📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৩: সুন্নাহর (হাদীস) জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া

📄 স্তর- ৩: সুন্নাহর (হাদীস) জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া


সুন্নাহ বা হাদীসের জ্ঞান থেকে মুসলমানদের দূরে সরাতে বা বিভ্রান্ত করতে গোয়েন্দারা নিচের কাজগুলো করেছে—

১. সংজ্ঞার বিভ্রান্তি: 'হাদীস' এবং 'সহীহ হাদীস' শব্দ দুটির প্রকৃত সংজ্ঞা মানুষের দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ 'সহীহ হাদীস' বলতে নির্ভুল হাদীস বোঝে, কিন্তু হাদীসশাস্ত্রে এটি কেবল বর্ণনার ধারা (সনদ) নির্ভুল হওয়াকে বোঝায়, বক্তব্যের (মতন) শতভাগ নির্ভুলতা নয়। 'সহীহ হাদীস' একটি ভুল নাম বা মিসনোমার (Misnomer)। একে 'সনদ সহীহ হাদীস' বলা উচিত ছিল।

২. জাল হাদীস প্রচার: লক্ষ লক্ষ জাল হাদীস তৈরি করে সনদসহ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই করে মাত্র অল্প কিছু হাদীস গ্রহণ করেছিলেন। এই বিশাল জালিয়াত চক্রের অনেক হাদীস এখনও সমাজে টিকে আছে।

৩. বাছাই পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধতা: হাদীস বাছাইয়ের জন্য কেবল 'সনদ' বা বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। বক্তব্য বিষয়টি কুরআন বা সাধারণ জ্ঞানের (Common sense) সাথে সাংঘর্ষিক কি না, তা অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়নি। ফলে অনেক প্রকৃত সহীহ হাদীস বাদ পড়েছে আবার অনেক সন্দেহজনক হাদীস সহীহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

৪. উপস্থাপন পদ্ধতি: বাজারের সাধারণ হাদীস বইগুলোতে এমনভাবে হাদীস উপস্থাপন করা হয় যে, পাঠক জাল হাদীসকেও নির্ভুল মনে করতে বাধ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, সরাসরি 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন' না লিখে বর্ণনার প্রতিটি স্তর উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল যাতে পাঠক তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৪: কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া

📄 স্তর- ৪: কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া


মুসলিমরা যাতে কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সে জন্য গোয়েন্দারা সুক্ষ্মভাবে কাজ করেছে—

১. নামের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি: মুসলিমদের প্রধান দুটি দলের নাম 'আহলে হাদীস' এবং 'আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত'। এই উভয় নাম থেকেই 'কুরআন' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ সংগঠনের নাম 'আহলে কুরআন ও হাদীস' হওয়া উচিত ছিল। তারা হযরত আলী (রা.)-এর নামে একটি জাল উক্তি প্রচার করেছে যে, 'কুরআনের জ্ঞান দিয়ে নয় বরং সুন্নাত দিয়ে বিতর্ক করবে কারণ কুরআন বিভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে'। এই তথ্যটি সরাসরি কুরআনের শিক্ষার বিরোধী।

২. রহিতকরণ নীতি: তারা মাদ্রাসার সিলেবাসে এই ভ্রান্ত নীতিমালা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে 'হাদীস দ্বারা কুরআনকে রহিত করা যায়'। এটি অসম্ভব, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত হাদীস সর্বদা কুরআনের সম্পূরক হয়, বিরোধী নয়।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য: বর্তমানে মাদ্রাসায় হাদীসের শিক্ষক বা 'শায়খুল হাদীস' পদের যে মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি রয়েছে, কুরআনের তাফসীর বা 'শায়খুল কুরআন' পদের সেই মর্যাদা নেই। দাওরায়ে হাদীস ডিগ্রি থাকলেও দাওরায়ে কুরআন ডিগ্রি নেই। বক্তব্য দেওয়ার সময়ও অনেকে কুরআনের আগে হাদীসের তথ্য প্রাধান্য দেন।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৫: অভিনব পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরি করা

📄 স্তর- ৫: অভিনব পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরি করা


গোয়েন্দারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিচের পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরি করেছে—

১. কুরআনকে পাশ কাটিয়ে হাদীসকে তথ্যের মূল দলিল হিসেবে গ্রহণ করা।
২. কুরআন ও সাধারণ জ্ঞান (Common sense) বিরোধী হাদীসকে দলিল হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া এবং কুরআনের সরল বক্তব্যকে রূপক বা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা।
৩. শক্তিশালী সহীহ হাদীস থাকা সত্ত্বেও দুর্বল হাদীসের ভুল ব্যাখ্যাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা (যেমন: অর্থ না বুঝে পড়ায় ১০ নেকি পাওয়ার ধারণা)।
৪. কুরআনের একটি আয়াতের ভুল অর্থ দিয়ে অন্য আয়াতের বিরোধী অবস্থান তৈরি করা (যেমন: তাকদীর ও আল্লাহর ইচ্ছার ভুল ব্যাখ্যা)।

প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা 'কুরআনের আয়াতসমূহ পরস্পর বিরোধী নয়'— এই মূলনীতিটিকে উপেক্ষা করেছে।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৬: ভুল তথ্যগুলো ফিকাহশাস্ত্র এবং মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা

📄 স্তর- ৬: ভুল তথ্যগুলো ফিকাহশাস্ত্র এবং মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা


এই লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রকারীরা নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করেছে—

১. মূল গ্রন্থ ধ্বংস করা: ইসলামের প্রকৃত মণীষীদের লেখা মূল ফিকাহগ্রন্থগুলো বাগদাদ ও স্পেনের পতনের সময় পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
২. গ্রন্থ জালিয়াতি: মূল মণীষীদের নামে নতুন ফিকাহগ্রন্থ তৈরি করে সেখানে প্রকৃত তথ্যের সাথে গোয়েন্দাদের বানানো ভুল তথ্য মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৩. সিলেবাস ভুক্তি: গোয়েন্দারা মুসলিমদের সাথে মিলে মাদ্রাসা তৈরি করেছে এবং সেই জাল তথ্য সংবলিত ফিকাহশাস্ত্রকে মাদ্রাসার প্রধান পাঠ্যবই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বর্তমান ফিকাহশাস্ত্রে অনেক তথ্য নির্ভুল হলেও এর মধ্যে কিছু তথ্য এমন আছে যা কেবল সভ্যতার জ্ঞানের দুর্বলতার কারণে ভুল হয়েছে এবং কিছু তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোয়েন্দাদের ঢুকিয়ে দেওয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00