📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।

📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।


স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি অথবা অনুরূপ কিছু। সুতরাং যে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব অথবা গর্ব ও পক্ষপাতিত্ব করার উদ্দেশ্যে অনৈসলামিক পন্থা অবলম্বন করাটা জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ قَاتَلَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْসَ مِنَّا مَنْ مَاتَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ»। “যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির দিকে ডাকে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির উদ্দেশ্যে লড়াই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের নীতির ওপর মারা যায়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ এ স্বজনপ্রীতি ঐসব মারাত্মক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে মুসলিমগণ প্রাচীন কালে ও আধুনিক কালে জড়িয়ে গেছে এবং ঐ স্বজনপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত যা বর্তমানে মুসলিমগণের মাঝে চেপে বসেছে, যার প্রতি তারা আকৃষ্ট হয়েছে এবং যা তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদ ও সংকীর্ণ দেশাত্মবোধ এমন, যা মুসলিমগণকে বহু জনগোষ্ঠী ও জাতিতে বিভক্ত করেছে। আশা করা যায় বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিরেট জাহেলী জাতীয়বাদের মারাত্মক কুপ্রভাব মুসলিমদের ওপর কত গভীর তা স্পষ্ট করে দিবে। আরও স্পষ্ট করবে কিভাবে তারা যালেমকে কেবল জাতীয়তাবাদের জন্য সাহায্য-সহায়তা করতে সচেষ্ট হয়।

টিকাঃ
৫৩ এ শব্দগুলো আবু দাউদের, হাদীস নং- ৩৯০৪; সহীহ মুসলিম (অর্থগতভাবে) হাদীস নং- ১৮৪৮।
৫৪ এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি জাহেলী শ্লোগানের অধীনে ইরাক কর্তৃক কুয়েত আগ্রাসন। আর তা থেকে যা সৃষ্টি হয়, তা জাতীয়তাবাদী দলসমূহের পক্ষপাতমূলক সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর জাহেলী পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রবৃত্তির পূজারীগণ এ যুলুম ও সীমালংঘন করে।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।

📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।


মহররম মাসের দশম দিন তথা আশুরার দিনে একটি সাওম পালন করা। কারণ, ইয়াহূদীগণ এ কাজ করে। আর ইমাম আহমদ রহ. 'আল- মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «صوموا يوم عاشوراء، وخالفوا فيه اليهود، وصوموا قبله يوما أو بعده يوما»। “তোমরা 'আশুরার দিনে সাওম পালন কর এবং সে ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধচারণ কর; আর তোমরা তার পূর্বে একদিন অথবা তার পরে একদিন সাওম পালন কর”।

টিকাঃ
৫৫ ইমাম আবু দাউদ রহ. সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং- ৫১১৮।
৫৬ মুসনাদে আহমদ: ১/২৪১; আরও দেখুন: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৩৩।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 একবিংশতম: নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো।

📄 একবিংশতম: নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো।


নারীদের পক্ষে পরচুলা লাগানো। আর পরচুলা লাগানোর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন চুল স্থাপন করা, যা আল্লাহ নারীর জন্য সৃষ্টি করেন নি, যেমনটি ইয়াহুদীগণ করে থাকে। আর আমার দৃষ্টিতে তার দৃষ্টান্ত হলো যাকে 'বারুকা' নামে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ, তা পরচুলা ব্যবহারের পর্যায়ে পড়ে। যখন তার দ্বারা নারী তার প্রকৃতিগত চুলকে পরিবর্তন করে দেয়, তবে যখন আসলেই তার চুল না থাকে, তাহলে কতিপয় আলেম স্বামীর জন্য সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্য তাকে বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাছাড়া ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি এক গুচ্ছ পরচুলা প্রসঙ্গে বলেছেন: (আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এরূপ করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি), তিনি বলতেন: «إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ»। "বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এরূপ করা আরম্ভ করে"। আর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন: «ما كنت أرى أن أحدا يفعله إلا اليهود»। "আমি ইয়াহুদীগণ ব্যতীত অন্য কাউকে এরূপ কাজ করতে দেখতাম না”।

টিকাঃ
৫৭ সহীহ বুখারী, হাদীস নং- ৫৫৮৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৭৪২।
৫৮ দেখুন: ইবন তাইমিয়‍্যাহ, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকীম: ১/২৫৩।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 দ্বাবিংশতম: হৃদয়ের কঠোরতা।

📄 দ্বাবিংশতম: হৃদয়ের কঠোরতা।


হৃদয়ের কঠোরতা এবং আল্লাহর আয়াত ও যিকির শ্রবনে মন নরম না হওয়া। আর এটা ইয়াহূদীগণের বৈশিষ্ট্য, যা থেকে আল্লাহ তা'আলা নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: ﴿أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ﴾ [الحديد: ১৬] "যারা ঈমান এনেছে তাদের হৃদয় কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তার জন্য বিগলিত হওয়ার সময় আসে নি? আর তারা যেন তাদের মতো না হয়, যাদেরকে আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর বহু কাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অন্তরসমূহ কঠিন হয়ে পড়েছিল”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ১৬] আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে, তারা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00