📄 মাল-দৌলত অপহরণ
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সকাল অতিবাহিত করলো এই অবস্থায় যে, সে দুর্বল আর তার সম্পদ তার নিকট আল্লাহ্ পাকের পক্ষ থেকে আমানত। দুর্বলের স্থায়ীত্ব নেই, আর আমানতের জিনিসও ফিরিয়ে দিতে হয়।
📄 ভাগ-বন্টনের দাবী
হযরত ফুযায়েল ইবনে আয়ায (রহঃ) বলেন, সমস্ত খারাবী ও মন্দকে একটি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার চাবি বানানো হয়েছে দুনিয়ার মহব্বতকে, আর সমস্ত ভাল ও নেককে একটি ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর চাবি বানানো হয়েছে দুনিয়া থেকে অনাকর্ষণ। অতএব আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো, ঐ সমস্ত কাজ কর যা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের কারণ হয়। আর ঐ সমস্ত কাজ থেকে বেঁচে থাক যা দুনিয়া ও আখেরাতের ধ্বংসের কারণ হয়।
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে দ্বীনের উপর চলার ও তাঁর ইচ্ছা মত জীবন কাটানোর তাওফীক দান করুন। আমীন!
📄 মূল্যহীন এই দুনিয়া
হযরত সাহল বিন সাদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি দুনিয়া আল্লাহ্ তা'আলার নিকট মশার ডানার সমপরিমাণও হত, তবে আল্লাহ্ তা'আলা কাফেরদেরকে এক চুমুক পানিও পান করার সুযোগ দিতেন না।
উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া যদি বিন্দু পরিমাণও মূল্যবান হত, তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা কোন কাফেরকে এক চুমুক পানিও পান করার সুযোগ দিতেন না। তাদেরকে দুনিয়া থেকে কোন ফায়দা নিতে দিতেন না, এজন্য যে, কাফের আল্লাহ্ তা'আলার দুশমন। আর দুশমনকে কিছুই দেওয়া হয় না। এই দুনিয়া ঘৃণিত জিনিস। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা নেক বান্দাদেরকে দুনিয়া দেন না। বর্ণিত আছে, আল্লাহ্ তা'আলা নিজ মুমিন বান্দাদেরকে দুনিয়া থেকে এমনভাবে বাঁচিয়ে রাখেন, যেমনভাবে তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের (মৃগী) রোগীকে পানি থেকে বাঁচিয়ে থাকে। আরও বলেছেন, আমি যার থেকে দুনিয়া সরিয়ে দেই তা তার জন্য ভালই হয়। দুনিয়া ঘৃণ্য বস্তু তার চিহ্ন এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা দুনিয়াতে কাফের, ফাসেক, ফাজেরদেরকে অনেক বেশি উপহার দেন। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَلَوْ لا أَنْ يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً لَجَعَلْنَا لِمَنْ يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِنْ فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ (زخرف ৩৩)
"যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহকে অস্বীকার করে, আমি তাদেরকে দিতাম, তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি যার উপর তারা আরোহণ করত।” (সূরা যুখরুফ: ৩৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, তুমি কি এটা চাওনা যে, এই কাফেরদের জন্য দুনিয়া হয়ে যাক। আর আমাদের জন্য আখেরাতে হয়ে যাক।
وَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لِلأَبْرَارِ (ال عمران ১৯৮)
“আর যা কিছু আল্লাহ্র নিকট রয়েছে তা সৎকর্মশীলদের জন্য একান্তই উত্তম।”
وَرِزْقُ রব্বিকা খয়রুন ওয়া আবক্ব (طه ১৩১)
“আপনার পালনকর্তার দেওয়া রিযিক উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।”
📄 সম্পত্তি ও জমিদারী
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সম্পত্তি বানিও না, অন্যথায় দুনিয়াদারীতে ব্যস্ত হয়ে যাবে।
উদ্দেশ্য এই যে, কারবার, ব্যবসা, জমিদারী, ক্ষেত-খামার ইত্যাদিতে এরূপ ব্যস্ত হওয়া ঠিক নয়, যা দোজাহানের বাদশাহর ইবাদতকেই ভুলিয়ে দেয় এবং যেরূপভাবে আখেরাতের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ঠিক সেরূপভাবে প্রস্তুতি না নেওয়া হয়। দুনিয়াদারীতে এরূপ ব্যস্ত হয়ো না যে যিকিরকেই ভুলে যাও। কুরআন শরীফে আছে- রূজালুন লা তুলহীহিম তিজারাতুন ওয়ালা বায়উ আন যিকরিল্লাহ (النور ৩৮)
“এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহ্র স্মরণ থেকে বিরত রাখে না।”