📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ষষ্ঠত: জুতা পরিধান করে সালাত আদায় না করা।

📄 ষষ্ঠত: জুতা পরিধান করে সালাত আদায় না করা।


কাফিরদের অনুকরণ করার ব্যাপারে আরও নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং সেখানে বিশেষ করে ইয়াহূদীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ, তারা জুতা ও মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করে না। সুতরাং স্থায়ীভাবে অথবা ইবাদত মনে করে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা পরিহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তার সাথে কোনো ময়লা যুক্ত না হয়। কারণ এতে ইয়াহূদীদের কাজের বিপরীত করা হবে। যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. এবং হাকেম রহ. বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, আর যাহাবী রহ. তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَالِفُوا الْيَهُودَ، فَإِنَّهُمْ لَا يُصَلُّونَ فِي نِعَالِهِمْ وَلَا خِفَافِهِمْ»। “তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধাচরণ কর; কারণ, তারা তাদের জুতা ও মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করে না”।

অনেক অজ্ঞ ও বিদ'আতী লোকই এ হাদীসের বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত। যারা এ সুন্নাতটির উপর আমল করাকে অপছন্দ করে। অবশ্য আলেমগণের নিকট জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করার বিষয়টি (জুতার সাথে) ময়লা বিদ্যমান না থাকার শর্তে (সুন্নাত)। কিন্তু যদি মসজিদ কার্পেট করা হয় এবং মসজিদের বাইরের পথ সংশ্লিষ্ট জমিন অপবিত্র হয়, যেমনটি শহরগুলোর মধ্যে হয়ে থাকে, তখন বিছানার উপরে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা শরী'আতের সম্মত নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মাটি বা বালির উপর সালাত আদায় করতেন এবং সেই সময়ে মাসজিদের সমতল ভূমিতে বিছানা বা পাকা ছিল না। আর তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য তখনই তা সুন্নাত হবে, যখন সে ফ্লোর পাকা বা কার্পেটিং করা মসজিদের বাইরে অন্য কোনো স্থানে তার জুতা পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের আনুগত্যস্বরূপ কখনও কখনও সালাত আদায় করে, তবে স্থায়ীভাবে নয়; কারণ, পূর্ববর্তী আলেমগণের নিকট থেকে এটা স্থায়ীভাবে করা প্রমাণিত নয়।

টিকাঃ
৩২ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৬৫২; হাকেম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। আর যাহাবী রহ. তাঁর বর্ণনার মত বর্ণনা করেছেন: ১/২৬০

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 সপ্তমত: নির্ধারিত দণ্ডবিধি প্রয়োগে পার্থক্য সৃষ্টি করা।

📄 সপ্তমত: নির্ধারিত দণ্ডবিধি প্রয়োগে পার্থক্য সৃষ্টি করা।


নির্ধারিত দণ্ডবিধি এবং অন্যান্য পুরস্কার, তিরস্কার বা শাস্তি ও আইন প্রয়োগে সম্ভ্রান্ত ও অসম্ভ্রান্তের ব্যাপারে পার্থক্য সৃষ্টি করা, যেমনটি ইয়াহুদীগণ করত। সহীহ বুখারী ও মুসলিমে উসামা ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক মাখযুম গোত্রের এক মহিলা চোরের পক্ষে সুপারিশ করার কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «يا أسامة أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟ إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَ إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ. وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا »। “হে উসামা! তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তিসমূহের মধ্য থেকে একটি শাস্তি (চুরির শাস্তি হাত কাটা) মওকুফের ব্যাপারে সুপারিশ করছ? তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে (বনী ইসরাঈলকে) এ কাজই ধ্বংস করেছে যে, যখন তাদের মধ্যে কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অপরদিকে যখন কোনো দুর্বল (দরিদ্র) লোক চুরি করত, তখন তারা তার ওপর হদ তথা হাতকাটার দণ্ডবিধি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে ফেলতাম"।

টিকাঃ
৩৩ সহীহ বুখারী/ফাতহুল বারী, হাদীস নং- ৩৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১৬৮৮

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 অষ্টমত: সালাতের মধ্যে ‘সাদল’ বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখা।

📄 অষ্টমত: সালাতের মধ্যে ‘সাদল’ বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখা।


সালাতের মধ্যে 'সাদল' বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখার ব্যাপারে কাফিরদের অনুকরণ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এসেছে; আরও নিষেধ করা হয়েছে (সালাতের মধ্যে) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মুখ ঢেকে রাখাকে, যাকে 'তালাচ্ছুম' বা 'মুখোশ পড়া' বলে আখ্যায়িত করা হয়; কারণ, এটা ইয়াহূদীদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে। ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমদ ও হাকেম রহ. হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকেম রহ.) সহীহ বুখারী ও মুসলিমের শর্তের ভিত্তিতে বলেছেন: «إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ ، وَأَنْ يُغَطَّيَ الرَّجُلُ فَاهُ »। “নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মধ্যে 'সাদল' বা কাপড় ঝুলিয়ে রাখতে এবং (সালাতের মধ্যে) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন"। সাহাবীগণের কেউ কেউ এর কারণ বর্ণনা করেছেন এই বলে যে, নিশ্চয় তা ইয়াহূদীদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
* السدل في الصلاة -এর ব্যখ্যা: কাপড় ঝুলিয়ে রাখা, আর তা হলো সে তার এক কাঁধের উপর কাপড় রাখবে এবং অপর কাঁধের উপর রাখবে না।
৩৫ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৬৪৩; তিরমিযী, হাদীস নং- ৩৭৮; আহমদ ও হাকেম।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 ত্রয়োদশতম: ইফতারকে বিলম্বিত করা।

📄 ত্রয়োদশতম: ইফতারকে বিলম্বিত করা।


ইফতারকে বিলম্বিত করা। কারণ, সাওম পালনকারীর জন্য দ্রুত ইফতার করা সুন্নাত এবং তা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধাচরণ করা। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَلَ النَّاسُ الْفِطْرَ ، لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ»। “দীন ততক্ষণ পর্যন্ত স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকবে, যতক্ষণ লোকজন দ্রুত ইফতার করবে। কারণ, ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানগণ ইফতারকে বিলম্বিত করে”।

আর কিছু সংখ্যক মানুষ এ অভ্যাসে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে; আর এটি বেশি পরিমাণে দেখা যায় শি'আ-রাফেযী সম্প্রদায়ের মধ্যে। কারণ, শি'আরা মাগরিবের সালাতকে বিলম্বিত করে এবং তারা ইফতারকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে!! অনুরূপভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ সতর্কতা অবলম্বনের নামে ও দীনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির পথ অবলম্বন করার দিক থেকে ইফতার করার ক্ষেত্রে বিলম্ব করে থাকে। এসব লোক কখনও কখনও মুয়াযযিনদের প্রতিও আস্থা রাখে না, এমনকি তারা তাদের নিজ চোখে সূর্য অস্ত দেখার প্রতিও আস্থা রাখতে পারে না; ফলে তারা তাদের পক্ষ থেকে এটাকে সতর্কতার পর্যায় মনে করে ইফতারের সময়কে বিলম্বিত করে। বস্তুত এটা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে এক ধরনের কুমন্ত্রণা (সংশয়) ও তামাশা। কারণ, তা করা মানেই তো নিষিদ্ধ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। কারণ সাহরী খাওয়াকে বিলম্বিত করা এবং ইফতার শুরু করতে দেরী না করাই হলো সুন্নাত।

হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, ইয়াহূদীগণ মাগরিবের সালাতকে ঘন হয়ে তারকারাজি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত করে। ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, আর অনুরূপভাবে ইবন মাজাহ ও আহমদ রহ. (আল-মুসনাদে) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لا تزال أمتى على الفطرة ما لم يؤخروا المغرب إلى اشتباك النجوم »। "আমার উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, যতক্ষণ তারা মাগরিবের সালাতকে তারকারাজি ঘন হয়ে দেখা দেওয়া পর্যন্ত দেরী না করবে (অর্থাৎ সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াতাড়ি ইফতার করবে)।” আর এ বিষয়টিকে অন্যান্য হাদীসসমূহে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, তা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের কর্মের অনুরূপ।

টিকাঃ
৪৩ আবু দাউদ, হাদীস নং- ২৩৫৩; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ১৬৯৮; হাকেম রহ., আল- মসতাদরাক: ১/৪৩১ এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন।
৪৪ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৪১৮; ইবন মাজাহ, হাদীস নং- ৬৮৯; আহমদ: ৩/৪৪৯; হাকেম রহ. (আল-মসতাদরাক) এবং তিনি হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম রহ. এর শর্তের বিচারে বিশুদ্ধ বলেছেন, ১/১৯০, ১৯১
৪৫ ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. তার সনদকে সা'ঈদ ইবন মানসুরের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, ইবন তাইমিয়‍্যাহ, ইকতিদাউস সিরাতিল মুসতাকীম: ১/১৮৪; ইমাম আহমদ রহ.-এর মতও অনুরূপ। আল-মুসনাদ: ৪/৩৪৯; ইবন আবি হাতেম, আল-মারাসীল: ১২১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00