📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 যে কথায় পাথর গলে

📄 যে কথায় পাথর গলে


সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা এ দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতি ও বিপত্তির মধ্যে আছে।

কারণ সুস্থ থাকা, শক্তিশালী হওয়া, নিশ্চিন্ত ও নির্ভয়ে থাকা এবং প্রয়োজনাদি পূরণ হওয়া এ দুটি বিরাট নেয়ামতের মূল্য অনেকেই জানে না। অর্থাৎ এ নেয়ামতগুলোর ফল ভোগের সময় মানুষ আল্লাহকে ভুলে থাকে, ফলে নেক আমল থেকে দূরে থাকে। সে সময় মানুষ দুনিয়ার ভোগ বিলাস অথবা দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। তখন এমন কোন আমল করে না, যা পরকালের কাজে লাগবে। কিন্তু যখনই নেয়ামতের ফল ভোগের সময় শেষ হয়ে আসে অর্থাৎ কোন কষ্টে ভোগে বা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আর আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজ তথা নেক আমল করার শক্তি থাকে না। ঠিক সেই সময়ই মানুষের বুঝে আসে, সে সুস্থতা ও সুখের সময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কাজ করেনি। কিন্তু তখন শুধু আফসোসই থাকে, কিন্তু আমল করার শক্তি থাকে না। হাদীসে আছে যে, জান্নাতবাসীগণের সেই সময়টুকুর জন্য আফসোস হবে, যে সময় তারা আল্লাহ্র যিকির বা নেক আমল ছাড়া কাটিয়েছে। অনেকে সুস্থতা ও দুশ্চিন্তাহীন বা নিশ্চিন্ততা বলতে বুঝিয়েছেন যে, মানুষের যখন প্রয়োজনাদি পূরণ হয় এবং সুস্থ থাকে তখন সে আল্লাহ্র আদেশ বা হুকুম ভুলে গিয়ে দুনিয়ার কাজে লিপ্ত হয়ে যায় এবং সে নিশ্চিন্ত ও সুস্থ জীবন কাটায়। প্রকৃত অর্থ হল, যে সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা এ দুটি নেয়ামত পাওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম মানা তথা নেক আমল ও ইলম থেকে দূরে থাকে, সে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতির মধ্যে অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্যে থাকে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা

📄 সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা এ দুটি নেয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ক্ষতি ও বিপত্তির মধ্যে আছে।

কারণ সুস্থ থাকা, শক্তিশালী হওয়া, নিশ্চিন্ত ও নির্ভয়ে থাকা এবং প্রয়োজনাদি পূরণ হওয়া এ দুটি বিরাট নেয়ামতের মূল্য অনেকেই জানে না। অর্থাৎ এ নিয়ামতগুলোর ফল ভোগের সময় মানুষ আল্লাহকে ভুলে থাকে, ফলে নেক আমল থেকে দূরে থাকে। সে সময় মানুষ দুনিয়ার ভোগ বিলাস অথবা দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত হয়ে যায়। তখন এমন কোন আমল করে না, যা পরকালের কাজে লাগবে। কিন্তু যখনই নেয়ামতের ফল ভোগের সময় শেষ হয়ে আসে অর্থাৎ কোন কষ্টে ভোগে বা অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আর আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির কাজ তথা নেক আমল করার শক্তি থাকে না। ঠিক সেই সময়ই মানুষের বুঝে আসে, সে সুস্থতা ও সুখের সময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির কাজ করেনি। কিন্তু তখন শুধু আফসোসই থাকে, কিন্তু আমল করার শক্তি থাকে না। হাদীসে আছে যে, জান্নাতবাসীগণের সেই সময়টুকুর জন্য আফসোস হবে, যে সময় তারা আল্লাহ্র যিকির বা নেক আমল ছাড়া কাটিয়েছে। অনেকে সুস্থতা ও দুশ্চিন্তাহীন বা নিশ্চিন্ততা বলতে বুঝিয়েছেন যে, মানুষের যখন প্রয়োজনাদি পূরণ হয় এবং সুস্থ থাকে তখন সে আল্লাহ্র আদেশ বা হুকুম ভুলে গিয়ে দুনিয়ার কাজে লিপ্ত হয়ে যায় এবং সে নিশ্চিন্ত ও সুস্থ জীবন কাটায়। প্রকৃত অর্থ হল, যে সুস্থতা ও নিশ্চিন্ততা এ দুটি নিয়ামত পাওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ্ তা'আলার হুকুম মানা তথা নেক আমল ও ইলম থেকে দূরে থাকে, সে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতির মধ্যে অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্যে থাকে।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 দুনিয়া ও আখেরাত

📄 দুনিয়া ও আখেরাত


হযরত মাসতুর বিন শাদ্দাদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ার উদাহরণ দিতে শুনেছি যে, দুনিয়া তোমাদের জন্য এ রকম যেমন কোন ব্যক্তি নিজের আঙ্গুল সাগরের পানিতে ডুবায়, অতঃপর উঠিয়ে দেখে, এর মধ্যে কতটুকু পানি লেগেছে।

অর্থাৎ আখেরাতের নিয়ামত, আরাম, আয়েশের তুলনায় দুনিয়ার আরাম ও আয়েশ, দরিয়া বা সাগরের পানির তুলনায় আঙ্গুলে লেগে থাকা অতি সামান্য পানির ন্যায়। বিশাল সমুদ্রের তুলনায় আঙ্গুলে লাগা পানির পরিমাণ কিছুই না, অতি নগণ্য, দুনিয়া মানুষের জন্য তেমনি নগণ্য। তাই দুনিয়ার আসবাব, মান-সম্মান প্রতিপত্তি ও প্রচার-প্রসার লাভে ব্যস্ত থাকা ঠিক নয়। এগুলো আখেরাতের শান্তির জন্য ধোঁকা স্বরূপ মনে করতে হবে। দুনিয়ার কষ্ট, মুসীবতের কারণে পেরেশান বা অস্থির হওয়া ঠিক নয়, আখেরাতের কথা স্মরণ করে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। প্রকৃত সুখ শান্তি, আরাম হলো আখেরাতের জন্য, দুনিয়া হলো আখেরাতের ক্ষেত এবং ইহা ক্ষণিকের তাসের ঘরের ন্যায়। তাই দুনিয়াকে মানুষের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ জানতে হবে, এজন্য যে, এ অল্প সময়ের মধ্যে আখেরাতের প্রকৃত আরাম আয়েশের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।

অতএব আমাদের উচিত ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবনের ভোগ বিলাসে লেগে না থেকে এবং দুনিয়ার চাকচিক্য পরিহার করে, অনন্ত অসীম চিরস্থায়ী জীবন আখেরাতের ফিকির করা। তাই সকলের উচিত পরকালের শান্তিময় জীবনের জন্য মেহনত ও পরিশ্রম করে প্রকৃত জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও ঈমানদার ব্যক্তি হিসেবে গড়ে উঠা।

📘 যে কথায় পাথর গলে 📄 দুনিয়ার উপমা

📄 দুনিয়ার উপমা


হযরত জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন একটা মৃত ভেড়ার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি আছে কি, যে এই মৃত ভেড়াটা এক দেরহাম দিয়ে ক্রয় করবে? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, আমরা কোন মামুলী জিনিস দিয়েও এটা নেওয়া পছন্দ করব না। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র নিকট দুনিয়া এর চাইতে ও বেশি ঘৃণিত, যতটা তোমাদের দৃষ্টিতে এই মৃত ভেড়াটি ঘৃণিত।

দুনিয়া এবং তার সমস্ত নিয়ামত নশ্বর ও ধ্বংসশীল। বুদ্ধিমানদের দৃষ্টিতে দুনিয়ার মর্যাদা মৃত জানোয়ার থেকেও খারাপ। এক নেয়ামতের সাথে দশ রকমের বেদনা লেগে থাকে, আরাম আয়েশে থাকার জন্য কতই না কষ্ট করতে হয়। আল্লাহ্ প্রেমিক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার চাকচিক্যে আকৃষ্ট হয় না এবং দুনিয়ার কোন জিনিসের প্রতি মনোযোগী না হয়ে আখেরাতের জীবনের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকে। হাদীস শরীফে আছে যে, আল্লাহ্র দৃষ্টিতে দুনিয়ার মূল্য যদি একটা মশার ডানার সমান হত, তাহলে আল্লাহ্ কোন কাফেরকে এক চুমুক পানিও পান করাতেন না। প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার লোভ লালসা সমস্ত পাপের মূল, পক্ষান্তরে দুনিয়া থেকে পরমুখীতা এবং উহার প্রতি অনীহা সমস্ত ইবাদতের ভিত্তি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px