📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 চতুর্থ বিষয়: যেসব বিষয়ে কাফিরগণ ও অন্যান্যদের অনুকরণ করার ব্যাপারে ব্যাপক ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

📄 চতুর্থ বিষয়: যেসব বিষয়ে কাফিরগণ ও অন্যান্যদের অনুকরণ করার ব্যাপারে ব্যাপক ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।


আর তা চার চার প্রকার:

প্রথম প্রকার: আকীদার বিষয়সমূহ: আর এগুলো অনুকরণের বিষয়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক। বস্তুত এসব ক্ষেত্রে অনুসরণ-অনুকরণ করা কুফরী ও শির্ক। উদাহরণস্বরূপ, সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের পবিত্রতার গুণগান বর্ণনা করা। আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার ইবাদাত করা; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার সৃষ্ট কাউকে আল্লাহর কন্যা বা পুত্র বলে দাবি করা, যেমন খ্রিষ্টানগণ বলে: মাসীহ আল্লাহর পুত্র এবং ইয়াহূদীগণ বলে: উযায়ের আল্লাহর পুত্র। অনুরূপভাবে দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ তা'আলা যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে বিচার-ফয়সালা করা। আর এর থেকে যেসব কুফুরী ও শির্কী বিষয়সমূহ শাখা-প্রশাখা হিসেবে বের হয়ে আসবে, সেগুলো সবই আকীদাগত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় প্রকার: যা উৎসবের সাথে সংশ্লিষ্ট: আর উৎসবসমূহের অধিকাংশ যদিও ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, তবে তা কখনও কখনও প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়ে থাকে। সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে শরী'আতের বহু ভাষ্যে বিশেষভাবে সেগুলোতে কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণ করা থেকে জোরালোভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আর তাই দেখা যায় যে, মুসলিমদেরকে বছরে দু'টি 'ঈদ উৎসব পালনের ওপর সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং বাকী যেসব উৎসব রয়েছে যেমন, জন্ম উৎসব, জাতীয় বিভিন্ন উৎসব কিংবা নিয়মিত উৎসবসমূহ, যা বছরে একদিন পালিত হয় অথবা মাসে একদিন পালিত হয় অথবা পালাক্রমে একদিন পালিত হয় অথবা প্রতি সপ্তাহে একদিন পালিত হয়, যা জাতির লোকেরা নিয়ম করে পালন করে থাকে -এ সব উৎসবের সবই সুস্পষ্টভাবে হাদীসে আগত নিষিদ্ধ অনুসরণ-অনুকরণের অন্তর্ভুক্ত।

তৃতীয় প্রকার: ইবাদত। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আগত শরী'আতে ইবাদাতের ক্ষেত্রে কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণ করা থেকে নিষিদ্ধ করে বহু বক্তব্য বিস্তারিতভাবে এসেছে। তন্মধ্যে অনেক বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বক্তব্য এসেছে, যাতে আমাদেরকে কাফিরদের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন, মাগরিবের সালাত বিলম্ব করে আদায় করা, সাহরী না খাওয়া, বিলম্বে ইফতার করা ইত্যাদি, যে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসছে।

চতুর্থ প্রকার: প্রথা, নৈতিক চরিত্র ও আচার-আচরণ: উদাহরণস্বরূপ পোষাক-পরিচ্ছদ। এটাকে 'প্রকাশ্য আদর্শ বা সুস্পষ্ট রীতি-নীতি' বলা হয়ে থাকে। বস্তুত প্রকাশ্য আদর্শ বলতে বুঝায়, আকার-আকৃতি ও বেশভূষার আদর্শ যেমন পোষাক। অনুরূপভাবে চালচলন ও চারিত্রিক রীতি-নীতি। এসব ক্ষেত্রেও অনুকরণ-অনুসরণের নিষিদ্ধ করে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত উভয়ভাবেই সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। যেমন, দাড়ি মুণ্ডন করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, স্বর্ণের পাত্র ব্যবহার করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, কাফিরদের ইউনিফর্ম জাতীয় পোষাক পরিধান করা থেকে নিষেধাজ্ঞা, নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করা ও নারী-পুরুষে মেলামেশা করা থেকে এবং পুরুষগণ কর্তৃক নারীদের (বেশভূষার) অনুকরণ করা এবং নারীগণ কর্তৃক পরুষদের অনুকরণ করা, ইত্যাদি বিবিধ প্রথা থেকে নিষেধাজ্ঞা।

টিকাঃ
১০ অর্থাৎ সত্য ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, তবে তা গবেষণাগত বিষয়ে মতবিরোধ করার মধ্যে গণ্য হবে না। কারণ, তাকে দীনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা বলে গণ্য করা হয় না।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 পঞ্চম বিষয়: التشبه (অনুকরণ) এর বিধানাবলী প্রসঙ্গে।

📄 পঞ্চম বিষয়: التشبه (অনুকরণ) এর বিধানাবলী প্রসঙ্গে।


অনুসরণ-অনুকরণ সংক্রান্ত সকল বিধান বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান ও পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে একত্রিত করা সম্ভব নয়। কারণ, অনুসরণ-অনুকরণ করার প্রত্যেকটি অবস্থার জন্য একটি বিধান রয়েছে, যা আলেম ও দীনের জ্ঞানে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের পক্ষ থেকে হাদীসের বক্তব্য ও শরী'আতে মূলনীতিসমূহের সামনে পেশ করে গ্রহণ করতে হয়।

কিন্তু এমন কতিপয় সাধারণ বিধান রয়েছে, যা অনুসরণ-অনুকরণের সকল প্রকারকে বিস্তারিতভাবে না হলেও মোটামুটিভাবে বিন্যস্ত করে। যেমন,

প্রথমত: কাফিরদের অনুসরণ-অনুকরণ করার মধ্যে এমন কিছু প্রকার রয়েছে, যা শির্ক অথবা কুফরী; যেমন, আকীদার ক্ষেত্রে অনুসরণ বা অনুকরণ করা এবং কোনো কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে অনুকরণ করা। যেমন তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদ ও আকীদা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও অগ্নিপূজকের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করা। উদাহরণত: 'তা'ত্বীল' নীতিতে বিশ্বাস করা। আর তা হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণাবলীকে অস্বীকার করা এবং তাতে বক্রপন্থা অবলম্বন করা। আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক সৃষ্ট কোনো ব্যক্তির মধ্যে তাঁর অবস্থান করার এবং সৃষ্টির সাথে তাঁর মিশে যাওয়ার আকীদা পোষণ করা। নবী ও সৎ ব্যক্তিগণের পবিত্রতা বর্ণনায় গুণাগুণ করা, তাদের পূজা করা এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদেরকে আহ্বান করা, আর মানব রচিত আইন-কানুন ও বিধিবিধানকে সালিস মানা -এসব কিছু হয় শির্ক, না হয় কুফরী।

দ্বিতীয়ত: কাফেরদের অনুসরণ-অনুকরণ করার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা অবাধ্যতা ও ফাসেকী (পাপাচারিতা) হিসেবে গণ্য। যেমন, কোনো কোনো প্রথা ও আচার-আচরণের ক্ষেত্রে কাফিরদের অনুসরণ করা। উদাহরণত, বাম হাতে খাওয়া ও পান করা, পুরুষগণ কর্তৃক স্বর্ণের আংটি ও গহনা ব্যবহার করা, দাঁড়ি মুণ্ডন করা, নারীগণ কর্তৃক পরুষদের (বেশভূষার) অনুকরণ করা এবং পুরুষগণ কর্তৃক নারীদের অনুকরণ করা ইত্যাদি।

তৃতীয়ত: যা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়: আর তা হলো এমন বিষয়, যা নিয়ে সিদ্ধান্ত পেশ করার সময় হালাল ও হারামের মাঝে হুকুম দেওয়ার প্রশ্নে অস্পষ্টতার কারণে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় অর্থাৎ কোনো কোনো অভ্যাস ও চাল-চলন ও পার্থিব বিষয়াদির ব্যাপারে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) ও মুবাহ (বৈধ) হওয়ার মাঝে দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, তখন মুসলিমগণ কর্তৃক (কাফিরদের) অনুকরণে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে প্রতিরোধ করার জন্য তার হুকুমটি মাকরূহ হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে।

আর একটি প্রশ্ন অবশিষ্ট থেকে যায়: কাফিরদের এমন কোনো কাজ আছে কিনা, যা বৈধ?

জবাবে আমি বলব: পার্থিব কর্মকাণ্ডসমূহের মধ্য থেকে যা তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা বৈধ বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ যার মধ্যে এমন কোনো লক্ষণ নেই, যা তাদেরকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করে এবং তাদেরকে সৎকর্মশীল মুসলিমগণের মধ্য থেকে আলাদা করে দেয়। আরও বৈধ বলে গণ্য হবে তা, যা মুসলিমগণের ওপর বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় টেনে আনবে না অথবা যা কাফিরদের জন্য এমন কোনো সুবিধা টেনে আনবে না, যা মুসলিমগণকে অপদস্থ করার দিকে ধাবিত করে এবং এইরূপ অন্যান্য বিষয়াদি। অনুরূপভাবে কাফেরদের দ্বারা উৎপাদিত বা প্রস্তুতকৃত নির্ভেজাল বস্তুও বৈধ, যাতে তাদের অনুসরণ বা অনুকরণ করার ক্ষেত্রে মুসলিমগণ কোনো প্রকার ক্ষতির শিকার হবে না। তদ্রূপ শুধু দুনিয়াবী জ্ঞান-বিজ্ঞান, যা আকীদা ও নৈতিক চরিত্রকে আক্রান্ত করে না, তা বৈধ কর্মের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আবার কখনও কখনও কাফিরদের নিকট যে নির্ভেজাল দুনিয়াবী জ্ঞান-বিজ্ঞান রয়েছে, তা থেকে ফায়দা হাসিল করা মুসলিমগণের ওপর আবশ্যকও হয়ে যায়। এখানে 'নির্ভেজাল' শব্দের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন জ্ঞান, যাতে তাদের এমন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি অথবা নিদর্শন পাওয়া যায় না, যা (কুরআন ও সুন্নাহর) বক্তব্যসমূহে অথবা শরী'আতের মূলনীতিমালায় আঘাত করে অথবা মুসলিমগণকে অপমান ও লাঞ্ছনার মধ্যে নিক্ষেপ করে। এগুলো ছাড়া বাকি সব বৈধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে।

অতএব, আকীদা-বিশ্বাস, ইবাদত ও উৎসবসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কাফেরদের অনুসরণ-অনুকরণ হারাম হওয়ার বিষয়টি অকাট্য! অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রে কাফিরদের অনুকরণ করা হারাম হওয়ার বিষয়টি অকাট্যভাবে সাব্যস্ত! এগুলোর নিম্ন পর্যায়ে যা রয়েছে, সেটি হয় তাদের প্রথার শ্রেণিভুক্ত হবে। তখন যদি দেখা যায় যে, তা তাদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে তা হারাম বলে গণ্য হবে! আর যদি তা তাদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে বিধানটি হারাম (নিষিদ্ধ), মাকরূহ (অপছন্দনীয়) ও মুবাহ (বৈধ) হওয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। আর তা যদি সাধারণ শিল্প ও অস্ত্র শিল্প প্রভৃতির মতো বিজ্ঞান ও স্রেফ পার্থিব বিষয়াদির পর্যায়ভুক্ত হয়, তাহলে এ ধরনের বিষয় বৈধ বলে গণ্য হবে, যখন তাকে পূর্বে উল্লিখিত শর্তসমূহের সাথে শর্তযুক্ত করা হবে।

টিকাঃ
১১ মুসলিমগণের আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো কাফিরগণের দ্বারস্থ হওয়া থেকে দূরে থাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টাসাধনা করা; মুসলিমগণের মৌলিক কর্তব্য যেমন জিহাদ, সৎকাজের আদেশ, অশ্লীল কাজে নিষেধ, দাওয়াত ও দীন প্রতিষ্ঠার কাজের মত মৌলিক দায়িত্ব পালনের উপর প্রভাব বিস্তার না করে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। শরী'আতের নিয়ম-কানুনের নিরাপদ সীমানায় অবস্থান করে যে কোনো জাতি বা যে কোনো দেশের নিকট থেকে শিল্পের মতো পার্থিব বিষয়াদি থেকে মুসলিমগণ কর্তৃক ফায়দা হাসিল করতে কোনো ক্ষতি নেই। যেমনটি করতেন রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ ও উম্মাতের পূর্ববর্তী আলেমগণ। তাদের কোনো শিল্প, পেশা, বস্তুগত যোগ্যতা বা দক্ষতা থেকে ফায়দা হাসিল করতে তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত বারণ করতেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা মুসলিমগণের ওপর অপমান ও লাঞ্ছনাকে অবশ্যম্ভাবী করে না তোলে। আর আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আজকের দিনের মুসলিমগণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হল সাধারণভাবে বস্তুগত অগ্রগতির জন্য চেষ্টাসাধনা করা; কিন্তু এটা তাদের দীন প্রতিষ্ঠার সাথে শর্তযুক্ত। আর প্রথমেই জরুরি হলো তার শরী'আত সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো, তারপর তারা বস্তুগত উন্নতির জন্য চেষ্টা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, তবে যুক্তিসঙ্গত বিষয় হলো, দীন প্রতিষ্ঠা আবশ্যকীয়ভাবেই পার্থিব উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহই মহাজ্ঞানী।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 সারকথা

📄 সারকথা


হে ভাইসব! নিশ্চয় ‘তাশাব্বুহ’ তথা কাফের মুশরিকদের অনুসরণ-অনুকরণ করে তাদের সাথে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টি ঐসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো সম্পর্কে মুসলিমগণের গুরুত্ব প্রদান করা উচিত। কারণ, আজকের মুসলিমগণের অনেকই দীনের ক্ষেত্রে অনুকরণের মারাত্মক ও বড় বড় প্রকারসমূহে লিপ্ত হয়ে গেছে বরং তাদের কতগুলো দল বা গোষ্ঠী এমন সব কাজে লিপ্ত হয়ে গেছে, যা কুফুরী, পথভ্রষ্টতা, শির্ক, বিদ’আত অথবা এগুলো ব্যতীত অন্য কোনো অপরাধ। যদিও তার পক্ষ থেকে অনুকরণ করার বিষয়টি ছিল এমন, যাতে প্রাচীন কালের মুসলিমগণও লিপ্ত ছিল; কিন্তু বিষয়টি তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে নি, যে পর্যায়ে বর্তমান সময়ে পৌঁছেছে। সুতরাং এ যুগে আমরা অধিকাংশ কাজের ক্ষেত্রে মুসলিমগণকে অমুসলিমদের অনুসরণ করতে দেখতে পাচ্ছি; শুধু আল্লাহ যাকে রক্ষা করেছেন, সে ব্যতীত।

দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, আজকের মুসলিমগণ অধিকাংশ বিষয়ে কাফিরদের অনুসারী। ইবাদাত সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের কোনো একটি বিষয়ে অথবা আচার-আচরণজনিত বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনো একটি বৈশিষ্ট্যে অথবা এরূপ কোনো বিষয়ে। এক্ষেত্রে তারা আংশিক অনুসরণ করছে না; বরং আকীদা-বিশ্বাস, শরী‘আত, চরিত্র, চালচলন পদ্ধতি, গবেষণা পদ্ধতি, শিক্ষা পদ্ধতি, অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ জীবনের অধিকাংশ দিক ও বিভাগের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ অনুসরণকারী। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সেসব আমদানি করা মানবরচিত আইন ও বিধিবিধান, যার মাধ্যমে তারা বিচার-ফায়সালার ক্ষেত্রে আল্লাহর দীনকে বর্জন করেছে। ফলে অধিকাংশ মুসলিম আজ এমন কতগুলো দল ও রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যারা কাফিরদের রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহের কাছে বিচার-ফয়সালা জন্য দ্বারস্থ হয়; বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে শালিস মানার চেয়ে তাদেরকে অধিক পরিমাণে শালিস মানে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে মুসলিমগণ তাদের পরাজিত মন-মানসিকতা ও তাদের দীন থেকে তাদের পদস্খলনের কারণে নৈতিক চরিত্র, চালচলন ও প্রকাশ্য সত্য-সঠিক নীতি থেকে দূরে সরে গেছে। এমনকি কোনো কোনো মুসলিম দেশে সুন্নাহ হয়ে গেছে অপরিচিত, কাফিরদের চরিত্র ও রীতিনীতি হয়ে গেছে আসল বস্তু। এটা এমন একটি বিষয়, যা সকলেই অবগত! আল্লাহর শুকরিয়া যে, আমাদের এ দেশে অর্থাৎ সৌদি আরবে মুসলিমগণের বাহ্যিক চালচলনের অধিকাংশই ইসলাম অনুযায়ী অব্যাহত আছে। আর অব্যাহতভাবে নৈতিক চরিত্র, আচর-আচরণ, বিধিবিধান ও শাসনব্যবস্থা ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছে। আর এটা হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে বড় নিয়ামত, তা রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য।

📘 যে কেউ কোন জাতির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে চলবে > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


উপসংহারে আমি আমার নিজেকে এবং আমার ভাইদেরকে শুধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি; আরও উপদেশ দিচ্ছি মুসলিমগণের কল্যাণ কামনা করার; তারা এ যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করার এবং আল্লাহর শুকরিয়ায় এ দেশে আমাদের নিকট তাওহীদের (আল্লাহর একত্ববাদের) আকীদা, বিদ'আতের কমতি, সৎ কাজের নির্দেশ প্রদান ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করার দায়িত্ব পালন, শরী'আতের দণ্ডবিধিসমূহের বাস্তবায়ন, আল্লাহর বিধানকে শালিস মানা এবং এগুলো ছাড়া বাহ্যিক সুন্নাহর বিষয়গুলোর মধ্য থেকে যা বিদ্যমান রয়েছে তা রক্ষণাবেক্ষণ করার। আর আমাদের ওপর যেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য আবশ্যক, তা হলো এ দুশ্চরিত্রের ধারা এবং কাফিরদের অবস্থাদি ও কর্মকাণ্ডসমূহের মহামড়ক বন্ধ করা, যা আমাদের নিকট পৌঁছতে থাকে স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকভাবে!!

আর আল্লাহ তা'আলার নিকট আমি এ প্রার্থনাই করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে মুসলিম হিসেবে বাঁচিয়ে রাখেন এবং মুসলিম অবস্থায় আমাদেরকে মৃত্যু দান করেন; আর তিনি যেন আমাদেরকে (হাশরের ময়দানে) নবীগণ, সত্যবাদীগণ ও সৎকর্মশীলদের সাথে সমবেত করেন; (তাঁর নিকট আরও প্রার্থনা) তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদেরকে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে দুরে সরিয়ে রাখেন।

وصلى الله وسلم على نبيনা محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

"আল্লাহ তা'আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করুন”। (আমীন)

সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00