📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 ধ্বংসাত্মক বস্তু ও আসবাব

📄 ধ্বংসাত্মক বস্তু ও আসবাব


হযরত ওমর বিন আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্র কসম! তোমাদের দারিদ্রতা ও ক্ষুধার জন্য আমার ভয় হয় না, বরং তোমাদের জন্য আমার এ কারণে ভয় হয় যে, তোমাদের উপর দুনিয়াকে এমনভাবে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ব পুরুষদের উপরে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছিল এবং তোমরা এ বিষয়ে এমনিভাবে প্রতিযোগিতা করবে, যেমনিভাবে পূর্বের লোকেরা পরস্পর প্রতিযোগিতা করেছিল। আর ঠিক ঐভাবেই তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিবে, যেমনিভাবে পূর্বের মানুষদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।

অর্থাৎ তোমাদের দারিদ্রতা ও ক্ষুধার জন্য আমার ভয় হয় না। এজন্য যে, দারিদ্রতা সাধারণতঃ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকার উপায় হয়। ধনাঢ্যতা অপেক্ষা দারিদ্রতা অনেক বেশি উপকারী। দৌলত সাধারণতঃ আল্লাহ্ তা'আলার নাফরমানী ও গোনাহের কারণ হয়ে থাকে। আমার ভয় এই যে, দুনিয়ার নিয়ামত ও মাল দৌলত তোমাদের দিয়ে দেওয়া হবে এবং তোমরা অন্য সকল মূর্খ জাহেল মালদারদের ন্যায় আরাম ও আয়েশের মধ্যে লিপ্ত হয়ে ফিতনা ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়ে যাবে এবং মাল সংগ্রহ ও লাভ করার জন্য অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়বে। আর যেরূপভাবে তারা ধ্বংস হয়েছে তোমরাও সেরূপভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। সাধারণতঃ এমন হয় যে, মাল-দৌলতের লালসা মানুষকে নেক আমল থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং টাকা-পয়সা বেশি হওয়ার কারণে মানুষ নাফরমানী ও গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। নিয়ামত দানকারী খালেক ও মালেককে ভুলে যায়। নিজের উপর ভরসা, তাকাব্বুর এবং ভোগের মধ্যে ব্যস্ত হয়ে যায়, যার ফলাফল ধ্বংস ও বরবাদী ছাড়া আর কিছুই নয়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 স্বল্প মালের জন্য দু'আ

📄 স্বল্প মালের জন্য দু'আ


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ্! আলে মুহাম্মাদের প্রয়োজন মিটে এবং যথেষ্ট হয়, সেই পরিমাণ রিযিক নির্ধারণ করে দিন।

আলে মুহাম্মাদ কথাটি দ্বারা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত ও বংশধরদের বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, এর দ্বারা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুসরণ এবং তাঁকে ভালবাসে এমন লোকদের বুঝানো হয়েছে। প্রয়োজন মত কথাটি দ্বারা ঐ পরিমাণ রিযিক বুঝানো হয়েছে, যেই পরিমাণ দ্বারা প্রয়োজন মিটে যায় এবং বেঁচে থাকা যায় এবং নেক আমল ও ইবাদত করতে পারা যায় তা অধিক উত্তম সেই প্রচুর মাল অপেক্ষা, যা তোমাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলার নাফরমান বানিয়ে দেয়। ঐ অল্প মাল যার দ্বারা প্রয়োজন মিটে যায় তা ঐ অধিক মাল থেকে উত্তম, যে মাল মানুষকে বেখেয়াল ও জ্ঞানশূন্য করে দেয়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 অল্পে পরিতুষ্টি অতি বড় নেয়ামত

📄 অল্পে পরিতুষ্টি অতি বড় নেয়ামত


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সেই ব্যক্তি সফলতা পেয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তাকে প্রয়োজন মত রিযিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ঐটুকুর উপরে সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক দিয়েছেন, যতটুকু তাকে দেওয়া হয়েছে।

অল্পে সন্তুষ্ট হওয়া অনেক বড় সৌভাগ্য। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা দুনিয়া ও আখেরাতের গ্যারান্টি। প্রয়োজন মত হালাল রিযিক লাভ করা এবং তার উপরে সন্তুষ্ট থাকা আল্লাহ্ তা'আলার বিরাট অনুগ্রহ। সকল অবস্থায় আল্লাহ্র শোকর আদায় করতে হবে এবং প্রয়োজন অপেক্ষা বেশি পাওয়ার জন্য ও বেশি থেকে বেশি সুযোগের জন্য প্রচেষ্টায় মত্ত হওয়া ঠিক নয়। কয়েক দিনের জীবন যাপনের জন্য শত বছরের আসবাব সংগ্রহ করাটা কোন বুদ্ধিমত্তার কাজ হতে পারে না। আল্লাহ্ তা'আলার ফয়সালা ও তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকাটাই সর্বাপেক্ষা বড় সফলতা।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 উপকারী সম্পদ

📄 উপকারী সম্পদ


হযরত আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মানুষ আমার মাল, আমার মাল বলে, অথচ তার মাল থেকে শুধু তিন প্রকার মাল তার হয়ে থাকে, (এক) ঐ দ্রব্যসামগ্রী যা সে খেয়ে শেষ করে দেয়, (দ্বিতীয়) যা সে পরিধান করে পুরাতন করে ফেলে এবং (তৃতীয়) যা সে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করে নিল। এ তিন প্রকার মাল ব্যতীত আর যা কিছু আছে তা মানুষ অন্যদের জন্য ছেড়ে যায়।

অর্থাৎ মানুষ সাধারণতঃ স্বীয় ধন-সম্পদের উপর গর্ব করে থাকে। তার আসল অবস্থা জানে না। মালের দ্বারা মানুষ তিনভাবে উপকৃত হয়ে থাকে। এ তিন প্রকারই প্রকৃত মাল ও চিরস্থায়ী মাল। বাকি অন্য সকল মাল অস্থায়ী ও ক্ষণিকের জন্য, অনন্তকালের জন্য নয়। এ মালগুলো খেয়ে-দেয়ে, পরিধান করে শেষ করে দেওয়া হয়। আল্লাহ্র রাস্তায় সদকা খয়রাত করে আখেরাতের জন্য সঞ্চয় করতে হবে এবং এরকম একটি ব্যাংকে সঞ্চয় করতে হবে, যে সঞ্চয় আর কখনো শেষ হবে না। এ ছাড়া অন্য সকল যা কিছু আছে, যথা গবাদিপশু, ধন-সম্পদ, সোনা-চান্দি ইত্যাদি সব কিছুই কোন ব্যক্তির নয়, এজন্য যে মরার পরে মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যায়। যেরূপে দুনিয়াতে খালি হাতে এসেছিল, ঠিক ঐরূপে খালি হাতে চলে যায় এবং তার এ মাল-দৌলতের উত্তরাধিকারী হয়ে যায় তার নিজের সন্তানেরা। আর এ সমস্ত মাল-দৌলত ভোগ করবে অন্য কেহ, কিন্তু এ মাল-দৌলতের হিসাব তাকেই দিতে হবে, যে এ সমস্ত মাল-দৌলত অর্জন করেছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px