📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ও প্রকৃত ইসলামী নীতিমালা

📄 নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ও প্রকৃত ইসলামী নীতিমালা


নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ইসলামী নীতিমালা:
জ্ঞানের উৎসের প্রচলিত ইসলামী তালিকা হলো— ১. কুরআন, ২. হাদীস, ৩. ইজমা, ৪. কিয়াস। উৎসের প্রচলিত ইসলামী তালিকায় উৎসগুলোকে সাজানোর ক্রম দেখলে মনে হয় জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ইসলামী নীতিমালায় কুরআন ও হাদীসকে ইজমা ও কিয়াসের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তা মোটেই নয়। প্রকৃত অবস্থা হলো— জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ইসলামী নীতিমালায় কুরআন ও হাদীসকে কোনো স্থানই দেয়া হয়নি। সবটুকু স্থান দেয়া হয়েছে মণীষীদের কিয়াস ও ইজমার সিদ্ধান্ত ধারণকারী ফিকাহ শাস্ত্রকে। এ কথার সত্যতার প্রমাণ হলো নিম্নের তথ্যগুলো—

তথ্য-১: তাবেয়ী যুগের শেষ দিকে আলেম সম্প্রদায়ের জামায়াত কুরআন ও সুন্নাহকে সামনে রেখে এমন আইনশাস্ত্র প্রণয়ন করলেন যা সর্বযুগে, সর্বদেশে, সকল অবস্থায় সক্ষম। এটাই আজ দুনিয়ার বুকে ফিকহে ইসলামী নামে সুপ্রতিষ্ঠিত। (উৎস: আল-মুখতাসারুল কুদুরী ও শরহে বেকায়া)

পর্যালোচনা: সর্বযুগে সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে শুধুমাত্র কুরআন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে ফিকাহশাস্ত্রকে কুরআনের সমতুল্য করা হয়েছে। এটি ইসলামের কোনো প্রকৃত মণীষীর কথা নয়, বরং গোয়েন্দা আলেমদের তৈরি করা কথা।

তথ্য-২: কুরআন ও সুন্নাহ ব্যাখ্যা করে সৎপথের সন্ধান করতে চাইলে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। এখন কুরআন সুন্নাহর আইন বলতে ফিকাহশাস্ত্রকেই বুঝানো হয়ে থাকে।

পর্যালোচনা: এ বক্তব্যের মাধ্যমে বর্তমানে কুরআন সরাসরি অধ্যয়ন না করে ফিকাহগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এটিও ষড়যন্ত্রের অংশ।

তথ্য-৩: হযরত ইমাম মালেক (রহ.) নিজ ভাগ্নেদের বলতেন— কল্যাণ চাইলে তোমরা হাদীসের রেওয়ায়েত কম কর এবং ইলমে ফিকহ বেশি অর্জন কর।

পর্যালোচনা: এ বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলাম জানার জন্য হাদীস সরাসরি অধ্যয়নকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এটিও গোয়েন্দাদের বানোয়াট তথ্য।

তথ্য-৪: ১ম ও ২য় যুগের মুজতাহিদগণ পূর্ণাঙ্গ ফিকাহশাস্ত্র দান করিয়া গিয়াছেন। অতএব এখন ইজতিহাদ (গবেষণা) করার অর্থ সময়ের অপচয়।

পর্যালোচনা: এ বক্তব্যের মাধ্যমে কুরআন গবেষণা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তথ্য-৫ ও ৬: ৭ম স্তরের আলেমদের ভাল-মন্দের পার্থক্য করার যোগ্যতা নেই, তাদের জন্য ফতোয়া দেয়া জায়েজ নেই। চতুর্থ ও পঞ্চম যুগের ফকীহরা সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে গেছেন, তাই নতুন ইজতিহাদের প্রয়োজন নেই।

পর্যালোচনা: এসব কথার মাধ্যমে কুরআন ও হাদীস নিয়ে গবেষণা সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেন ফিকাহশাস্ত্রে ঢুকিয়ে দেওয়া ভুলগুলো সংস্কার হতে না পারে।

নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের প্রচলিত ইসলামী নীতিমালার সারসংক্ষেপ:
১. নতুন সমস্যা ভিন্ন ইসলামের সকল বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতে হবে প্রচলিত ফিকাহশাস্ত্র অধ্যয়ন করে; সরাসরি কুরআন ও হাদীস অধ্যয়ন করে নয়।
২. সকল মূল বিষয়ে ইজমা ও কিয়াস বলতে শুধু প্রাথমিক যুগের (তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ী যুগ) মণীষীদের সিদ্ধান্তকে বুঝাবে।
৩. প্রচলিত ফিকাহশাস্ত্রে উল্লেখ থাকা বিষয়ে নতুন করে চিন্তা-গবেষণা করা নিষিদ্ধ।

নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের প্রকৃত ইসলামী নীতিমালা:
কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহ তা'য়ালা জ্ঞান অর্জনের জন্য দুই ধরনের উৎস দিয়েছেন— প্রমাণিত উৎস (কুরআন ও সুন্নাহ) এবং অপ্রমাণিত বা সাধারণ উৎস (Common sense)।

উদাহরণ-১ (চিকিৎসাবিদ্যা): প্রথমে সাধারণ জ্ঞানের আলোকে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় (Provisional diagnosis) করা হয় এবং পরে পরীক্ষার রিপোর্টের (প্রমাণিত জ্ঞান) মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হয়।

উদাহরণ-২ (রাষ্ট্র পরিচালনা): পুলিশ সাধারণ জ্ঞানের ভিত্তিতে কাউকে আটক করে এবং বিচারক প্রমাণিত জ্ঞানের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেন।

এই উদাহরণের ভিত্তিতে আল্লাহ প্রদত্ত সাধারণ ও প্রমাণিত জ্ঞান ব্যবহার করে নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের ইসলামী নীতিমালা হবে—
১. Common sense {আল্লাহ প্রদত্ত সাধারণ (অপ্রমাণিত) জ্ঞান} বা বিজ্ঞান (Common sense-এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান)-এর আলোকে কোনো বিষয়কে প্রাথমিকভাবে সঠিক বা ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা।
২. কুরআন (মূল প্রমাণিত জ্ঞান) দ্বারা যাচাই করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ বা বর্জন করা।
৩. কুরআন দ্বারা সম্ভব না হলে সুন্নাহ (প্রমাণিত জ্ঞান) দ্বারা যাচাই করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ বা বর্জন করা।
৪. অতঃপর বিষয়টিতে মনীষীদের ইজমা-কিয়াস উপস্থিত থাকলে তা দ্বারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে যাচাই করে অধিক তথ্যভিত্তিকটি গ্রহণ করা যেতে পারে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00