📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ষোড়শতম: কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো।

📄 ষোড়শতম: কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো।


কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে দাঁড়ানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। বিশেষ করে যখন ব্যক্তিটি এমন হয়, যার বিশেষ অবস্থান বা মর্যাদা রয়েছে এবং যখন সে মর্যাদাশীল ব্যক্তিগণের অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং (হাদীসের) অনেক ভাষ্যে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্য থেকে একটি হলো, যা বর্ণিত হয়েছে বসে বসে সালাত আদায়কারী ইমামের পিছনে মুক্তাদিদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা থেকে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে, যখন ইমামের জন্য আকস্মিকভাবে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, ফলে তিনি দাঁড়াতে সক্ষম হন না। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মুক্তাদির জন্য উচিত হবে ইমামের মতো বসে বসে সালাত আদায় করা, ঐসব বিদেশী (অনারব) ব্যক্তিদের অনুসরণ বা অনুকরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, যারা তাদের নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন, যা ইমাম আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ রহ. বর্ণনা করেছেন: «إِذَا صَلَّى الإِمَامُ جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ، وَإِذَا صَلَّى الإِمَامُ قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا ، وَلَا تَفْعَلُوا كَمَا يَفْعَلُ أَهْلُ فَارِسَ بِعُظَمَائِهَا !!»। "যখন ইমাম বসে বসে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে বসে সালাত আদায় করবে; আর যখন ইমাম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে, তখন তোমরাও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। আর তোমরা এমন আচরণ করবে না, পারস্যবাসীগণ তাদের নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে যে আচরণ করে"!!

অপর এক বর্ণনায় আছে: «لاَ تُعَظِّمُونِي كَمَا تُعَظِّمُ الْأَعَاجِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا»। "তোমরা আমার প্রতি এমনভাবে সম্মান প্রদর্শন করো না, যেমনিভাবে অনারব ব্যক্তিগণ একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করে"। আর ইমাম মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন: «إِنْ كِدْتُمْ آنِفِاً لَتَفْعَلُونَ فِعْلَ فَارِسَ وَالرُّومِ يَقُومُونَ عَلَى مُلُوكِهِمْ وَهُمْ قُعُودٌ »। "তোমরা এ মুহূর্তে যে কাজটি করেছ, তা পারস্য ও রোমবাসীদের অনুরূপ, তারা তাদের সম্রাটদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকে এবং সম্রাটগণ থাকেন বসে”। আর এ ঘটনাটি ঘটেছিল তখন, যখন সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে গেলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার কারণে বসে বসে সালাত আদায় করছিলেন।

টিকাঃ
৪৮ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৬০২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ১২৪০
৪৯ দেখুন: আবু দাউদ, হাদীস নং- ৫২৩০; তবে সুনান আবু দাউদের শব্দগুলো এ রকম: «لاَ تَقُومُوا كَمَا تَقُومُ الْأَعَاجِمُ يُعَظِّمُ بَعْضُهَا بَعْضًا (তোমরা এমনভাবে দাঁড়াবে না, যেমনিভাবে বিদেশী (অনারব) ব্যক্তিগণ একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করতে দাঁড়ায়)।
৫০ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৪১৩

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 সপ্তদশতম: বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা।

📄 সপ্তদশতম: বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা।


বিলাপ করার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওপর শোক প্রকাশ করা, শোক প্রকাশার্থে উচ্চস্বরে বিলাপের আয়োজন করা এবং অনুরূপ অন্য কিছু করা, যেমনটি জাহেলি যুগে করা হত! কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে বলেছেন: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ أَوْ শَقَّ الْجُيُوبَ أَوْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ »। “যে ব্যক্তি (মৃতের জন্য) গাল চাপড়াবে অথবা জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলবে অথবা জাহেলী যুগের মতো বিলাপ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”। আর আজকের মুসলিমগণের অনেকেই এ অভ্যাসে জড়িয়ে গেছে।

টিকাঃ
৫১ সহীহ বুখারী ও মুসলিম

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 অষ্টাদশতম: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা।

📄 অষ্টাদশতম: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা।


বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, অন্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। আর এগুলো জাহেলিয়াতের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেমন তিনি বলেছেন: «أَرْبَعُ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لَا يَتْرُكُونَهُنَّ : الْفَخْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ, وَالنِّيَاحَةُ »। "আমার উম্মাতের মধ্যে জাহেলিয়াতের চারটি বিষয় রয়েছে, যা তারা ত্যাগ করছে না: বংশ মর্যাদা নিয়ে গর্ব করা, অন্য বংশের প্রতি কটাক্ষ করা, গ্রহ-নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং মৃতদের জন্য বিলাপ করা”।

টিকাঃ
৫২ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৯৩৫

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।

📄 ঊনবিংশতম: স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি।


স্বজাতিপ্রীতি অথবা স্বদলপ্রীতি অথবা স্বদেশপ্রীতি অথবা অনুরূপ কিছু। সুতরাং যে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব অথবা গর্ব ও পক্ষপাতিত্ব করার উদ্দেশ্যে অনৈসলামিক পন্থা অবলম্বন করাটা জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহীহ হাদীসে বলেছেন: «لَيْسَ مِنَّا مَنْ دَعَا إِلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْسَ مِنَّا مَنْ قَاتَلَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ، وَلَيْসَ مِنَّا مَنْ مَاتَ عَلَى عَصَبِيَّةٍ»। “যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির দিকে ডাকে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতির উদ্দেশ্যে লড়াই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে ব্যক্তি স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের নীতির ওপর মারা যায়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ এ স্বজনপ্রীতি ঐসব মারাত্মক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যাতে মুসলিমগণ প্রাচীন কালে ও আধুনিক কালে জড়িয়ে গেছে এবং ঐ স্বজনপ্রীতির অন্তর্ভুক্ত যা বর্তমানে মুসলিমগণের মাঝে চেপে বসেছে, যার প্রতি তারা আকৃষ্ট হয়েছে এবং যা তাদেরকে বিভক্ত করে দিয়েছে। জাতীয়তাবাদ ও সংকীর্ণ দেশাত্মবোধ এমন, যা মুসলিমগণকে বহু জনগোষ্ঠী ও জাতিতে বিভক্ত করেছে। আশা করা যায় বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিরেট জাহেলী জাতীয়বাদের মারাত্মক কুপ্রভাব মুসলিমদের ওপর কত গভীর তা স্পষ্ট করে দিবে। আরও স্পষ্ট করবে কিভাবে তারা যালেমকে কেবল জাতীয়তাবাদের জন্য সাহায্য-সহায়তা করতে সচেষ্ট হয়।

টিকাঃ
৫৩ এ শব্দগুলো আবু দাউদের, হাদীস নং- ৩৯০৪; সহীহ মুসলিম (অর্থগতভাবে) হাদীস নং- ১৮৪৮।
৫৪ এর দ্বারা আমি বুঝাতে চাচ্ছি জাহেলী শ্লোগানের অধীনে ইরাক কর্তৃক কুয়েত আগ্রাসন। আর তা থেকে যা সৃষ্টি হয়, তা জাতীয়তাবাদী দলসমূহের পক্ষপাতমূলক সহযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। আর জাহেলী পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রবৃত্তির পূজারীগণ এ যুলুম ও সীমালংঘন করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00