📘 জাতির উত্থান পতন 📄 কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ

📄 কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ


আক্বীদা, আহকাম ও দাওয়াত-পদ্ধতিতে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর অনুসরণ করলে জাতি মহাসাফল্যের স্বপ্ন দেখতে পারে। যেহেতু এই মঙ্গলময় অনুসরণেই রয়েছে জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও জাতির গৌরবময় বিজয়।

জাতির ব্যক্তি-জীবনে, পরিবার-জীবনে, সমাজ-জীবনে ও রাষ্ট্রীয়-জীবনে কিতাব ও সহীহ সুন্নাহর দিগ্দর্শনই পারে শুভ উত্থানের সন্ধান দিতে। মহান আল্লাহ বলেন, [وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَكُمْ تُرْحَمُونَ] (আলে ইমরান: ১৩২) অর্থাৎ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা কৃপালাভ করতে পার। (আলে ইমরানঃ ১৩২)

[قُلْ إِنْ كُنتُم تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهَ وَيَغْفِرْ لকُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ] অর্থাৎ, বল, ' তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' (ঐঃ ৩১)

[قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِن تَوَلَّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ] (৫৪) সورة النور
অর্থাৎ, বল, 'আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রসূলের আনুগত্য কর।' অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে দায়ী এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। তোমরা তার আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে। আর রসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া। (নূরঃ ৫৪)

ইবনে আব্বাস প্রমুখাৎ বর্ণিত, বিদায়ী হজ্জে আল্লাহর রসূল লোকেদের মাঝে খোতবা (ভাষণ) দিলেন। তাতে তিনি বললেন, “শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, তোমাদের এই মাটিতে তার উপাসনা হবে। কিন্তু এতদ্ব্যতীত তোমরা যে সমস্ত কর্মসমূহকে অবজ্ঞা কর তাতে তার আনুগত্য করা হবে- এ নিয়ে সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সতর্ক থেকো! অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি; যদি তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করে থাকো, তবে কখনই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না; আর তা হল, আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (কুরআন ও হাদীস)” (হাকেম, সহীহ তারগীব ৩৬নং)

জাতি কুরআন ও সুন্নাহর আলোক থেকে বহু দূরে সরে গিয়ে শির্ক ও বিদআতের আবর্জনায় অবস্থান করছে। আর আবর্জনায় থেকে কোনদিন উন্নত পরিবেশ গড়া যায় না। নোংরা আবর্জনায় বাস ক'রে কখনো বাগানের ফুল ফোটানো যায় না।

📘 জাতির উত্থান পতন 📄 উলামার সাহচর্য

📄 উলামার সাহচর্য


মুসলিম জাতির মেরুদন্ড তার উলামা সম্প্রদায়; যদিও কাফেররা তাদেরকে 'মোল্লা' বলে জানে। অবশ্য সমাজে 'কাঠমোল্লা'ও যে আছে তা কেউ অস্বীকার করে না।

সুতরাং উলামা বলতে উদ্দেশ্য হক্কানী বা রব্বানী উলামা, যাঁদের আনুগত্য করা জাতির উপর ফরয। তাঁরা এবং মুসলিম রাষ্ট্রনেতারাই আল-কুরআনে উল্লিখিত 'উলুল আম্র'। মহান আল্লাহ বলেন, [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي শَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً] অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস কর, তাহলে তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রসূল ও তোমাদের নেতৃবর্গ (ও উলামা)দের অনুগত হও। আর যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটে, তাহলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। এটিই হল উত্তম এবং পরিণামে প্রকৃষ্টতর। (নিসাঃ ৫৯)

সুতরাং রাষ্ট্রনেতা ও উলামা উভয়ই উম্মাহর অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়ক। জাতির আমানত গচ্ছিত আছে তাঁদেরই হাতে। জাতির গতিশীল গাড়ির নিয়ন্ত্রণভার আছে তাঁদের হাতে।

রব্বানী উলামার উচিত, সেই গুরুভার বহন করার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন, [وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنَنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ] (১৮৭) آل عمران
অর্থাৎ, (স্মরণ কর) যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, আল্লাহ তাদের নিকট প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, তোমরা তা (কিতাব) স্পষ্টভাবে মানুষের কাছে প্রকাশ করবে এবং তা গোপন করবে না। (আলে ইমরানঃ ১৮৭)

আর জাতির উচিত, তাঁদের সেই নিয়ন্ত্রণ মান্য ক'রে চলা। যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর ও তাঁর রসূলের আনুগত্যের পর তাঁদের আনুগত্য করা ফরয করেছেন।

জাতির যে কোন কাজে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করা রাজা-প্রজা সকলের ক্ষেত্রে জরুরী। যেমন সাধারণ প্রজার জন্য জরুরী রাষ্ট্রনেতা ও উলামার দিক-নির্দেশনার বাইরে কোন কাজ না করা। রব্বানী উলামা ছেড়ে বেআমল উলামার চক্রান্তে পড়ে রাজনৈতিক কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া। যে কোনও বিষয় তাঁদের প্রতি রুজু না ক'রে নিজেদের মধ্যে তা প্রচার না করা এবং সাধারণ মানুষের মনে উৎসাহ বা উত্তেজনা সৃষ্টি না করা। মহান আল্লাহ বলেন,

[وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلا فَضْلُ اللهُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَا تَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قليلاً] (৮৩) سورة النساء
অর্থাৎ, আর যখন শান্তি অথবা ভয়ের কোন সংবাদ তাদের নিকট আসে, তখন তারা তা রটিয়ে বেড়ায়। কিন্তু যদি তারা তা রসূল কিংবা তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলদের গোচরে আনত, তাহলে তাদের মধ্যে তত্ত্বানুসন্ধানীগণ তার যথার্থতা উপলব্ধি করতে পারত। আর তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত, তাহলে তোমাদের কিছু লোক ছাড়া সকলে শয়তানের অনুসরণ করত। (নিসাঃ ৮৩)

এটা হল কিছু দুর্বল ও দ্রুততাপ্রিয় মুসলিমের স্বভাব। তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে উক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। শান্তির খবর বলতে মুসলিমদের সফলতা এবং শত্রু-ধ্বংসের ও পরাজয়ের খবরকে বুঝানো হয়েছে। (যা শুনে শান্তি ও স্বস্তির ঝড় বয়ে যায় এবং যার ফলে প্রয়োজনাতীত স্বনির্ভরশীলতার সৃষ্টি হয়; যা ক্ষতির কারণও হতে পারে।) আর ভয়ের সংবাদ বলতে মুসলিমদের পরাজয় এবং তাদের হত্যা ও ধ্বংসের খবরকে বুঝানো হয়েছে। (যাতে মুসলিমদের মাঝে দুঃখ, বেদনা ও আফসোস ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মনোবল দমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।) তাই তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, এই ধরনের খবর শুনে; তাতে তা শান্তির (জয়ের) হোক অথবা ভয়ের (পরাজয়ের) হোক তা সাধারণের মাঝে প্রচার না ক'রে রসূল-এর নিকট পৌঁছে দাও কিংবা জ্ঞানী ও তত্ত্বানুসন্ধানীদের কাছে পৌঁছে দাও; যাতে তাঁরা দেখেন যে খবর সঠিক, না বেঠিক? যদি সঠিক হয়, তাহলে তখন এ খবর মুসলিমদের জানা লাভদায়ক, নাকি না জানা আরো বেশী লাভদায়ক? এই নীতি সাধারণ অবস্থাতেও বড় গুরুত্বপূর্ণ এবং অতীব লাভদায়ক, বিশেষ ক'রে যুদ্ধের সময় এর গুরুত্ব ও উপকারিতা আরো বেশী। (আহসানুল বায়ান)

রব্বানী উলামাগণ যা ফায়সালা দেন, তাতে তাঁদের ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাঁরা সওয়াব থেকে বঞ্চিত নন। যেহেতু আল্লাহর রসূল বলেছেন, “বিচারক যদি সুবিচারের প্রয়াস রেখে বিচার করে অতঃপর তা সঠিক হয়, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর সুবিচারের প্রয়াস রেখে যদি বিচারে ভুল করেও বসে, তবে তার জন্যও রয়েছে একটি সওয়াব।” (বুখারী ৭৩৫২ নং, মুসলিম ১৭১৬ নং)

কিন্তু বড় দুঃখের হলেও সত্য কথা যে, অনেক উলামা আছেন, যাঁদের অনুসরণ উম্মাহকে ভ্রষ্ট ক'রে ছাড়ে। যাঁরা মুফতী বনে ফতোয়া দেন অথবা মুফতীর ফতোয়ার মুকাবেলা করার জন্য মুফতী সেজে উল্টা ফতোয়া দেন এবং খুঁড়িয়ে বড় হয়ে অপরকে অপবাদ দিয়ে ছোট করেন অথবা যাঁরা নিজ বুযুর্গদের ফতোয়া নকল ক'রে ফায়সালা দেন এবং সহীহ হাদীসের তোয়াক্কা করেন না অথবা সহীহ-যয়ীফের তমীয করেন না অথবা যাঁরা আদর্শচ্যুত উলামা হয়েও রাজনৈতিক পদের প্রভাবে অথবা তথাকথিত 'রূহানী' মর্যাদার প্রভাবে বিনা ইল্মে ফতোয়া জারী করেন, তাঁদের ফতোয়া মানতে গিয়ে জাতি ফিতনার শিকার হয়। সুতরাং আল্লাহই উম্মাহর হিফাযত করুন।

মুদ্দাকথা, যে জাতির নেতা আদর্শ নয় অথবা উলামা আদর্শ নয় অথবা যে জাতি মুসলিম নেতৃত্ব মানে না অথবা রব্বানী উলামার কদর জানে না, সে জাতির পতন কি অতি সহজ নয়?

📘 জাতির উত্থান পতন 📄 ইস্তিগফার ও দুআ

📄 ইস্তিগফার ও দুআ


জয়-পরাজয় যখন আল্লাহর হাতে, তখন তাঁর কাছে নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার ক'রে পরাজয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা চাওয়া আমাদের কর্তব্য। দুআ বলতে শুধু দুআ চাওয়াই নয়; বরং কাকুতি-মিনতি সহকারে চাওয়া, নাছোড়বান্দা হয়ে চাওয়া, সকাতরে প্রার্থনা করা। যেহেতু পতন ও পরাজয় এক প্রকার আযাব, সুতরাং তা রোধ করতে অতিরিক্ত মিনতির সাথে আবেদন পেশ করতে হবে। যেমন ইউনুস (আ.)-এর সম্প্রদায় করেছিল। মহান আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন,

[فَلَوْلا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الخِزْيِ فِي الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ] (৯৮) سورة يونس
অর্থাৎ, সুতরাং কোন জনপদ বিশ্বাস করল না কেন, যাদের বিশ্বাস উপকারী হতো; ইউনুসের সম্প্রদায়ের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র, যখন তারা বিশ্বাস করল, তখন আমি তাদের থেকে পার্থিব জীবনে অপমানজনক শাস্তি বিদূরিত করে দিলাম এবং এক নির্ধারিত কাল পর্যন্ত তাদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করলাম। (ইউনুসঃ ৯৮)

অর্থাৎ আমি যে জনপদগুলিকে ধ্বংস করেছি, তার মধ্য থেকে কোন একটি জনপদবাসীও কেনই বা এমন হলো না যে, এমন সময়ে ঈমান নিয়ে আসত, যে সময়ে ঈমান আনলে তাদের জন্য ফলপ্রসূ হত! তবে ইউনুস (আ.)-এর সম্প্রদায়ের ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। যখন তারা ঈমান আনল, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর থেকে আযাব রহিত ক'রে দিলেন। সংক্ষিপ্ত ঘটনা হল এই যে, যখন ইউনুস দেখলেন যে, তাঁর দাওয়াত ও তবলীগে তাঁর সম্প্রদায় প্রভাবিত হচ্ছে না, তখন তিনি নিজ সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিলেন যে, অমুক দিন তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব আসবে এবং তিনি নিজে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লেন। যখন মেঘের মত তাদের উপর আযাবের লক্ষণাদি দেখা দিল, তখন তারা শিশু, নারী এমনকি জীবজন্তু সমেত এক মাঠে সমবেত হল এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতির সাথে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে আরম্ভ করল। আল্লাহ তাআলা তাদের তওবা কবুল ক'রে তাদের উপর থেকে আযাব রহিত ক'রে দিলেন। (আহসানুল বায়ান)

বলা বাহুল্য, কাকুতি-মিনতি বড় উপকারী জিনিস। আর তার জন্যই বিপদকালে কুনূত বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। কুনুতে নাযেলায় পাঁচ-ওয়াক্তের নামাযের শেষ রাকআতে রুকু থেকে উঠার পর দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে মুসলিমদের জন্য দুআ ও শত্রুদের জন্য বদ্দুআ করতে হয়। আল্লাহর আযাব যখন আসে, তখন কাকুতি-মিনতির সাথে প্রার্থনা ক'রে তা দূর করতে হয়। কোন এক আযাবের সময় হাসান বাসরী (রঃ) বললেন, 'হে ইরাকবাসী! আল্লাহর আযাবকে তোমরা তোমাদের হাত-পা দ্বারা দূর করো না। বরং আল্লাহর কাছে তওবা দ্বারা দূর কর। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, [فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا] (৪৩) سورة الأنعام অর্থাৎ, সুতরাং আমার শাস্তি যখন তাদের উপর আপতিত হল, তখন তারা বিনীত হয়ে প্রার্থনা করল না কেন? (আনআমঃ ৪৩)

সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিকট বিনীত হয়ে প্রার্থনা কর এবং তওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের আযাব দূর ক'রে দেবেন এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন। (আসবাবু ইনহিয়ারিল উমাম ১৭ পৃঃ) জাতির যা দুরবস্থা, তাতে পতন তার ভাগ্য হওয়ারই কথা। নিজের অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে আল্লাহর কাছে পরিবর্তন চাওয়া বড় লজ্জার ব্যাপার। পরন্তু মহান আল্লাহ বলেছেন, [إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَّالٍ] (১১) سورة الرعد অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না; যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। আর কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন, তাহলে তা রদ করবার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। (রা'দঃ ১১)

জাতির যা দুরবস্থা, তাতে রহম পাওয়ার যোগ্য নয়। একদা বাসরাবাসীরা বৃষ্টি প্রার্থনা করল। অতঃপর ফিরে এসে বলতে লাগল, 'আশ্চর্য আল্লাহর কসম! বৃষ্টি প্রার্থনা করলাম অথচ বৃষ্টি হল না!' তা শুনে মালেক বিন দীনার বললেন, 'সুবহানাল্লাহ! তোমরা বৃষ্টি হওয়াতে দেরি হচ্ছে ভাবছ। আমি তো আকাশ থেকে পাথর বর্ষণে দেরি হচ্ছে ভাবছি!' (ঐ, আল-ইকুদুল ফারীদ ২/১২)

তা এ তো মালেক বিন দীনারের যুগের কথা। আমাদের আধুনিক বিশ্বের কথা কী? অনাবৃষ্টির সময় যদিও অনেকে হাত তুলে বৃষ্টি প্রার্থনা করে, বৃষ্টি নামলে মাথায় ছাতা দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে, কিন্তু বাড়ির ছাদে ছাদে যে ছাতা লাগানো আছে, সে ছাতায় বৃষ্টি নামতে বারণ করারই কথা। যে ডিস দিয়ে সারা বিশ্বের বিষকে বেডরুমে বসে পান করা হয়, সে বিষে নীল হওয়া দেহ যে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

বৃষ্টি না হলেও চাষীরা ক্যানেলের পানি দিয়ে চাষ করতে পারে, ফসল ফলাতে পারে। কিন্তু শত শত চ্যানেলের মাধ্যমে যে পানি মুসলিমদের মন ও মগজের জমিকে সিঞ্চিত করছে, তাতে কোন্ ফসল ফলবে; বিজয়ের, না পরাজয়ের?

তবুও আমরা ইস্তিগফার করতে থাকব। ইনশাআল্লাহ বিজয় আসবে এবং পরাজয় দূর হবে। পতন-গহ্বর থেকে উত্থান লাভ করব। মহান আল্লাহর ওয়াদা,

[وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ]
অর্থাৎ, আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এরূপ নন যে, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (আনফালঃ ৩৩)

[وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُواْ إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءِ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَى قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ] (৫২) سورة هود
অর্থাৎ, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা (তোমাদের পাপের জন্য) তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন কর; তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি আরো বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।' (হ্রদঃ ৫২)

আর মুসা (আ.)-এর মতো বলব,

[رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُم مّিন قَبْلُ وَإِيَّايَ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاء وَتَهْدِي مَن تَشَاء أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ] (১৫৫) سورة الأعراف
অর্থাৎ, 'হে আমার প্রতিপালক! তুমি ইচ্ছা করলে পূর্বেই তো এদেরকে এবং আমাকেও ধ্বংস করতে পারতে। আমাদের মধ্যে যারা নির্বোধ তাদের কর্মদোষে কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করবে? এতো শুধু তোমার পরীক্ষা, যা দিয়ে তুমি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী কর এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত কর। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি দয়া কর এবং তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। (আ'রাফঃ ১৫৫)

📘 জাতির উত্থান পতন 📄 আশাবাদিতা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা

📄 আশাবাদিতা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা


জাতির নিরাশ মনে আশার আলো সঞ্চারিত করতে না পারলে পরাজয় এমনিতেই এসে যাবে। মুসলিমকে এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ জাতির সাথে আছেন। জয়-পরাজয় তাঁরই হাতে আছে।

[وَاللَّهُ يُؤَيِّدُ بِنَصْرِهِ مَن يَشَاء] (১৩) سورة آل عمران অর্থাৎ, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নিজ সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেন। (আলে ইমরানঃ ১৩)

[وَمَا النَّصْرُ إِلا مِنْ عِندِ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ] (১০) سورة الأنفال অর্থাৎ, সাহায্য (বিজয়) তো শুধু আল্লাহর নিকট হতেই আসে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। (আনফালঃ ১০)

[بَلِ اللَّهُ مَوْلاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ] (১৫০) سورة آل عمران অর্থাৎ, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। (আলে ইমরানঃ ১৫০)

[إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ] (১৬০) سورة آل عمران
অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করলে কেউই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি তোমাদের সাহায্য না করলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? এবং বিশ্বাসিগণের উচিত, কেবল আল্লাহরই উপর নির্ভর করা। (ঐঃ ১৬০)

তাঁরই উপর ভরসা রাখতে হবে, তাঁরই কাছে অনুনয়-বিনয় সহকারে বিজয় ও উত্থান প্রার্থনা করতে হবে। তিনি মহাশক্তিশালী, মহাপরাক্রমশালী বাদশা।

[فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَكَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ] (১৫) سورة فصلت
অর্থাৎ, আ'দ সম্প্রদায়ের ব্যাপার তো এই যে, ওরা পৃথিবীতে অযথা দম্ভ করত এবং বলত, 'আমাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী কে আছে?' ওরা কি তবে লক্ষ্য করেনি যে, আল্লাহ যিনি ওদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তিনি ওদের অপেক্ষাও অধিক শক্তিশালী? আর ওরা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করত। (হা-মীম সাজদাহঃ ১৫)

তাঁর আছে আমাদের অজানা বহু সৈন্য।

[وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ] (المدثر : ৩১) অর্থাৎ, তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। (মুদ্দাষিরঃ ৩১)

[إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا فَأَنزَلَ اللهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَكَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ] (৪০)
অর্থাৎ, যদি তোমরা তাকে (রাসূলুল্লাহকে) সাহায্য না কর, তাহলে আল্লাহই (তাকে সাহায্য করবেন যেমন তিনি) তাকে সাহায্য করেছিলেন সেই সময়ে, যখন অবিশ্বাসীরা তাকে (মক্কা হতে) বহিষ্কার ক'রে দিয়েছিল, যখন সে ছিল দু'জনের মধ্যে একজন; যখন উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল। সে তখন স্বীয় সঙ্গী (আবু বকর) কে বলেছিল, 'তুমি বিষণ্ণ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।' অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্ত্বনা অবতীর্ণ করলেন এবং এমন সেনাদল দ্বারা তাকে শক্তিশালী করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি অবিশ্বাসীদের বাক্য নীচু ক'রে দিলেন, আর আল্লাহর বাণীই সমুচ্চ রইলো। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (তাওবাহ: ৪০)

[ثُمَّ أَنزَلَ اللهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ] (২৬) سورة التوبة
অর্থাৎ, তারপর আল্লাহ তাঁর নিকট হতে তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীদের উপর সান্ত্বনা বর্ষণ করলেন; যাতে তাদের চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং এমন এক সৈন্যবাহিনী অবতীর্ণ করলেন, যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি অবিশ্বাসীদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন। আর এটিই অবিশ্বাসীদের কর্মফল। (ঐঃ ২৬)

[يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا] (৯) سورة الأحزاب
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হয়েছিল এবং আমি ওদের বিরুদ্ধে ঝড় এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যা তোমরা দেখতে পাওনি। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ তার দ্রষ্টা। (আহযাবঃ ৯)

আর তাঁর সৈন্যই হবে সর্ববিজয়ী, অপরাজেয়।

[وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ الْغَالِبُونَ] (১৭৩) سورة الصافات অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে। (স্বাফ্ফাতঃ ১৭৩)

[أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ] অর্থাৎ, পরম দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের এমন কোন সৈন্যবাহিনী আছে কি, যারা তোমাদের সাহায্য করবে? অবিশ্বাসীরা তো ধোঁকায় রয়েছে। (মুল্ক: ২০)

পৃথিবীর ভবিষ্যৎ ইসলামের। মহান আল্লাহ বলেছেন,

[وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِي الزَّبُورِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ]
অর্থাৎ, আমি (যবুর) কিতাবে উপদেশের পর লিখে দিয়েছি যে, 'নিশ্চয় আমার সৎকর্মশীল বান্দারা পৃথিবীর অধিকারী হবে।' (আম্বিয়াঃ ১০৫)

সারা পৃথিবীর মানুষ ইসলামকে শ্রদ্ধা করবে, ইসলামকে স্বাগত জানাবে, ইসলামকে গ্রহণ করবে। মহান আল্লাহ বলেন,

[هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ] (৩৩) سورة التوبة، الصف ৯
অর্থাৎ, তিনিই পথনির্দেশ (কুরআন) এবং সত্য ধর্ম সহ নিজ রসূল প্রেরণ করেছেন, যাতে তাকে সকল ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও অংশীবাদীরা অপ্রীতিকর মনে করে। (তাওবাহঃ ৩৩, স্বাফঃ ৯)

মহানবী বলেছেন, "অবশ্য অবশ্যই (ইসলামের) এই বিষয় ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে, যতদূর পর্যন্ত রাত-দিন পৌঁছেছে। আল্লাহ কোন মাটির অথবা লোমের (শহর বা মরুর) ঘরে এই দ্বীন প্রবিষ্ট না ক'রে ছাড়বেন না, সম্মানীর সম্মানের সাথে অথবা অসম্মানীর অসম্মানের সাথে। আল্লাহ সম্মানীর ইসলাম দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদেরকে সম্মানিত করবেন এবং অসম্মানীর অসম্মান দ্বারা কুফরীকে লাঞ্ছিত করবেন।” (আহমাদ, ইবনে হিব্বান, সিলসিলাহ সহীহাহ ৩নং)

মহান আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি ইসলামের বিজয়-পতাকা উড্ডয়ন করবেন।

[إِنَّا لَنَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ] (গাফির: ৫১)
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমি আমার রসূলদেরকে ও বিশ্বাসীদেরকে পার্থিব জীবনে ও সাক্ষিগণের দণ্ডায়মান (কিয়ামত) দিনে সাহায্য করব। (মু'মিনঃ ৫১)

[وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ (৪০) الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَاللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ]
অর্থাৎ, আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে (তাঁর ধর্মকে) সাহায্য করে। আল্লাহ নিশ্চয়ই মহাশক্তিমান, চরম পরাক্রমশালী। আমি তাদেরকে পৃথিবীতে (রাজ) ক্ষমতা দান করলে তারা নামায কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং সৎ কাজের আদেশ দেয় ও অসৎকার্য হতে নিষেধ করে। আর সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর আয়ত্তে। (হাজ্জঃ ৪০-৪১)

সাময়িক পতন তো ঘটতেই পারে। সাময়িক পরাজয় আসতেই পারে। শেষ পরাজয় ইসলাম-বিরোধীদের। বিশ্ববিজয়ী হবে ইসলাম। ইসলামের শান্তিতে শান্তিময় হবে বিশ্ব।

জাতির ইতিহাসের পাতায় বহু উত্থান-পতনের ঘটনাঘটন লিপিবদ্ধ হয়েছে। তবুও ইসলাম মিটে যায়নি।
'ইসলাম কী ফিতরত মে কুদরত নে লচক দী হ্যায়, উতনা হী উভরেগা জিতনা কে দাবাওগে।'

প্রত্যেক কারবালার পরেও ইসলাম জীবিত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। উত্থান-পতনের রশি ধরে ধরে শেষ পরিণাম হবে মুসলিমদের। মহান আল্লাহ মুসলিমদেরকে সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

[وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُمَبِّدِلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْنًا يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ] (৫৫) سورة النور
অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদেরকে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে অবশ্যই প্রতিনিধিত্ব দান করবেন; যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের ধর্মকে -- যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন -- সুদৃঢ় করবেন এবং তাদের ভয় ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার উপাসনা করবে, আমার কোন অংশী করবে না। অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ (বা অবিশ্বাসী) হবে, তারাই সত্যত্যাগী। (নূরঃ ৫৫)

আর পরাজয় হবে মুসলিম-শত্রুদের।

[فَفَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُم مِّن نَّاصِرِينَ] অর্থাৎ, অনন্তর যারা অবিশ্বাস করেছে আমি তাদেরকে ইহকাল ও পরকালে কঠোর শাস্তি প্রদান করব। আর তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। (আলে ইমরান: ৫৬)

[قُل لِّلَّذِينَ كَفَرُوا سَتُغْلَبُونَ وَتُحْشَرُونَ إِلَى جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمِهَادُ] (১২) آل عمران অর্থাৎ, যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে বল, তোমরা শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং তোমাদেরকে দোযখে একত্রিত করা হবে। আর তা অতি মন্দ শয়নাগার। (ঐঃ ১২)

[أَمْ يَقُولُونَ نَحْنُ جَمِيعٌ مُنتَصِرٌ (৪৪) سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ] (৪৫) القمر অর্থাৎ, অথবা তারা বলে যে, 'আমরা সংঘবদ্ধ অপরাজেয় দল।' এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। (ক্বামারঃ ৪৪-৪৫)

সাময়িক বিজয় ও উন্নয়ন নিয়ে কাফেরদল খোশ হতে পারে। কিন্তু একদিন না একদিন তাদের পরাজয় হবেই। মহান আল্লাহ বলেছেন,

[وَلا يَزَالُ الَّذِينَ كَفَرُوا تُصِيبُهُمْ بِمَا صَنَعُوا قَارِعَةٌ أَوْ تَحُلُّ قَرِيباً مِنْ دَارِهِمْ]
অর্থাৎ, যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের কর্মফলের জন্য তাদের বিপর্যয় ঘটতেই থাকবে অথবা বিপর্যয় তাদের আশেপাশে আপতিত হতেই থাকবে। (রা'দঃ ৩১)

তবুও প্রশ্ন জাগে, মুসলিমদের এ অবস্থা কেন? কবি তার জবাব দিয়েছেন,

'খোদায় পাইয়া বিশ্ববিজয়ী হল একদিন যারা।
খোদায় ভুলিয়া ভীত পরাজিত আজ দুনিয়ায় তারা।।
খোদার নামের আশ্রয় ছেড়ে ভিখারীর বেশে দেশে দেশে ফেরে
ভোগ-বিলাসের মোহে ভুলে হায় নিল বন্ধন কারা।।
খোদার সঙ্গে যুক্ত সদাই ছিল যাহাদের মন,
দুখে-রোগে-শোকে অটল যাহারা রহিত সর্বক্ষণ---
এসে শয়তান ভোগ-বিলাসের কাড়িয়া লয়েছে ঈমান তাদের
খোদায় হারায়ে মুসলিম আজ হয়েছে সর্বহারা।।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية