📄 দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা
দুনিয়া খুব ঘৃণিত ও অপমানিত বস্তু। আল্লাহর নিকট এর অবস্থা মশার পাখার সমতুল্যও না। অন্যথায় কাফেরদেরকে এক গ্লাস পানিও পান করতে দেওয়া হত না। অতএব দুনিয়া পেয়ে যাওয়া সফলতার চিহ্নও নয়, আর আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রিয় হওয়ার চিহ্নও নয়। দুনিয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য জেলখানা স্বরূপ। ফকীহ আবুল লাইছ (রহঃ) লিখেন, এর অর্থ হল এই যে, মুমিন, চাই দুনিয়াতে স্বাচ্ছন্দ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকুক না কেন, তবুও সে ঐ সমস্ত নিয়ামতের সাথে আখেরাতের নিয়ামতের মোকাবেলায় এ রকম, যে রকম নাকি সে জেলখানায় বন্দী। এজন্য যে, মুমিনের যখন মৃত্যু আসে, তখন তাঁর সামনে জান্নাতকে তুলে ধরা হয়, সে যখন ঐ ইজ্জত ও সম্মান দেখে যা আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য তৈরী করে রেখেছেন, তখন সে বিশ্বাস করে নেয় যে, সে দুনিয়াতে জেলখানায় ছিল এবং কাফেরদের যখন মৃত্যু আসে তখন তাদের সামনে দোযখের আগুন তুলে ধরা হয়। তখন সে ঐ শাস্তি ও আযাব দেখে বুঝে নেয় যে, সে দুনিয়াতে জান্নাতে ছিল। জ্ঞানীরা জেলখানায় কখনও খুশিতে থাকে না। আবার এখানে আরামও খোঁজে না কিংবা শান্তির সন্ধানও করে না। জ্ঞানীদের দুনিয়ার মূল অবস্থার উপর চিন্তা করতে হবে। দুনিয়ার অস্থায়ীত্ব ও অসারতা প্রকাশ করার জন্য যে উদাহরণগুলো দেওয়া হল তার উপর বিবেচনা করতে হবে। কারণ আল্লাহ্ স্বয়ং দুনিয়ার হাকীকত প্রকাশ করার জন্য উদাহরণসমূহ বয়ান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণ দিয়েছেন, জ্ঞানীগুণীদের থেকেও প্রচুর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের উপর আশ্চর্য হই, কেননা তোমরা দুনিয়ার জন্য মেহনত কর অথচ দুনিয়াতে কোন কষ্ট ও আমল ছাড়া তোমাদেরকে রিযিক দেওয়া হয়। আখেরাতের জন্য কোন চেষ্টা (মেহনত) কর না, অথচ আমল ছাড়া ঐ জায়গায় কিছুই পাওয়া যায় না।
📄 কেয়ামত দিবস ও দুনিয়া
হযরত ফুযায়েল ইবনে আয়ায (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আমাদের এ খবর জানা হয়ে গেছে যে, কেয়ামতের দিন দুনিয়াকে এ রকম অবস্থায় নিয়ে আসা হবে, সে নিজের জাঁকজমক ও সৌন্দর্যের মধ্যে আত্মহারা হয়ে বুক ফুলিয়ে চলবে, আর বলবে, হে আল্লাহ! আমাকে তুমি ভাল মানুষের ঘর বানিয়ে দাও। আল্লাহ বলবেন, এটা একেবারেই পছন্দনীয় নয় যে, তুমি তাদের ঘর হও। তুমি নশ্বর ও অসার জিনিস। তুমি هباء منثورا হয়ে যাও। অতএব সে (দুনিয়া) বিক্ষিপ্ত ধুলিতে আচ্ছন্ন হয়ে যাবে।
📄 ভয়ংকর রূপ ও আকৃতি
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কেয়ামতের দিন দুনিয়াকে নীল চক্ষুওয়ালী বিক্ষিপ্ত চুলধারী এ রকম বৃদ্ধা অবস্থায় নিয়ে আসা হবে, যার দাতগুলো মুখের বাইরে বের হয়ে থাকবে। সে খুব কুৎসিত বিকৃত রূপের হবে, যে তাকে দেখবে সে-ই ঘৃণা করবে। সে মানুষদেরকে উপর থেকে উঁকি দিয়ে দেখবে। সৃষ্টিকে বলা হবে, তোমরা একে চিন? তারা বলবে, আমরা তাকে চেনা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। ইরশাদ হবে, এটা সেই দুনিয়া যার জন্য তোমরা একে অপরের সাথে ঝগড়া-ফাসাদ করতে এবং যার উপর তোমরা গৌরব করতে। এক রেওয়ায়েতে আছে যে, তার জন্য হুকুম দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ফকীহ আবুল লাইছ বলেনঃ দুনিয়ার কোন আযাব হবে না। দুনিয়াবাসী দুনিয়াকে দেখবে তার অপমান, অসম্মান আর বেইজ্জতির অবস্থা প্রত্যক্ষ করবে। এটা ঠিক সেরূপ যেইরূপ মূর্তিগুলোকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে-
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ (الانبياء ৯৮)
অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমরা নিজেরা এবং তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত যা কিছুর উপাসনা করো সেই সকল জাহান্নামের ইন্ধন। তার মধ্যে তোমাদের সবাইকে প্রবেশ করতে হবে।
এর দ্বারা মূর্তিদেরকে শান্তি তো দেওয়া হবে না বরং তার উদ্দেশ্য হবে এই যে, সকল মূর্তিপূজারীদের আরও আফসোস ও কষ্ট দেওয়া এবং তারা আরও বেশী অস্থিরতা ও নৈরাশ্যে নিক্ষিপ্ত হবে। এমনিভাবে দুনিয়াকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যাতে দুনিয়াদারদের কষ্ট আরও বেশী হয়, অস্থিরতা ও নৈরাশ্যে নিক্ষিপ্ত হয়। অতএব মুমিনদের আখেরাত লাভের জন্য অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে।
📄 দুনিয়া কি?
হযরত ইবরাহীম বিন ইউসুফ (রহঃ), হযরত কিনানাহ (রহঃ) থেকে রেওয়ায়েত করেন যে, আমি হযরত আবু হাজেম (রহঃ) থেকে রেওয়ায়েত পেয়েছি যে, তিনি বলেছেনঃ আমি দুনিয়াকে দুটি জিনিসের দ্বারা সজ্জিত পেয়েছি, ১. তা থেকে আমার জন্য যা অন্য কেউ পেতে পারে না এবং ২. অন্যটা অপর জনের জন্য যা কখনো আমি পেতে পারি না।
যা আমার জন্য তা অন্য কেউ নিতে পারবে না এবং যা অন্যের জন্য তা আমি নিতে পারি না। অতএব ঐ সমস্ত জিনিসের মধ্যে আমি কার জন্য আমার জীবনকে শেষ করে দিচ্ছি? দুনিয়ার যে সমস্ত জিনিস আমি পেয়েছি তার দু'টি অংশ আছে। এক সে সমস্ত জিনিসের ঐ অংশ যা আমার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই শেষ হয়ে যাবে এবং আমি ঐ অংশের জন্য কিছুই করতে পারবো না এবং অন্যটা এই অংশ যার আগে আমি নিজেই শেষ হয়ে যাব এবং এ অংশ অন্য কারো জন্য ছেড়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেব? অতএব আমি কার স্বার্থে আল্লাহ্ তাআলার সাথে নাফরমানী করব?..