📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 অবিচলতা থাকলে আগুনে জ্বলতে হতো না

📄 অবিচলতা থাকলে আগুনে জ্বলতে হতো না


একবার সিররি সাকাতি রহ. দুপুরের সময় কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিশ্রামের জন্য তিনি একটি গাছের নিচে শুয়ে পড়লেন। কিছুসময় পর যখন তিনি চোখ খুললেন, তখন তাঁর কানে একটি আওয়াজ ভেসে এলো। তিনি বুঝতে পারলেন আওয়াজটি এ গাছের থেকেই বের হচ্ছে। গাছ তাকে বলছে— اکُنْ مِثْلِي 'হে সিররি সাকাতি! তুমি এ গাছের মতো হয়ে যাও।' তখন তিনি বললেন— کَيْفَ أَكُونُ مِثْلُكَ ؟ 'সেটা কীভাবে?'

গাছ বললো— إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَنِي بِالْأَحْجَارِ فَأَرْمِيهِمْ بِالْإِثْمَارُ . 'আমাকে দেখো, মানুষ আমার দিকে পাথর ছুড়ে মারে। তথাপি আমি তাদের দিকে ফল ছুড়ে মারি।'

আল্লাহর অলিদের অন্তর্দৃষ্টি থাকে। তাই একথা শোনার পর তাঁর মনে প্রশ্ন উঁকি দিলো। তিনি গাছকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি যদি এতোই মহৎ হবে, তাহলে তোমাকে কেনো আগুনের ইন্ধন বানানো হলো?' তখন গাছ বললো, 'আমার মধ্যে একটি দুর্বলতা আছে, যে দুর্বলতা আল্লাহর কাছে খুবই অপছন্দীয়। যার ফলে আমার এ শাস্তি। আর সে দুর্বলতা হলো, বাতাস যেদিকে দোলে, আমিও সেদিকে দুলতে থাকি। অর্থাৎ আমার মধ্যে কোনো দৃঢ়তা নেই।'

টিকাঃ
*. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৩/৬৯।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ফতোয়া প্রদানে নির্ভীক ইমাম মালেক রহ.

📄 ফতোয়া প্রদানে নির্ভীক ইমাম মালেক রহ.


একবার ইমাম মালেক রহ.-এর কাছে কোনো একটি বিষয়ে ফতওয়া জানতে চাওয়া হলো। কিন্তু তিনি শাসকের ইচ্ছার পরিপন্থী ফতওয়া দিলেন। ফলে তাঁকে গাধার পিঠে চড়ানো হলো। চেহারায় কালোরঙ মেখে দেয়া হলো। এরপর তাঁকে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানো হলো। এরপর ইমাম মালেক রহ. বললেন—'হে লোকসকল! তোমাদের মাঝে যে আমাকে চেনে সে তো চেনেই। আর যে না চেনে তাকে বলছি, আমি আনাসের পুত্র মালেক।'

দেখুন! হযরত ইমাম মালেক রহ.-এর সাহসিকতা। তিনি নিন্দুকের নিন্দার কোনো পরওয়া করেননি।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ১৮৫৭ সন : নমরুদের পুনরাবৃত্তি

📄 ১৮৫৭ সন : নমরুদের পুনরাবৃত্তি


ভারতবর্ষ থেকে ইসলামকে চিরতরে খতম করার জন্য ইংরেজরা যেসব পদ্ধতি গ্রহণ করে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো— ১. সর্বপ্রথম সমস্ত কুরআনকে ধ্বংস করতে হবে। ২. সকল ওলামায়েকেরামকে হত্যা করতে হবে। ৩. জিহাদের চেতনা মুছে ফেলতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করলো। তিন বছরের মধ্যে তিনলক্ষ কুরআনের কপি আগুনে পুড়িয়ে ফেললো। চৌদ্দ হাজার ওলামায়েকেরামকে ফাঁসি দিয়ে শহিদ করলো। টমসন তার ইতিহাস-গ্রন্থে লিখেছেন, দিল্লি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের দু'পাশে এমন কোনো গাছ ছিলো না, যে গাছে আলেমদের লাশ ঝুলতে দেখা যায়নি। শাহি মসজিদসহ সকল মসজিদে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো।

টমসন বলেন, 'আমি দিল্লির এক সেনাক্যাম্পে অবস্থান করছিলাম। মানুষের গোশত পোড়ার গন্ধে আমি অস্থির হয়ে পড়লাম। ক্যাম্পের পিছনে গিয়ে দেখলাম জ্বলন্ত আগুনের সামনে চল্লিশজন আলেমকে আনা হয়েছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, 'তোমরা যদি আমাদের কথা মেনে না নাও তাহলে তোমাদেরকে এই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।' সেসকল আলেমগণ একথা উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাপ দিলো। এরপর আবার চল্লিশজন আলেমকে আনা হলো, তারাও পূর্বের মতো আগুনে ঝাপ দিলো। পুরো ক্যাম্পে তাঁদের গোশত পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিলো।

টিকাঃ
৮. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৬/৯৩।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত

📄 মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত


মাওলানা আহমাদুল্লাহ গুযরাটি রহ. ছিলেন অনেক বড়ো আলেম। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতের আন্দোলন চলাকালে এক ইংরেজ তাঁর কাছে আরবি শিখতো। যেসকল ইংরেজ আলেমদের সম্মান ও কদর করতো, সে ইংরেজ ছিলো তাদের মধ্যে একজন। সে একদিন গুযরাটি রহ.-কে বললো, 'হযরত! আপনি শুধু একবার বলুন, এ আন্দোলনে আমি শরিক নই। তাহলে আপনি সকলপ্রকার জুলুম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।' তখন মাওলানা আহমাদুল্লাহ গুযরাটি রহ. বললেন, 'আমি পছন্দ করি না যে, একথা বলার দ্বারা আল্লাহর দফতর থেকে আমার নাম কেটে দেয়া হোক।' সুবহানাল্লাহ! দীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত; কিন্তু ইংরেজদের সাথে হাত মিলাতে রাজি নন।

টিকাঃ
*. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৬/৯৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px