📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 অর্থ-সম্পদের সদ্ব্যবহার

📄 অর্থ-সম্পদের সদ্ব্যবহার


মুসলিমদের পরাজয়ের কারণ অর্থাভাব নয়। কারণ এ উম্মাহর কাছে অর্থের ভান্ডার আছে। যে জিনিসের অভাব আছে, তা হল সঠিকভাবে সেই অর্থকে কাজে লাগাবার কৌশল।

মুসলিমদের বিজয়ের জন্য ভরসা পার্থিব কোন উপায়-উপকরণ নয়। তবে তারও প্রয়োজন আছে। তকদীর ও তদবীর উভয়ই এক সাথে কাজ করলে তবেই জাতির প্রতিদ্বন্দ্বিতার গগনে বিজয়ের সূর্য উদিত হয়।

জাতির লোকেরা যদি নিজ নিজ ধন-মালে ঠিকমতো আল্লাহর হক আদায় করত, তাহলে তাদের কেউ দুর্বল ও দরিদ্র থাকত না। তাদের কেউ খাদ্যের অভাবে নিজের স্বভাব নষ্ট করত না। ভাতের জন্য জাত পরিবর্তন করত না। যে ঘরে 'অভাব' থাকে, সে ঘরে 'ভাব' থাকে না। অভাব থাকলে ভাবনায় ঘেরে। আর ভাবনাগাজীদের পরাজয় সুনিশ্চিত।

সুতরাং জাতি যদি নিজেদের অভাব মোচন ক'রে স্বভাব সংশোধন করতে পারত, যথাস্থানে ধন-ব্যয় ক'রে নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারত, তাহলে সাফল্য ও বিজয়ের চাঁদমুখ দর্শন করত।

যাদের মালে যাকাত ফরয, তারা যাকাত আদায় করে না। যাদের ফসলে ওশর ফরয, তারা ওশর আদায় করে না। অনেকে সূদ খেয়ে বড়লোক হলেও অধিকাংশ মানুষ সূদ দিয়ে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় জাতি তার ভাঙ্গা মেরুদন্ড নিয়ে কীভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে? অর্থলোভে বিকিয়ে যাচ্ছে জাতির বড় বড় মাথা। অর্থাভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জাতির বড় বড় প্রতিভা। যাদেরকে নিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ তারা চলে যাচ্ছে বিজাতির ছত্রছায়ায়। তারা সেখানে অর্থ পাচ্ছে, মর্যাদা পাচ্ছে। অনেকে চিন্তাবিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানী দূরে সরে যাচ্ছে দ্বীন থেকে বেদ্বীন হয়ে, তারাও আশ্রয় পাচ্ছে বিজাতির কাছে।

জাতির নেতৃত্বে অর্থের যথাযোগ্য প্রয়োগ নেই। জাতির সম্পদের যথার্থ হিফাযত নেই। যেখানে খরচ করা প্রয়োজন, সেখানে কার্পণ্য। আর যেখানে খরচ করা নিষ্প্রয়োজন, সেখানে অপব্যয় ও অপচয়। এই যদি জাতির অবস্থা হয়, তাহলে কি সাফল্য ও বিজয়ের প্রভাত তার রাজ্যে উদয় হবে?

আল্লাহর রসূল বলেন, “কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বান্দার পা সরবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার আয়ু কী কাজে ব্যয় করেছে, তার ইল্ম দ্বারা কী আমল করেছে, তার সম্পদ কোথা হতে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে, তার দেহ কোথায় ধ্বংস করেছে?---এসব সম্পর্কে। (তিরমিযী, সহীহুল জামে' ৭৩০০নং)

📘 জাতির উত্থান পতন > 📄 ইতিহাস অধ্যয়ন

📄 ইতিহাস অধ্যয়ন


জাতির উচিত, ইতিহাস অধ্যয়ন করা। কারণ, 'ইতিহাস সব কিছুর শিক্ষা দেয়, এমন কি ভবিষ্যতেরও।' 'যে জাতির ইতিহাস নেই, সে জাতি মৃত।' ইতিহাসের গুরুত্ব আছে বলেই মহান আল্লাহ কত জাতির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন কুরআনে। ইতিহাসের সেই কাহিনী বর্ণনা করতেও বলেছেন তিনি।

[فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ] (১৭৬) سورة الأعراف অর্থাৎ, তুমি কাহিনী বিবৃত কর, যাতে তারা চিন্তা করে। (আ'রাফঃ ১৭৬) আর তার উপকারিতা বর্ণনা ক'রে তিনি বলেছেন,

[لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُوْلِي الأَلْبَابِ] (১১১) يوسف অর্থাৎ, তাদের কাহিনীতে জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। (ইউসুফ: ১১১) সুতরাং আমাদের উচিত, ইতিহাস মন্থন ক'রে শিক্ষা ও উপদেশের মণি-মুক্তা উদ্ধার করা।

বিশেষ ক'রে ইসলামী ইতিহাস পড়লে হিম্মত উঁচু হয়, উৎসাহ বৃদ্ধি পায়, হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার স্পৃহা জাগরিত হয়, বিজয়ের ইতিহাস পড়ে বিজয়ের আশা মনে প্রবল হয়। ইতিহাস পঠনে দুর্বল মন সবল হয়, শত্রুর নানা চক্রান্ত্র সম্বন্ধে ওয়াকেফ-হাল হওয়া যায়। কত অভিজ্ঞতা লাভ হয়।

'হে অতীত, তুমি ভুবনে ভুবনে কাজ করে যাও গোপনে গোপনে,
মুখর দিনের চপলতা-মাঝে স্থির হয়ে তুমি রও।
হে অতীত, তুমি গোপনে হৃদয়ে কথা কও, কথা কও।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00