📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 পূণ্যের প্রতিফল

📄 পূণ্যের প্রতিফল


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ্ কোন মুমিন ব্যক্তিকে তার নেকীর পরিবর্তে বেঈনসাফ করবেন না। নেকীর বদলায় তাকে দুনিয়ায় নিয়ামত দেওয়া হয় এবং আখেরাতে তার উত্তম ফল দেওয়া হবে। এবং কাফের যে দুনিয়াতে আল্লাহ্র জন্য ভাল কাজ করে, তার বদলায় সে দুনিয়াতে ফলভোগ করবে কিন্তু আখেরাতে তাকে সওয়াব দেওয়ার মত কোন নেকী থাকবে না।

অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক বান্দাকে চাই সে মোমিন বা কাফের হোক, প্রত্যেকের ছোট বড় নেকী এবং ভাল-মন্দের বদলা অবশ্যই দেন, চাই সেটা দুনিয়াতে হোক অথবা আখেরাতে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ মিতকালে জাররাতিন শাররাই ইয়ারাও (زلزال ৭-৮) অর্থ “যে ব্যক্তি অল্প একটুও নেকী করবে, সে তা দেখতে পাবে এবং যে অল্প একটু মন্দ করবে, তাও সে দেখে নিবে।”

আল্লাহ্ তা'আলা আরও বলেন- إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُضْعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا (نساء - ٤০) অর্থঃ “অবশ্যই আল্লাহ্ তা'আলা কারো উপর বিন্দু পরিমাণ অত্যাচার করবেন না। আর যদি একটি নেকী হয় উহাকে দ্বিগুণ করে দিবেন এবং নিজ হাতে আরো বেশি বদলা দিবেন।” (সূরা নিসা: ৪০)

মুমিন দুনিয়াতে যে নেক আমলসমূহ করে আল্লাহ্ তা'আলা তার বদলায় তার থেকে বালা-মুসীবত দূর করে দেন। খাদ্য ও রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা দান করেন এবং অন্যান্য নিয়ামত দান করেন। আর আখেরাতে যা দিবেন, তার তো কোন হিসেবই হয় না। কাফের দুনিয়াতে যে সকল ভাল কাজ করে, উদাহরণস্বরূপ গরীবের সাথে ভাল ব্যবহার করা, খাদ্য দান করা, অত্যাচারিত ব্যক্তিকে সাহায্য করা, এতীমদের স্নেহ ও দয়া করা এবং অন্যান্য ভাল কাজ করা অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণ ব্যতীত অন্যান্য সকল ভাল কাজ করার জন্য (কাফেরদের) দুনিয়াতে বদলা দেওয়া হবে, কিন্তু পরকালে তার নেক আমলের বিনিময়ে কিছুই থাকবে না। মোমিন দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে বদলা পায়। কাফের শুধু দুনিয়াতে পায় আর আখেরাতে তার কুফরের কারণে জাহান্নামের আগুনই হবে প্রতিফল। সুতরাং আল্লাহ্ তা'আলা মুমিনের জন্য অনুগ্রহের ব্যবস্থা করেন এবং কাফেরের সাথে সুবিচার ঈনসাফের ব্যবস্থা করেন। মুমিন যদি কোন গোনাহ বা ভুল করে ফেলে, আল্লাহ্ দুনিয়াতে কোন মুসীবত, কষ্ট বা রোগ ইত্যাদির দ্বারা উহা দূর করে দেন এবং আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দেন।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 আনন্দদায়ক ও কষ্টের বিষয়াদি

📄 আনন্দদায়ক ও কষ্টের বিষয়াদি


হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জাহান্নামকে লোভনীয় বস্তু সামগ্রী এবং জান্নাতকে মুসীবতের দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ বেহেস্ত পেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হয়, নফস ও শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, নেক আমল করতে হয় এবং হারাম দ্রব্যাদি থেকে বাঁচতে হয়। পক্ষান্তরে গোনাহ, নাফরমানী এবং কামনা-বাসনার অনুসরণ এবং প্রবৃত্তির দাসত্ব জাহান্নামে পৌঁছে দেয়।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 টাকা-পয়সার গোলাম

📄 টাকা-পয়সার গোলাম


হযরত আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ধ্বংস হলো টাকা পয়সার গোলাম, পোশাক পরিচ্ছদের গোলাম। যদি তাকে কিছু দেওয়া হয়, তবে সে খুশী হয় আর যদি কিছু না দেওয়া হয় তবে সে অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। সে ধ্বংস হয়েছে, লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। তার যদি কাঁটা বিঁধে যায়, তা যেন বের না করা হয়। মঙ্গল ও কল্যাণ সেই বান্দার জন্য, যে আল্লাহ্র পথে নিজ ঘোড়ার লাগাম ধরে আছে, যার চুল বিক্ষিপ্ত, যার পা ধুলি ধূসরিত, তাকে যদি দারোয়ান বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে তাতে অত্যন্ত ব্যস্ততা ও লিপ্ততার সহিত দায়িত্ব পালন করে। আর যদি মুজাহিদ বাহিনীর শেষ প্রান্তে রাখা হয়, তবে সেখানেও সে সন্তুষ্টি ও প্রস্তুতি নিয়েই থাকে। এবং তার জন্য যদি কোথাও প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয়, তবে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় না, আর যদি সে কারো জন্য সুপারিশ করে তবে তাও গ্রহণ করা হয় না।

টাকা-পয়সার দাস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহকে রাজি খুশি করার পরিবর্তে টাকা-পয়সার বেড়াজালে পড়ে এবং সে টাকা-পয়সার জন্য এমন উম্মাদ হয়ে যায় যে, হারাম হালালের পার্থক্যও থাকে না। যেখান থেকেই ধন-সম্পদ হাসিল হোক তার পেছনে লেগে যায়। উপার্জিত অর্থ হালাল বা জায়েয পথে ব্যয় না করে, হারাম পথে ব্যয় করে। উদাহরণস্বরূপ টাকা-পয়সার নাম এ কারণে নেওয়া হয়েছে যে, ইহাই ধন-সম্পদের মূল। নফস ও শয়তান এই দুই জিনিসের দ্বারাই নিজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ হাসিল করে থাকে। দুনিয়াদার ও অহংকারীরা কাপড়-চোপড়ের প্রতি অত্যন্ত খেয়াল রাখে, পোষাকের জাকজমক ও প্রভাব প্রকাশ এবং প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার জন্য পোষাক পরে থাকে। আর এই সমস্ত কাপড়-চোপড় ছাড়তেও পারে না, মনে হয় যেন সে তার (কাপড়-চোপড়ের) গোলাম হয়ে গেছে। পোষাক পরিচ্ছদ পরিষ্কার রাখার চিন্তা নিষিদ্ধ নহে, ভাল পোষাক পরাও নিন্দনীয় কাজ নহে। আল্লাহ্ তা'আলা মাল দৌলত দিয়ে থাকলে তার শুকরিয়া এভাবে হতে হবে যে, সে ভাল খাবে ও ভাল পোষাক পরিধান করবে। ভিক্ষুকদের মত ছেড়া ফাঁড়া কাপড়-চোপড় পরিধান করবে না। আল্লাহ্র নিয়ামতসমূহের চিহ্ন নিজের মধ্যে প্রকাশ হতে হবে। তবে সেই সাথে এ খেয়ালও থাকতে হবে যে, মানুষ যেন পোষাক পরিচ্ছদের গোলামী না করে, এরূপে যে, সব সময় উত্তম থেকে উত্তমটা, নতুন থেকে নতুনের অন্বেষণে থাকে, যার কারণে সে আত্মগৌরব ও আত্মপ্রশংসায় মত্ত হয়, আর হালাল হারামের কোন পার্থক্য না থাকে, এটাই নিষিদ্ধ। পুরুষদের জন্য রেশমের কাপড় পরিধান করা হারাম, বেশি পাতলা কাপড় পরিধান করা অপছন্দনীয়। অহংকারবশতঃ আস্তিন লম্বা রাখা অথবা টাখনুর নীচে কাপড় লটকানো নাজায়েয। অহংকারের নিয়ত যদি না হয়ে থাকে, তবুও মাকরূহ। হাদীস শরীফে এটাকে জাহান্নামের আগুনের দ্বারা জ্বালানোর ধমকি দেওয়া হয়েছে।

টাকা-পয়সার গোলাম বলে এ কথা বোঝানো হয়েছে যে, দুনিয়ায় কামাই করা, টাকা-পয়সা লাভ করা নিষিদ্ধ নহে। প্রয়োজন মাফিক টাকা-পয়সা থাকতে হবে, কিন্তু তার অর্থ, দৌলতের গোলাম হওয়া যাবে না। গোলাম হলে, যেরূপে গোলামী থেকে বের হওয়া যায় না, ঠিক তদ্রূপ এই ব্যক্তিও টাকা-পয়সার এমন গোলাম যে, সে আর তার থেকে বের হয়ে আসতে বা ছুটে আসতে পারে না। যে ব্যক্তি প্রকৃত অর্থে আল্লাহ্র বান্দা হবে, সে যেন নিজের জানকে প্রস্তুত রাখে, সব সময় আল্লাহ্র দ্বীনের উন্নতির খাতিরে জিহাদের জন্য প্রস্তুত থাকে। তাকে সেনা কমান্ডার, দারোয়ান বা খাদেম, যে কোন অবস্থায় রাখা হোক, সে খুশি থাকে এবং আল্লাহর জন্য এখলাসের সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু এ রকম সাদাসিধে হয় যে, সে যদি কোন মাহফিলে যায় তবে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আর যদি সে কারোর জন্য সুপারিশ করে, তবে সে সুপারিশ গ্রহণ করা হয় না, এজন্য যে, তার নিকট দুনিয়ার কোন খবরই থাকে না এবং দুনিয়াদারদের থেকেও সে দূরে থাকে। প্রতি মুহূর্তে নিজের সংশোধন এবং আখেরাত উন্নতির চিন্তায় থাকে। মাল দৌলত ও ইজ্জতের সহিত তার কোন সম্পর্ক থাকে না। কিন্তু আল্লাহ্র নিকট সে অনেক সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন হয়। দুনিয়াদার তার সুপারিশ গ্রহণ করবে না, কিন্তু আল্লাহ্র দরবারে তার সুপারিশ গৃহীত হবে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 সর্বাপেক্ষা বিপদজনক বিষয়

📄 সর্বাপেক্ষা বিপদজনক বিষয়


হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার তিরোধানের পর তোমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের জিনিস হচ্ছে দুনিয়ার শোভা, সৌন্দর্য এবং সাজসজ্জা ও আরামের বস্তুসমূহ, যার দ্বার তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এক সাহাবী প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ভাল কি কখনো মন্দের উপায় হতে পারে? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন, যাতে আমরা বুঝতে পারছিলাম যে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর অহী নাযিল হবে। অতঃপর তিনি নিজ কপালের ঘাম মুছে ইরশাদ করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? অনুমান করা যাচ্ছিল যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ প্রশ্নটা ভাল মনে হয়েছিল। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, ভাল অবশ্য মন্দের উপায় হয় না, তবে বসন্তকালে যখন সবুজ লতাপাতায় গাছপালা পরিপূর্ণ থাকে, তখন জীব-জন্তু সবুজ লতাপাতা এত অধিক খায়, যার ফলে সে জীব-জন্তু মৃত্যু মুখে পতিত হয়, অথবা মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়। কিন্তু যে সকল জীব-জন্তু এই সবুজ লতাপাতা প্রয়োজন অনুপাতে পেট ভরে খায়, তারপর সূর্যের দিকে ফিরে বসে মলমুত্র ত্যাগ করে নিজেকে সতেজ করে, এরপর এরা আবার তাদের খাওয়া শুরু করে। অবশ্যই এই মাল দৌলত অনেক ভাল মনে হয় তার জন্য, যে উহাকে হালাল পদ্ধতিতে উপার্জন করে, হালাল জায়গায় খরচও করে, তবে এই মাল উত্তম সাহায্যকারী হয় এবং যে ব্যক্তি উহাকে নাজায়েজ ও নাহকভাবে অর্জন করবে তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত হবে, যে খাবে কিন্তু তার পেট ভরবে না এবং ঐ মাল কেয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে।

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার উপমা সবুজ লতাপাতার দ্বারা দিয়ে এ কথা বলতে চেয়েছেন যে, এটা যদিও অনেক ভাল মনে হয় কিন্তু এটা লাভহীন ও ক্ষণিকের, যা অনেক কম সময়ে শেষ হয়ে যায়, অথবা এটা তুলে নেওয়া হবে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের অর্থ এই ছিল যে, আমার পরে তোমাদের জন্য দুনিয়ার দরজা খুলে দেওয়া হবে। নানা অঞ্চল ও দেশ বিজিত হতে থাকবে, মাল দৌলত রাশি রাশি হয়ে যাবে, যা মানুষকে নেক আমল ও সঠিক শিক্ষা অর্জন থেকে দূরে সরিয়ে দিবে। অপছন্দনীয় রীতিনীতি, আচার ব্যবহার, অহংকার, মাল দৌলতের প্রতি ভালবাসা প্রভৃতি এমন বিষয়াদি সৃষ্টি হবে, যা দুনিয়া ও টাকা-পয়সার অনিবার্য ফল। স্পষ্ট কথা এই যে, যখন এ সমস্ত জিনিস দেখা দিবে, তখন মানুষ মৃত্যুর প্রস্তুতি এবং মৃত্যুর পরবর্তী আখেরাতের জীবনের প্রতি অমনোযোগী হবে এবং সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।

প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উদ্দেশ্য এই ছিল যে, বিজয়, গণীমতের মাল-সম্পদ ও খাদ্যের প্রাচুর্যও কি মন্দের কারণ হতে পারে? যার কারণে মানুষ আল্লাহ্ তা'আলার ফরমাবরদার ও ইবাদতের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং নেক কাজে পিছে পড়ে থাকবে? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিষ্কারভাবে বলে দিলেন যে, মূলতঃ ভাল, মন্দের উপায় হয় না, অবশ্য কখনও ভাল, মন্দের কারণ হয়ে যায়। অতঃপর এটাকে একটা সুন্দর উপস্থিত দৃষ্টান্ত দিয়ে স্পষ্ট করে দিলেন, দুনিয়ার ভালকে সতেজ শস্য শ্যামল ও লতাপাতার দ্বারা উদাহরণ দিলেন। যেমনিভাবে আল্লাহ্ তা'আলা একমাত্র স্বীয় ইচ্ছায় শস্য উৎপাদন করেন কিন্তু এই ভাল জিনিসই কখনও কখনও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই অর্থে যে, প্রাণী, শস্য শ্যামল লতাপাতার প্রাচুর্যের কারণে অতিরিক্ত ভক্ষণ করে, পরে বদ হজমের শিকার হয়ে ধ্বংস হয়। শস্য শ্যামল লতাপাতার প্রাচুর্য এই প্রাণীগুলোর ধ্বংসের কারণ নয় বরং এই প্রাণীগুলোরই খাওয়ার পরিমাণের ব্যাপারে ভারসাম্যহীনতা ধ্বংসের কারণ হলো। এমনিভাবে সতর্কতা ব্যতীত জায়েয, না জায়েয উপায়ে মাল দৌলত অর্জন করা, আনন্দ ও বিলাসিতা করা, দুনিয়াতে লিপ্ততা, বেশি খাওয়া এবং অধিক মাল অর্জন করাতে মন শক্ত হয়ে যায় এবং খারাপ আচার ব্যবহার, মানুষের বেইজ্জতি, হকদারের হক আদায় না করা এবং অন্যান্য সমস্ত রূহানী রোগ জন্মে যায়, যার দরুণ দুনিয়াবী বিলাস ও আখেরাতের বরবাদী, ব্যক্তির জন্য শান্তি এবং কঠোর আযাবের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু যদি মালের সাথে সাথে উহার হক ও হুকুম আদায় করা হয় এবং নিজের মালের প্রভাব ও মালদারদের দোষসমূহ থেকে নিজেকে হেফাজত করা হয় এবং রূহানী রোগ ও রোগের চিকিৎসার প্রতি দৃষ্টি রেখে রূহানী রোগের চিকিৎসা করা হয়, পবিত্র কুরআন ও মুবারক হাদীসের দ্বারা যদি উপকৃত হতে থাকে, তবে এই মাল অর্জনও ব্যক্তির নাজাতের উপায় হয়ে দাঁড়ায়, এর দ্বারা কুপ্রবৃত্তি দূর করে দেওয়া হয় এবং আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, যেমনিভাবে ঐ প্রাণীগুলো প্রয়োজন মত খাবার খায়, তারপর তা হজম করার জন্য রোদে বসে, অতঃপর হজম হয়ে গেলে উহারা আবার খাওয়া শুরু করে। ঠিক এমনিভাবে টাকা পয়সার আধিক্য যেহেতু মানুষকে স্বাভাবিকভাবে তার সহীহ রাস্তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, আখেরাত থেকে অমনোযোগী এবং আল্লাহ্র সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, ফলে এটাই বিপদসঙ্কুল ও ভয়ংকর বস্তু হয়। এজন্যই আল্লাহ্ তা'আলা সাধারণতঃ আম্বিয়ায়ে কেরাম ও নেককারদের জন্য উপবাস ও দারিদ্রতা পছন্দ করেছেন। সুফীয়ায়ে কেরাম ও বহু উলামায়ে কেরাম এটা বলেন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ধনী অপেক্ষা, ধৈর্যশীল গরীব শ্রেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px