📄 মদপান
মদ্যপানও একটি সামাজিক ব্যাধি। মদ যাবতীয় নোংরামির চাবিকাঠি। একটি মানুষ স্বাভাবিকভাবে ব্যভিচার ও খুন না করলেও মদ পান ক'রে করতে পারে। সুতরাং যে মদ খায়, সে চরিত্রবান নয়। মদখোর জাতি উন্নত জাতি নয়। যেহেতু মদ পবিত্র জিনিস নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلٍ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ * إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ الله وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ]
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না? (মাইদাহঃ ৯০-৯১)
মদ যে ভাল জিনিস নয় এবং তাতে যে সামাজিক অপকারিতা রয়েছে, তা মদখোর দেশের জ্ঞানী ও বিবেচক মানুষরা স্বীকার করেছেন। একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, 'প্রায় ৬৬ শতাংশ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে মদ্যপায়ীদের মাধ্যমে।' অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'সহিংসতা কান্ডে প্রায় ৮২ শতাংশ অপরাধী মদ্যপায়ীরা।' অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'প্রায় ৫৩ পার্সেন্ট খুনের ঘটনা ঘটছে মাতালদের দ্বারা।' আরো এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'প্রায় ৮০ শতাংশ মাতালরা নিঃস্ব ও ভিখারী হয়েছে।' (আসবাবু ইনহিয়ারিল উমাম, হাওয়ালী, ২৪পৃঃ) এ সব কিছু কি জাতির অধঃপতনের দলীল নয়?
আল্লাহর রসূল বলেন, “অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে, তাদের মাথার উপরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং নর্তকী নাচবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং বানর ও শূকরে পরিণত করবেন!” (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানী, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান, সহীহুল জামে' ৫৪৫৪ নং)
তিনি আরো বলেন, "অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।” (সহীহুল জামে' ৩৬৬৫, ৫৪৬৭ নং)
📄 দাঁড়ি-মারা
জাতির এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অভ্যাস হল ক্রেতাকে ঠকিয়ে বেশি লাভ করা। এই জন্য হাদীসে ব্যবসায়ীদেরকে পাপাচারী বলা হয়েছে। (আহমাদ, হাকেম) কারণ তারা ব্যবসায় মিথ্যা বলে। মিথ্যা কসম খায়। ধোঁকা- ধাপ্পা দেয়। মাপে ও ওজনে কম দেয়। আর এটি একটি ধ্বংসাত্মক পাপ। আল্লাহর রসূল বলেছেন,
“হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে---যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না।
যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না।
যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে।
আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯নং, সহীহ তারগীব ৭৫৯নং)
তিনি আরো বলেছেন, "পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কি কি?' তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে, সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৭৬০নং)
📄 আত্মগর্ব
জাতির আত্মগর্ব তার পরাজয়ের একটি কারণ। নিজেদের সংখ্যাধিক্য, অস্ত্রশস্ত্রের আধুনিকত্ব ও আধিক্য ইত্যাদি নিয়ে আত্মগর্ব করলে সে গর্ব খর্ব হয়। সংখ্যায় অধিক হলে কী হবে? ঈমান ও আমলে কম। অধিকাংশ লোকদেরকে কোথায় দেখা যায়? ভালতে না মন্দতে? অধিকাংশ লোক আল্লাহ-ওয়ালা, না আল্লাহ-ভোলা? সৃষ্টিকর্তাই বলে দিয়েছেন,
[وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلا يَخْرُصُونَ] (১১৬) سورة الأنعام
অর্থাৎ, যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামতো চল, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত ক'রে দেবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরণ করে এবং তারা কেবল অনুমানভিত্তিক কথাবার্তাই বলে থাকে। (আনআমঃ ১১৬)
[وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ] (১০৩) سورة يوسف
অর্থাৎ, তুমি যতই আগ্রহী হও না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করবার নয়। (ইউসুফ: ১০৩)
[وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ] (১০৬) سورة يوسف
অর্থাৎ, তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু তাঁর অংশী স্থাপন করে। (ঐঃ ১০৪)
[اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ] (১৩) سورة سبأ
অর্থাৎ, 'হে দাউদ পরিবার! কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করতে থাক। আমার দাসদের মধ্যে কৃতজ্ঞ অতি অল্পই।' (সাবা'ঃ ১৩)
জাতির মাথা গুনতিতে অনেক, কিন্তু কাজে কেবল কতক। আর তার জন্যই সংখ্যাধিক্যের কোন মূল্য নেই। আল্লাহর রসূল বলেন, "অনতি দূরে সকল বিজাতি তোমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, যেমন ভোজনকারীরা ভোজপাত্রের উপর একত্রিত হয়। (এবং চারিদিক থেকে ভোজন ক'রে থাকে।)” একজন বলল, 'আমরা কি তখন সংখ্যায় কম থাকব, হে আল্লাহর রসূল?' তিনি বললেন, "বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক থাকবে। কিন্তু তোমরা হবে তরঙ্গতাড়িত আবর্জনার ন্যায় (শক্তিহীন, মূল্যহীন)। আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের বক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি ভীতি তুলে নেবেন এবং তোমাদের হৃদয়ে দুর্বলতা সঞ্চার করবেন।” এক ব্যক্তি বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! দুর্বলতা কী?' তিনি বললেন, “দুনিয়াকে ভালোবাসা এবং মরতে না চাওয়া।” (আবু দাউদ ৪২৯৭, আহমাদ ৫/২৭৮)
বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য দেখতেই বেশি, তাদের মধ্যে হকপন্থী ও তওহীদবাদী কয়জন আছে? কোন দেশে জান-মাল দিয়ে বিজয় আনে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা, পরিশেষে গদি পড়ে ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের দখলে। কারণ সে দেশে তাদেরই সংখ্যা বেশি। কোন দেশে তওহীদবাদীরা জান-মাল দিয়ে বিজয় আনে। অতঃপর গদি চালায় মাজারী অথবা শিয়ারা। এমন না হলে গৃহযুদ্ধ চলে। কাফেরদের কবল থেকে দেশমুক্ত ক'রে নিজেদের মাঝে গদির লড়াই চলে। গণতন্ত্রের নীতিতে বিরোধী বাহাত্তর দলের কাছে একটি দল কি কোনও দিন ক্ষমতাসীন হতে পারবে? পক্ষান্তরে বিজয়ের জন্য সংখ্যাধিক্য হওয়া জরুরী নয়। জরুরী হল ঈমানী দীপ্তির আধিক্য। নচেৎ,
[كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةٌ كَثِيرَةً بِإِذْنِ الله وَاللهُ مَعَ الصَّابِرِينَ] (২৪৯) البقرة
অর্থাৎ, আল্লাহর ইচ্ছায় কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলকে পরাজিত করেছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। (বাক্বারাহঃ ২৪৯)
আত্মগর্বকে আল্লাহ অপছন্দ করেন। পরন্ত আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সংখ্যাধিক্য কোন কাজের নয়। তিনি বলেন, [لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ] (২৫) سورة التوبة
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে তো বহুক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন এবং হুনাইনের যুদ্ধের দিনেও; যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল। কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তা তোমাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন ক'রে পলায়ন করেছিলে। (তাওবাহঃ ২৫)
আত্মগর্ব জাতির পরাজয় আনে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা-সংস্কৃতি, শিল্প ও খনিজ-পদার্থ ইত্যাদি নিয়ে গর্ব কোন কাজের নয়; যদি তাতে আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি না থাকে। এক জাতির কথা মহান আল্লাহ বলেন, [فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِندَهُم مِّنَ الْعِلْمِ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُون] (৮৩) سورة غافر
অর্থাৎ, ওদের নিকট যখন স্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ ওদের রসূল এসেছিল, তখন ওরা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করত। ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তাই তাদেরকে বেষ্টন করল। (মু'মিনঃ ৮৩)
রসূল বা নায়েবে রসূল যখন বলেন, 'হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর।' তখন তারা বলে, 'কী দরকার? আমাদের কাছে জ্ঞান-বিজ্ঞান আছে।' যখন তাঁরা বলেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং ব্যভিচার, সমকাম, অশ্লীলতা ইত্যাদি বর্জন কর, তাহলে ইহ-পরকালে সুখী হবে।' তারা বলে, 'তার প্রয়োজন কী? আমাদের মাঝে ডাক্তার আছে, বিজ্ঞানী আছে।' তাঁরা বলেন, 'সূদ বর্জন কর, তাতে বর্কত বিনাশ হয়ে যাবে।' তারা বলে, 'অসুবিধা কী? আমাদের মাঝে অর্থনীতিবিদ সুপন্ডিতরা রয়েছেন। আমাদের কাছে অর্থনীতি পরিকল্পনা রয়েছে এবং সকল মন্দা থেকে রেহাই পাওয়ার পুরনো অভিজ্ঞতা রয়েছে।' এইভাবে নিজেদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আত্মগর্বের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কথা ভুলে যায়। পরিশেষে ভাগ্য হয় পরাজয়।
📄 আল্লাহর শাস্তি থেকে বেপরোয়া
আল্লাহর আযাব থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা এবং তাঁর শাস্তির ব্যাপারে বেপরোয়া হওয়া ধ্বংসের একটি কারণ। জাতি কোন পরোয়া না ক'রে দিবারাত্রি পাপ ক'রে যায়, প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ক'রে যায়, মু'মিনদের মাঝে পাপ ছড়িয়ে যায়! জাতি কি নিজেকে শাস্তিমুক্ত মনে করে, জাতির কি কোন পাকড়াও হবে না? জাতি কি সুনিশ্চিতভাবে নিরাপদ? মহান আল্লাহ বলেন,
[أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُمْ بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ (৯৭) أَوَ أَمِنَ أَهْلُ الْقُرَى أَن يَأْتِيَهُمْ بএْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ (৯৮) أَفَأَمِنُواْ مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ] (৯৯) سورة الأعراف
অর্থাৎ, তবে কি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের উপর আসবে রাত্রিকালে, যখন তারা থাকবে ঘুমে মগ্ন? অথবা জনপদের অধিবাসীবৃন্দ কি ভয় করে না যে, আমার শাস্তি তাদের উপর আসবে দিনের প্রথম ভাগে, যখন তারা থাকবে খেলায় মত্ত? তারা কি আল্লাহর চক্রান্তের ভয় রাখে না? বস্তুতঃ ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর চক্রান্ত হতে নিরাপদ বোধ করে না। (আ'রাফ ৯৭-৯৯)
জাতির বহু লোক তার নিজের দুশমন। সেই দুশমনরা ও কাফেররা আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে! তবে তারা সে চক্রান্তে কৃতকার্য হয় না। জয় হয় আল্লাহরই। [وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللهُ وَاللهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ] (৫৪) سورة آل عمران অর্থাৎ, অতঃপর তারা ষড়যন্ত্র করল এবং আল্লাহও কৌশল প্রয়োগ করলেন। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বোত্তম কৌশলী। (আলে ইমরানঃ ৫৪)
যে জাতি আল্লাহর বিরুদ্ধে চক্রান্তে বিজয়ী হতে চায়, সে জাতি আসলেই হুতভাগা চির-পরাজিত।