📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৯: মিথ্যা বা ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের বিনাদ্বিধায় মেনে নেয়ার জন্য অন্ধ অনুসরণ ( তাকলীদ) চালু করা

📄 স্তর- ৯: মিথ্যা বা ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের বিনাদ্বিধায় মেনে নেয়ার জন্য অন্ধ অনুসরণ ( তাকলীদ) চালু করা


অন্ধ অনুসরণ বা তাকলীদ হলো— কারো কথা বা লেখনীকে বিনা বাক্যে বা বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়া। ষড়যন্ত্রকারীরা ফিকাহগ্রন্থে থাকা ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের গেলাতে নিচের পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করেছে—

১. তাকলীদকে ফরজ করা: তারা প্রচার করেছে যে, ইমামদের মাযহাবের অন্ধ অনুসরণ করা প্রত্যেকের জন্য অবশ্য কর্তব্য (ফরজ)। মাযহাবের বাইরে কুরআন-হাদীস থেকে সরাসরি জ্ঞান নেওয়া বা গবেষণা করা বৈধ নয়।

২. যোগ্যতার অভাবের দোহাই: তারা দাবি করেছে যে, বর্তমান বা পরবর্তী যুগের আলেমদের ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই। তারা কেবল ইতিহাসের মতো মাসয়ালা বর্ণনা করবেন, ফতোয়া দেওয়ার কোনো যোগ্যতা তাদের নেই।

৩. কুরআন-হাদীসের আগে ফিকাহর শর্ত: তারা এমন ভ্রান্ত নীতিমালা তৈরি করেছে যে— মাযহাবের ইমামরা কুরআনের কোথায় কী ব্যাখ্যা করেছেন তা না জেনে সরাসরি কুরআন-হাদীস চর্চা করা যাবে না। এর ফলে সাধারণ মুসলিম তো বটেই, এমনকি আলেমরাও সরাসরি কুরআন থেকে হিদায়াত নেওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলেন।

৪. তাকলীদের পরিণাম: কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহ এবং রাসূল (সা.) ভিন্ন অন্য কাউকে নির্ভুল মনে করে অন্ধ অনুসরণ করা শিরক। কারণ নির্ভুলতা কেবল আল্লাহর গুণ (সূরা তাওবা: ৩১)। আবার নিজের বুদ্ধি বা common sense-কে কাজে না লাগিয়ে অন্যের অন্ধ অনুসরণ করা কুফরী, কারণ এতে আল্লাহর দেওয়া একটি বড় নিয়ামতকে অস্বীকার করা হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা এই তাকলীদ প্রথা চালু করে মুসলিম উম্মাহকে শত শত বছর ধরে ভ্রান্তির অন্ধকারে আটকে রেখেছে।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


সুধী পাঠকবৃন্দ, পুস্তিকায় উল্লিখিত তথ্যসমূহ জানার পর আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন যে— গভীর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মূল শিক্ষায় ভুল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। জ্ঞানের ঐ মৌলিক ভুলগুলোই মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অধঃপতনের মূল কারণ। যেহেতু বর্তমান মুসলিমদেরই মূল শিক্ষায় অনেক ভুল আছে, তাই অমুসলিমদের মধ্যে থাকা ভুল জ্ঞান শুধরানোর যোগ্যতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে। মুসলিম ও অমুসলিম সকল দেশে আজ যে অশান্তি, অন্যায়, অবিচার ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে তার আসল কারণ হলো, জীবন পরিচালনার মূল শিক্ষায় ভুল থাকা।

মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনা করতে বাধ্য। সিলেবাসের বইয়ের তথ্য সঠিক কিনা সেটি যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং এটি তার দায়িত্বও নয়। তাই যারা মাদ্রাসায় পড়ে 'আলিম' হিসেবে বের হয়ে আসছেন, তাদের প্রায় সবাই ঐ ভুল তথ্যগুলো সঠিক বলে জানেন এবং খালিস নিয়তে সেগুলো অনুসরণ করেন ও সমাজে প্রচার করেন। এদিক দিয়ে আমরা যারা মাদ্রাসায় পড়েছি, তারা জ্ঞানের দিক দিয়ে চরমভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তি।

অন্যদিকে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ মাদ্রাসায় পড়া আলিমদের ইসলামের জ্ঞানী লোক হিসেবে জানে এবং তাদের নিকট থেকেই ইসলাম শেখে। তাই ঐ মৌলিক ভুল কথাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং পাচ্ছে। এজন্যে আমাদের বিরাট দায়িত্ব হলো বিষয়টি সবাইকে বিশেষ করে আলিমদের জানানো।

ষড়যন্ত্রকারীরা প্রধানত ফিকাহশাস্ত্র এবং মাদ্রাসা ও স্কুলের সিলেবাসে ঢুকিয়ে ভুল তথ্যগুলো প্রচার করেছে। তাই যারা উপযুক্ত স্থানে আছেন তাদেরও দায়িত্ব হবে ফিকাহ শাস্ত্রের সংস্কার করা এবং শিক্ষা সিলেবাস থেকে ভুল তথ্যগুলো বাদ দিয়ে সঠিক তথ্যগুলো স্থাপন করার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ মুসলিম জাতিকে এটি করার সাহস ও ক্ষমতা দিন। আল্লাহ হাফিজ!

সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00