📄 চিকিৎসক হয়েও কেন এ বিষয়ে কলম ধরলাম
শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দ আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি একজন চিকিৎসক (বিশেষজ্ঞ সার্জন)। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয় বাদ দিয়ে একজন চিকিৎসক কেন এ বিষয়ে কলম ধরলো? তাই এ বিষয়ে কেন কলম ধরেছি, সেটা প্রথমে আপনাদের জানানো দরকার বলে মনে করছি।
ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিলো। জিজ্ঞাসু মনে প্রশ্ন আসত— 'তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে না, নাকি তাদের অন্তরে তালা পড়ে গেছে?' (সূরা মুহাম্মাদ: ২৪)। আরবীতে আমি যখন কুরআন মাজীদ পড়তাম, তখন মনে এক গভীর উপলব্ধি আসত। এই উপলব্ধি আসার পর আমি কুরআন মাজীদ অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ বুঝে পড়তে আরম্ভ করি। শিক্ষা জীবনের শুরুতে মাদ্রাসায় পড়ার কারণে আগে থেকে আরবী পড়তে ও লিখতে পারতাম। এরপর ইরাকে ৪ বছর রোগী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে আরবী বলা ও বুঝার সমস্যাটা অনেকাংশে দূর হয়ে যায়।
কুরআন মাজীদ পড়তে গিয়ে দেখি, ইরাকে যেসব সাধারণ আরবী বলতাম তার অনেক শব্দই কুরআনে আছে এবং আমি তা বুঝতে পারি। তাই কুরআন মাজীদ পড়ে বেশ মজা পেয়ে যাই। পেশা নিয়ে সারাক্ষণ আমাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু এর মধ্যেও সময় করে দিনে এক বা একাধিক আয়াত বা যতোটুকু পারা যায় বিস্তারিত তাফসীরসহ কুরআন মাজীদ পড়তে থাকি। সার্জারি বই যেমন গভীরভাবে বুঝে পড়েছি, কুরআনের প্রতিটি আয়াতও সেভাবে বুঝে পড়ার চেষ্টা করেছি। ব্যাখ্যার জন্য কয়েকখানা তাফসীর দেখেছি। এভাবে সম্পূর্ণ কুরআন মাজীদ শেষ করতে আমার প্রায় তিন বছর সময় লাগে।
পুরো কুরআন মাজীদ পড়ে ইসলামের প্রথম স্তরের সকল মৌলিক বিষয়সহ আরো অনেক বিষয় জানার পর আমি ভীষণ অবাক হয়ে গেলাম এজন্যে যে, ইসলাম সম্বন্ধে কুরআনের বক্তব্য আর বর্তমান মুসলিমদের ধারণার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। এ ব্যাপক পার্থক্যই আমার মধ্যে এ ব্যাপারে কলম ধরার দায়িত্ববোধ জাগিয়ে দেয়। সর্বোপরি, কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত আমাকে কলম ধরতে বাধ্য করলো—
“নিশ্চয় আল্লাহ কিতাবে যা নাযিল করেছেন, তা যারা গোপন করে এবং বিনিময়ে সামান্য কিছু ক্রয় করে (লাভ করে) তারা তাদের পেট আগুন ভিন্ন অন্য কিছু দিয়ে ভরে না, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (বাকারা ২:১৭৪)
কোন জিনিসের বিনিময়ে কিছু ক্রয় করার অর্থ হলো ঐ জিনিসের বিনিময়ে কিছু পাওয়া। আল্লাহ এখানে বলেছেন— তিনি কুরআনে যেসব বিধান নাযিল করেছেন, ছোট ক্ষতি এড়ানোর জন্য যারা জানা সত্ত্বেও সেগুলো প্রচার করে না বা মানুষকে জানায় না, তারা যেনো তাদের পেট আগুন দিয়ে ভরলো। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না। যারা কুরআনের আদেশ, নিষেধ ও তথ্য জানা সত্ত্বেও তা গোপন করবে তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তাই কুরআনের আদেশ, নিষেধ ও তথ্য জেনে তা মানুষকে না জানানোর জন্য কিয়ামতে যে কঠিন অবস্থা হবে তা থেকে বাঁচার জন্য আমি একজন চিকিৎসক হয়েও এ বিষয়ে কলম ধরেছি।
লেখার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর কুরআনের বক্তব্যগুলোকে কিভাবে উপস্থাপন করা যায়, এটা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। এমতাবস্থায় এ আয়াতখানি আমার মনে পড়ল—
“এটি একটি কিতাব যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হলো, সুতরাং এর মাধ্যমে সতর্কীকরণের ব্যাপারে তোমার মনে যেনো কোন সংকোচ (দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদি) না থাকে এবং মু'মিনদের জন্য এটা উপদেশ।” (আ'রাফ ৭:২)
কুরআনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অন্তরে দু'টি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে—
১. সঠিক অর্থ বা ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে কুরআনের বক্তব্যের যথার্থতার ব্যাপারে মনে সন্দেহ বা দ্বিধা দেখা দিতে পারে।
২. বক্তব্য বিষয়টি যদি সমাজের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় বা বিপরীত হয়, তবে প্রতিরোধ বা বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়ার ভয় হতে পারে।
এই ভীষণ ক্ষতিকর কর্মপদ্ধতি দু'টি সমূলে উৎপাটন করার জন্য আল্লাহ এই আয়াতে রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে মুসলিমদের বলেছেন— মানুষকে সতর্ক করার সময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদির মধ্যে পড়ে তোমরা কখনই কুরআনের বক্তব্যকে লুকিয়ে ফেলবে না বা ঘুরিয়ে বলবে না। কুরআনের অন্য জায়গায় (আল-গাশিয়াহ: ২২, আন-নিসা: ৮০) আল্লাহ রাসূল (সা.) কে বলেছেন— পৃথিবীর সকল মানুষ কখনই কোনো একটি বিষয়ে একমত হবে না। তাই, তুমি কুরআনের বক্তব্য না লুকিয়ে বা না ঘুরিয়ে মানুষের নিকট উপস্থাপন করবে। যারা তা গ্রহণ করবে না, তাদের তা গ্রহণ করতে বাধ্য করার জন্য পুলিশের ভূমিকা পালন করা তোমার দায়িত্ব নয়।
আল কুরআন পড়া শেষ করেই আমি লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু হাদীস না পড়ে কলম ধরতে মন চাইলো না। তাই আবার হাদীস পড়তে আরম্ভ করি। হাদীস, বিশেষ করে মেশকাত শরীফ বিস্তারিত পড়ার পর আমি লেখা আরম্ভ করি। বইটি লেখা আরম্ভ করি ০১.০২.২০০৯ তারিখে।
এই পুস্তিকা বাস্তবে রূপ দান করার ব্যাপারে অনেকেই, বিশেষ করে কুরআনিআ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সম্মানিত ভাই ও বোনেরা এবং কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ নানাভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন। নবীরা রাসূল (আ.) ছাড়া পৃথিবীতে আর কেউ ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে নয়। তাই আমারও ভুল হতে পারে। শ্রদ্ধেয় পাঠকবৃন্দের নিকট অনুরোধ যদি এই লেখায় কোনো ভুল-ত্রুটি ধরা পড়ে, আমাকে জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো এবং পরবর্তী সংস্করণে তা ছাপানো হবে ইনশাআল্লাহ।
ম. রহমান
০১.০২.২০০৯
📄 পুস্তিকার তথ্যের উৎসসমূহ
আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের উৎস হলো তিনটি— কুরআন, সুন্নাহ এবং common sense। কুরআন হলো মূল প্রমাণিত জ্ঞান। সুন্নাহ হলো প্রমাণিত জ্ঞান। তবে এটি মূল জ্ঞান নয়, এটি কুরআনের ব্যাখ্যা। আর common sense হলো সাধারণ বা অপ্রমাণিত জ্ঞান। কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে এ তিনটি উৎসের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক. আল কুরআন
কোন কিছু পরিচালনার বিষয়সমূহের নির্ভুল উৎস হলো ঐটি, যা তার সৃষ্টিকারক লিখে দেন। ইঞ্জিনিয়াররা কোন জটিল যন্ত্র বানালে তার সাথে ম্যানুয়াল পাঠান। আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করে দুনিয়ায় পাঠানোর সময় তাদের জীবন পরিচালনার ম্যানুয়াল হিসেবে আসমানী কিতাব পাঠিয়েছেন। এর সর্বশেষ সংস্করণ হচ্ছে আল কুরআন। রাসূল (সা.)-এর পর আর কোনো নবী আসবেন না, তাই কুরআনের আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার সাথে সাথে লিখে ও মুখস্থ করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাজার বছর পরেও মানুষ যদি তাদের জীবন পরিচালনার মূল বিষয় নির্ভুলভাবে জানতে চায়, তবে কুরআন মাজীদ বুঝে পড়লেই তা জানতে পারবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম ইবনে কাসীর বলেছেন— 'কুরআন তাফসীরের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে কুরআনের তাফসীর কুরআন দ্বারা করা।' সূরা নিসার ৮২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ জানিয়েছেন— কুরআনে পরস্পর বিরোধী কোন কথা নেই।
খ. সুন্নাহ (হাদীস)
সুন্নাহ হলো কুরআনের বক্তব্যের বাস্তব রূপ বা ব্যাখ্যা। রাসূল (সা.) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো কথা, কাজ বা সমর্থন করতেন না। তাই সুন্নাহও প্রমাণিত জ্ঞান। ব্যাখ্যা মূল বক্তব্যের সম্পূরক হয়, বিরোধী হয় না। সূরা আল হাক্কাহ-এর ৪৪-৪৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন— 'সে যদি আমার বিষয়ে কোনো কথা বানিয়ে বলতো, তবে আমি তার জীবন-ধমনী কেটে দিতাম।' হাদীস থেকেও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে ঐ বিষয়ের সকল হাদীস পাশাপাশি রেখে পর্যালোচনা করতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে শক্তিশালী হাদীসকে যেন দুর্বল হাদীস রহিত না করে।
গ. Common sense
কুরআন ও সুন্নাহ যে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের উৎস তা সবাই জানে, কিন্তু common sense যে একটি উৎস তা অনেকে ভুলে গেছে। সঠিক ও ভুল জ্ঞান পার্থক্য করার জন্য আল্লাহ জন্মগতভাবে মানুষকে বোধশক্তি বা আকল দিয়েছেন। সূরা শামসের ৭ ও ৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে— 'কসম মনের এবং তাঁর যিনি তাকে সঠিকভাবে গঠন করেছেন। অতপর তাকে ইলহাম করেছেন তার অন্যায় ও ন্যায় (পার্থক্য করার শক্তি)।' এটিই হলো common sense।
রাসূল (সা.) ওয়াবেছা (রা.)-কে বলেছিলেন— 'তোমার মন ও অন্তরের নিকট উত্তর জিজ্ঞাসা করো। যা তোমার মনে প্রশান্তি দেয় তা নেকী, আর যা মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে তা পাপ, যদিও মানুষ তোমাকে ফতোয়া দেয়।' তবে শিক্ষা ও পরিবেশের কারণে মানুষের common sense পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একে কুরআন ও সুন্নাহ দিয়ে যাচাই করে নিতে হবে। আল্লাহ বলেছেন— 'নিশ্চয় আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই সব বধির ও বোবা যারা common sense কে কাজে লাগায় না।' (আনফাল ৮:২২)।
বিজ্ঞান ও ইজমা-কিয়াস
বিজ্ঞান হলো common sense-এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান। বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্ব নির্ভুল হলে তা কুরআনের তথ্যের সাথে এক হবে (সূরা হা-মিম-াস-সিজদা ৪১:৫৩)। কিয়াস ও ইজমা আল্লাহ প্রদত্ত সরাসরি উৎস নয়; বরং এগুলো কুরআন, সুন্নাহ ও common sense ব্যবহার করে কোনো যুগের জ্ঞানী ব্যক্তিদের গবেষণার ফল। এগুলো অপরিবর্তনীয় নয়।
নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের ইসলামী নীতিমালা
যেকোন বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য প্রথমে common sense বা বিজ্ঞানের আলোকে প্রাথমিক ধারণা নিতে হবে। এরপর তাকে কুরআন দ্বারা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্ভব না হলে সুন্নাহ দ্বারা যাচাই করতে হবে। সবশেষে মনীষীদের ইজমা-কিয়াস দ্বারা যাচাই করে অধিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
📄 আল্লাহ প্রদত্ত তিনটি উৎস ব্যবহার করে নির্ভুল জ্ঞান অর্জনের ইসলামী নীতিমালা
যেকোন বিষয়ে নির্ভুল জ্ঞান অর্জন করা বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত উৎস কুরআন, সুন্নাহ ও common sense ব্যবহারের নীতিমালাটি মহান আল্লাহ সার-সংক্ষেপ আকারে জানিয়ে দিয়েছেন সূরা নিসার ৫৯ নং এবং সূরা নূরের ১৫, ১৬ ও ১৭ নং আয়াতের মাধ্যমে। আর আয়েশা (রা.)-এর চরিত্র নিয়ে ছড়ানো প্রচারণাটির (ইফকের ঘটনা) ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পদ্ধতির মাধ্যমে রাসূল (সা.) নীতিমালাটি বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
নীতিমালাটির সংক্ষিপ্ত চলমান চিত্র এখানে উপস্থাপন করা হলো—
যেকোন বিষয়ে:
১. Common sense {আল্লাহ প্রদত্ত সাধারণ (অপ্রমাণিত) জ্ঞান} বা বিজ্ঞান (common sense এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত জ্ঞান) এর আলোকে সঠিক বা ভুল বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
২. কুরআন (আল্লাহ প্রদত্ত মূল প্রমাণিত জ্ঞান) দ্বারা যাচাই করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ বা বর্জন করা।
৩. সম্ভব না হলে সুন্নাহ (আল্লাহ প্রদত্ত ব্যাখ্যামূলক প্রমাণিত জ্ঞান) দ্বারা যাচাই করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে গ্রহণ বা বর্জন করা।
৪. অতঃপর বিষয়টিতে মনীষীদের ইজমা-কিয়াস উপস্থিত থাকলে তা দ্বারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে যাচাই করে অধিক তথ্যভিত্তিকটি গ্রহণ করা যেতে পারে।
📄 মূল বিষয়
আজ হতে পাঁচ থেকে সাত শত বছর পূর্বে মুসলিম জাতি জীবনের সকল দিকে পৃথিবীর অন্য সকল জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিল। আজ মুসলিমরা জীবনের সকল দিকে পৃথিবীর অন্য সকল জাতির চেয়ে অবিশ্বাস্য রকমভাবে পিছিয়ে পড়েছে। এটি বাস্তব সত্য; কারো পক্ষে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। অর্থাৎ মুসলিম জাতি আজ চরমভাবে অধঃপতিত।
এখন যদি প্রশ্ন করা হয় যে, একটি জাতিকে চরমভাবে অধঃপতিত করার সর্বাধিক ফলপ্রসূ পদ্ধতি কোনটি?
১. সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা
২. মূল শিক্ষায় ভুল ঢুকিয়ে দেয়া
৩. ছোট-খাট শিক্ষায় ভুল ঢুকিয়ে দেয়া
৪. অন্যকিছু।
পৃথিবীর Common sense থাকা সকল মানুষই এ প্রশ্নের উত্তর দ্বিতীয়টি দিবেন। আবার যদি প্রশ্ন করা হয় মুসলিম জাতির বর্তমান চরম অধঃপতনের মূল কারণ কোনটি? তবে উত্তর হবে— মূল শিক্ষায় ভুল ঢোকে যাওয়া। কারণ কমপক্ষে অর্ধেকের বেশি মুসলমানের মূল শিক্ষায় ভুল ঢোকেছে। এ সংখ্যা যদি অর্ধেকের কম হতো তবে সঠিক আমলকারীরা অন্যদের ধরে রাখতে পারতো। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো এ সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় একশত ভাগ।
কুরআন অবিকৃত থাকা সত্ত্বেও ইসলামের মূল শিক্ষায় ভুল ঢোকে যাওয়ার কারণ হলো— গভীর ষড়যন্ত্র করে কুরআনের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রে শুধু মুসলিম জাতি নয়, বরং বিশ্বমানবতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুরআন বিশ্ববাসীর কিতাব। আজ সারা বিশ্বে যে অশান্তি, অবিচার, সন্ত্রাস ও বৈষম্য বিরাজমান, তার মূল কারণ হলো এই গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানব জীবন সম্পর্কিত নির্ভুল জ্ঞান তথা কুরআনের জ্ঞান থেকে মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বর্তমান প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য হলো ঐ গভীর ষড়যন্ত্রটি কি এবং কিভাবে সে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা তুলে ধরা। এটি জানতে পারলে মুসলিম জাতি ও বিশ্বমানবতার পক্ষে ঐ ষড়যন্ত্রের প্রতিটি স্তর মোকাবিলা করার পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।