📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 পাঁচটি উপদেশ

📄 পাঁচটি উপদেশ


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন ব্যক্তি আমার এ কথাগুলো নিয়ে নিজে আমল করবে? অথবা এমন লোকদের বলবে, যারা তার উপর আমল করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি করব। অতঃপর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে পাঁচটি বস্তু গণনা করিয়ে বললেন,
এক. হারাম থেকে বেঁচে থাকবে, দেখবে তুমি লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা আবেদ হয়ে যাবে।
দুই. আল্লাহ্ তোমার জন্য যা ফায়সালা ও মীমাংসা করে দিয়েছেন তার উপর সন্তুষ্ট (খুশি) থাক, দেখবে তুমি সর্বাপেক্ষা বড় ধনী হয়ে যাবে।
তিন. নিজের প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর, দেখবে তুমি পরিপূর্ণ মুমিন হয়ে যাবে।
চার. মানুষের জন্য ঐ সমস্ত জিনিস পছন্দ কর যা নিজের জন্য পছন্দ কর, ফলে তুমি পরিপূর্ণ মুসলমান হয়ে যাবে এবং
পাঁচ. বেশি হাসি হেসোনা, এজন্য যে, বেশি হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।

এই পাঁচটি উপদেশ ও অসীয়ত স্বর্ণাক্ষরে লেখার যোগ্য। এতে যেন সাগরের পানিকে একটি কলসিতে ভরে দেওয়া হল। প্রথম উপদেশ এই করলেন যে, আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে হারামকৃত জিনিসগুলো থেকে বেঁচে থাকতে হবে। যে সকল জিনিস নিষেধ করা হয়েছে, সে সব জিনিস থেকে দূরে থাকা, আর যে সব জিনিসের জন্য আদেশ করা হয়েছে সেগুলো করা। যেভাবে নিষেধকৃত জিনিসগুলো করা নিষিদ্ধ, ঠিক তেমনিভাবে আদেশকৃত জিনিসগুলো না করাও নিষিদ্ধ এবং শক্ত গোনাহ। অতএব যদি কেউ এরূপ যথাযথভাবে কাজ করল, তবে সে অতি বড় আবেদ বলে আখ্যায়িত হবে। কেননা সর্বাপেক্ষা বড় ইবাদত এটাই যে, মানুষ যেন ফরযসমূহ (আবশ্যকীয় কার্যসমূহ) সঠিকভাবে আদায় করে। মানুষ সাধারণত: ফরযসমূহের তুলনায় নাওয়াফিলের (নফলের) জন্য বেশি যত্নবান থাকে। ফরয কাজসমূহে শিথিল এবং নফল ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে। মানুষের হকসমূহ আদায় করে না, যাকাত দেয় না; কিন্তু গরীব মিসকীনদের সে খানা খাওয়ায়। মানুষের হক নষ্ট করে, তাদের অর্জিত অর্থ খেয়ে ফেলে, আমানতের অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকে, মানুষের সম্পূর্ণ পাওনা দেয় না, কিন্তু মসজিদে ও মাদ্রাসায় প্রচুর টাকা পয়সা দান করে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকুন। মানুষের মধ্যে বড় মালদার হয়ে যাবেন। আসল কথা হলো, আপনি ততটুকুই পাবেন যতটুকু আল্লাহ্ তা'আলা আপনার তকদিরে লিখে রেখেছেন। যদি তার উপর সন্তুষ্ট না হন, তবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতেই থাকবেন, জায়েয নাজায়েয পন্থা অবলম্বন করবেন, দারিদ্রতা ও লোভ আরো বৃদ্ধি পাবে; কিন্তু ফল কিছুই পাবেন না। অন্তর ধনী থাকলে মানুষও ধনী, অন্তর লোভী হলে মানুষ যতই টাকা-পয়সার মালিক হোক না কেন তার আশা-আকাঙ্ক্ষা অপূরণ রয়েই যাবে। তার লোভ-লালসা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা কখনো শেষ হবে না।

পরিপূর্ণ মুমিন ব্যক্তি নিজের পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করে। অন্যেরা তার প্রতি যেরূপ ব্যবহারই করুক না কেন; কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার ভয় থাকায় সে খারাপ ব্যবহারের প্রতিউত্তর ভাল ব্যবহার দ্বারাই দিয়ে থাকে। নিজের বদ স্বভাব ও খারাবী থেকে নিজের পাড়া পড়শীদের নিরাপদে রাখে। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, “তোমাদের কেউ ঐ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মোমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার পাড়া প্রতিবেশী তার অন্যায় ও বিপদ থেকে নিরাপদ ও রক্ষা পায়।” তোমাদের নিজেদের জন্য যেরূপ ভালটা পছন্দ কর, ঠিক সেরূপ নিজের মুসলমান ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করবে। এটা তোমাদের মুসলমান হওয়ার চিহ্ন। কাফেরদেরকে মুসলমান বানানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং ফাজের ও ফাসেক দুশ্চরিত্র ও গোনাহগারদেরকে সত্যবাদী নেক্কার ও সংযমী বানানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। যেরূপ তুমি চাও যে, দুনিয়া ও আখেরাতের সব রকমের বিপদাপদ হতে নিরাপদ থাক, ঠিক ঐরূপ নিজের মুসলমান ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ কর। বেশি হাসা অমনোযোগীর লক্ষণ। অতিরিক্ত হাসার কারণে অন্তর মরে যেতে থাকে। যদি নিজের বদ আমল, অসতর্কতা এবং ভুল ত্রুটির উপর দৃষ্টি দেওয়া যায়, তাহলে এর জন্য যে আল্লাহ্ তা'আলা ধর-পাকড় করছেন না, আমাদের অবাধ্যতার কারণে আযাবে শিথিলতা এবং আল্লাহ্ তা'আলার ক্ষমার উপর চিন্তা করা যায়। তবে মানুষ লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারবে না, কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলে যাবে এই ভেবে যে, তিনি এ রকম মহান উদারচেতা, প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক, আর আমি এমন নালায়েক তার এতবড় উপকারের কৃতজ্ঞতা কিভাবে আদায় করতেছি? আমার মত এতবড় গোনাহগার ও পাপীর পক্ষে হাসা কিভাবে শোভা পায়?

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 মালদার (ধনী) হওয়ার রহস্য

📄 মালদার (ধনী) হওয়ার রহস্য


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ বলেন, হে বনী আদম! তুমি আমার ইবাদতের জন্য অবসর হয়ে যাও, ফলে তোমার দিলকে মালদার (ধনী) করব এবং স্বচ্ছলতায় ভরে দিব এবং তোমার দারিদ্রতা দূর করে দেব। আর যদি এরূপ না কর তবে আমি তোমার হাতগুলোকে অনর্থক কাজে জড়িত করে দেব এবং তোমার দারিদ্রতাও দূর করব না।

মানুষ যদি নিজেকে আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য উৎসর্গ করে দেয়, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তার হৃদয়কে আকুল বুদ্ধি দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন। যা তাকে অন্যদের থেকে স্বাধীন ও বেপরোয়া করে দেয়। কিন্তু মানুষ যদি দুনিয়ার বাসনা ত্যাগ না করে এবং আল্লাহ্র ইবাদতে মগ্ন না হয় তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে অকেজো করে দিবেন এবং তার দারিদ্রতা ও ক্ষুধা দূর করবেন না। মানুষ শুধু শুধু অনর্থক বেহুদা ধন-সম্পদের লালসায় মত্ত হয় এবং দ্বারে দ্বারে ফিরে বেড়ায়, কিন্তু সে ততটুকুই পাবে, যা তার তকদীরে আল্লাহ্ তা'আলা লিখে রেখেছেন। অতএব বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী তো সে-ই, যে অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বেঁচে থাকে, দুনিয়ার জন্য উন্মুখ না হয় বরং নিজেকে প্রকৃত কাজে ব্যবহার করে, যা আল্লাহ্র ইবাদত।
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلا لِيَعْبُدُونَ (الذاريات ৫৬) “আমি জ্বিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সূরা যারিয়াত: ৫৬)

হাদীস শরীফে আছে- যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতে একাগ্রচিত্ত হয়ে যায়, আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রত্যেক জটিল কাজ (সমাধানের জন্য) যথেষ্ট হবেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দিবেন যেখান থেকে রিযিক পাওয়ার ধারণাও তার হয় না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে এবং দুনিয়ার ফাঁদে পড়বে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দুনিয়ার হাতে সমর্পণ করে দিবেন।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 তাকওয়া পরহেযগারী বিরাট নেয়ামত

📄 তাকওয়া পরহেযগারী বিরাট নেয়ামত


হযরত জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক ব্যক্তির ইবাদত ও নেকীর জন্য অনেক চেষ্টা সাধনা করার (কিন্তু তার পাপ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কম) কথা বলা হলো এবং অন্য এক ব্যক্তির তাকওয়া পরহেযগারীর (হারাম থেকে বেঁচে থাকা কিন্তু ইবাদতের মধ্যে কম লিপ্ততার) কথা বলা হলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ইবাদত) তাকওয়া ও পরহেযগারীর সমকক্ষ হতে পারবে না।

অর্থাৎ এক ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, সে অনেক বড় আবেদ উপাসনাকারী এবং ইবাদতে লিপ্ত থাকে কিন্তু তার তাকওয়া-পরহেযগারী কম, গোনাহ থেকে কম বেঁচে থাকে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে এটা বলা হল যে, সে গোনাহ ও হারাম থেকে খুব বেশি বেঁচে থাকে। অবশ্য ইবাদতের দিকে বেশি মনোযোগী নয়। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবাদত কখনো তাকওয়া পরহেযগারীর সমকক্ষ হতে পারে না। তাকওয়া ও পরহেযগারী সমস্ত কিছু থেকে শ্রেয়। আল্লামা রাগেব ইসফাহানী লিখেন, শরী'আতে পরহেযগারী বলে, দুনিয়া পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া না করাকে এবং তা তিন প্রকার (১) ওয়াজিবঃ সেই সমস্ত হারাম কার্যাবলী যা থেকে বিরত থাকা সকলের জন্য সমানভাবে অপরিহার্য, (২) মুস্তাহাবঃ এটা সেই সমস্ত সন্দেহজনক জিনিস বা কার্যাবলী থেকে বিরত থাকার নাম যা মধ্যপন্থা অবলম্বনকারীদের জন্য অপরিহার্য, (৩) ফযীলতঃ এটা হচ্ছে, বহু মুবাহ জিনিস বা কার্যাবলী থেকে বিরত থাকা এবং চাহিদা পূরণের জন্য স্বল্পের উপর সন্তুষ্ট থাকার নাম। এটা আম্বিয়ায়ে কেরাম, সিদ্দীকীন, শূহাদা ও সালেহীনদের জন্য।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 সৌভাগ্যজনক পাঁচটি জিনিস

📄 সৌভাগ্যজনক পাঁচটি জিনিস


হযরত ওমর বিন মাইমুন (রহঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার সময় বলতেন, পাঁচটি বস্তুকে পাঁচটির আগে সৌভাগ্য মনে কর। (১) যৌবনকালকে বৃদ্ধ হওয়ার আগে। (২) সুস্থতাকে অসুস্থ হওয়ার আগে। (৩) মালদারীকে দরিদ্র হওয়ার আগে। (৪) অবসর সময়কে ব্যস্ত হওয়ার আগে এবং (৫) নিজের জীবনকে মৃত্যু আসার আগে।

এই হাদীসের মধ্যে সুযোগকে আশীর্বাদ মনে করা এবং সময়কে ভাল কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। মানুষ সাধারণতঃ নিজের মূল্যবান সময়কে অমনোযোগিতায় নষ্ট করে দেয়। কিন্তু যখন সময় চলে যায়, তখন আফসোস ও দুঃখ প্রকাশ করে; কিন্তু যখন সময় চলে যায়, তখন আফসোস করে কোন লাভ হয় না। তখন অনুতাপ করলে কি হবে, যখন পাখি শস্য খেয়ে ক্ষেত পরিষ্কার করে দেয়। বুদ্ধিমান তো সেই হয়, যে সময় ব্যবহার করে নিজে উপকৃত হয় এবং সুযোগকে হাতছাড়া করে না। যৌবন হচ্ছে শক্তি সামর্থের কাল। এ সময়ের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগী খুব ভালভাবে আদায় করা যায়। সুতরাং চুল সাদা হওয়ার আগেই নেক ও মঙ্গলজনক কাজ করে নিতে হবে, এজন্য যে, বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক শক্তি কমে যায়। মন চাইবে কিন্তু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাতে সায় দিবে না, সর্বদাই দুর্বলতা থাকবে। সে সময় দুঃখ-বেদনা ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই করার থাকবে না। এজন্য বৃদ্ধ বয়সের আগেই যৌবন কালকে ব্যবহার করে লাভবান হয়ে যাও। প্রচুর নেক আমল করে আল্লাহকে রাজি করে নাও এবং আখেরাতকে তৈরী করে নিয়ে যাও।

সুস্থতা অনেক বড় নিয়ামত। যদি দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত ও দান একদিকে রাখা হয়, আর সুস্থতাকে আরেক পাশে রাখা হয়, তবে দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত, ধন-সম্পদ, জমিদারী সুস্থতার সমতুল্য হতে পারবে না। সুস্থতা সহস্র নিয়ামত থেকেও শ্রেয়। সুস্থতার কারণে খাওয়া-দাওয়া, চাল-চলনে, উঠা-বসায়, ইবাদত ও আরাধনায় স্বাদ পাওয়া যায়। সুস্থ ব্যক্তির রক্তে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। কাজেঅসুস্থ হওয়ার পূর্বেই নিজেকে মাওলার রাজি খুশির কাজে ন্যস্ত করে নাও। বেহেস্তকে সাজিয়ে নাও, আখেরাতের প্রস্তুতি নিয়ে নাও।

ধন-সম্পদ থাকা আল্লাহ্ তা'আলার নিয়ামত। এর দরুণ মানুষ একাগ্রতা, নিশ্চিন্ততা লাভ করতে পারে, নির্জনে আল্লাহ্র এবাদত করতে পারে, অভাবগ্রস্থ মানুষের অভাব ও দুঃখ-দুর্দশা দূর করা যায়। ভাল কাজে অংশ নেওয়া যায়। সদকা খয়রাত করা যায়। নিজের জন্য অনেক জিনিস সদকায়ে জারিয়া বানানো যায়। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত স্থায়ী জিনিস নয়। অনেক সময় দুনিয়ার জীবনেই সঙ্গ দেয় না। যদি এটা না হয়, তবে তারা তাকে মৃত্যুর সময় অবশ্যই ত্যাগ করবেই। সিকান্দার বাদশাহ যখন মারা যায়, তখন তার দুই হাত খালি ছিল। বলেন তো, কোন জমিদার তার মাল-দৌলত থেকে কি কখনো এক পয়সা নিজের সাথে নিয়ে যেতে পেরেছে? দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ খালি হাতে আসে, ঠিক সেরূপ খালি হাতে চলে যায়। অবশ্য সৌভাগ্যবান লোক তারা, যারা নিজের টাকা-পয়সা নেক কাজে সদকায়ে জারিয়া এবং অন্যান্য খয়রাতের দ্বারা আখেরাতের সম্পদ বানিয়ে নেয়। অতঃপর দারিদ্রতা, অসহায়তা অথবা মৃত্যুর সময় তাদের আর আফসোস করতে হয় না।

মানুষ অবকাশ ও সময় পেয়েও যদি কোন লাভ করতে না পারে তবে তার চেয়ে বড় অধম আর কে হতে পারে? বুদ্ধিমানের কাজ তো এটাই যে, সে আজকের কাজ কালকের জন্য রাখে না। এটাতো জানা নেই যে, কাল কতটুকু কাজ হবে? তবে কেন এই ব্যস্ততা? যদি এজন্য আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে সুযোগ দিয়েই থাকেন তবে আখেরাতের প্রস্তুতিে তা কাজে লাগিয়ে দিন। এ সময়টিকে নেক আমলের জন্য ব্যবহার করে সময়কে মহা মূল্যবান করে নিতে হবে, যতই সময় যেতে থাকবে, ব্যস্ততা ততই বাড়তে থাকবে এবং পার্থিব দায়িত্বও বাড়তেই থাকবে। এজন্য যা কিছু করার আজকেই বরং এখনই করে নিন।

আল্লাহ্ দুনিয়ার জীবন দিয়েছেন যাতে এ জীবনটাকে আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদতে ব্যবহার করা যায়। এ জীবনটাকে আল্লাহ্ তা'আলাকে খুশি করার মত কাজেই ব্যবহার করতে হবে। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যই এটা যে, সে নিজে নিজে আল্লাহ্ তা'আলার যিকির-আযকার, ইবাদত ও নেক আমলের মধ্যে মগ্ন থাকবে। যৌবনকাল হোক বা বৃদ্ধকালই হোক না কেন, সুস্থতা বা অসুস্থতার মধ্যে যা কামাই করা যায়, তা কামাতে হবে, অন্যথায় চোখ বন্ধ হলেই এ সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে যাবে, আমলের সময় শেষ হয়ে যাবে। অতএব, হে মানুষ! বুদ্ধিমানের মত কাজ করে যাও এবং আখেরাতের প্রস্তুতি নাও, মৃত্যুর আগে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে আল্লাহ্ তা'আলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px