📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 কয়েকটি সংক্ষিপ্ত পরামর্শ

📄 কয়েকটি সংক্ষিপ্ত পরামর্শ


হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং আরয করলেন, আমাকে কিছু সংক্ষিপ্ত উপদেশ দান করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন নামাযের জন্য দাঁড়াও, তখন এমন নামায পড় যেমন এক ব্যক্তি তার শেষ নামায পড়ছে এবং এমন কথা বলবে না, যার কারণে কাল তোমাকে তার কৈফিয়ত দিতে হয়। আর মানুষের নিকট যা কিছু আছে, তার থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যাও।

দুনিয়ার মহব্বত ও দুনিয়ার জাঁকজমক মানুষকে ইবাদত থেকে গাফেল করে দেয়, যদি মানুষ এটা বুঝে নেয় যে, তাকে এখনই মরতে হবে এবং ক্ষণস্থায়ী ঘর থেকে বিদায় নিতে হবে, তবে তার নামায ও ইবাদত খুবই সজীব, প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী হবে। কে জানে, কখন মৃত্যু এসে যাবে? এজন্য যখন নামায পড়বে, তখন মনে করবে যে, এটাই তোমার শেষ নামায। এরপর আর নামাযের অবকাশ পাওয়া যাবে না। এই পদ্ধতিতে নামাযে অনেক খুশু-খুযু হবে অথবা এই যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য সকল জিনিস ত্যাগ করে আল্লাহ্ দিকে মনোযোগী হও এবং ইখলাসের সাথে নামায পড়, সকল দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নাও। যা কিছু করবে, তা বুঝে শুনে করবে।
প্রথমে চিন্তা করো, অতঃপর বলো। একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে-
অর্থাৎ যারা বেশি কথা বলে তাদের মুখ দিয়ে এমন সব কথা বের হয়ে যায়, যা নিন্দার কারণ এবং মাফ চাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কখনো বুদ্ধিমান লোকের রীতিনীতি হতে পারে না। সে জানে যে, প্রত্যেক কথার হিসাব-নিকাশ হবে, এজন্য সে অনর্থক ও অতিরিক্ত কথা বলে না। বুঝে শুনে সঠিক কথা বলে অথবা এমন কোন কথা বলে না যার দরুণ কেয়ামতের দিন শাস্তি হবে। সত্য কথা বলুন, অপবাদ দেওয়া, গীবত করা, চোগলখুরী (পরনিন্দা) করা এবং অনর্থক বিশ্রী ও অশ্লীল কথা বলা থেকে বেঁচে থাকুন, অল্পে পরিতুষ্ট হন। যথেষ্টের উপর সন্তুষ্ট থাকুন, আল্লাহ্ যা দান করেছেন তার উপর সবর করুন।
"আমরা আল্লাহ্র বণ্টনে খুশী, আমাদের জন্য ইলম, জাহেলদের জন্য ধন-সম্পদ।"
“ধন-সম্পদ শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ইলম সর্বদা বাকী (স্থায়ী) থাকবে, কখনো শেষ হবে না।
মানুষের নিকট যে মাল আছে তা থেকে নিরুৎসাহিত হয়ে যাও, তাহলে তুমি ধনী হয়ে যাবে। মানুষের অর্থ-সম্পদের দিকে না তাকিয়ে তা থেকে নিরাশ হয়ে যাও। লোভ-লালসা ত্যাগ কর, সমস্ত রকম হয়রানী, মুসীবত ও চিন্তা থেকে রক্ষা পাবে এবং মানুষের মধ্যে সম্মানিত হবে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 জ্ঞানী ও বিচক্ষণের অর্জনের উপায়

📄 জ্ঞানী ও বিচক্ষণের অর্জনের উপায়


হযরত আবূ হুরায়রা ও আবূ খললাদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমরা এ রকম দেখ যে, কোন ব্যক্তি কম কথা বলে ও দুনিয়ার বাসনাবিহীন হয়, তখন তার নৈকট্য লাভ কর, এজন্য যে, তার থেকে জ্ঞান ও বিচক্ষণতার শিক্ষা পাওয়া যাবে। যদি কোন ব্যক্তি দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত হয়ে যায়, তার নিকট দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কোন মূল্য না থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ও অযথা কাজকাম থেকে এবং বলা থেকে বেঁচে চলে, তখন এটা তার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। অতএব এই সমস্ত মানুষের নৈকট্য লাভের চেষ্টা কর, আর এটাই হল বুদ্ধিমানের ও জ্ঞানীর মত কাজ এবং এদের দিলের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলা হেকমতের জ্ঞান পূর্ণ করে দেন। এ রকম মানুষের অনুসারীদের দুনিয়া ও আখেরাত ঠিক হয়ে যায়। নিজের মধ্যে এই সমস্ত গুণ আনার এবং তাদের ফয়েয লাভের জন্য এই সমস্ত মানুষের সাথে চলা, এজন্য যে,
"ভাল লোকের সংস্পর্শে ভাল হয়, আর খারাপ লোকের সংস্পর্শে খারাপ হয়।”

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 দুর্বিনীত

📄 দুর্বিনীত


মানুষের দুর্ভাগ্যতা এটাকেই বলা হয়, যার চোখে পানি আসে না, অন্তর শক্ত হয়ে যায়, দুনিয়ার মহব্বত তার অন্তরে ঢুকে যায় এবং বড় বড় বাসনা ও স্বপ্ন দেখে থাকে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা

📄 দুনিয়ার প্রকৃত অবস্থা


দুনিয়া খুব ঘৃণিত ও অপমানিত বস্তু। আল্লাহর নিকট এর অবস্থা মশার পাখার সমতুল্যও না। অন্যথায় কাফেরদেরকে এক গ্লাস পানিও পান করতে দেওয়া হত না। অতএব দুনিয়া পেয়ে যাওয়া সফলতার চিহ্নও নয়, আর আল্লাহ্ তাআলার নিকট প্রিয় হওয়ার চিহ্নও নয়। দুনিয়া মুমিন ব্যক্তির জন্য জেলখানা স্বরূপ। ফকীহ আবুল লাইছ (রহঃ) লিখেন, এর অর্থ হল এই যে, মুমিন, চাই দুনিয়াতে স্বাচ্ছন্দ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকুক না কেন, তবুও সে ঐ সমস্ত নিয়ামতের সাথে আখেরাতের নিয়ামতের মোকাবেলায় এ রকম, যে রকম নাকি সে জেলখানায় বন্দী। এজন্য যে, মুমিনের যখন মৃত্যু আসে, তখন তাঁর সামনে জান্নাতকে তুলে ধরা হয়, সে যখন ঐ ইজ্জত ও সম্মান দেখে যা আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য তৈরী করে রেখেছেন, তখন সে বিশ্বাস করে নেয় যে, সে দুনিয়াতে জেলখানায় ছিল এবং কাফেরদের যখন মৃত্যু আসে তখন তাদের সামনে দোযখের আগুন তুলে ধরা হয়। তখন সে ঐ শাস্তি ও আযাব দেখে বুঝে নেয় যে, সে দুনিয়াতে জান্নাতে ছিল। জ্ঞানীরা জেলখানায় কখনও খুশিতে থাকে না। আবার এখানে আরামও খোঁজে না কিংবা শান্তির সন্ধানও করে না। জ্ঞানীদের দুনিয়ার মূল অবস্থার উপর চিন্তা করতে হবে। দুনিয়ার অস্থায়ীত্ব ও অসারতা প্রকাশ করার জন্য যে উদাহরণগুলো দেওয়া হল তার উপর বিবেচনা করতে হবে। কারণ আল্লাহ্ স্বয়ং দুনিয়ার হাকীকত প্রকাশ করার জন্য উদাহরণসমূহ বয়ান করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদাহরণ দিয়েছেন, জ্ঞানীগুণীদের থেকেও প্রচুর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম (আঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের উপর আশ্চর্য হই, কেননা তোমরা দুনিয়ার জন্য মেহনত কর অথচ দুনিয়াতে কোন কষ্ট ও আমল ছাড়া তোমাদেরকে রিযিক দেওয়া হয়। আখেরাতের জন্য কোন চেষ্টা (মেহনত) কর না, অথচ আমল ছাড়া ঐ জায়গায় কিছুই পাওয়া যায় না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px