📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 নিরাশাবাদিতা

📄 নিরাশাবাদিতা


মানুষ যখন নিরাশ হয়ে যায়, তখন জীবন-যুদ্ধ বন্ধ ক'রে বসে যায়। যখন নিরাশ হয়, তখন মরিয়া হয়, মারমুখী হয়, আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়। অথচ নিরাশ হওয়া পরাজয়ের একটি বড় কারণ। আগেই যদি ভেবে বসা হয় যে, প্রতিপক্ষ সংখ্যা ও সরঞ্জামে অনেক বেশি, তাহলে জেতার আশা আর মনে বাসা বাঁধে না।

এ কারণেই মহান আল্লাহ বদর যুদ্ধের সময় শত্রু পক্ষকে মুসলিমদের চোখে স্বল্প দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, [إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنَامِكَ قَلِيلاً وَلَوْ أَرَاكَهُمْ كَثِيرًا لَّفَشِلْتُمْ وَلَتَنَازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلَكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ (৪৩) وَإِذْ يُرِيكُمُوهُمْ إِذِ الْتَقَيْتُمْ فِي أَعْيُنِكُمْ قَلِيلاً وَيُقَلِّلُكُمْ فِي أَعْيُنِهِمْ لِيَقْضِيَ اللهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولاً وَإِلَى اللَّهُ تُرْجَعُ الأُمُورُ] (৪৪)

অর্থাৎ, স্মরণ কর, যখন আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে তাদের সংখ্যা অল্প দেখিয়েছিলেন। যদি তোমাকে তাদের সংখ্যা অধিক দেখাতেন, তাহলে তোমরা সাহস হারাতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করতে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে রক্ষা করেছেন। অন্তরে যা আছে সে সম্বন্ধে অবশ্যই তিনি বিশেষভাবে অবহিত। স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে, তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন; যাতে যা ঘটার ছিল, তা তিনি সম্পন্ন করেন। আর সব বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে। (আনফালঃ ৪৩-৪৪)

বিজয়ের কোন কাজেই নিরাশ হওয়া চলবে না। আশা রাখতে হবে বড় এবং সেই সাথে ধৈর্যও ধারণ করতে হবে। বিজয় তত সহজ কিছু নয় যে, আশা করলেই পাওয়া যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, [أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْখُلُوا الْجَنَّةَ وَلَا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزلْزِلُواْ حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ] (২১৪) سورة البقرة

অর্থাৎ, তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশ্‌ত প্রবেশ করবে; যদিও পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের অবস্থা এখনো তোমরা প্রাপ্ত হওনি? দুঃখ-দারিদ্র্য ও রোগ-বালা তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল, তারা এতদূর বিচলিত হয়েছিল যে, রসূল ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারিগণ বলে উঠেছিল, 'আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?' জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (বাক্বারাহঃ ২১৪)

ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে আশা পূরণ হওয়ার জন্য। সফলতার সুউচ্চ শিখরে আরোহন করতে হলে পিঠ বাঁকা করতে হবে। পিঠ সোজা রেখে কেউ সাফল্যের পর্বতে চড়তে পারে না। ধৈর্যের সাথে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। মহান আল্লাহ বলেন, [حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا جَاءَهُمْ نَصْرُنَا فَنُجِّيَ مَن نَّشَاء وَلَا يُرَدُّ بَأْسُنَا عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ] (১১০) سورة يوسف

অর্থাৎ, অবশেষে যখন রসূলগণ নিরাশ হল এবং (লোকে) ভাবল যে, তাদেরকে মিথ্যা (প্রতিশ্রুতি) দেওয়া হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য এল। অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা করলাম সে উদ্ধার পেল। আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি রদ করা হয় না। (ইউসুফঃ ১১০)

মনের ভিতরে আশা রেখে বিশ্বাস রাখতে হবে, [فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (৫) إِنَّ مَعَ الْعُসْرِ يُسْرًا] (৬) سورة الشرح

অর্থাৎ, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি। (ইনশিরাহঃ ৫-৬)

যদি কেউ বারবার হেরে যায়, তবুও মনে এ বিশ্বাস আনা ঠিক নয় যে, সে বিফল মানুষ। যেহেতু বিফলতার বহু পর্বত লংঘন করেই সফলতার সন্ধান পাওয়া যায়। জাতির কোন কোন সদস্যের বিফলতা দেখেও নিরাশ হওয়া ঠিক নয়। কোন নির্দিষ্ট দেশের অসফলতা ও পরাজয় দেখেও নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং যে ব্যক্তি ও দেশের মধ্যে সফলতা আছে, তাকে দেখে নিজের মধ্যে আশাবাদিতা সঞ্চয় করা উচিত। যেখানে অন্ধকার আছে, সেখানে না তাকিয়ে, যেখানে আলো আছে, সেখানে তাকিয়ে নিজের জীবনকে আলোকিত করার স্বপ্ন দেখলে তবেই সফল হওয়া যায়।

সাহাবাদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের কথা শুনে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। তাতারের হত্যাকান্ড শুনেও নিরাশ হওয়া উচিত নয়। কারামেতাদের আধিপত্য শুনেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বাইতুল মাকদিস ৯১ বছর ধরে খ্রিষ্টানদের দখলে ছিল। সেই সময় সেখানে না জুমআহ হয়েছে, না জামাআত। সে কথা শুনে নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ, যা হয়েছে, বয়ে গেছে। তার পরেও মুসলিমরা আধিপত্য পেয়েছে। বর্তমানেও ইয়াহুদী শক্তিকে বিশ্ববিজয়ী দেখে নিরাশ হওয়ার কিছু নয়। কারণ তার পরেও মুসলিমদের হারানো গৌরব ফিরে আসবেই। এই আশা জাতির মনে বাসা বাঁধা দরকার।

সাময়িক পরাজয় দেখে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। যেহেতু সবশেষে যার জয়, সেই হয় বিজয়ী। নিরাশ হওয়ার মানেই হল আল্লাহর প্রতি কুধারণা করা। বান্দার উচিত, তাঁর প্রতি সুধারণা ও আশা রাখা। তিনি বলেছেন, [لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ الله] (৫৩) سورة الزمر

অর্থাৎ, আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না। (যুমারঃ ৫৩)

[وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ] (৫৬) سورة الحجر

অর্থাৎ, 'পথভ্রষ্টরা ব্যতীত আর কে নিজ প্রতিপালকের অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়?' (হিজরঃ ৫৬)

[وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ] (৮৭)

অর্থাৎ, 'আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না, কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয় না।' (ইউসুফঃ ৮৭)

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 শিক্ষাহীনতা

📄 শিক্ষাহীনতা


জ্ঞান-বিজ্ঞান জাতির মেরুদন্ড। সুতরাং যে জাতির তা নেই, সে জাতি কি উঠে দাঁড়াতে পারে? যে জাতির কেবল একটাই জীবন নয়, বরং দু'দুটো জীবন, সেই জাতি যদি জীবন ধারণের জ্ঞান শিক্ষা না করে, তাহলে ধ্বংস হবে না কি?

যে জাতির সর্বপ্রথম ইলাহী আদেশ ছিল, 'পড়', সে জাতি পড়াতেই যদি মরা হয়, তাহলে ধ্বংসই তার ভাগ্য হবে না কি?

যে জাতির আবির্ভাব ঘটেছিল অপরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, সেই জাতি যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানে অপর জাতির মুখাপেক্ষী হয়, তাহলে তার পরিণতি অধঃপতন নয় কি?

যে জাতির পরশমণি হয়ে থাকার কথা ছিল, সেই জাতি যদি অন্যের পরশে মরিচা-পড়া লোহা হয়ে যায়, তাহলে কর্মকারের হাপরে স্থান পাওয়ার উপযুক্ত নয় কি?

অজ্ঞানতা যে জাতিকে তার দ্বীন থেকে পিছিয়ে দিয়েছে, অলসতা যে জাতিকে পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞানেও অনুন্নত ক'রে রেখেছে, সে জাতির অভ্যুত্থান কীভাবে হতে পারে?

যে জাতি বিজাতির পদলেহন ক'রে বাঁচতে অভ্যস্ত হয়, সে জাতির জ্ঞান-বুদ্ধির কি ঋদ্ধি-বৃদ্ধি হতে পারে?

যে জাতি কেবল এক সৃষ্টিকর্তার গোলামি জানত, সে জাতি যদি সৃষ্টির গোলামি ক'রে গর্ববোধ করে, তাহলে তার পরিণামে কি জ্ঞানের বিকাশ হতে পারে?

যে জাতি অপরের জ্ঞান দেখে মুগ্ধ, সে জাতি কি নিজের জ্ঞান-বিবেকের উপর আস্থা রাখতে পারে?

উল্টা হতভাগ্য এই জাতির কিছু লোক ধারণা করে যে, তাদেরকে তাদের দ্বীনই জ্ঞান-বিজ্ঞানের পথে পিছিয়ে রেখেছে। অথচ কোন বেদ্বীন ব্যক্তি বা জাতিও তো সে পথে অগ্রসর হতে পারছে না। দ্বীন তো দ্বীনদারকে জ্ঞানচর্চা করতে অনুপ্রাণিত করে। দ্বীন তো বিজ্ঞানের বিরোধী নয়। আর বিজ্ঞানী হওয়ার জন্যেও নাস্তিক হওয়া জরুরী নয়। তাহলে নিজের অপারগতার জন্য দায় সারার এ জবাব কেন?

যুগে যুগে জাতির সম্পদ যে লোকেরা একা একা ভোগ করেছে, সেই ভোগ-বিলাসীরাই পারত সেই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দ্বীন-দুনিয়ার উন্নতি সাধন করতে। যারা বিবির জন্য তাজমহল বানিয়েছে, কিন্তু জাতির জন্য কোন জ্ঞানমন্দির বানায়নি, যারা গদি পেয়ে নিজ পরিবারের আখের গুছিয়েছে, কিন্তু পতনোন্মুখ জাতির কথা ভেবেও দেখেনি, দোষ তো তাদেরই।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে অর্থের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। অতএব জাতির অর্থ যাদের হাতে, তারাই কি জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অনুন্নত এই জাতির অধঃপতনের জন্য সর্বাংশে দায়ী নয়?

'সাবাক পড় ফির স্বাদাক্বাত কা আদালাত কা শাজাআত কা, কাম লিয়া জায়েগা তুঝ সে ফির দুনিয়া কী ইমামাত কা।'

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 হীনমন্যতা

📄 হীনমন্যতা


পরাজয়ের একটি কারণ হীনম্মন্যতা। কোন কোন মানুষ ভাবে, সে বড় কাজের যোগ্য নয়, সে বিজয় লাভের উপযুক্ত নয়। অনেকে চাইলে গোটা ফুল বাগান পেত, কিন্তু তারা গোটা কতক ফুল নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে গেছে।

কত বুযুর্গ বুখারীর তাদরীস ছেড়ে দুনিয়ার লোভে সরকারী স্কুলে 'আলিফ-বা' পড়াচ্ছেন। কত বড় বড় ডিগ্রী অর্জন ক'রে পরিশেষে প্রাইমারীর শিক্ষকতা করছেন! তাঁরা তাঁদের ইলমের যাকাতও বের করেন না। ঐ হীনম্মন্যতার শিকারে পরিণত হন, 'আমাদের সে ক্ষমতা নেই সাহেব!' অবশ্য তাঁরা পার্থিব বিষয়ে মহা-বিজয় লাভ করেন।

অনেকে চাকরি না পেয়ে বসে বসে অথবা চাষ-ব্যবসা নিয়ে নিজের শিক্ষা বিনষ্ট ক'রে ফেলছেন। অনেকের ক্ষমতা আছে কলমের জিহাদ করা, অথচ হীনম্মন্যতার শিকার হয়ে সে প্রতিভা হেলায় নষ্ট ক'রে দিচ্ছেন। অনেকের মনে কিছু করার সৎ সাহস নেই, মনে উদ্দীপনা ও উৎসাহ নেই। তাই ঝিমিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। ফলে জাতির কোন কল্যাণে তাঁদেরকে দেখা যায় না। শ্রেষ্ঠ জাতির মধ্যে শামিলও হতে চান না। অথচ তাঁদের উপর জাতির হক আছে।

পাহাড়ে চড়তে হলে সাহস লাগে। আর সাহস না থাকলে, উঁচু মন না থাকলে, হিম্মত না থাকলে গর্তের মধ্যেই থেকে যেতে হয়। আরবী কবি বলেন, 'ওয়ামান ইয়াতাহাইয়্যাব সুঊদাল জিবালি ইয়াঈশ আবাদাদ্দাহরি বাইনাল হুফার।' অর্থাৎ, যে ব্যক্তি পাহাড় চড়তে ভয় পায়, সে চিরদিন গর্তের মধ্যেই বাস করে।

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 ভীতি ও ত্রাস

📄 ভীতি ও ত্রাস


অধঃপতনের মূলে এটিও একটি কারণ। যেহেতু মৃত্যুর ত্রাসে সন্ত্রস্ত হলে মানুষ মরার আগেই মরতে বসে। আর ভয় পাওয়ার কারণ, সে বিজাতির শক্তি, বিজাতির শৌর্য-বীর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখে ভীষণভাবে প্রভাবান্বিত হয়। ফলে তখন সে নিজের আসল পরিচয় দিতেও ভয় পায়। আত্মগোপন ক'রে বাঁচতে চায়। যাতে সে কোন ফিতনা ও পরীক্ষার সম্মুখীন না হয়। সে ভাবে ঈমানের পথ কুসুমাস্তীর্ণ। অথচ তা নয়। ঈমানের পথ কণ্টকাকীর্ণ ও দুর্গম। মহান আল্লাহ বলেন, [أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (২) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ] (৩) سورة العنكبوت

অর্থাৎ, মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা বিশ্বাস করি' এ কথা বললেই ওদেরকে পরীক্ষা না ক'রে ছেড়ে দেওয়া হবে? আমি অবশ্যই এদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছিলাম; সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্যবাদী ও কারা মিথ্যাবাদী। (আনকাবুতঃ ২-৩)

মহান আল্লাহ ঈমানী সত্যতার পরীক্ষা গ্রহণ করবেন। আর মু'মিনকে শত বাধা উল্লংঘন ক'রে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কিন্তু যে জাতি সেই পরীক্ষার সম্মুখীন হতেই চায় না, সেই জাতির অবস্থায় কি উচ্চ মর্যাদা আসতে পারে? যে জাতি নিজের অধিকার আদায়ে মানুষের সমালোচনাকে ভয় পায়, গালি-প্রহারকে ভয় পায়, জেল যেতে ভয় পায়, শহীদ হতে ভয় পায়, সে জাতি কি উন্নতির মুখ দেখতে পায়? যে জাতি বাঁচার জন্য মরতে ভয় পায়, সে জাতি কি বাঁচার অধিকার লাভ করতে পারে?

আল্লাহর রসূল বলেন, "অনতি দূরে সকল বিজাতি তোমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, যেমন ভোজনকারীরা ভোজপাত্রের উপর একত্রিত হয়। (এবং চারিদিক থেকে ভোজন ক'রে থাকে।)” একজন বলল, 'আমরা কি তখন সংখ্যায় কম থাকব, হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক থাকবে। কিন্তু তোমরা হবে তরঙ্গতাড়িত আবর্জনার ন্যায় (শক্তিহীন, মূল্যহীন)। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের বক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি ভীতি তুলে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ে দুর্বলতা সঞ্চার করবেন।” একজন বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! দুর্বলতা কী?' তিনি বললেন, “দুনিয়াকে ভালোবাসা এবং মরতে না চাওয়া।” (আবু দাউদ ৪২৯৭, মুসনাদে আহমাদ ৫/২৭৮)

জেনে রাখা ভাল যে, শত্রুর অবস্থানের বহু ক্রোশ দূর থেকে বীরত্ব প্রকাশ করা যেমন আসলে ভীরুতা, তেমনি নিরপরাধ সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি ক'রে সন্ত্রাস প্রয়োগ করাও বড় ভীরুতা। শক্তিমত্তার সাথে শত্রুর সম্মুখে দাঁড়িয়ে রণাঙ্গনে মোকাবিলা করাই হল আসল বীরত্ব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00