📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 ফিরাউন হযরত মুশান্তার অবিচলতায় ফাটল ধরাতে পারেনি

📄 ফিরাউন হযরত মুশান্তার অবিচলতায় ফাটল ধরাতে পারেনি


ফিরাউনের দরবারে মুশাতা নামে একজন নারী ছিলেন। যিনি ফিরাউনের মেয়েকে মাথার চুল বিলি করে দিতেন। একদিন ফিরাউনের মেয়ের মাথার চুল বিলি করতে গিয়ে হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেলো। তখন তিনি মুসা আলাইহিস সালাম-এর রবের নাম নিয়ে চিরুনি তুললেন। বিষয়টি ফিরাউনের মেয়ে লক্ষ্য করলো। সে বুঝতে পারলো, এ পরিচালিকা আমার বাবাকে খোদা বলে মানে না। বরং সে মুসার আল্লাহকে খোদা মেনে নিয়েছে। সে মুশাতাকে জিজ্ঞাসা করলো, 'তুমি কি আমার বাবাকে খোদা বলে স্বীকার করো না?' মুশাতা বললেন, 'কখনো না। আমি মুসার আল্লাহকে খোদা বলে মেনে নিয়েছি।' মেয়ে তৎক্ষণাৎ গিয়ে ফিরাউনের কাছে ঘটনা খুলে বললো। ফিরাউন তো ঘটনা শুনে রেগে ফেটে পড়লো। ফিরাউন বললো, 'আমি তাকে এমন শাস্তি দেবো যে, হয়তো সে আমাকে খোদা বলে মেনে নেবে, অন্যথায় সে প্রাণ হারাবে।'

অবশেষে মুশাতাকে দরবারে ডেকে মুসার রবের উপর থেকে ইমান ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলো। কিন্তু তিনি বললেন, 'এটা আমি করতে পারবো না।' ফিরাউন তাকে ধমক দিলো। তিনি বললেন, 'আপনার যা করার করতে পারেন। আমি ইমান ছাড়তে পারবো না।' এরপর ফিরাউনের নির্দেশে তাকে মাটিতে শুইয়ে দেয়া হলো। তাঁর একটা ছোট বাচ্চা ছিলো। ফিরাউন চিন্তা করলো তার সামনে যদি তাঁর বাচ্চাকে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়, তাহলে হয়তো সে মাতৃত্বের মমতায় অপারগ হয়ে আমার কথা মেনে নেবে। তখন ফিরাউন তাঁর বাচ্চাকে এনে তার বুকের উপর বসিয়ে দিলো। শিশুবাচ্চা মায়ের বুকের দুধ খেতে শুরু করলো। ফিরাউন বললো, 'এখন তোমার সামনে তোমার বাচ্চাকে হত্যা করা হবে।' মুশাতা বললো, 'এখন আমার ইমান এতোটাই সুদৃঢ় হয়েছে যে, আমি যদি আমার সন্তানকে রক্তের মধ্যে গড়াগড়ি খেতে দেখি তাহলেও আমি একটুও নড়বো না। আমি আমার ইমান ছাড়তে পারবো না।' এরপর তাঁর বুকের উপরই সন্তানের গর্দান উড়িয়ে দেয়া হয়।

চিন্তা করুন, এমন পরিস্থিতিতে একজন মায়ের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে? যাহোক, তারপর ফিরাউন বললো, 'এখন তোমাকে হত্যা করবো।' মুশাতা বললো, 'তোমার যা খুশি করতে পারো। আমি ইমান ছাড়তে পারবো না।' এরপর তাকেও শহিদ করে দেয়া হয়।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 কবর থেকে মেশকের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়লো

📄 কবর থেকে মেশকের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়লো


হাদিছে এসেছে—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিরাজে গমন করেন। তখন পথিমধ্যে এক উপত্যকা থেকে মেশকের সুঘ্রাণ আসছিলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম-কে এ সুঘ্রাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ফিরাউনের দরবারে মুশাতা নামে যে দাসী ছিলো এখানে তাঁর কবর। আর এ কবর থেকেই সুঘ্রাণ আসছে। সুবহানাল্লাহ!

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 পাহাড় গলে গেলো

📄 পাহাড় গলে গেলো


একব্যক্তি স্বপ্নে দেখলো যে, কেউ তাকে বলছে—'তুমি যদি আল্লাহর রাস্তায় বের হও এবং বের হওয়ার পর তুমি প্রথম যা দেখতে পাবে তা যদি তুমি ভক্ষণ করো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাকে উচ্চমর্যাদা দান করবেন।' লোকটি ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়ে পড়লেন। কিন্তু বের হয়ে প্রথমেই তার চোখ পড়লো একটি পাহাড়ের দিকে। তখন সে ভাবলো, এ পাহাড় তো খাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই একবার ভাবলো বাড়ি ফিরে যাই। আবার ভাবলো, চেষ্টা করে দেখি, যদি কোনো ফলাফল হয়। চিন্তাভাবনা করতে করতে তিনি সামনে অগ্রসর হলেন। কিন্তু দেখা গেলো, যতই সামনে অগ্রসর হয়, ততই পাহাড় ছোট হতে লাগলো। একপর্যায়ে তিনি যখন পাহাড়ের নিকট পৌঁছলেন দেখলেন, পাহাড় আর পাহাড় নেই। বরং পাহাড় গুড়ের খণ্ডে পরিণত হয়ে গেছে। তখন তিনি গুড়ের খণ্ডটি খেয়ে নিলেন।

মনের দৃঢ় ইচ্ছা ও চেষ্টা থাকার কারণে আল্লাহ তাআলা পাহাড়কেও তার জন্য গুড়ের খণ্ডে পরিণত করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ। চেষ্টা করা বান্দার কাজ, ফলাফল দেয়ার মালিক আল্লাহ তাআলা।

📘 যে গল্প ঈমান জাগায় 📄 রাজপ্রাসাদে সাহাবির অবিচলতা

📄 রাজপ্রাসাদে সাহাবির অবিচলতা


সাহাবায়েকেরাম রাদি. পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় ওই শহরটি অবরোধ করেন যে শহরে রাজার সিংহাসন ছিলো। কয়েকদিন ব্যাপী এ অবরোধ অব্যাহত থাকে। তখন বাদশাহ মন্ত্রী-পরিষদের সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করে। বললো— 'এরা তো যেদিকেই পা বাড়ায় সেদিকেই জয় লাভ করে। এখন আমরা কী করতে পারি? আমাদের মুক্তির উপায় কী?' মন্ত্রীরা পরামর্শ দিলো— 'বাদশাহ সালামত! এরা তো অন্নহীন। দরিদ্র। সুতরাং আপনি এদেরকে প্রাসাদে ডেকে আমাদের শৌর্য-বীর্য দেখিয়ে দিন। আমাদের ধন-সম্পদ দেখে এরা ঘাবড়ে যাবে। তখন বাদশাহ সন্ধির জন্য সাহাবায়েকেরামের কাছে প্রতিনিধি পাঠালো।

সাহাবায়েকেরামের পক্ষ থেকে দূত হয়ে যিনি এলেন, তাঁর গায়ে ছিলো বাবলা কাঁটা দ্বারা সেলাই করা জামা। ঘোড়ার উপর বিছিয়ে বসার মতোও কিছু ছিলো না। তাই খালিপিঠে চড়ে তিনি প্রাসাদে আসলেন। হাতে ছিলো একটি নেযা। তিনি ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সোজা রাজ-প্রাসাদে গিয়ে শাহি আসনে বসে পড়লেন। এতে বাদশাহ খুব রেগে গেলো। সে বললো—'তোমাদের কোনো আদব-কায়দা জানা নেই? তোমার কী স্মরণ আছে, তুমি কার দরবারে এসেছো? ভদ্রতা ও সৌজন্যতা বলতে তোমাদের মাঝে কিছুই নেই।' সাহাবি রাদি. বললেন—'এটা আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা।' এতে বাদশাহ আরো রেগে গেলো। এরপর বললো— 'যাহোক! এখন বলো, তোমরা কী চাও।' তখন সাহাবি রাদি, বললেন 'ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপত্তা পাবে।' বাদশাহ বললো—'এটা পারবো না।' সাহাবি রাদি. বললেন—'তাহলে তোমাদের রাজত্ব আমাদের হাতে দিয়ে দাও। তোমরা স্বাধীনভাবে এ রাজ্যে বসবাস করতে পারবে।' বাদশাহ বললো—'এটা কীভাবে সম্ভব যে, আমরা আমাদের রাজত্ব তোমাদের মতো অন্নহীন-দরিদ্রদের হাতে দিয়ে দেব?' তখন সাহাবি রাদি. বললেন—'তাহলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবো। তরবারিই হবে আমাদের ও তোমাদের মাঝে ফয়সালাকারী। তোমাদের স্ত্রীরা হবে আমাদের দাসী।'

রণসাজে সজ্জিত প্রাসাদের সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে তিনি এসব কথা বললেন। নিজের প্রাসাদে তাও আবার সকল মন্ত্রী-পরিষদের সামনে এমন কথা শুনে বাদশাহর সারা শরীরে ঝড় বয়ে গেলো। শরীর ঘেমে গেলো। সে বললো—'তোমাদের এ জংধরা তরবারি দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে কী যুদ্ধ করবে?' সাহাবি রাদি. বললেন—'হে বাদশাহ! তুমি আমাদের জংধরা তরবারি দেখেছো। কিন্তু তরবারির পেছনের হাতগুলো দেখনি। তোমরা শীঘ্রই বুঝতে পারবে এ তরবারিগুলো কাদের হাতে রয়েছে।' আল্লাহু আকবার। সাহাবির কথায় আল্লাহ তাআলা প্রভাব সৃষ্টি করে দিলেন এবং তাঁদেরকে বিজয় দান করলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px