📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 সে পেস্তার ফালুদা খাবে

📄 সে পেস্তার ফালুদা খাবে


ইমাম আবু ইউসুফ রহ. শৈশবেই ইমামে আযম হযরত আবু হানিফা রহ.-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-কে তাঁর মা ধোপার কাজ শেখার জন্য পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হযরত আবু হানিফা রহ.-এর দরসে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এমনকি একসময় তিনি অনেক বড়ো ফকিহ হয়ে যান।

বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর মা তাঁকে বললেন— 'আমি তোমাকে ধোপার কাজ শিখতে পাঠিয়েছিলাম। কারণ, তোমার বাবা বেঁচে নেই। তুমি কোনো কাজ করলে আমরা খেতে পারবো।' মায়ের এমন কথা তিনি উস্তাদের কাছে বললেন। হযরত আবু হানিফা রহ. বললেন— 'মাকে গিয়ে বলবে, আমি এমন কিছু অর্জন করছি যার দ্বারা উপার্জন অনেক বেশি হবে।' মাকে তিনি এ কথাগুলো বললেন, কিন্তু মা বিশ্বাস করলেন না।

তিনি উস্তাদের কাছে ছুটে এলেন। বললেন—'আমি তাকে পাঠিয়েছি ধোপার কাজ শেখার জন্য, কিন্তু সে দেখি আপনার এখানে এসে কিতাব পড়ছে।' তখন হযরত আবু হানিফা রহ. বললেন—'সে আমার কাছ থেকে এমন ইলম শিক্ষা করছে যে, সে একসময় পেস্তার তৈরি ফালুদা খাবে।' মা মনে করলো, হয়তো ইয়াতিম ছেলেকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য এমনটি বলছেন।

যাহোক! মা কিছুটা আশ্বস্ত হলেন। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে গেলো। একসময় হযরত আবু ইউসুফ রহ. প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হলেন। তিনি বলেন, একবার আমি খলিফা হারুনুর রশিদের পাশে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন— 'হযরত! আমি আপনার জন্য একপ্রকার খাবার তৈরি করেছি। যা সাধারণত মাঝে মাঝে আমার জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু আপনার ইলমের শান অনেক উপরে। তাই এ খাবার প্রতিদিন আপনি পাবেন।' আমি জানতে চাইলাম, কী সে খাবার। তিনি বললেন— 'পেস্তার তৈরি ফালুদা।' তখন হযরত আবু হানিফা রহ.-এর সেকথা আমার মনে পড়ে গেলো।

দেখুন! আল্লাহ তাআলা এভাবেই বান্দার রিযিকের ব্যবস্থা করে থাকেন।

টিকাঃ
১৮. তাঁর নাম ইয়াকুব। প্রসিদ্ধ বর্ণনামতে ৯৩ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ২৯ বছর হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সান্নিধ্যে থেকে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি খুব গরিব ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীসময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁকে অঢেল সম্পদের মালিক বানান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর সম্পদ থেকে একলক্ষ দিরহাম মক্কাবাসীদের, একলক্ষ দিরহাম মদিনাবাসীদের, একলক্ষ দিরহাম কুফাবাসীদের দেয়ার জন্য অসিয়ত করে যান। তিনি ৮৯ বছর বয়সে ১৮২ হিজরি সনে ইনতিকাল করেন।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ইলম হযরত সালেম রহ.-কে কোথায় পৌঁছে দিলো

📄 ইলম হযরত সালেম রহ.-কে কোথায় পৌঁছে দিলো


হযরত সালেম রহ. ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস। প্রথমে তিনি ছিলেন একজন ক্রীতদাস। তিনশ' দিরহামের বিনিময়ে তিনি বিক্রি হয়েছিলেন। এরপর ইলম অর্জন করে এমন মর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন যে, বাদশাহ পর্যন্ত তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে হলে অনুমতি নিয়ে আসতেন।

একবার তাঁর সাথে দেখা করতে বাদশাহ আসলেন। কিন্তু তিনি তখন ইলমিকাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই বাদশাহকে ফিরিয়ে দিলেন। বাদশাহ দেখা না করেই চলে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়াতে তিনশ' দিরহামে বিক্রি হয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর জন্য সওদা করেছিলেন। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর দাম বৃদ্ধি করে দিলেন।

যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করে এমন মর্যাদা লাভ করেছে সে সৌভাগ্যবান। আর যে এমন মর্যাদা লাভ করেনি তবে এখনো ইলম তলব করছে সেও সৌভাগ্যবান। সুবহানাল্লাহ।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ইজ্জত কাপড়ে নয়—ইলমের খাজানায়

📄 ইজ্জত কাপড়ে নয়—ইলমের খাজানায়


একবার ইমাম শাফি রহ. চুল কাটাতে নাপিতের দোকানে গেলেন। তখন তাঁর গায়ে ছিলো পুরাতন ও ময়লা কাপড়। এমন সময় একজন ধনী ব্যক্তিও আসলেন। তার গায়ে ছিলো মূল্যবান পোশাক। নাপিত ভাবলো ধনী লোকটি হয়তো বেশি পয়সা দেবে। তাই সে ইমাম শাফি রহ.-এর চুল কাটতে অস্বীকৃতি জানায়। বললো— 'আমি প্রথমে ওনার চুল কাটবো। তারপর আপনার।' তখন ইমাম শাফি রহ. খাদেমকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'থলিতে কী পয়সা আছে?' খাদেম বললেন, 'জী, আছে। তিনশ' দিরহাম আছে।' ইমাম শাফি রহ. বললেন, 'এ তিনশ' দিরহামই নাপিতকে দিয়ে দাও।' নাপিত চুল না কেটে তিনশ' দিরহাম পেয়ে বিস্মিত হলো। সে বললো, 'আপনার গায়ে রয়েছে ছেঁড়া জামা। কিন্তু এরমধ্যে যে এতো সম্পদ রয়েছে তা তো বুঝতে পারিনি।' এরপর ইমাম শাফি রহ. বাইরে এসে একটি কবিতা পাঠ করলেন—

على ثياب لو جميعها بفلس لكان الفلس منهন أكثরা

'আমার শরীরে যে পোশাক রয়েছে তা যদি এক দিরহামের বিনিময়েও বিক্রি করি তাহলে পোশাকের চেয়ে দিরহামের মূল্য বেশি হবে।' কিন্তু সেই কাপড়ের ভেতরে এমন একটি প্রাণ রয়েছে, যা সারা পৃথিবী খুঁজলেও পাওয়া যাবে না।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণ

📄 ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণ


ইমাম আওযায়ি রহ. ছিলেন সিরিয়ার বাসিন্দা। তিনি ইমাম আযম রহ.-এর কিছু সমালোচনা শুনতে পেয়েছিলেন। একবার ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর বিশিষ্ট ছাত্র আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. ইমাম আওযায়ি রহ.-এর দরবারে গেলেন। তখন ইমাম আওযায়ি রহ. আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ.-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'হে খুরাসানি! আবু হানিফা নামের লোকটি কে? শুনেছি সে নাকি মারাত্মক পথভ্রষ্ট?'

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন— একথা শুনে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। অবশেষে আমি ইমাম আযম-এর লেখা একটি মাসআলার কিতাব হযরত ইমাম আওযায়িকে দিলাম। তিনি তা পাঠ করে বললেন, 'হে খুরাসানি! এ নুমান নামের লোকটি কে? তাঁর ইলমি যোগ্যতা অনেক উপরে। তাঁর থেকে ইলমি-ফায়দা হাসিল করো।' তখন আমি বললাম, এ নুমানই সেই আবু হানিফা রহ. যাঁর সম্পর্কে আপনি আপত্তিকর কথা শুনেছেন। বাস্তবে তিনি অনেক উঁচুস্তরের। এ কথা শুনে তাঁর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেলো। তিনি বললেন, 'হে খুরাসানি! তাঁর সান্নিধ্য অর্জন করো এবং তাঁর থেকে ইলমি-ফায়দা হাসিল করো।'

টিকাঃ
*. আবদুল্লাহ ইবনে মুবারকের নিসবত। কারণ, খুরাসান ছিলো তাঁর এলাকার নাম।
২০. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৪/২৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px