📄 দু’জন নবির প্রশ্ন ও আশ্চর্য জবাব
আপনাদের সামনে এখন একটি ইলমিকথা পেশ করছি, যা ওলামা ও তলাবাদের ভালো লাগবে। আল্লাহ তাআলার দু'জন নবি এমন ছিলেন, যাদের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা মৃতব্যক্তিকে জীবিত করার ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রশ্নের ধরণ ছিলো ভিন্ন। তাঁদের একজন হলেন হযরত উযাইর আলাইহিস সালাম। তিনি আল্লাহ তাআলাকে মৃতব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন—
أَنَّى يُحْيِ هَذِهِ اللهُ بَعْدَ مَوْتِهَا .
'মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে তাকে জীবিত করবেন?' এর জবাবে আল্লাহ তাঁকে তখনই মৃত্যু দিয়ে দিলেন এবং এ অবস্থায় তাঁকে ১০০ বছর রাখলেন। তারপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে পুনরায় জীবিত করলেন এবং বললেন, 'হে নবি! এখন বলো।' দ্বিতীয় নবি হলেন, হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তিনি আল্লাহর কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন—
كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتَ ؟
'আপনি কীভাবে মানুষকে জীবিত করেন?'
তখন আল্লাহ তাআলা অন্য একটি প্রাণীকে মৃত্যু দান করলেন এবং পুনরায় জীবিত করে হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে দেখিয়ে দিলেন।
একই প্রশ্নের দু'জনের সাথে দু'ধরনের আচরণের কারণ হলো, একটি শব্দের পরিবর্তন। অর্থাৎ ‘আন্না’ শব্দ দ্বারা প্রশ্নের সাথে সাথে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। আর ‘কাইফা’ শব্দ দ্বারা শুধু প্রশ্ন বোঝানো হয়। হযরত উযাইর আলাইহিস সালাম ‘আন্না’ শব্দ দ্বারা প্রশ্ন করেছিলেন। আর হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ‘কাইফা’ শব্দ দ্বারা প্রশ্ন করেছিলেন। যেহেতু হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ‘কাইফা’ শব্দ দ্বারা প্রশ্ন করেছিলেন, সেহেতু তাঁর পরিবর্তে অন্যএকটি প্রাণীর মৃত্যুদানের পর তাকে আবার জীবিত করে দেখিয়ে দিলেন। পক্ষান্তরে হযরত উযাইর আলাইহিস সালাম প্রশ্ন করেছিলেন ‘আন্না’ শব্দ দ্বারা, তাই অন্যকোনো প্রাণীকে মৃত্যু না দিয়ে সরাসরি তাঁকেই মৃত্যু দান করেন।
উল্লিখিত ঘটনা দ্বারা বুঝা গেলো, শব্দের পরিবর্তের ফলে দু'জনের সাথে দু'ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং বুঝা গেলো যে, বান্দা আল্লাহর সাথে যেমন আচরণ করবে, আল্লাহও বান্দার সাথে ঠিক তেমনি আচরণ করবেন। হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যেহেতু প্রশ্ন করেছিলেন, সেহেতু তাঁর প্রশ্নের মূল্যায়নও করেছেন। অর্থাৎ মৃতকে জীবিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এটাও বলে দিয়েছেন যে, 'হে আমার প্রিয় খলিল! আমি মৃতকে জীবিত করে তোমার প্রশ্নের জবাব দিয়েছি, কিন্তু প্রশ্ন যেহেতু করেছো, সেহেতু তার মূল্যও তোমার দিতে হবে। তাই এখন প্রিয় পুত্রকে নিজহাতে কুরবানি করো।'
টিকাঃ
৩০. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৭/১৪৫।
📄 ইমাম মুসলিম রহ.-এর মুতালাআর নিমগ্নতা
ইমাম মুসলিম রহ. ছিলেন হাদিছের জগতে এক অনান্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবনের প্রসিদ্ধ ঘটনা— একবার তিনি হাদিছের মুতালাআয় খুব নিমগ্ন ছিলেন। তখন তাঁর ক্ষুধাও লেগেছিলো। পাশে খেজুরের একটি টকরি রাখা ছিলো। কিতাবের পাতা উল্টাচ্ছিলেন আর একটি করে খেজুর মুখে দিচ্ছিলেন। হাদিছ মুতালাআয় তিনি এতো বেশি মগ্ন ছিলেন যে, কি পরিমাণ খেজুর খেয়ে ফেললেন তা নিজেও বুঝতে পারলেন না। এমনকি অতিরিক্ত খাবারের ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সে অসুস্থতায় ইনতিকাল করেন।
টিকাঃ
৩১. হযরত ইবনে সিরিন রহ.-এর বর্ণনামতে তিনি ২০৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। রজব মাসের ২৫ তারিখ ২৬১ হিজরি সনে তিনি ইনতিকাল করেন।
📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক-এর ইলমি মজলিস
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ.-এর দরবারে দরসে হাদিছের বড়ো মজলিস হতো। একবার দোয়াতের সংখ্যা গণনা করে সেখানে চল্লিশ হাজার দোয়াত পাওয়া গেলো। সেসময় স্পিকার বক্স ছিলো না। তাই হাদিছের দরসে নামাযের মুকাব্বিরের ন্যায় মুকাব্বির নিযুক্ত ছিলো। সে মজলিসে ১২ শ' মুকাব্বির নিযুক্ত ছিলো। যে মজলিসের মুকাব্বিরের সংখ্যা বারোশ' সে মজলিসের পরিধি কতোবড়ো হবে? তাঁরা এতোবড়ো মজলিসে হাদিছের দরস প্রদান করতেন।
📄 ইলম-এর প্রতি আকর্ষণ তো একেই বলে
ইমাম মুহাম্মদ রহ. এক জায়গায় দরস দিতেন। সেখান থেকে কয়েক মাইল দূরে একটি বস্তি ছিলো। সে বস্তির কিছুলোক তাঁর কাছে এসে আবেদন করলো 'হযরত! আপনি আমাদের এখানে তাশরিফ আনুন। আমাদেরকে আপনার দরসে বসার সুযোগ করে দিন।' তিনি বললেন-'আমার হাতে সময় খুব কম।' তারা বললো- 'হযরত! আমরা আপনার জন্য সাওয়ারির ব্যবস্থা করবো। এখানে পায়ে হেঁটে আসতে আপনার যে সময়টুকু ব্যয় হয়, সাওয়ারিতে আরোহণ করে এসে সে সময়টুকু আমাদেরকে দিন।'
তিনি তাদের এ প্রস্তাব কবুল করলেন। যখন তিনি সেখানে দরস প্রদান শুরু করলেন। তখন তাঁর দরসে হযরত ইমাম শাফি রহ. ও উপস্থিত হলেন। তিনি আবেদন করলেন 'হযরত! আমি আপনার নিকট অমুক কিতাবটি পড়তে চাই।' তখন ইমাম মুহাম্মদ রহ. বললেন- 'ভাই! আমার হাতে তো সময় খুবই কম। আমাকে এখানেও পড়াতে হবে আবার ওই এলাকাতেও পড়াতে হবে। সুতরাং তোমাকে আলাদা সময় দেয়ার মতো সময় তো আমার হাতে নেই।' ইমাম শাফি রহ. বললেন- 'হযরত! আপনি এখান থেকে দরস শেষ করে যখন সাওয়ারিতে আরোহণ করে ওই এলাকায় যাবেন তখন আপনি সাওয়ারিতে বসে বসে আমাকে দরস প্রদান করবেন। আর আমি দৌড়ে দৌড়ে আপনার দরস শুনবো।'
চিন্তা করুন! পৃথিবীতে ইলম ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আকর্ষণের এরচে' উৎকৃষ্ট কোনো উদাহরণ আর কী হতে পারে? এটা হলো ইসলামের সৌন্দর্য।