📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 রাজপ্রাসাদে সাহাবির অবিচলতা

📄 রাজপ্রাসাদে সাহাবির অবিচলতা


সাহাবায়েকেরাম রাদি. পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ওই শহরটি অবরোধ করেন যে শহরে রাজার সিংহাসন ছিলো। কয়েকদিন ব্যাপী এ অবরোধ অব্যাহত থাকে। তখন বাদশাহ মন্ত্রী-পরিষদের সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করে। বললো— 'এরা তো যেদিকেই পা বাড়ায় সেদিকেই জয় লাভ করে। এখন আমরা কী করতে পারি? আমাদের মুক্তির উপায় কী?' মন্ত্রীরা পরামর্শ দিলো— 'বাদশাহ সালামত! এরা তো অন্নহীন। দরিদ্র। সুতরাং আপনি এদেরকে প্রাসাদে ডেকে আমাদের শৌর্য-বীর্য দেখিয়ে দিন। আমাদের ধন-সম্পদ দেখে এরা ঘাবড়ে যাবে। তখন বাদশাহ সন্ধির জন্য সাহাবায়েকেরামের কাছে প্রতিনিধি পাঠালো।

সাহাবায়েকেরামের পক্ষ থেকে দূত হয়ে যিনি এলেন, তাঁর গায়ে ছিলো বাবলা কাঁটা দ্বারা সেলাই করা জামা। ঘোড়ার উপর বিছিয়ে বসার মতোও কিছু ছিলো না। তাই খালিপিঠে চড়ে তিনি প্রাসাদে আসলেন। হাতে ছিলো একটি নেযা। তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সোজা রাজ-প্রাসাদে গিয়ে শাহি আসনে বসে পড়লেন। এতে বাদশাহ খুব রেগে গেলো। সে বললো—'তোমাদের কোনো আদব-কায়দা জানা নেই? তোমার কী স্মরণ আছে, তুমি কার দরবারে এসেছো? ভদ্রতা ও সৌজন্যতা বলতে তোমাদের মাঝে কিছুই নেই।' সাহাবি রাদি. বললেন—'এটা আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা।' এতে বাদশাহ আরো রেগে গেলো। এরপর বললো— 'যাহোক! এখন বলো, তোমরা কী চাও।' তখন সাহাবি রাদি, বললেন 'ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপত্তা পাবে।' বাদশাহ বললো—'এটা পারবো না।' সাহাবি রাদি. বললেন—'তাহলে তোমাদের রাজত্ব আমাদের হাতে দিয়ে দাও। তোমরা স্বাধীনভাবে এ রাজ্যে বসবাস করতে পারবে।' বাদশাহ বললো—'এটা কীভাবে সম্ভব যে, আমরা আমাদের রাজত্ব তোমাদের মতো অন্নহীন-দরিদ্রদের হাতে দিয়ে দেব?' তখন সাহাবি রাদি. বললেন—'তাহলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবো। তরবারিই হবে আমাদের ও তোমাদের মাঝে ফয়সালাকারী। তোমাদের স্ত্রীরা হবে আমাদের দাসী।'

রণসাজে সজ্জিত প্রাসাদের সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে তিনি এসব কথা বললেন। নিজের প্রাসাদে তাও আবার সকল মন্ত্রী-পরিষদের সামনে এমন কথা শুনে বাদশাহর সারা শরীরে ঝড় বয়ে গেলো। শরীর ঘেমে গেলো। সে বললো—'তোমাদের এ জংধরা তরবারি দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কী যুদ্ধ করবে?' সাহাবি রাদি. বললেন—'হে বাদশাহ! তুমি আমাদের জংধরা তরবারি দেখেছো। কিন্তু তরবারির পেছনের হাতগুলো দেখনি। তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে এ তরবারিগুলো কাদের হাতে রয়েছে।' আল্লাহু আকবার। সাহাবির কথায় আল্লাহ তাআলা প্রভাব সৃষ্টি করে দিলেন এবং তাঁদেরকে বিজয় দান করলেন।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 অবিচলতা থাকলে আগুনে জ্বলতে হতো না

📄 অবিচলতা থাকলে আগুনে জ্বলতে হতো না


একবার সিররি সাকাতি রহ. দুপুরের সময় কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিশ্রামের জন্য তিনি একটি গাছের নিচে শুয়ে পড়লেন। কিছুসময় পর যখন তিনি চোখ খুললেন, তখন তাঁর কানে একটি আওয়াজ ভেসে এলো। তিনি বুঝতে পারলেন আওয়াজটি এ গাছের থেকেই বের হচ্ছে। গাছ তাকে বলছে— اکُنْ مِثْلِي 'হে সিররি সাকাতি! তুমি এ গাছের মতো হয়ে যাও।' তখন তিনি বললেন— کَيْفَ أَكُونُ مِثْلُكَ ؟ 'সেটা কীভাবে?'

গাছ বললো— إِنَّ الَّذِينَ يَرْمُونَنِي بِالْأَحْجَارِ فَأَرْمِيهِمْ بِالْإِثْمَارُ . 'আমাকে দেখো, মানুষ আমার দিকে পাথর ছুড়ে মারে। তথাপি আমি তাদের দিকে ফল ছুড়ে মারি।'

আল্লাহর অলিদের অন্তর্দৃষ্টি থাকে। তাই একথা শোনার পর তাঁর মনে প্রশ্ন উঁকি দিলো। তিনি গাছকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি যদি এতোই মহৎ হবে, তাহলে তোমাকে কেনো আগুনের ইন্ধন বানানো হলো?' তখন গাছ বললো, 'আমার মধ্যে একটি দুর্বলতা আছে, যে দুর্বলতা আল্লাহর কাছে খুবই অপছন্দীয়। যার ফলে আমার এ শাস্তি। আর সে দুর্বলতা হলো, বাতাস যেদিকে দোলে, আমিও সেদিকে দুলতে থাকি। অর্থাৎ আমার মধ্যে কোনো দৃঢ়তা নেই।'

টিকাঃ
*. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৩/৬৯।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ফতোয়া প্রদানে নির্ভীক ইমাম মালেক রহ.

📄 ফতোয়া প্রদানে নির্ভীক ইমাম মালেক রহ.


একবার ইমাম মালেক রহ.-এর কাছে কোনো একটি বিষয়ে ফতওয়া জানতে চাওয়া হলো। কিন্তু তিনি শাসকের ইচ্ছার পরিপন্থী ফতওয়া দিলেন। ফলে তাঁকে গাধার পিঠে চড়ানো হলো। চেহারায় কালোরঙ মেখে দেয়া হলো। এরপর তাঁকে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানো হলো। এরপর ইমাম মালেক রহ. বললেন—'হে লোকসকল! তোমাদের মাঝে যে আমাকে চেনে সে তো চেনেই। আর যে না চেনে তাকে বলছি, আমি আনাসের পুত্র মালেক।'

দেখুন! হযরত ইমাম মালেক রহ.-এর সাহসিকতা। তিনি নিন্দুকের নিন্দার কোনো পরওয়া করেননি।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ১৮৫৭ সন : নমরুদের পুনরাবৃত্তি

📄 ১৮৫৭ সন : নমরুদের পুনরাবৃত্তি


ভারতবর্ষ থেকে ইসলামকে চিরতরে খতম করার জন্য ইংরেজরা যেসব পদ্ধতি গ্রহণ করে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো— ১. সর্বপ্রথম সমস্ত কুরআনকে ধ্বংস করতে হবে। ২. সকল ওলামায়েকেরামকে হত্যা করতে হবে। ৩. জিহাদের চেতনা মুছে ফেলতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করলো। তিন বছরের মধ্যে তিনলক্ষ কুরআনের কপি আগুনে পুড়িয়ে ফেললো। চৌদ্দ হাজার ওলামায়েকেরামকে ফাঁসি দিয়ে শহিদ করলো। টমসন তার ইতিহাস-গ্রন্থে লিখেছেন, দিল্লি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের দু'পাশে এমন কোনো গাছ ছিলো না, যে গাছে আলেমদের লাশ ঝুলতে দেখা যায়নি। শাহি মসজিদসহ সকল মসজিদে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো।

টমসন বলেন, 'আমি দিল্লির এক সেনাক্যাম্পে অবস্থান করছিলাম। মানুষের গোশত পোড়ার গন্ধে আমি অস্থির হয়ে পড়লাম। ক্যাম্পের পিছনে গিয়ে দেখলাম জ্বলন্ত আগুনের সামনে চল্লিশজন আলেমকে আনা হয়েছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, 'তোমরা যদি আমাদের কথা মেনে না নাও তাহলে তোমাদেরকে এই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।' সেসকল আলেমগণ একথা উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাপ দিলো। এরপর আবার চল্লিশজন আলেমকে আনা হলো, তারাও পূর্বের মতো আগুনে ঝাপ দিলো। পুরো ক্যাম্পে তাঁদের গোশত পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিলো।

টিকাঃ
৮. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৬/৯৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px