📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 উত্তম নিয়তে কিতাব পড়া দরকার

📄 উত্তম নিয়তে কিতাব পড়া দরকার


হযরত কাসেম নানুতুবি রহ.-কে একলোক জিজ্ঞাসা করলো— 'হযরত! আপনি যে সমস্ত কিতাব পড়েছেন সে সমস্ত কিতাব তো আপনার সাথিরাও পড়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আপনাকে যে সম্মান দান করেছেন তারা তো সে সম্মানের অধিকারী হননি। এর কারণ কী?' নানুতুবি রহ. বললেন—'আমার সাথিরা কুরআনের আধ্যাত্মিক জ্ঞানার্জন ও কুরআনের হাকিকত বুঝার নিয়তে পবিত্র কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করেছেন। যা তাঁদের অর্জন হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁরা ওই নিয়ামত লাভ করতে পারেনি যা আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করেছেন।'

লোকটি আবার প্রশ্ন করলো—'আপনি এ নিয়ামত কীভাবে অর্জন করলেন?' তিনি বললেন— 'আমি যখন পবিত্র কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করেছি তখন এ নিয়তে তিলাওয়াত করেছি যে, 'হে আল্লাহ! তোমার বান্দা হাজির। আমল করার জন্য তোমার হুকুম জানতে চায়।' সুবহানাল্লাহ! এ গুণটিই সাহাবায়েকেরাম রাদি.-এর মাঝে বিদ্যমান ছিলো। সায়্যিদুনা হযরত আবুবকর রাদি.-এর সুরা বাকারা আত্মস্থ করতে পূর্ণ আড়াই বছর সময় লেগেছে। অথচ তাঁরা আরবদেশের অধিবাসী। আরবি ব্যাকরণ তাঁদের অজানা ছিলো না। তারপরও কেনো আড়াই বছর সময় লেগেছে। বুঝা গেলো তাঁরা এক এক আয়াত পড়তেন এবং তার উপর আমল করতেন। একদিকে সুরা পূর্ণ হতো অপরদিকে সে সুরার সকল আমলও পূর্ণ হয়ে যেতো।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 একজন ডক্টরের আফসোস

📄 একজন ডক্টরের আফসোস


একজন পি. এইচ. ডি ডিগ্রিধারী ব্যক্তির পিতা ইনতিকাল করলেন। তিনি এক আলেমকে বললেন—'আপনি আমার পিতার জানাযা পড়াবেন।' জানাযা শেষ হওয়ার পর লোকটি অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। লোকজন তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন—'এ দুঃখ আমাদের সকলের জীবনেই এসে থাকে। সুতরাং ধৈর্য ধরুন।' কিন্তু তিনি কাঁদতেই থাকলেন। অবশেষে মাওলানা সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন—'আপনি এতো কাঁদছেন কেনো?' লোকটি বললেন—'আমি আমার পিতাকে হারানোর জন্য কাঁদছি না। কারণ, মৃত্যু সকলের জন্যই অনিবার্য। বরং আমি কাঁদছি আমার পিতা আমাকে দুনিয়াবি শিক্ষায় পি. এইচ. ডি ডিগ্রি অর্জন করিয়েছেন। কিন্তু ধর্মীয় কোনো শিক্ষা দান করেননি। আজ আমার সামনে আমার পিতার লাশ রয়েছে কিন্তু আমি জানাযা পড়াতে পারলাম না।'

টিকাঃ
২৬. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ১/২৬১।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ইলমের রাস্তায় ধোঁকাবাজি কীভাবে?

📄 ইলমের রাস্তায় ধোঁকাবাজি কীভাবে?


একজন হাদিছ-সংকলক হাদিছ সংগ্রহ করার জন্য অন্য একজন মুহাদ্দিস- এর নিকট গেলেন। তাঁর কাছে গিয়ে দেখতে পেলেন তিনি তাঁর ছুটে যাওয়া ঘোড়াকে ধরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ধরতে পারছেন না। অবশেষে তিনি একটি টুকরির মধ্যে কিছু রেখে ঘোড়াকে ডাক দিলেন যাতে ঘোড়া বুঝতে পারে যে, টুকরিতে কোনো খাদ্য আছে। এরপর ঘোড়া খাবার খেতে টুকরির কাছে এলো। তখন মুহাদ্দিস সাহেব ঘোড়াকে ধরে ফেললেন। এ দৃশ্য দেখে আগত হাদিছ-সংকলক ফিরে যেতে লাগলেন। পথিমধ্যে কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন— 'হযরত! আপনি এতোদূর থেকে এসেছেন হাদিছ সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু হাদিছ সংগ্রহ না করেই ফিরে যাচ্ছেন। এর কারণ কী?' তখন তিনি বললেন—'যে একটা পশুকে ধোঁকা দিতে পারে সে যে হাদিছ বর্ণনায় ধোঁকা দিবে না তার নিশ্চয়তা কী?'

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 আল্লাহর উপর ভরসায় খোদায়ি সাহায্য

📄 আল্লাহর উপর ভরসায় খোদায়ি সাহায্য


ইলম ও জ্ঞানার্জনের জন্য আমাদের পূর্বসূরি মনীষীগণ অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষা ও কষ্ট স্বীকার করেছেন। তখন কোনো কিছু এতোটা সহজ ছিলো না। উদাহরণস্বরূপ হযরত সুফিয়ান সাওরি রহ. ও তাঁর দু' সাথির ঘটনা বর্ণনা করছি।

হযরত সুফিয়ান সাওরি রহ. ও তাঁর দু'জন সঙ্গী ইলম অর্জনের জন্য একজন মুহাদ্দিস-এর শরণাপন্ন হলেন। সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেন—'আমাদের কাছে আহারের জন্য ছাতু ছিলো। আমরা অল্প অল্প করে প্রতিদিন সে ছাতু আহার করতাম। কিন্তু আমাদের সবক শেষ হওয়ার তিনদিন আগে ছাতু শেষ হয়ে গেলো। তখন আমরা তিনজন পরামর্শ করলাম যে, আমাদের থেকে দু'জন দরসে উপস্থিত হবো। আর বাকি একজন পরিশ্রমের মাধ্যমে খাবারের সংগ্রহে যাবে।

এরপর আমরা দু'জন পূর্বপরামর্শ অনুযায়ী দরসে চলে গেলাম। আর যার উপর সেদিন খাবার আঞ্জামের দায়িত্ব ছিলো বাজারে না গিয়ে মসজিদে চলে গেলেন। তিনি চিন্তা করলেন, মানুষের মজদুরি করে কী লাভ হবে। তারচে' আল্লাহর মজদুরি করি। কাজের অসিলায় খাবারের ব্যবস্থা না করে মাওলার মজদুরির মাধ্যমে কোনো অসিলা ছাড়াই দেখি খাবার পাওয়া যায় কিনা।

সুতরাং তিনি সারাদিন মসজিদে নফল ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়া করে কাটিয়ে দিলেন। সন্ধ্যায় ফিরে আসার পর আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম—'কী ভাই! খাবারের কোনো ব্যবস্থা হয়েছে?' তিনি বললেন—'আমি সারাদিন এমন একজন মালিকের মজদুরি করেছি যিনি পরিপূর্ণ হিসাব রাখেন। সুতরাং যথাসময়ে খাবার চলে আসবে।' তাঁর কথা শুনে সকলেই সন্তুষ্ট হলেন।

এরপর দ্বিতীয় দিন আরেকজনের পালা এলো। তিনিও আগের জনের মতো চিন্তা করে মসজিদে গিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করতে লাগলেন। আর দোয়া করতে লাগলেন। সন্ধ্যায় ফিরে আসার পর বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করলে, তিনিও আগেরজনের মতো উত্তর দিলেন—'আমি এমন মালিকের কাজ করেছি যিনি পরিপূর্ণ পাওনা পরিশোধ করেন। তিনি পাওনা পরিশোধ করার ব্যাপারে ওয়াদা করেছেন।' কথা শুনে সকলে খুশি হলেন।

তৃতীয় দিন অপরজনের পালা এলো। তিনিও পূর্বের দু'জনের মতোই করলেন। আল্লাহর কী শান! তৃতীয় দিন সেখানকার বাদশাহ স্বপ্নে দেখলেন যে, একটি ভূতের আকৃতিতে তার উপর হাত উঠিয়ে কেউ তাকে বলছে—'সুফিয়ান সাওরি ও তাঁর দু' সাথির খোঁজ নাও।' এরপর বাদশাহ ঘুম থেকে উঠে কর্মচারীদের নির্দেশ দিলেন—'যাও, সুফিয়ান সাওরি নামের ব্যক্তি ও তাঁর দু' সঙ্গীকে খুঁজে বের কর। থলি ভরতি দিরহাম-দিনার দিয়ে বললেন, তাঁদের পাওয়ামাত্রই এ থলি প্রদান করবে। এবং আমাকে তাঁদের খবর সম্পর্কে অবহিত করবে। আমি তাঁদের জন্য রাজকোষাগার উন্মুক্ত করে দেবো।

এদিকে তাঁদের সবক শেষ হয়ে গেলো, অপরদিকে বাদশাহর কর্মচারীরাও তাঁদেরকে খুঁজতে খুঁজতে মসজিদে এসে হাজির হলো। জিজ্ঞাসা করলো—'এখানে সুফিয়ান সাওরি নামে কেউ আছেন? বর্তমান বাদশাহ আমাদের পাঠিয়েছেন। তিনি একটি স্বপ্ন দেখেছেন। সে স্বপ্নের আদেশ রক্ষার্থেই আমরা এখানে এসেছি।' তখন সুফিয়ান সাওরি রহ. ও তাঁর সাথিরা পরামর্শ করলেন যে, আমাদের সামনে এখন দু'টি দরজা খোলা আছে। এক. আল্লাহর দরজা। দুই. বাদশাহর দরজা। কিন্তু আমরা যেহেতু ইলম অর্জন করেছি সেহেতু আমরা বাদশাহর দরজায় যেতে পারি না। কেননা, তাতে ইলমের অমর্যাদা করা হবে। ধরনা যদি দিতেই হয় তাহলে আমাদের মালিক আল্লাহর ধরনা দেবো।

আল্লাহু আকবার! তিনদিন অনাহারে থেকেও বাদশাহর দরবারে যাওয়া তাঁরা পছন্দ করলেন না। বরং ওই অবস্থাতেই দেশে ফিরে গেলেন। যাঁদের দৃষ্টি আল্লাহর পবিত্র সত্তার সাথে সম্পৃক্ত তাঁদের প্রতি নুসরাতে ইলাহ বর্ষিত হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px