📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।

📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।


মহররম মাসের দশম দিন তথা আশুরার দিনে একটি সাওম পালন করা। কারণ, ইয়াহূদীগণ এ কাজ করে। আর ইমাম আহমদ রহ. 'আল- মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «صوموا يوم عاشوراء، وخالفوا فيه اليهود، وصوموا قبله يوما أو بعده يوما»। “তোমরা 'আশুরার দিনে সাওম পালন কর এবং সে ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধচারণ কর; আর তোমরা তার পূর্বে একদিন অথবা তার পরে একদিন সাওম পালন কর”।

টিকাঃ
৫৫ ইমাম আবু দাউদ রহ. সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং- ৫১১৮।
৫৬ মুসনাদে আহমদ: ১/২৪১; আরও দেখুন: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৩৩।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 একবিংশতম: নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো।

📄 একবিংশতম: নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো।


নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো। আর পরচুলা লাগানোর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন চুল স্থাপন করা, যা আল্লাহ নারীর জন্য সৃষ্টি করেন নি, যেমনটি ইয়াহুদীগণ করে থাকে। আর আমার দৃষ্টিতে তার দৃষ্টান্ত হলো যাকে 'বারুকা' নামে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, তা পরচুলা ব্যবহারের পর্যায়ে পড়ে। যখন তার দ্বারা নারী তার প্রকৃতিগত চুলকে পরিবর্তন করে দেয়, তবে যখন আসলেই তার চুল না থাকে, তাহলে কতিপয় আলেম স্বামীর জন্য সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্য তাকে বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাছাড়া ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি এক গুচ্ছ পরচুলা প্রসঙ্গে বলেছেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি), তিনি বলতেন: «إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ»। "বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এরূপ করা আরম্ভ করে"। আর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: «ما كنت أرى أن أحدا يفعله إلا اليهود»। "আমি ইয়াহুদীগণ ব্যতীত অন্য কাউকে এরূপ কাজ করতে দেখতাম না”।

টিকাঃ
৫৭ সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫৫৮৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৭৪২।
৫৮ দেখুন: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকীম: ১/২৫৩।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 দ্বাবিংশতম: হৃদয়ের কঠোরতা।

📄 দ্বাবিংশতম: হৃদয়ের কঠোরতা।


হৃদয়ের কঠোরতা এবং আল্লাহর আয়াত ও যিকির শ্রবনে মন নরম না হওয়া। আর এটা ইয়াহূদীগণের বৈশিষ্ট্য, যা থেকে আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: ﴿أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ﴾ [الحديد: ১৬] "যারা ঈমান এনেছে তাদের হৃদয় কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তার জন্য বিগলিত হওয়ার সময় আসে নি? আর তারা যেন তাদের মতো না হয়, যাদেরকে আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর বহু কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে পড়েছিল”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৬] আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ত্রয়োবিংশতম: বৈরাগ্যবাদ ও দীনের ব্যাপারে কঠোরতা।

📄 ত্রয়োবিংশতম: বৈরাগ্যবাদ ও দীনের ব্যাপারে কঠোরতা।


বৈরাগ্যবাদ ও দীনের ব্যাপারে কঠোরতা। কারণ, এটা খ্রিষ্টানদের বড় বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। দীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন, যা আল্লাহ তা'আলা বিধিসম্মত করেন নি, চাই তা ইবাদাতের ক্ষেত্রে হউক অথবা আকীদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হউক অথবা তা বিধিবিধানের ক্ষেত্রে হউক। যেমন, ইবাদাতের জন্য জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, জীবিকার জন্য চেষ্টাসাধনা না করা, জিহাদ ছেড়ে দেওয়া, ব্যবসা বানিজ্য না করা, বৈধ জিনিসকে হারাম করে দেওয়া অথবা ধর্ম পালন করার জন্য তা (বৈধ জিনিস) বর্জন করা। অথবা দীনের ব্যাপারে এমন বাড়াবাড়ি করা, যার কারণে দীন ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ জীবন-পদ্ধতি থেকে সে বের হয়ে যায়। আর বৈরাগ্যবাদ, যাকে তোমরা খ্রিষ্টানদের কাজ বলে জান। আল্লাহ তা'আলা এর থেকে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা থেকে নিষেধ করেছেন, তিনি বলেছেন: «لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَيُشَدَّدَ عَلَيْكُمْ فَإِنَّ قَوْمًا شَدَّدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَتِلْكَ بَقَايَاهُمْ فِي الصَّوَامِعِ وَالدِّيَارِ رَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ»। “তোমরা তোমাদের নিজেদের ওপর কঠোরতা করো না, তাহলে তোমাদের ওপর কঠোরতা করা হবে; কারণ, কোনো এক সম্প্রদায় তাদের নিজেদের ওপর কঠোরতা করেছে, ফলে আল্লাহ তা'আলাও তাদের ওপর কঠোরতা আরোপ করেছেন। গীর্জা ও ঘরে সন্যাসী হিসেবে অবস্থান করে যারা রয়েছে তারা হচ্ছে সেসব লোকদের বাকী অংশ। তারা এমন বৈরাগ্যবাদ নতুনভাবে প্রবর্তন করেছে, যা আমরা তাদের ওপর ফরয করি নি”।

টিকাঃ
৫৯ আমি বৈরাগ্যবাদের কিছু ধরণ বা প্রকৃতি লক্ষ্য করি। ধর্ম পালনের উদ্দেশ্যে বা ধার্মিকের অভিনয় করার উদ্দেশ্যে অব্যাহতভাবে কিছু বৈধ জিনিস বর্জন করা। যেমন, জুতা পরিধান না করা, যানবাহনে আরোহন না করা এবং বৈধ প্রস্তুতকৃত সামগ্রী ও উপকরণ ব্যবহারে অনাগ্রহ প্রকাশ করা। আল্লাহ তা'আলা মহাজ্ঞানী।
৬০ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৩৯০৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00