📄 বিজয় লাভের প্রস্তুতি
বিজয় আল্লাহর নিকট থেকে আসে। কিন্তু জাতিকে বিজয় লাভের উপায়-উপকরণ প্রয়োগ করতে হয়। ফসল আল্লাহই দেন, কিন্তু বান্দাকে জমি প্রস্তুত করতে হয়, বীজ-রোপন করতে হয়, সেচ দিতে হয় ইত্যাদি। যে কোন সংগ্রামে জয়লাভ করতে হলে প্রধানতঃ দু'টি শক্তির একান্ত প্রয়োজন।
প্রথমতঃ ঈমানী শক্তি। আর তা হল শির্কমুক্ত আক্বীদাহ এবং বিশেষতঃ এই বিশ্বাস যে, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ আমাদেরকে বিজয়ী করবেনই।
[كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ] (২১) سورة المجাদلة অর্থাৎ, আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেছেন যে, আমি এবং আমার রসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। (মুজাদালাহঃ ২১)
[إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ] (গাফির: ৫১) অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমি আমার রসূলদেরকে ও বিশ্বাসীদেরকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষিগণের দণ্ডায়মান (কিয়ামত) দিনে সাহায্য করব। (মু'মিনঃ ৫১)
[وَإِنَّ جُندَنَا هُمُ الْغَالِبُونَ] (১৭৩) سورة الصافات অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে। (স্বাফফাতঃ ১৭৩)
দ্বিতীয়তঃ বস্তুগত শক্তি। প্রচুর অর্থ চাই। আর তার জন্য যাকাত খরচের একটি খাতই রাখা হয়েছে আল্লাহর পথে সংগ্রামের। সেই অর্থ দিয়ে বিজয়লাভের এমন সাজ-সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র ও যোদ্ধা প্রস্তুত করতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষের মোকাবেলা করা সম্ভব। অযথেষ্ট শক্তি নিয়ে সংগ্রামে নামা যায় না। যেমন সামান্য শক্তি দিয়ে সন্ত্রাস ক'রে বিজয় লাভ হয় না। দুটোর মধ্যে কেবল একটি শক্তির উপর নির্ভর ক'রে বিজয় আসে না, তবে আল্লাহ চাইলে তাঁর 'কুন' শব্দে বিনা যুদ্ধে বিজয় আসতে পারে, সে কথা ভিন্ন।
মহানবী (সা.)-এর কাছে যত ঈমানী শক্তি ছিল, তাঁর তুলনায় আর কারো ছিল না। তাঁর সাহাবাবর্গেরও সে শক্তি অন্যান্য মানুষের তুলনায় বিশাল ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা বস্তুগত শক্তি প্রয়োগ করেছেন। অস্ত্রশস্ত্র সাথে নিয়েছেন, লৌহবর্ম ও শিরস্ত্রাণ ব্যবহার করেছেন। আর আল্লাহ বলেছেন,
[وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهুমُ اللهُ يَعْلَمُهُمْ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ] (৬০) سورة الأنفال
অর্থাৎ, তোমরা তাদের (মুকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সুসজ্জিত অশ্ব প্রস্তুত রাখ, এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু তথা তোমাদের শত্রুকে সন্ত্রস্ত করবে এবং এ ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ জানেন। আর আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অত্যাচার করা হবে না। (আনফালঃ ৬০)
আবার কেবল বস্তুগত শক্তির উপরেও নির্ভর করলে বিজয় আসবে না। আত্মনির্ভর বা শক্তিমত্তায় অহংকারী হয়ে উঠলে মহান আল্লাহ বিজয়ের পালা বদলে দেন।
[لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ] (২৫) سورة التوبة
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে তো বহুক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন এবং হুনাইনের যুদ্ধের দিনেও; যখন তোমাদের সংখ্যাধিক্য তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল। কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তা তোমাদের জন্য সঙ্কুচিত হয়েছিল। অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন ক'রে পলায়ন করেছিলে। (তাওবাহঃ ২৫)
মক্কা ও তায়েফের মধ্যস্থলে একটি উপত্যকার নাম হুনাইন। এখানে হাওয়াযিন এবং সাক্বীফ নামক দুই গোত্র বসবাস করত। এই উভয় গোত্রের লোকেরা তীর নিক্ষেপ কাজে বড় পটু বলে প্রসিদ্ধি ছিল। এরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে কথা রসূল জানতে পারলে ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে সেই গোত্র দু'টির সাথে লড়াই করার উদ্দেশ্যে 'হুনাইন' উপত্যকায় উপস্থিত হলেন। এই যুদ্ধ মক্কা বিজয়ের ১৮/১৯ দিন পর শওয়াল মাসে সংঘটিত হয়। উল্লিখিত উভয় গোত্রের লোকেরা পরিপূর্ণরূপে প্রস্তুতি নিয়েই ছিল। তারা বিভিন্ন ঘাঁটিতে তীরন্দাজদেরকে মোতায়েন ক'রে দিল। এদিকে মুসলিমদের মাঝে আত্মগর্ব সৃষ্টি হল যে, আজ আমরা কমসে কম সংখ্যা স্বল্পতার কারণে পরাজিত হব না। অর্থাৎ, আল্লাহর মদদ বিস্মৃত হয়ে তাঁরা নিজেদের সংখ্যাধিক্যের উপর ভরসা ক'রে বসলেন। আল্লাহর নিকট এই গর্ব পছন্দ ছিল না। পরিণামস্বরূপ যখন হাওয়াযিনের সুদক্ষ তীরন্দাজরা বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মুসলিম বাহিনীর উপর ধারণাতীতভাবে একই সাথে তীর বর্ষণ করতে শুরু করল, তখন মুসলিম বাহিনী বিচলিত ও বিক্ষিপ্ত হয়ে পলায়ন শুরু করল। যুদ্ধ-ময়দানে কেবল নবী ১০০ জনের মতো সৈন্য নিয়ে অবিচলিত থাকলেন। তিনি মুসলিমদেরকে ডাক দিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা আমার কাছে এসো। আমি হলাম আল্লাহর রসূল।' সেই সাথে তিনি এই যুদ্ধ-কবিতা পড়তে লাগলেন,
أنا النبي لا كذب أنا ابن عبد المطلب
অর্থাৎ, 'আমি হলাম নবী, এটা মিথ্যা নয়। আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান।'
পুনরায় তিনি আব্বাস (রা.)-কে (যাঁর গলার আওয়াজ বড় উঁচু ছিল) আদেশ করলেন যে, 'মুসলিমদেরকে একত্রিত করার জন্য ডাক দাও।' অতএব তাঁর আওয়াজ শুনে মুসলিমরা লজ্জিত হলেন এবং পুনরায় ময়দানে একত্রিত হলেন। অতঃপর এমন দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ করলেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে জয়ী ক'রে দিলেন। আল্লাহর মদদ এমনভাবে এল যে, তিনি তাঁদের উপর সান্ত্বনা অবতীর্ণ করলেন; যার ফলে তাঁদের অন্তর থেকে কাফেরদের ভয় দূর হয়ে গেল। আর সেই সাথে ফিরিশাদলও প্রেরণ করলেন। (আহসানুল বায়ান)
সংগ্রাম ক'রে বাঁচার মধ্যে জাতির প্রাণ রয়েছে। তাই আল্লাহ বলেছেন, [وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ] (৬৯) العنكبوت অর্থাৎ, যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন। (আনকাবুতঃ ৬৯)
'যারা শুধু মরে কিন্তু নাহি দেয় প্রাণ,
কেহ কভু তাহাদের করেনি সম্মান।'
📄 শত্রু-চক্রান্ত সম্বন্ধে সতর্ক থাকা
শত্রুর শত্রুতা যদি গোপনে বাড়তে থাকে এবং মুসলমান তার খবরও না রাখে, তাহলে অবশ্যই তা এমন বৃদ্ধি পাবে যে, তার বিরুদ্ধে তারা আর মাথাও তুলতে সক্ষম হবে না। শত্রু ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে যাচ্ছে, দুশমন মুসলিম-নিধনের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখছে, ফাঁদ পেতে শিকার ক'রে কাবু করতে চাচ্ছে, আর মুসলিমরা 'আভী দিল্লী বহুত দূর হ্যায়' বলে যদি নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই অতর্কিতে হামলা ক'রে তাদেরকে পরাভূত করবে।
সজাগ জাতি বিজয় লাভে সক্ষম হয়। জ্বিন ও মনুষ্য-শয়তানের নানা কুচক্রী দল থেকে পূর্ব থেকে সাবধান থাকলে পরাজয় আসে না। মহান আল্লাহ জাতিকে সজাগ হতে বলেন,
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا خُذُوا حِذْرَكُمْ فَانفِرُوا ثُبَاتٍ أَوِ انْفِرُوا جَمِيعًا] (৭১) النساء
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَجِيبُوا الله وَلِلরَّسُولِ إِذَا دَعَاكُم لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمُرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ] (২৪) سورة الأنفال
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! রসূল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহবান করে, যা তোমাদেরকে প্রাণবন্ত করে, তখন আল্লাহ ও রসূলের আহবানে সাড়া দাও এবং জেনে রাখ যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে। (আনফালঃ ২৪)
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُوا اللهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ] (৩৫) سورة المائدة
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তাঁর নৈকট্য লাভের উপায় অন্বেষণ কর ও তাঁর পথে সংগ্রাম কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (মাইদাহঃ ৩৫)
[وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ] (৬৯) العنكبوت
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর, অতঃপর হয় দলেদলে বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হও অথবা এক সঙ্গে সম্মিলিতভাবে অগ্রসর হও। (নিসাঃ ৭১)
তিনি জাতিকে সতর্ক হতে বলেন, [وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُواْ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّهَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلاغُ الْمُبِينُ] (৯২) سورة المائدة
অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহর অনুসরণ কর ও রসূলের অনুসরণ কর এবং সতর্ক হও। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখ যে, স্পষ্ট প্রচারই আমার রসূলের কর্তব্য। (মাইদাহঃ ৯২)
যদিও মু'মিন সরল-সহজ হয়, তবুও সময়ে তাকে কঠোর হতে হয়। তা না হলে শত্রু তার নাম-নিশানা মিটিয়ে দিতে কোন কসুর করবে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে একই গর্তে দ্বিতীয়বার দংশিত হয় না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তার কানার লাঠি বারবার হারায় না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে দুধ-কলা দিয়ে কাল-সাপ পোষে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তার ঘরের চেরাগ ঘরে আগুন লাগায় না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তার ঘরের ঢেঁকি কুমীর হয়ে তারই ছেলে ধরে খায় না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং 'ঘরের ভাত দিয়ে শকুনি পোষে, গোয়ালের গরু টেকে বসে'---এমন হয় না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে খাল কেটে কুমীর আনে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে হ্যাঁপায় পড়ে স্রোতে ভাসে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে হাতির মতো দকে পড়লে বকেও ঠোকর মারে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তার সম্মুখ দিয়ে ছুঁচ গলে না, পিছন দিয়েও হাতি গলে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং পচা শামুকে তার পা কাটে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তাকে গাছে তুলে কেউ মই কেড়ে নিতে পারে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং তার ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেউ শিকার করতে পারে না।
মু'মিন সতর্ক থাকে, সুতরাং সে নেচে মরে, আর বেদেয় ঝুলি ভরে না।
শত্রুর দুরভিসন্ধির ব্যাপারে সদা সজাগ থাকলে, শত্রুর গতিবিধি সর্বদা নজরায়ত্তে রাখলে পরাজয় বরণ করতে হয় না।
📄 ধৈর্যশীলতা
সবুরে মেওয়া ফলে, সবুরে বিজয় আনে। জাতির জীবনে বহু দুঃখ-কষ্ট এসেছে। বিজাতি বহু কষ্ট দিয়েছে ও দিচ্ছে। গৃহদ্বন্দ্বেও জাতি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে রয়েছে। এ সব কিছুতে ধৈর্যের প্রয়োজন আছে। বিপদগ্রস্ত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে তাতে সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়ার দু'টি পথ আছে, ধৈর্য এবং নামায। মহানবী যখন কোন কঠিন বিপদে বা সমস্যায় পড়তেন, তখন নামায পড়তেন। (আহমাদ ১/২০৬, আবু দাউদ ১৩১৯, নাসাঈ, মিশকাত ১৩২৫নং) আর মহান আল্লাহ জাতিকে বলেছেন,
[وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلا عَلَى الْخَاشِعِينَ] (৪৫) سورة البقرة
অর্থাৎ, তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং বিনীতগণ ব্যতীত আর সকলের নিকট নিশ্চিতভাবে এ কঠিন। (বাক্বারাহঃ ৪৫)
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ] (১৫৩) البقرة
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন। (ঐঃ ১৫৩)
পরাজয় ও অসাফল্য দিয়ে মহান আল্লাহ জাতির পরীক্ষা নিতে পারেন। আর সেই পরীক্ষায় পাশ করতে প্রয়োজন আছে ধৈর্যের। মহান আল্লাহ বলেন,
[وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفْ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ (১৫৫) الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (১৫৬) أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ] (১৫৭)
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও। যারা তাদের উপর কোন বিপদ এলে বলে, 'নিশ্চয় আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তারই দিকে ফিরে যাব।' এই সকল লোকের প্রতি তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ক্ষমা ও করুণা বর্ষিত হয়, আর এরাই হল সুপথগামী। (ঐঃ ১৫৫-১৫৭)
জান্নাতের পথ ততটা সহজ নয়, যতটা অনেকে ধারণা ক'রে থাকে। জান্নাতের পথ কণ্টকাকীর্ণ, বিপদসঙ্কুল, মরু-কান্তার, অতি দুর্গম, বড় বন্ধুর। আর সেই পথ অতিক্রম ক'রেই জান্নাতে যেতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
[أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَمَا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزلْزِلُوا حَتَّى يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهُ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ] (২১৪) سورة البقرة
অর্থাৎ, তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করবে; যদিও পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের অবস্থা এখনো তোমরা প্রাপ্ত হওনি? দুঃখ-দারিদ্র্য ও রোগ-বালা তাদেরকে স্পর্শ করেছিল এবং তারা ভীত-কম্পিত হয়েছিল, তারা এতদূর বিচলিত হয়েছিল যে, রসূল ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারিগণ বলে উঠেছিল, 'আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?' জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী। (বাক্বারাহঃ ২১৪)
[أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ]
অর্থাৎ, তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা বেহেশতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কে জিহাদ করেছে এবং কে ধৈর্যশীল তা না জানছেন! (আলে ইমরানঃ ১৪২)
[أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ (২) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ] (৩) سورة العنكبوت
অর্থাৎ, মানুষ কি মনে করে যে, 'আমরা বিশ্বাস করি' এ কথা বললেই ওদেরকে পরীক্ষা না ক'রে ছেড়ে দেওয়া হবে? আমি অবশ্যই এদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছিলাম; সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্যবাদী ও কারা মিথ্যাবাদী। (আনকাবূতঃ ২-৩)
ঈমানের সাথে জিহাদ এবং তাতে ধৈর্যের বলেই লাভ হবে ইহ-পরকালের বিজয়। মহান আল্লাহ বলেন,
[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ (১০) تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنফُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ (১১) يَغْفِرْ لকُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةٌ فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (১২) وَأُخْرَى تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ] (১৩) سورة الصف
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান বলে দেব না, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে রক্ষা করবে? (তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে। আল্লাহ তোমাদের পাপরাশিকে ক্ষমা ক'রে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত এবং (প্রবেশ করাবেন) স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহা সাফল্য। আর তিনি তোমাদেরকে দান করবেন বাঞ্ছিত আরো একটি অনুগ্রহ; আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। আর বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ দাও। (স্বাফঃ ১০-১৩)
মহান আল্লাহর আদেশ পালনে ধৈর্য, তাঁর নিষেধ পালনে ধৈর্য এবং তাঁর লিখিত তকদীরের বালা-মসীবতের উপর ধৈর্য না ধরলে মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মহান আল্লাহ এমন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সম্বন্ধে বলেন,
[وَمِنَ النَّاسِ مَن يَعْبُدُ اللهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ] (১১) سورة الحج
অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে দ্বিধার সাথে; তার কোন মঙ্গল হলে তাতে সে প্রশান্তি লাভ করে এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়; সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইহকালে ও পরকালে; এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি। (হাজ্জঃ ১১)
ধৈর্যশীলতা মহান আল্লাহর একটি মহাদান। যে ধৈর্যশীলতার তরবারি দ্বারা বিপদ ও অসাফল্যের মুন্ডু কেটে ফেলা যায়। ধৈর্য ধারণ করলে সৌভাগ্য ও সুখ লাভ হয়। মহানবী বলেন, “সে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হল, সে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যাকে ফিতনা থেকে দূরে রাখা হল। আর সে ব্যক্তিও সৌভাগ্যবান, যাকে ফিতনায় ফেলা হল, কিন্তু তাতে সে ধৈর্যধারণ করল।” (আবু দাউদ)
রাজার অত্যাচারে ধৈর্যধারণও জাতির বৃহত্তর সুখ বজায় থাকার উপায়। নচেৎ রাজদ্রোহিতায় আছে চরম অসাফল্য ও দুঃখ। আর সে জন্যই শরীয়তের বিধানে প্রকাশ্য কুফরী না দেখা পর্যন্ত এবং প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় না হওয়া পর্যন্ত বিদ্রোহ করা বৈধ নয়।
মহানবী বলেন, "যে ব্যক্তি তার নেতাকে কোন অপছন্দনীয় কর্মে লিপ্ত দেখবে, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে।” (আস্-সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম ১১০১ নং)
উবাদাহ বিন স্বামেত কর্তৃক বর্ণিত, নবী বলেন, “তোমার কষ্ট ও আনন্দের সময়, পছন্দ ও অপছন্দের সময়, (রাজা) তোমার উপর আর কাউকে অগ্রাধিকার দিলে, তোমার ধন-সম্পদ হরণ করে নিলে এবং তোমার পিঠে চাবুক মারলেও তুমি তাঁর কথা মেনে চল এবং আনুগত্য কর।” (আস্ সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম ১০২৬ নং)
উবাদাহ বিন স্বামেত আরো বলেন, রসূলুল্লাহ আমাদের নিকট থেকে আমাদের খুশী ও কষ্টের বিষয়ে, স্বস্তি ও অস্বস্তির বিষয়ে এবং আমাদের অগ্রাধিকার নষ্ট হলেও আনুগত্য ও আদেশ পালনের উপর এবং ক্ষমতাসীন শাসকের বিদ্রোহ না করার উপর বায়আত (প্রতিশ্রুতি) গ্রহণ করেছেন। বলেছেন, "তবে হ্যাঁ, যদি তোমরা প্রকাশ্য কুফরী হতে দেখ, যাতে তোমাদের নিকট আল্লাহর তরফ থেকে কোন দলীল বর্তমান থাকে (তাহলে বিদ্রোহ করতে পার)।” (বুখারী + মুসলিম)
একদা আম্র বিন আস-এর সামনে মুস্তাওরিদ কুরাশী বললেন, আমি রসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি যে, "কিয়ামত সংঘটিত হবার সময় রোমান (ইউরোপীয়) দের সংখ্যা বেশী হবে।” হযরত আম্র মুস্তাওরিদকে বললেন, 'কী বলছেন খেয়াল ক'রে দেখুন!' তিনি বললেন, 'আল্লাহর রসূল যা বলেছেন, তা বলতে আমার বাধা কিসের?'
তখন আম্র বললেন, 'যদি তা সত্য হয়, তাহলে তা রোমানদের ৪টি স্বভাব-গুণের কারণে হবে। প্রথমতঃ ফিতনার সময়ে সকল মানুষের চেয়ে ওরাই বেশী সহ্যশীল। দ্বিতীয়তঃ বিপদের পর ওরাই অধিক শীঘ্র নিজেদেরকে সামলে নিতে পারে। আর এইভাবে ৪টি স্বভাব তিনি উল্লেখ করলেন এবং আরো একটি অধিক বললেন। (মুসলিম ২৮৯৮ নং)
উলামাগণ বলেন, আম্র বিন আসের উক্ত কথার উদ্দেশ্য কাফের নাসারা রোমানদের প্রশংসা করা নয়। বরং তাঁর উদ্দেশ্য মুসলিমদেরকে এই কথা জানানো যে, কিয়ামত অবধি তারা অবশিষ্ট থাকবে এবং তারাই সংখ্যাগুরু হবে। আর তার কারণ, তারা ফিতনার সময় সকলের চেয়ে অধিক সহ্য ক'রে থাকে। সহনশীলতার সাথে পরিস্থিতির গতিবিধি লক্ষ্য করে এবং অনুকূল ও প্রতিকূল নির্ণয় করে অনুকূলের পক্ষ অবলম্বন করে। যাতে তাদের জান-মালের কোন ক্ষতি না হয়।
বিজয়ের জন্য কেবল বলই নয়, কলেরও প্রয়োজন। সাফল্যের জন্য কেবল জোশই নয়, হুঁশেরও প্রয়োজন। আর এ সবে চাই ধৈর্যশীলতা, সহনশীলতা, ধীরতা, স্থিরতা ও গম্ভীরতা। দুশমনদের ষড়যন্ত্রের মুকাবিলায় চাই তাক্বওয়া ও ধৈর্য।
মহান আল্লাহ বলেন, [إِن تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِن تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُواْ لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ] (১২০) سورة آل عمران
অর্থাৎ, যদি তোমাদের কোন মঙ্গল হয়, তাহলে তারা নাখোশ হয়, আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা খোশ হয়। যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং সাবধান হয়ে চল, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে, নিশ্চয় তা আল্লাহর জ্ঞানায়ত্তে। (আলে ইমরানঃ ১২০)
📄 অর্থ-সম্পদের সদ্ব্যবহার
মুসলিমদের পরাজয়ের কারণ অর্থাভাব নয়। কারণ এ উম্মাহর কাছে অর্থের ভান্ডার আছে। যে জিনিসের অভাব আছে, তা হল সঠিকভাবে সেই অর্থকে কাজে লাগাবার কৌশল।
মুসলিমদের বিজয়ের জন্য ভরসা পার্থিব কোন উপায়-উপকরণ নয়। তবে তারও প্রয়োজন আছে। তকদীর ও তদবীর উভয়ই এক সাথে কাজ করলে তবেই জাতির প্রতিদ্বন্দ্বিতার গগনে বিজয়ের সূর্য উদিত হয়।
জাতির লোকেরা যদি নিজ নিজ ধন-মালে ঠিকমতো আল্লাহর হক আদায় করত, তাহলে তাদের কেউ দুর্বল ও দরিদ্র থাকত না। তাদের কেউ খাদ্যের অভাবে নিজের স্বভাব নষ্ট করত না। ভাতের জন্য জাত পরিবর্তন করত না। যে ঘরে 'অভাব' থাকে, সে ঘরে 'ভাব' থাকে না। অভাব থাকলে ভাবনায় ঘেরে। আর ভাবনাগাজীদের পরাজয় সুনিশ্চিত।
সুতরাং জাতি যদি নিজেদের অভাব মোচন ক'রে স্বভাব সংশোধন করতে পারত, যথাস্থানে ধন-ব্যয় ক'রে নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারত, তাহলে সাফল্য ও বিজয়ের চাঁদমুখ দর্শন করত।
যাদের মালে যাকাত ফরয, তারা যাকাত আদায় করে না। যাদের ফসলে ওশর ফরয, তারা ওশর আদায় করে না। অনেকে সূদ খেয়ে বড়লোক হলেও অধিকাংশ মানুষ সূদ দিয়ে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।
এমতাবস্থায় জাতি তার ভাঙ্গা মেরুদন্ড নিয়ে কীভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে? অর্থলোভে বিকিয়ে যাচ্ছে জাতির বড় বড় মাথা। অর্থাভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জাতির বড় বড় প্রতিভা। যাদেরকে নিয়ে জাতির ভবিষ্যৎ তারা চলে যাচ্ছে বিজাতির ছত্রছায়ায়। তারা সেখানে অর্থ পাচ্ছে, মর্যাদা পাচ্ছে। অনেকে চিন্তাবিদ, দার্শনিক, বিজ্ঞানী দূরে সরে যাচ্ছে দ্বীন থেকে বেদ্বীন হয়ে, তারাও আশ্রয় পাচ্ছে বিজাতির কাছে।
জাতির নেতৃত্বে অর্থের যথাযোগ্য প্রয়োগ নেই। জাতির সম্পদের যথার্থ হিফাযত নেই। যেখানে খরচ করা প্রয়োজন, সেখানে কার্পণ্য। আর যেখানে খরচ করা নিষ্প্রয়োজন, সেখানে অপব্যয় ও অপচয়। এই যদি জাতির অবস্থা হয়, তাহলে কি সাফল্য ও বিজয়ের প্রভাত তার রাজ্যে উদয় হবে?
আল্লাহর রসূল বলেন, “কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বান্দার পা সরবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার আয়ু কী কাজে ব্যয় করেছে, তার ইল্ম দ্বারা কী আমল করেছে, তার সম্পদ কোথা হতে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে, তার দেহ কোথায় ধ্বংস করেছে?---এসব সম্পর্কে। (তিরমিযী, সহীহুল জামে' ৭৩০০নং)