📄 অভিশপ্ত দুনিয়া
হযরত আবূ হুরায়রা সাল্লাল্লাহু রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শুনে রাখ, দুনিয়া অভিশপ্ত এবং প্রত্যেক সেই সমস্ত জিনিস অভিশপ্ত যা কিছু দুনিয়াতে আছে। একমাত্র আল্লাহ্র উৎকৃষ্ট যিকির এবং সেই সমস্ত নেক আমল যা আল্লাহ্ নিকট প্রিয় এবং (দ্বীনী) আলেম অথবা (দ্বীনী) ছাত্র।
দুনিয়া অভিশপ্ত এজন্য যে, এটা আল্লাহ্ থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং উপস্থিত যা কিছু দুনিয়াতে আছে তা আল্লাহ্ তা'আলার যিকির থেকে অমনোযোগী করে দেয় এবং আল্লাহ্র রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ব্যতিক্রম শুধু আল্লাহ্র যিকির এবং সেই সমস্ত নেক আমল, যা আল্লাহ্র অতি প্রিয়। এমনিভাবে দ্বীনী আলেম ও ছাত্ররাও আল্লাহ্ তা'আলার রহমত থেকে দূরে হবেন না। তারা আল্লাহ্র যিকিরে নিজেও ব্যস্ত থাকেন এবং অপরকে ব্যস্ত রাখেন। গোনাহ থেকে বেঁচে থাকেন এবং গোনাহের কাজে অন্যকেও বাধা প্রদান করুন। হযরত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ্ দুনিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এক অংশ মুমিনদের জন্য, এক অংশ কাফেরদের জন্য, এক অংশ মুনাফিকদের জন্য। মুমিন নিজের অংশকে আখেরাতের সম্পদ বানায় এবং মুনাফিক তার অংশ দিয়ে দুনিয়ার সৌন্দর্য লাভ করে এবং কাফের তার অংশ দিয়ে দুনিয়াতে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে। পরিশেষে আলেম ও ছাত্রদের উল্লেখ করতঃ তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ করলেন, যাতে এ কথা বলে দেওয়া যায় যে, আলেম ও ছাত্রদের ছাড়া অন্যসব কিছু বেকার এবং এটাও পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আলেম ও ছাত্রের দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ সকল আল্লাহভীরু (মুখলেস) আলেম যারা ইলম ও আমল দুটিই হাসেল করেছে। জাহেল এবং ঐ সকল লোক উদ্দেশ্য নয় যারা দুনিয়াবী শিক্ষা শিখে অথবা এ রকম শিক্ষা হাসেল করে যা দ্বীনের সাথে কোন সম্পর্ক রাখে না। হাদীস শরীফে আছে, আল্লাহ্র যিক্র খায়ের, সমস্ত ইবাদতের মূল এবং সমস্ত সুখের ভিত্তি, অধিকন্তু ওটা এ রকম, যেমন- শরীরের জন্য আত্মা এবং মানুষের জন্য প্রাণ। মানুষের জন্য জীবন কি কখনো অপ্রয়োজনীয় হতে পারে এবং আত্মা থেকে দেহ কি দূরে থাকার কোন জায়গা আছে?
📄 কয়েকটি সংক্ষিপ্ত পরামর্শ
হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং আরয করলেন, আমাকে কিছু সংক্ষিপ্ত উপদেশ দান করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন নামাযের জন্য দাঁড়াও, তখন এমন নামায পড় যেমন এক ব্যক্তি তার শেষ নামায পড়ছে এবং এমন কথা বলবে না, যার কারণে কাল তোমাকে তার কৈফিয়ত দিতে হয়। আর মানুষের নিকট যা কিছু আছে, তার থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যাও।
দুনিয়ার মহব্বত ও দুনিয়ার জাঁকজমক মানুষকে ইবাদত থেকে গাফেল করে দেয়, যদি মানুষ এটা বুঝে নেয় যে, তাকে এখনই মরতে হবে এবং ক্ষণস্থায়ী ঘর থেকে বিদায় নিতে হবে, তবে তার নামায ও ইবাদত খুবই সজীব, প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী হবে। কে জানে, কখন মৃত্যু এসে যাবে? এজন্য যখন নামায পড়বে, তখন মনে করবে যে, এটাই তোমার শেষ নামায। এরপর আর নামাযের অবকাশ পাওয়া যাবে না। এই পদ্ধতিতে নামাযে অনেক খুশু-খুযু হবে অথবা এই যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য সকল জিনিস ত্যাগ করে আল্লাহ্ দিকে মনোযোগী হও এবং ইখলাসের সাথে নামায পড়, সকল দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নাও। যা কিছু করবে, তা বুঝে শুনে করবে।
প্রথমে চিন্তা করো, অতঃপর বলো। একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে-
অর্থাৎ যারা বেশি কথা বলে তাদের মুখ দিয়ে এমন সব কথা বের হয়ে যায়, যা নিন্দার কারণ এবং মাফ চাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কখনো বুদ্ধিমান লোকের রীতিনীতি হতে পারে না। সে জানে যে, প্রত্যেক কথার হিসাব-নিকাশ হবে, এজন্য সে অনর্থক ও অতিরিক্ত কথা বলে না। বুঝে শুনে সঠিক কথা বলে অথবা এমন কোন কথা বলে না যার দরুণ কেয়ামতের দিন শাস্তি হবে। সত্য কথা বলুন, অপবাদ দেওয়া, গীবত করা, চোগলখুরী (পরনিন্দা) করা এবং অনর্থক বিশ্রী ও অশ্লীল কথা বলা থেকে বেঁচে থাকুন, অল্পে পরিতুষ্ট হন। যথেষ্টের উপর সন্তুষ্ট থাকুন, আল্লাহ্ যা দান করেছেন তার উপর সবর করুন।
"আমরা আল্লাহ্র বণ্টনে খুশী, আমাদের জন্য ইলম, জাহেলদের জন্য ধন-সম্পদ।"
“ধন-সম্পদ শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ইলম সর্বদা বাকী (স্থায়ী) থাকবে, কখনো শেষ হবে না।
মানুষের নিকট যে মাল আছে তা থেকে নিরুৎসাহিত হয়ে যাও, তাহলে তুমি ধনী হয়ে যাবে। মানুষের অর্থ-সম্পদের দিকে না তাকিয়ে তা থেকে নিরাশ হয়ে যাও। লোভ-লালসা ত্যাগ কর, সমস্ত রকম হয়রানী, মুসীবত ও চিন্তা থেকে রক্ষা পাবে এবং মানুষের মধ্যে সম্মানিত হবে।
📄 জ্ঞানী ও বিচক্ষণের অর্জনের উপায়
হযরত আবূ হুরায়রা ও আবূ খললাদ রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমরা এ রকম দেখ যে, কোন ব্যক্তি কম কথা বলে ও দুনিয়ার বাসনাবিহীন হয়, তখন তার নৈকট্য লাভ কর, এজন্য যে, তার থেকে জ্ঞান ও বিচক্ষণতার শিক্ষা পাওয়া যাবে। যদি কোন ব্যক্তি দুনিয়া থেকে নির্লিপ্ত হয়ে যায়, তার নিকট দুনিয়ার আরাম-আয়েশের কোন মূল্য না থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ও অযথা কাজকাম থেকে এবং বলা থেকে বেঁচে চলে, তখন এটা তার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। অতএব এই সমস্ত মানুষের নৈকট্য লাভের চেষ্টা কর, আর এটাই হল বুদ্ধিমানের ও জ্ঞানীর মত কাজ এবং এদের দিলের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলা হেকমতের জ্ঞান পূর্ণ করে দেন। এ রকম মানুষের অনুসারীদের দুনিয়া ও আখেরাত ঠিক হয়ে যায়। নিজের মধ্যে এই সমস্ত গুণ আনার এবং তাদের ফয়েয লাভের জন্য এই সমস্ত মানুষের সাথে চলা, এজন্য যে,
"ভাল লোকের সংস্পর্শে ভাল হয়, আর খারাপ লোকের সংস্পর্শে খারাপ হয়।”
📄 দুর্বিনীত
মানুষের দুর্ভাগ্যতা এটাকেই বলা হয়, যার চোখে পানি আসে না, অন্তর শক্ত হয়ে যায়, দুনিয়ার মহব্বত তার অন্তরে ঢুকে যায় এবং বড় বড় বাসনা ও স্বপ্ন দেখে থাকে।