📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 শেষ কথা

📄 শেষ কথা


সুধী পাঠকবৃন্দ, পুস্তিকায় উল্লিখিত তথ্যসমূহ জানার পর আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন যে— গভীর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর মূল শিক্ষায় ভুল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। জ্ঞানের ঐ মৌলিক ভুলগুলোই মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অধঃপতনের মূল কারণ। অন্যদিকে কুরআনে উল্লেখ থাকা জীবন সম্পর্কিত চিরসত্য মূল বিষয়গুলো অমুসলিমদের জানানোর দায়িত্ব মুসলিমদের। যেহেতু বর্তমান মুসলিমদেরই মূল শিক্ষায় অনেক ভুল আছে, তাই অমুসলিমদের মধ্যে থাকা ভুল জ্ঞান শুধরানোর যোগ্যতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে। মুসলিম ও অমুসলিম সকল দেশে আজ যে অশান্তি, অন্যায়, অবিচার ইত্যাদি দেখা যাচ্ছে তার আসল কারণ হলো, জীবন পরিচালনার মূল শিক্ষায় ভুল থাকা।

মূল শিক্ষায় ষড়যন্ত্র করে ভুল ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, এ তথ্যটি প্রায় শত ভাগ মুসলিমের অজানা। এটি ভাবা ও মেনে নেয়াও কঠিন। মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া একজন ছাত্র সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনা করতে বাধ্য। সিলেবাসের বইয়ের তথ্য সঠিক কিনা সেটি যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয় এবং এটি তার দায়িত্বও নয়। তাই যারা মাদ্রাসায় পড়ে 'আলিম' হিসেবে বের হয়ে আসছেন, তাদের প্রায় সবাই ঐ ভুল তথ্যগুলো সঠিক বলে জানেন এবং খালিস নিয়তে সেগুলো অনুসরণ করেন ও সমাজে প্রচার করেন। এদিক দিয়ে আমরা যারা মাদ্রাসায় পড়েছি, তারা জ্ঞানের দিক দিয়ে চরমভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তি।

অন্যদিকে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ মাদ্রাসায় পড়া আলিমদের ইসলামের জ্ঞানী লোক হিসেবে জানে এবং তাদের নিকট থেকেই ইসলাম শেখে। তাই ঐ মৌলিক ভুল কথাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং পাচ্ছে। এজন্যে আমরা যারা বিষয়টি জানতে পেরেছি তাদের বিরাট দায়িত্ব হলো বিষয়টি সবাইকে বিশেষ করে আলিমদের জানানো।

ষড়যন্ত্রকারীরা প্রধানত ফিকাহশাস্ত্র এবং মাদ্রাসা ও স্কুলের সিলেবাসে ঢুকিয়ে ভুল তথ্যগুলো প্রচার করেছে। তাই যারা উপযুক্ত স্থানে আছেন তাদেরও দায়িত্ব হবে ফিকাহ শাস্ত্রের সংস্কার করা এবং মাদ্রাসা ও স্কুলের সিলেবাস থেকে ভুল তথ্যগুলো বাদ দিয়ে সঠিক তথ্যগুলো স্থাপন করে দেওয়ার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা করা। মহান আল্লাহ মুসলিম জাতিকে এটি করার সাহস ও ক্ষমতা দিন— এ দোয়া করে এবং গঠনমূলকভাবে সকলকে ভুল ধরিয়ে দেয়ার আবেদন করে শেষ করছি। আল্লাহ হাফিজ!

সমাপ্ত

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ২: কুরআনের জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া

📄 স্তর- ২: কুরআনের জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া


কুরআনের জ্ঞান অর্জন থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য গোয়েন্দা আলেমারা মুসলিম সমাজে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা এবং প্রতিবন্ধকতা ব্যাপকভাবে চালু করতে সক্ষম হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো—

১. কুরআনের জ্ঞান অর্জনে নিরুৎসাহিত করা: তারা প্রচার করেছে যে কুরআন বোঝা অত্যন্ত কঠিন এবং সরাসরি কুরআন পড়ে আমল করতে গেলে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অথচ কুরআন বারবার বলেছে যে এটি বোঝা সহজ (সূরা কামার: ১৭, ২২, ৩২, ৪০)। এছাড়াও তারা প্রচার করেছে যে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে আমলের গুরুত্ব বেশি এবং না জেনে ভুল করা জেনে ভুল করার চেয়ে কম অপরাধ। অথচ প্রকৃতপক্ষে না জানার কারণে আমল না করা দ্বিগুণ গুনাহ— না জানার জন্য এবং না মানার জন্য।

২. কুরআন পড়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তারা ব্যাপকভাবে এই ধারণা প্রচার করেছে যে ওজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা পাপ। এর ফলে মানুষের জাগ্রত জীবনের অধিকাংশ সময় কুরআন পড়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ প্রকৃত বিধান হলো ওজু ছাড়া কুরআন পড়া ও স্পর্শ করা যায়, কেবল গোসল ফরজ অবস্থায় এটি নিষিদ্ধ।

৩. জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া কুরআন পড়া: অর্থ না বুঝে কুরআন পড়লে প্রতি অক্ষরে দশ নেকি— এই প্রলোভন দিয়ে মানুষকে অর্থ বোঝা থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এর ফলে মুসলিমরা কুরআন পড়ে কেবল সওয়াব পাওয়ার জন্য, জীবন পরিচালনার শিক্ষা নেওয়ার জন্য নয়।

৪. পঠন পদ্ধতিতে পরিবর্তন: কুরআনকে আবৃত্তির পরিবর্তে সুর করে গানের মতো টেনে টেনে পড়ার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে অর্থ ও ভাবের গভীরতা হৃদয় স্পর্শ করে না এবং ঈমান বৃদ্ধি পায় না।

৫. ভুল ব্যাখ্যা ও সংস্করণ রুদ্ধ করা: তারা প্রচার করেছে যে কুরআনের কিছু আয়াতের তিলাওয়াত চালু থাকলেও হুকুম বা বিধান রহিত হয়ে গেছে। এছাড়াও নতুন করে তাফসীর লেখাকে সময় ও শক্তির অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে কুরআনের ব্যাখ্যা পাওয়ার পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে কুরআনের অনেক অস্পষ্ট আয়াত এখন আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা সম্ভব হচ্ছে।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৩: সুন্নাহর (হাদীস) জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া

📄 স্তর- ৩: সুন্নাহর (হাদীস) জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া


সুন্নাহ বা হাদীসের জ্ঞান থেকে মুসলমানদের দূরে সরাতে বা বিভ্রান্ত করতে গোয়েন্দারা নিচের কাজগুলো করেছে—

১. সংজ্ঞার বিভ্রান্তি: 'হাদীস' এবং 'সহীহ হাদীস' শব্দ দুটির প্রকৃত সংজ্ঞা মানুষের দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ 'সহীহ হাদীস' বলতে নির্ভুল হাদীস বোঝে, কিন্তু হাদীসশাস্ত্রে এটি কেবল বর্ণনার ধারা (সনদ) নির্ভুল হওয়াকে বোঝায়, বক্তব্যের (মতন) শতভাগ নির্ভুলতা নয়। 'সহীহ হাদীস' একটি ভুল নাম বা মিসনোমার (Misnomer)। একে 'সনদ সহীহ হাদীস' বলা উচিত ছিল।

২. জাল হাদীস প্রচার: লক্ষ লক্ষ জাল হাদীস তৈরি করে সনদসহ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইমাম বুখারী (রহ.) ছয় লক্ষ হাদীস থেকে যাচাই করে মাত্র অল্প কিছু হাদীস গ্রহণ করেছিলেন। এই বিশাল জালিয়াত চক্রের অনেক হাদীস এখনও সমাজে টিকে আছে।

৩. বাছাই পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধতা: হাদীস বাছাইয়ের জন্য কেবল 'সনদ' বা বর্ণনাকারীদের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। বক্তব্য বিষয়টি কুরআন বা সাধারণ জ্ঞানের (Common sense) সাথে সাংঘর্ষিক কি না, তা অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায়নি। ফলে অনেক প্রকৃত সহীহ হাদীস বাদ পড়েছে আবার অনেক সন্দেহজনক হাদীস সহীহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

৪. উপস্থাপন পদ্ধতি: বাজারের সাধারণ হাদীস বইগুলোতে এমনভাবে হাদীস উপস্থাপন করা হয় যে, পাঠক জাল হাদীসকেও নির্ভুল মনে করতে বাধ্য হয়। উদাহরণস্বরূপ, সরাসরি 'রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন' না লিখে বর্ণনার প্রতিটি স্তর উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল যাতে পাঠক তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে।

📘 যে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি > 📄 স্তর- ৪: কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া

📄 স্তর- ৪: কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়া


মুসলিমরা যাতে কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সে জন্য গোয়েন্দারা সুক্ষ্মভাবে কাজ করেছে—

১. নামের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি: মুসলিমদের প্রধান দুটি দলের নাম 'আহলে হাদীস' এবং 'আহলুস্ সুন্নাত ওয়াল জামা'য়াত'। এই উভয় নাম থেকেই 'কুরআন' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ সংগঠনের নাম 'আহলে কুরআন ও হাদীস' হওয়া উচিত ছিল। তারা হযরত আলী (রা.)-এর নামে একটি জাল উক্তি প্রচার করেছে যে, 'কুরআনের জ্ঞান দিয়ে নয় বরং সুন্নাত দিয়ে বিতর্ক করবে কারণ কুরআন বিভিন্ন ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে'। এই তথ্যটি সরাসরি কুরআনের শিক্ষার বিরোধী।

২. রহিতকরণ নীতি: তারা মাদ্রাসার সিলেবাসে এই ভ্রান্ত নীতিমালা ঢুকিয়ে দিয়েছে যে 'হাদীস দ্বারা কুরআনকে রহিত করা যায়'। এটি অসম্ভব, কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রকৃত হাদীস সর্বদা কুরআনের সম্পূরক হয়, বিরোধী নয়।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য: বর্তমানে মাদ্রাসায় হাদীসের শিক্ষক বা 'শায়খুল হাদীস' পদের যে মর্যাদা ও সামাজিক প্রতিপত্তি রয়েছে, কুরআনের তাফসীর বা 'শায়খুল কুরআন' পদের সেই মর্যাদা নেই। দাওরায়ে হাদীস ডিগ্রি থাকলেও দাওরায়ে কুরআন ডিগ্রি নেই। বক্তব্য দেওয়ার সময়ও অনেকে কুরআনের আগে হাদীসের তথ্য প্রাধান্য দেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00