস্থায়ী জিনিসকে পছন্দ কর।

অর্থাৎ দুনিয়াকে এত ভালবাসতে নেই যে, সে ভালবাসা আল্লাহ্ তা'আলার ভালবাসার উপর প্রবল হয়ে যায়। যদি তদ্রুপ হয় তবে তোমরা দুনিয়ার ব্যস্ততার কারণে আখেরাতের কাজের জন্য আর অবসর হতে পারবে না, আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য সময় পাবে না। এটা আখেরাতের জন্যে ধ্বংসকারী। আর যে ব্যক্তি আখেরাতকে বানানোর চিন্তায় ব্যস্ত হবে, তার আর দুনিয়া বানানোর চিন্তা আসবে না। দুনিয়ার জন্য সে সুযোগও পাবে না। আর এ কথাও পরিষ্কার যে, এতে তার দুনিয়ার ব্যাপারে ক্ষতি হবে। অতএব তোমাদের যখন এটা জানা হয়ে গেল যে, দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যে একটি অন্যটির বিপরীত এবং এক সাথে দু'টির সমন্বয়ও করতে পারবে না, সুতরাং আখেরাতই বানানোর ফিকির কর। দুনিয়া তো সাময়িক ও অস্থায়ী বস্তু, অতএব দুনিয়ার দিকে মনকে লাগিয়ে রাখা কেন? দুনিয়া বানানোর জন্য তবে কেন এত ব্যস্ততা? এই জন্য হাদীসে উল্লেখ আছেঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে বেশি ক্ষুধার্ত থাকবে সে আখেরাতে বেশি তৃপ্ত হবে এবং দুনিয়াতে বেশি পোষাক পরিধানকারী কেয়ামতে উলঙ্গ হবে।

কুরআন পাকে আল্লাহ্ বলেনঃ خَافِضَةٌ রফিয়াহ (واقعه ৩) অর্থঃ “এটা নীচু করে দেবে (এবং) সমুন্নত করে দেবে।”

অতএব দুনিয়াকে ত্যাগ কর ও আখেরাতকে ধর। তাকে তৈরী করার চেষ্টা কর। ঈমাম গাজ্জালী (রহঃ) বলেন, যথেষ্ট পরিমাণ ইলম, যথেষ্ট পরিমাণ ঈমান তার থেকেও অধিক যথেষ্ট পরিমাণ জ্ঞান এই যে, মানুষ জানে যে, দুনিয়া ধ্বংসশীল, আখেরাত চিরস্থায়ী, যার ফল এটা হওয়া উচিত ছিল যে, মানুষ ধ্বংসশীল বস্তুকে ত্যাগ করে, চিরস্থায়ী বস্তুকে ধরবে এবং আখেরাতের দিকে মনোযোগী হবে। দুনিয়া থেকে পরাম্মুখতার চিহ্ন এই যে, মানুষ মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় আসার পূর্বেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিবে।

আল্লামা তিবী (রহঃ) বলেন, এ দুটি যেন তুলাদণ্ডের দুই দাড়ির পাল্লা, যখন একটা নীচু হবে তখন অন্যটি স্বাভাবিকভাবে উপরে উঠে যাবে। দুনিয়ার ভালবাসা, দুনিয়াতে ব্যস্ত ও লিপ্ত হওয়ার কারণ, যা আখেরাত থেকে অমনোযোগী করে দেয়, যার কারণে যিকির ও ফিকিরের তাওফীক হয় না এবং আখেরাতের আজর ও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়, যেটা অনেক বড় ক্ষতি। এ ছাড়াও দুনিয়াবী ধন-সম্পদ জমা করার জন্য এবং এটাকে নিরাপদ রাখার জন্য যত কিছু করা হয়, তার কষ্ট মুসীবত, দুশমনের দুশমনি ইত্যাদি তো রয়েছেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px