📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 ব্যভিচার

📄 ব্যভিচার


জেনা-ব্যভিচার, বিবাহ-বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্কে যৌন-মিলন জাতির অধঃপতনের একটি কারণ। চারিত্রিক এই অবক্ষয়কে যদিও পাশ্চাত্যে নারী-স্বাধীনতার নামে বড় সভ্যতা মনে করা হয়, আসলে কিন্তু তা প্রগতির নামে দুর্গতি। নারী-স্বাধীনতার নামে যৌন-স্বাধীনতাই সেখানকার সমাজে সমাদৃত। অবশ্যই তারা সভ্য সমাজের লোক নয়। ইসলাম যে সভ্যতা আনয়ন করেছে, যৌন-লাঞ্ছনার হাত থেকে উদ্ধার ক'রে নারীকে যে মর্যাদা দিয়েছে, তারা নারী-স্বাধীনতায় তা পায়নি। দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের চরম উন্মাদনায় তারা নারীকে গাড়ি বানিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। ইচ্ছামতো ভোগ করছে নারী-দেহ। নারীকে ভোগের বস্তু তারাই ক'রে রেখেছে। ফলে তাদের সমাজ ব্যভিচারের বন্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে। অবশ্য তাদের ভাষায় 'ব্যভিচার' বলে কিছু নেই। যেহেতু বৈধ-অবৈধ সব মিলনই তাদের কাছে সহবাস।

বেশ্যাবৃত্তি তাদের কাছে ঘৃণ্য নয়। কারণ বেশ্যারা 'বেশ্যা' নয়, যৌনকর্মী! রক্ষিতা শব্দও তাদের ভাষায় নেই। যেহেতু গার্লফ্রেন্ড, লিভ টুগেদার, প্রেম-ভালবাসা ইত্যাদির অধিকার মানুষের জন্মগত। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া প্রত্যেক যৌন-মিলনই ব্যভিচার। আর ব্যভিচার একটি কদর্য আচরণ।

সমাজে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যভিচার ঘটে, প্রাইভেট সেক্রেটারী, অফিসের মহিলা কর্মী, বাড়িতে দাসী-চাকরানীর সাথে ব্যভিচার চলে। সমাজে যে মহিলার নারীসুলভ কোন কাজের ব্যবস্থা নেই, সে নিজের তথা ভাই-বোন বা ছেলেমেয়ের পেট চালাতে খুব সহজভাবে বেশ্যাবৃত্তি বেছে নেয়। অভাবে স্বভাব নষ্ট করে, অসহায় অবস্থায় নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি ক'রে পেট চালায়। কিন্তু সে অসহায়তা কি বেশ্যাবৃত্তির কোন অজুহাত হতে পারে? সমাজ কি এমন বেশ্যাদের জন্য দায়ী হবে না?

সমাজে পেশাদার স্থায়ী প্রকাশ্য বেশ্যা রয়েছে। তাদের জন্য অনুমোদিত পেশা ও বাসা রয়েছে! ভ্রাম্যমান বেশ্যা, গুপ্ত বেশ্যারও অভাব নেই। আর সেই সাথে প্রেমিক-প্রেমিকার অবৈধ যৌন-মিলনের ফলে সমাজ নীতি-নৈতিকতাহারা হয়ে অধঃপতনের অতল গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেছেন,

[وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاء سَبِيلاً] (৩২) سورة الإসراء
অর্থাৎ, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (বানী ইস্রাঈল: ৩২)

ব্যভিচার একটি ভয়ঙ্কর ব্যাধি। যার ফলে চরিত্র, সংসার, সমাজ ও দেশ ধ্বংস হয়। আল্লাহর রসূল বলেছেন, “হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর।
যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে---যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না।
যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে।
যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না।
যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে।
আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯নং, সহীহ তারগীব ৭৫৯নং)

তিনি আরো বলেছেন, "পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কী কী?' তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে, সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৭৬০নং)

মহানবী আরো বলেছেন, "আমার উম্মত মঙ্গলের মধ্যে থাকবে, যতদিন না তাদের মধ্যে জারজ সন্তান ব্যাপক হবে। সুতরাং যখন জারজ সন্তান ব্যাপক হবে, তখন অচিরে আল্লাহ আয্যা অজাল্ল নিজের পক্ষ থেকে শাস্তি তাদের উপর ব্যাপক ক'রে দেবেন।” (আহমাদ, সঃ তারগীব ২৪০০নং) আধুনিক যুগের নতুন মহামারী 'এইডস' ঐ ব্যভিচারেরই কারেন্ট শাস্তি। তাছাড়া ধ্বংসের পথ আরো থাকতে পারে।

উম্মুল মু'মিনীন যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, একদা নবী তাঁর নিকট শঙ্কিত অবস্থায় প্রবেশ করলেন। তিনি বলছিলেন, “আল্লাহ ব্যতীত কেউ সত্য উপাস্য নেই, আরবের জন্য ঐ পাপ হেতু সর্বনাশ রয়েছে যা সন্নিকটবর্তী। আজকে ইয়া'জুজ-মা'জুজের দেওয়াল এতটা খুলে দেওয়া হয়েছে।” এবং তিনি (তার পরিমাণ দেখানোর জন্য) নিজ বৃদ্ধা ও তর্জনী দুই আঙ্গুল দ্বারা (গোলাকার) বৃত্ত বানালেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে সৎলোক মওজুদ থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হব?' তিনি বললেন, “হ্যাঁ, যখন নোংরামি (ব্যভিচার) বেশি হবে।” (বুখারী-মুসলিম)

এ গেল লৈঙ্গিক ব্যভিচারের কথা। এ ছাড়াও অন্যান্য ব্যভিচার রয়েছে সমাজে। আর তা আরো ব্যাপক। মহানবী বলেন, “চোখ দু'টিও ব্যভিচার করে। আর তার ব্যভিচার হল, (কাম-নজরে নারীর সৌন্দর্যের প্রতি) দৃষ্টিপাত করা। কান দু'টিও ব্যভিচার করে। আর তার ব্যভিচার হল, (যৌন-কথা) শ্রবণ করা। জিভও ব্যভিচার করে। আর তার ব্যভিচার হল, (যৌন-কথা) বলা। হাতও ব্যভিচার করে। আর তার ব্যভিচার হল, সকামে স্পর্শ করা। ব্যভিচার করে পা দু'টিও। আর তার ব্যভিচার হল, (যৌনক্রিয়ার উদ্দেশ্যে) হেঁটে যাওয়া।” (বুখারী-মুসলিম, মিশকাত ৮৬ নং)

যে জাতি নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের শিকার, সে জাতি কি সভ্য, উন্নত ও প্রগতিশীল হতে পারে? আর বিজাতির আধিপত্য আসে নারী ও সুরার মাধ্যমেই। তাদের ভাষায়, 'মুসলমানদেরকে সৈন্যাধিক্য ও মহাশক্তি দ্বারা পরাজিত করতে পারবে না। ওদেরকে পরাজিত করতে হলে নারী ও সুরার অস্ত্র ব্যবহার কর।'

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 সুদ

📄 সুদ


সূদী কারবার উম্মাহর ধ্বংসের অন্যতম কারণ। যে সুদখোর, সুদদাতা, সূদের লেখক এবং তার উভয় সাক্ষ্যদাতাও অভিশপ্ত! এক দিরহাম খাওয়া সূদ আল্লাহর নিকটে ৩৬ ব্যভিচার অপেক্ষা অধিক গুরুতর! যে "সূদ খাওয়ায় রয়েছে ৭০ প্রকার পাপ। এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাপ হল নিজ মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মতো!" (ইবনে মাজাহ ২২৭৮, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৮৪৪নং) সে পাপ মাথায় নিয়ে কোন জাতি সভ্য হতে পারে?

নবী বলেন, “যে ব্যক্তিই বেশি-বেশি সূদ খাবে তারই (মালের) শেষ পরিণাম হবে অল্পতা।” (ইবনে মাজাহ ২২৭৯, হাকেম ২/৩৭, সহীহ ইবনে মাজাহ ১৮৪৮নং) সুতরাং এমন পাপের কুফল ধ্বংস ছাড়া আর কী হতে পারে? মহান আল্লাহ বলেন,

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ] (২৭৮)
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সূদের যা বকেয়া আছে তা বর্জন কর; যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। (বাক্বারাহঃ ২৭৮)

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ]
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ক্রমবর্ধমান হারে (দ্বিগুণ-চতুর্গুণ বা চক্রবৃদ্ধি হারে) সূদ খেয়ো না, এবং আল্লাহকে ভয় কর, তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (আলে ইমরানঃ ১৩০)

সে জাতি কীভাবে সফল ও উন্নত হতে পারে, যে জাতির মানুষ সূদী কারবারে নানাভাবে জর্জরিত। প্রায় প্রত্যেক মানুষ কোন না কোনভাবে সূদী লেনদেনে জড়িয়ে আছে। কেউ সূদ না খেলেও অর্থ হিফাযত করতে গিয়ে সূদী ব্যাংকের সাথে সহযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। সূদী ব্যাংক আজ বিশ্বের সর্বত্রে অর্থনীতির রমরমার বাজার খুলে রেখেছে। অবশ্য অনেকে তাকে 'সুদ' না বলে 'লভ্যাংশ' বা 'ইন্টারেস্ট' বলছে। কিন্তু নামের পরিবর্তনে কী জিনিসের পরিবর্তন ঘটে? লবণের নাম 'চিনি' দিলেই কী লবণ মিষ্টি হয়ে যায়? জাতি নামে ও লেবাসে সভ্য হলে কী হবে? মনে ও চরিত্রে অসভ্য হলে আসলেই সে অসভ্য। আর সে অসভ্যতাই তার অধঃপতনের অন্যতম কারণ।

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 মদপান

📄 মদপান


মদ্যপানও একটি সামাজিক ব্যাধি। মদ যাবতীয় নোংরামির চাবিকাঠি। একটি মানুষ স্বাভাবিকভাবে ব্যভিচার ও খুন না করলেও মদ পান ক'রে করতে পারে। সুতরাং যে মদ খায়, সে চরিত্রবান নয়। মদখোর জাতি উন্নত জাতি নয়। যেহেতু মদ পবিত্র জিনিস নয়। মহান আল্লাহ বলেন,

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلٍ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ * إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ الله وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ]
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। শয়তান তো মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ঘটাতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও নামাযে বাধা দিতে চায়! অতএব তোমরা কি নিবৃত্ত হবে না? (মাইদাহঃ ৯০-৯১)

মদ যে ভাল জিনিস নয় এবং তাতে যে সামাজিক অপকারিতা রয়েছে, তা মদখোর দেশের জ্ঞানী ও বিবেচক মানুষরা স্বীকার করেছেন। একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, 'প্রায় ৬৬ শতাংশ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে মদ্যপায়ীদের মাধ্যমে।' অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'সহিংসতা কান্ডে প্রায় ৮২ শতাংশ অপরাধী মদ্যপায়ীরা।' অন্য এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'প্রায় ৫৩ পার্সেন্ট খুনের ঘটনা ঘটছে মাতালদের দ্বারা।' আরো এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'প্রায় ৮০ শতাংশ মাতালরা নিঃস্ব ও ভিখারী হয়েছে।' (আসবাবু ইনহিয়ারিল উমাম, হাওয়ালী, ২৪পৃঃ) এ সব কিছু কি জাতির অধঃপতনের দলীল নয়?

আল্লাহর রসূল বলেন, “অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে, তাদের মাথার উপরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং নর্তকী নাচবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং বানর ও শূকরে পরিণত করবেন!” (ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানী, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান, সহীহুল জামে' ৫৪৫৪ নং)

তিনি আরো বলেন, "অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।” (সহীহুল জামে' ৩৬৬৫, ৫৪৬৭ নং)

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 দাঁড়ি-মারা

📄 দাঁড়ি-মারা


জাতির এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অভ্যাস হল ক্রেতাকে ঠকিয়ে বেশি লাভ করা। এই জন্য হাদীসে ব্যবসায়ীদেরকে পাপাচারী বলা হয়েছে। (আহমাদ, হাকেম) কারণ তারা ব্যবসায় মিথ্যা বলে। মিথ্যা কসম খায়। ধোঁকা- ধাপ্পা দেয়। মাপে ও ওজনে কম দেয়। আর এটি একটি ধ্বংসাত্মক পাপ। আল্লাহর রসূল বলেছেন,

“হে মুহাজিরদল! পাঁচটি কর্ম এমন রয়েছে যাতে তোমরা লিপ্ত হয়ে পড়লে (উপযুক্ত শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করবে)। আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই, যাতে তোমরা তা প্রত্যক্ষ না কর। যখনই কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ্যভাবে ব্যাপক হবে, তখনই সেই জাতির মধ্যে প্লেগ এবং এমন মহামারী ব্যাপক হবে---যা তাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল না।

যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। যে জাতিই তার মালের যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সে জাতির জন্যই আকাশ হতে বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যদি অন্যান্য প্রাণীকুল না থাকত, তাহলে তাদের জন্য আদৌ বৃষ্টি হত না।

যে জাতি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে জাতির উপরেই তাদের বিজাতীয় শত্রুদলকে ক্ষমতাসীন করা হবে; যারা তাদের মালিকানা-ভুক্ত বহু ধন-সম্পদ নিজেদের কুক্ষিগত করবে।

আর যে জাতির শাসকগোষ্ঠী যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর কিতাব (বিধান) অনুযায়ী দেশ শাসন করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব অবস্থায়ী রাখবেন।” (বাইহাকী, ইবনে মাজাহ ৪০১৯নং, সহীহ তারগীব ৭৫৯নং)

তিনি আরো বলেছেন, "পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি।” জিজ্ঞাসা করা হল, 'হে আল্লাহর রসূল! পাঁচটির প্রতিফল পাঁচটি কি কি?' তিনি বললেন, “যে জাতিই (আল্লাহর) প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সেই জাতির উপরেই তাদের শত্রুকে ক্ষমতাসীন করা হবে। যে জাতিই আল্লাহর অবতীর্ণকৃত সংবিধান ছাড়া অন্য দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেই জাতির মাঝেই দরিদ্রতা ব্যাপক হবে। যে জাতির মাঝে অশ্লীলতা (ব্যভিচার) প্রকাশ পাবে, সে জাতির মাঝেই মৃত্যু ব্যাপক হবে। যে জাতিই যাকাত দেওয়া বন্ধ করবে, সেই জাতির জন্যই বৃষ্টি বন্ধ ক'রে দেওয়া হবে। যে জাতি দাঁড়ি-মারা শুরু করবে, সে জাতি ফসল থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত হবে।” (ত্বাবারানীর কাবীর, সহীহ তারগীব ৭৬০নং)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00