📄 অষ্টমত: সালাতের মধ্যে ‘সাদল’ বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখা।
সালাতের মধ্যে 'সাদল' বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে কাফিরদের অনুকরণ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এসেছে; আরও নিষেধ করা হয়েছে (সালাতের মধ্যে) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মুখ ঢেকে রাখাকে, যাকে 'তালাচ্ছুম' বা 'মুখোশ পড়া' বলে আখ্যায়িত করা হয়; কারণ, এটা ইয়াহূদীদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে। ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমদ ও হাকেম রহ. হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকেম রহ.) সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে বলেছেন: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ ، وَأَنْ يُغَطَّيَ الرَّجُلُ فَاهُ »। “নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে 'সাদল' বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে এবং (সালাতের মধ্যে) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন"। সাহাবীগণের কেউ কেউ এর কারণ বর্ণনা করেছেন এই বলে যে, নিশ্চয় তা ইয়াহূদীদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
* السدل في الصلاة -এর ব্যখ্যা: কাপড় ঝুলিয়ে রাখা, আর তা হলো সে তার এক কাঁধের উপর কাপড় রাখবে এবং অপর কাঁধের উপর রাখবে না।
৩৫ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৬৪৩; তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৭৮; আহমদ ও হাকেম।
📄 ত্রয়োদশতম: ইফতারকে বিলম্বিত করা।
ইফতারকে বিলম্বিত করা। কারণ, সাওম পালনকারীর জন্য দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত এবং তা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধাচরণ করা। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَلَ النَّاسُ الْفِطْرَ ، لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ»। “দীন ততক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ লোকজন দ্রুত ইফতার করবে। কারণ, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানগণ ইফতারকে বিলম্বিত করে”।
আর কিছু সংখ্যক মানুষ এ অভ্যাসে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে; আর এটি বেশি পরিমাণে দেখা যায় শি'আ-রাফেযী সম্প্রদায়ের মধ্যে। কারণ, শি'আরা মাগরিবের সালাতকে বিলম্বিত করে এবং তারা ইফতারকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে!! অনুরূপভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ সতর্কতা অবলম্বনের নামে ও দীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ অবলম্বন করার দিক থেকে ইফতার করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করে থাকে। এসব লোক কখনও কখনও মুয়াযযিনদের প্রতিও আস্থা রাখে না, এমনকি তারা তাদের নিজ চোখে সূর্য অস্ত দেখার প্রতিও আস্থা রাখতে পারে না; ফলে তারা তাদের পক্ষ থেকে এটাকে সতর্কতার পর্যায় মনে করে ইফতারের সময়কে বিলম্বিত করে। বস্তুত এটা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে এক ধরনের কুমন্ত্রণা (সংশয়) ও তামাশা। কারণ, তা করা মানেই তো নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। কারণ সাহরী খাওয়াকে বিলম্বিত করা এবং ইফতার শুরু করতে দেরী না করাই হলো সুন্নাত।
হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, ইয়াহূদীগণ মাগরিবের সালাতকে ঘন হয়ে তারকারাজি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, আর অনুরূপভাবে ইবন মাজাহ ও আহমদ রহ. (আল-মুসনাদে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لا تزال أمتى على الفطرة ما لم يؤخروا المغرب إلى اشتباك النجوم »। "আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতক্ষণ তারা মাগরিবের সালাতকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত দেরী না করবে (অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে)।” আর এ বিষয়টিকে অন্যান্য হাদীসসমূহে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের কর্মের অনুরূপ।
টিকাঃ
৪৩ আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৩৫৩; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ১৬৯৮; হাকেম রহ., আল- মসতাদরাক: ১/৪৩১ এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন।
৪৪ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪১৮; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ৬৮৯; আহমদ: ৩/৪৪৯; হাকেম রহ. (আল-মসতাদরাক) এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন, ১/১৯০, ১৯১
৪৫ ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. তার সনদকে সা'ঈদ ইবন মানসুরের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, ইবন তাইমিয়্যাহ, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকীম: ১/১৮৪; ইমাম আহমদ রহ.-এর মতও অনুরূপ। আল-মুসনাদ: ৪/৩৪৯; ইবন আবি হাতেম, আল-মারাসীল: ১২১।
📄 চতুর্দশতম: ঋতুবতী নারীদেরকে বয়কট করা।
একত্রে খাওয়া এবং ঘরে এক সঙ্গে অবস্থান করা ও বসার ক্ষেত্রে ঋতুবর্তী নারীদেরকে বয়কট করা। কারণ, এমন আচরণ ইয়াহূদীদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, তাদের স্ত্রীগণ যখন ঋতুবর্তী হত, তখন তারা তাদেরকে খাওয়ার সময় এবং ঘরে একত্রে বসার সময় বয়কট করে চলত। যখন নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুসলিমগণের কেউ কেউ, যারা মদীনাতে ইয়াহুদীদের (এ ধরনের) কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন, তারা এরূপ আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করে বলেন: «اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلَّا النَّكَاحَ»। “তোমরা সঙ্গম ব্যতীত (তাদের সাথে) সবকিছুই কর”।
টিকাঃ
৪৬ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৩০২
📄 পঞ্চদশতম: সূর্য উদয় এবং অস্তের সময় সালাত আদায় করা।
সূর্য উদয় এবং অস্তের সময় সালাত আদায়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা। কেননা, সূর্য উদিত হয় শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে এবং কাফিরগণ তা উদয় ও অস্ত যাওয়ার সময় তাকে সাজদাহ করে। আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ এক হাদীসের মধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, যা ইমাম মুসলিম রহ. 'আমর ইবন 'আবাসা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন আর তার অংশ বিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «... صَلِّ صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ، فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَى شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ .... ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَى شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ......»। "...ফজরের সালাত কর। অতঃপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত তুমি সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ, সূর্য উদিত হয়, যখন তা উদিত হয় শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে এবং সেই সময় কাফিরগণ তাকে সাজদাহ করে।...অতঃপর তুমি সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাক। কারণ, সূর্য অস্তমিত হয় শয়তানের দুই শিং-এর মাঝখান দিয়ে এবং সেই সময় কাফিরগণ তাকে সাজদাহ করে।..."
টিকাঃ
৪৯ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৮৩২