📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 সপ্তদশতম: বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা।

📄 সপ্তদশতম: বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা।


বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা, শোক প্রকাশার্থে উচ্চস্বরে বিলাপের আয়োজন করা এবং অনুরূপ অন্য কিছু করা, যেমনটি জাহেলি যুগে করা হত! কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে বলেছেন: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ أَوْ শَقَّ الْجُيُوبَ أَوْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ »। “যে ব্যক্তি (মৃতের জন্য) গাল চাপড়াবে অথবা জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলবে অথবা জাহেলী যুগের মতো বিলাপ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”। আর আজকের মুসলিমগণের অনেকেই এ অভ্যাসে জড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৫১ সহীহ বুখারী ও মুসলিম

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 অষ্টাদশতম: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা।

📄 অষ্টাদশতম: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা।


বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, অন্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। আর এগুলো জাহেলিয়াতের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: «أَرْبَعُ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ : الْفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ, وَالنِّيَاحَةُ »। "আমার উম্মাতের মধ্যে জাহেলিয়াতের চারটি বিষয় রয়েছে, যা তারা ত্যাগ করছে না: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, অন্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা, গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং মৃতদের জন্য বিলাপ করা”।

টিকাঃ
৫২ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৯৩৫

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।

📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।


স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি অথবা অনুরূপ কিছু। সুতরাং যে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব অথবা গর্ব ও পক্ষপাতিত্ব করার উদ্দেশ্যে অনৈসলামিক পন্থা অবলম্বন করাটা জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ قَاتَلَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْসَ مِنَّا مَنْ مَاتَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ»। “যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির দিকে ডাকে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির উদ্দেশ্যে লড়াই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের নীতির ওপর মারা যায়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ এ স্বজনপ্রীতি ঐসব মারাত্মক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে মুসলিমগণ প্রাচীন কালে ও আধুনিক কালে জড়িয়ে গেছে এবং ঐ স্বজনপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত যা বর্তমানে মুসলিমগণের মাঝে চেপে বসেছে, যার প্রতি তারা আকৃষ্ট হয়েছে এবং যা তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদ ও সংকীর্ণ দেশাত্মবোধ এমন, যা মুসলিমগণকে বহু জনগোষ্ঠী ও জাতিতে বিভক্ত করেছে। আশা করা যায় বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিরেট জাহেলী জাতীয়বাদের মারাত্মক কুপ্রভাব মুসলিমদের ওপর কত গভীর তা স্পষ্ট করে দিবে। আরও স্পষ্ট করবে কিভাবে তারা যালেমকে কেবল জাতীয়তাবাদের জন্য সাহায্য-সহায়তা করতে সচেষ্ট হয়।

টিকাঃ
৫৩ এ শব্দগুলো আবু দাউদের, হাদীস নং- ৩৯০৪; সহীহ মুসলিম (অর্থগতভাবে) হাদীস নং- ১৮৪৮।
৫৪ এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি জাহেলী শ্লোগানের অধীনে ইরাক কর্তৃক কুয়েত আগ্রাসন। আর তা থেকে যা সৃষ্টি হয়, তা জাতীয়তাবাদী দলসমূহের পক্ষপাতমূলক সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর জাহেলী পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রবৃত্তির পূজারীগণ এ যুলুম ও সীমালংঘন করে।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।

📄 বিংশতম: মহররম মাসের দশম দিন দিনে শুধু একটি সাওম পালন করা।


মহররম মাসের দশম দিন তথা আশুরার দিনে একটি সাওম পালন করা। কারণ, ইয়াহূদীগণ এ কাজ করে। আর ইমাম আহমদ রহ. 'আল- মুসনাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «صوموا يوم عاشوراء، وخالفوا فيه اليهود، وصوموا قبله يوما أو بعده يوما»। “তোমরা 'আশুরার দিনে সাওম পালন কর এবং সে ক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধচারণ কর; আর তোমরা তার পূর্বে একদিন অথবা তার পরে একদিন সাওম পালন কর”।

টিকাঃ
৫৫ ইমাম আবু দাউদ রহ. সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং- ৫১১৮।
৫৬ মুসনাদে আহমদ: ১/২৪১; আরও দেখুন: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১১৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00