📄 ধন্যবাদ, হে আবু বকর ও উমর!
মাওলানা আহমাদুল্লাহ গুযরাটি রহ. ছিলেন অনেক বড়ো আলেম। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ভারতের আন্দোলন চলাকালে এক ইংরেজ তাঁর কাছে আরবি শিখতো। যেসকল ইংরেজ আলেমদের সম্মান ও কদর করতো, সে ইংরেজ ছিলো তাদের মধ্যে একজন। সে একদিন গুযরাটি রহ.-কে বললো, 'হযরত! আপনি শুধু একবার বলুন, এ আন্দোলনে আমি শরিক নই। তাহলে আপনি সকলপ্রকার জুলুম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।' তখন মাওলানা আহমাদুল্লাহ গুযরাটি রহ. বললেন, 'আমি পছন্দ করি না যে, একথা বলার দ্বারা আল্লাহর দফতর থেকে আমার নাম কেটে দেয়া হোক।' সুবহানাল্লাহ! দীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত; কিন্তু ইংরেজদের সাথে হাত মিলাতে রাজি নন।
টিকাঃ
৯. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৬/৯৪।
📄 গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলিম জাতি এবং বিশ্বমানবতার মূল শিক্ষায় ভুল ঢোকানোর বিষয়টি যে ভাবে জানা যায়
ভারতবর্ষ থেকে ইসলামকে চিরতরে খতম করার জন্য ইংরেজরা যেসব পদ্ধতি গ্রহণ করে তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনটি হলো—
১. সর্বপ্রথম সমস্ত কুরআনকে ধ্বংস করতে হবে।
২. সকল ওলামায়েকেরামকে হত্যা করতে হবে।
৩. জিহাদের চেতনা মুছে ফেলতে হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কাজ শুরু করলো। তিন বছরের মধ্যে তিনলক্ষ কুরআনের কপি আগুনে পুড়িয়ে ফেললো। চৌদ্দ হাজার ওলামায়েকেরামকে ফাঁসি দিয়ে শহিদ করলো। টমসন তার ইতিহাস-গ্রন্থে লিখেছেন, দিল্লি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত মহাসড়কের দু'পাশে এমন কোনো গাছ ছিলো না, যে গাছে আলেমদের লাশ ঝুলতে দেখা যায়নি। শাহি মসজিদসহ সকল মসজিদে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিলো।
টমসন বলেন, 'আমি দিল্লির এক সেনাক্যাম্পে অবস্থান করছিলাম। মানুষের গোশত পোড়ার গন্ধে আমি অস্থির হয়ে পড়লাম। ক্যাম্পের পিছনে গিয়ে দেখলাম জ্বলন্ত আগুনের সামনে চল্লিশজন আলেমকে আনা হয়েছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে, 'তোমরা যদি আমাদের কথা মেনে না নাও তাহলে তোমাদেরকে এই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।' সেসকল আলেমগণ একথা উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় আগুনে ঝাপ দিলো। এরপর আবার চল্লিশজন আলেমকে আনা হলো, তারাও পূর্বের মতো আগুনে ঝাপ দিলো। পুরো ক্যাম্পে তাঁদের গোশত পোড়ার গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিলো।'
টিকাঃ
৮. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৬/৯৩।
📄 ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নিয়োজিত এক ব্রিটিশ গোয়েন্দার ডায়েরী, বৃটেনের মাটির তলায় খৃস্টানদের গোপন মাদ্রাসার প্রতিবেদন এবং তথ্য সন্ত্রাসের কবলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ পুস্তিকার সারসংক্ষেপ
ইমামে রব্বানি হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানি রহ. হিন্দুস্থানের সেরহিন্দ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর যুগে বাদশাহ আকবর ধর্মকে বিকৃতি করে 'দীনে ইলাহি'-র প্রবর্তন করে। যা ছিলো বিভিন্ন রুসুম ও প্রথার সমষ্টি। এদিকে বাদশাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলেমদের উপর ফরমান জারি করে যে, বাদশাহকে সম্মানসূচক সিজদা বৈধ ফতওয়া দিতে হবে। সেসময় কয়েকজন ব্যক্তি দীনের হেফাজতের জন্য নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। কারণ, তাদের দায়িত্বই ছিলো দীনের হেফাজত করা।
আলফেসানি রহ. অকাট্যভাবে এ সম্মানসূচক সিজদা হারাম ফতওয়া দিলেন। এ সত্যবাণী উচ্চারণের ফলে তাঁকে গ্রেফতার করে গোয়ালিয়র দূর্গে বন্দী করা হয়। তাঁর পায়ে শেকল পড়ানো হয়। এরপরও তিনি বিচলিত হননি। কারণ, তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো সামনে মাথা নত করবেন না। একপর্যায়ে তাঁর এ দৃঢ়তার ফলাফল এই হলো যে, জাহাঙ্গীর তাঁর সামনে মাথা নত করলো এবং বললো, 'আপনি যা বলবেন, তা-ই হবে।' এভাবে বিদআত নির্মূল হয়ে সুন্নত প্রতিষ্ঠিত হলো। এ কারণেই তাকে বলা হয়, মুজাদ্দিদে আলফেসানি তথা যামানার সংস্কারক।
টিকাঃ
১০. খুতুবাতে যুলফিকার, পৃ. ৩/১৮৪।