📄 তৃতীয়ত: নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া।
মুসলিমগণ কাফেরদের সাথে যে বিষয়ে সবচেয়ে বড় ও বিপদজনক পর্যায়ে অনুসরণ-অনুকরণের মাধ্যমে সামঞ্জস্যতা বিধান করছে তা হলো, নারীদের মাধ্যমে ফেতনায় নিপতিত হওয়া। কেননা, এটা কাফিরদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নারীদের মাধ্যমে ফেতনায় নিপতিত হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে তাদের নির্দিষ্ট বলয় থেকে এবং তাদের পর্দা ও শালীনতা থেকে বের করা, যাতে তাদের প্রতি পুরুষগণ আকৃষ্ট হয়।
আর এসব বিষয়ে নারীদেরকে বিশেষভাবে গ্রহণ করার কারণ:
১. নারীগণ দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়।
২. তারা এ ক্ষেত্রে অতিবেশি অনুসরণ, অনুকরণ ও অতিরঞ্জন প্রিয়।
৩. নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পুরুষকে প্রলুব্ধ করা ও তার জন্য সাজগোজ করার স্বভাব দিয়ে। আর পুরুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে শালীনতাবিহীন, পর্দাহীন সুসজ্জিতা নারীর প্রতি ঝুঁকে পড়ার স্বভাব দিয়ে।
আর আহলে কিতাব ও কাফিরদের বহু স্বভাব, চরিত্র ও উৎসবের অনুসরণ- অনুকরণ প্রথমেই নারীরা করে থাকে, অতঃপর শিশু ও সাদাসিধে বোকা লোকেরা করে থাকে। আর দুঃখের বিষয় যে, এ প্রবণতা অর্থাৎ নারীদের ফেতনায় নিপতিত হওয়া, এ যুগের মুসলিমগণের অধিকাংশ পুরুষ এতে জড়িয়ে পড়েছে। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: «... فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ »। "...সুতরাং তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর, আর ভয় কর নারীদেরকে; কারণ, বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা সংঘটিত হয়েছিল নারীদেরকে নিয়ে"।
সুতরাং যখন নারীকে কিছু পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং যখন পুরুষগণ নারীদের প্রতি কোমল হবে, তখন তা যেন আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে হয়। কিন্তু যখন তারা শালীনতা ও পর্দার মূলনীতি থেকে সরে যাবে, তখন এটা হবে ফেতনা ও বিপর্যয়ের পথ। আর সাধারণত যখনই মুসলিম জাতি এ রকম বিপর্যয়ে জড়ি পড়বে তখনই তা তাদের দীন ও দুনিয়াকে ধ্বংস করবে এবং তাদের ওপর ফেতনা-ফাসাদ ভর করবে।
টিকাঃ
২৭ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৭৪২
২৮ নারীকে সম্মান করা একটি শরী'য়ত সম্মত বিষয় আর তাকে সম্মান করার অর্থ আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার আনুগত্য করা নয় এবং তার জন্য পুরুষ কর্তৃক তার পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া নয়, যেমনটি আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন।
📄 চতুর্থত: শুভ্র কেশে রং ব্যবহার না করা।
কাফিরদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্ম হওয়ার কারণে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব বিষয়ে নিষেধ করেছেন, তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানগণের অনুকরণার্থে শুভ্র কেশে রং ব্যবহার না করা। কারণ, সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে এসেছে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبُغُونَ فَخَالِفُوهُمْ »। “নিশ্চয় ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানগণ (দাঁড়ি ও চুলে) রং বা খেযাব লাগায় না। অতএব, তোমরা (রং বা খেযাব লাগিয়ে) তাদের বিপরীত কাজ কর”। তবে এ ক্ষেত্রে কালো রং পরিহার করতে হবে, যেমনটি (হাদীসের) অন্যান্য ভাষ্য থেকে জানা যায়।
টিকাঃ
২৯ সহীহ বুখারী/ফাতহুল বারী, হাদীস নং- ৩৪৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২১০৩।
📄 পঞ্চমত: দাড়ি মুণ্ডন করা ও গোঁফ কামিয়ে ফেলা।
দাড়ি মুণ্ডন করা ও গোঁফ কামিয়ে ফেলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে; কারণ, এ কাজটিকে মুশরিক, অগ্নিপূজক, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের অনুকরণ বলে গণ্য করা হয়। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু হাদীসের মধ্যে দাঁড়ি লম্বা করা ও গোঁফ ছোট করার নির্দেশটি বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কারণ বর্ণনা করেছেন এই বলে যে, তা হলো মুশরিক ও অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধাচরণ। তিনি বলেছেন: «خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ، أَحْفُوا الشَّوَارِبَ، وَأَوْفُوا اللَّحَى»। "তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবে, তোমরা গোঁফ ছোট করবে এবং দাড়ি লম্বা রাখবে।"
অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ»। "তোমরা গোঁফ কেটে ফেল"। যেমনটি ইমাম মুসলিম রহ. থেকেও বর্ণিত হয়েছে: «جُزُّوا الشَّوَارِبَ، وَأَرْخُوا اللِّحَى، خَالِفُوا الْمَجُوسَ»। "তোমরা গোঁফ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা কর আর (এভাবেই) তোমরা অগ্নি পূজকদের বিরুদ্ধাচরণ কর”।
টিকাঃ
৩০ সহীহ বুখারী/ফাতহুল বারী, হাদীস নং- ৫৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৫৯
৩১ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৬০
📄 ষষ্ঠত: জুতা পরিধান করে সালাত আদায় না করা।
কাফিরদের অনুকরণ করার ব্যাপারে আরও নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং সেখানে বিশেষ করে ইয়াহূদীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ, তারা জুতা ও মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করে না। সুতরাং স্থায়ীভাবে অথবা ইবাদত মনে করে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা পরিহার করতে নিষেধ করা হয়েছে, যতক্ষণ না তার সাথে কোনো ময়লা যুক্ত না হয়। কারণ এতে ইয়াহূদীদের কাজের বিপরীত করা হবে। যেমনটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু দাউদ ও হাকেম রহ. এবং হাকেম রহ. বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন, আর যাহাবী রহ. তার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَالِفُوا الْيَهُودَ، فَإِنَّهُمْ لَا يُصَلُّونَ فِي نِعَالِهِمْ وَلَا خِفَافِهِمْ»। “তোমরা ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধাচরণ কর; কারণ, তারা তাদের জুতা ও মোজা পরিধান করে সালাত আদায় করে না”।
অনেক অজ্ঞ ও বিদ'আতী লোকই এ হাদীসের বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত। যারা এ সুন্নাতটির উপর আমল করাকে অপছন্দ করে। অবশ্য আলেমগণের নিকট জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করার বিষয়টি (জুতার সাথে) ময়লা বিদ্যমান না থাকার শর্তে (সুন্নাত)। কিন্তু যদি মসজিদ কার্পেট করা হয় এবং মসজিদের বাইরের পথ সংশ্লিষ্ট জমিন অপবিত্র হয়, যেমনটি শহরগুলোর মধ্যে হয়ে থাকে, তখন বিছানার উপরে জুতা পরিধান করে সালাত আদায় করা শরী'আতের সম্মত নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো মাটি বা বালির উপর সালাত আদায় করতেন এবং সেই সময়ে মাসজিদের সমতল ভূমিতে বিছানা বা পাকা ছিল না। আর তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য তখনই তা সুন্নাত হবে, যখন সে ফ্লোর পাকা বা কার্পেটিং করা মসজিদের বাইরে অন্য কোনো স্থানে তার জুতা পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের আনুগত্যস্বরূপ কখনও কখনও সালাত আদায় করে, তবে স্থায়ীভাবে নয়; কারণ, পূর্ববর্তী আলেমগণের নিকট থেকে এটা স্থায়ীভাবে করা প্রমাণিত নয়।
টিকাঃ
৩২ আবু দাউদ, হাদীস নং- ৬৫২; হাকেম রহ. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি হাদীসটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন। আর যাহাবী রহ. তাঁর বর্ণনার মত বর্ণনা করেছেন: ১/২৬০